হোম / প্রভাবসম্পন্ন খবর / চলুন চেঁচাই
ভাগ করে নিন

চলুন চেঁচাই

গ্রাম চেঁচাই, থানা তপন। শহর বালুরঘাট খুব দূরে নয়। চলুন স্বাদ নিয়ে আসি এক অপূর্ব অভিজ্ঞতার।

সময় যখন ‘কিছু ভাল লাগছে না’-র সংক্রমণ ছড়ায় এবং কোনও ওষুধেই নিরাময় নেই — সিনেমা, থিয়েটার, যাত্রাপালা, মেলা, সবই বিড়ম্বনা মনে হয় — তখন, সুজন, আপনি যেখানকার বাসিন্দা হোন, যা-ই হোক আপনার বৃত্তি, আপনি একটা পশ্চিমবাংলা ঘুরে আসুন, ঠিকানা বাতলে দিচ্ছি, সঙ্গে নিরাময়ের গ্যারান্টি।

বসতটির নাম চেঁচাই। দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন থানায়, বালুরঘাট শহর থেকে অল্প রাস্তা, আপনার ব্যয়সামর্থ্য অনুযায়ী যানবাহন পেয়ে যাবেন। পাকা রাস্তা থেকে কিছুটা দূরে, দু’পাশে ফসল, আপনি যেতে যেতে ধান না থাকতে পারে হয়তো সর্ষে থাকবে, অথবা ফাঁকা, কিন্তু পথের দু’ধারে অগুনতি গাছ থাকবে — গ্রামেরই এক ‘যুগলপ্রসাদ’, নিমাই তিগ্গা-র পোঁতা। বিভূতিবাবুর আরণ্যক-এর যুগলপ্রসাদ, ভুলে যাননি তো?

থেকে যান একটা বা দু’টো রাত, গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরেই থাকার ব্যবস্থা, একটা মাটির ঘরে — লাগোয়া স্নান-শৌচের ব্যবস্থা। এটা ছিল পুরনো স্কুল বাড়ি, সর্বশিক্ষা মিশনের কল্যাণে পাকা বাড়ি এসে এটাকে অপ্রয়োজনীয় করে দেওয়ার আগেই বদলে ফেলা হল চমত্কার অতিথিশালায়।

পুরনো এ নিকেতন অতীতের মুগ্ধ সংরক্ষণ নয়, বরং নতুনের আবহের অঙ্গ। সে নতুনের আগমনে স্কুলের ছোট্ট মাঠের চার পাশে ফুল, পাতা, গাছ, স্কুলের ঠিক বাইরেটাতে গ্রামবাসীদের দেওয়া জায়গায় স্থানীয় আদিবাসী যুবক সংঘের সংযোগে একটা ছোট্ট সবুজ বাগান, স্কুলের মিড ডে মিলের জন্য। পাঁচিলের বাইরে সার দিয়ে গাছগাছালি, বেড়া নেই, গ্রামবাসীরাই রক্ষা করেন গরুছাগলের গ্রাস থেকে, গরুর মুখে ‘গোমাই’ লাগিয়ে রাখেন স্কুলের পাশ দিয়ে নেওয়ার সময়।

Back to top