হোম / প্রভাবসম্পন্ন খবর / যাত্রা শুরু
ভাগ করে নিন

যাত্রা শুরু

বীজ পোঁতা হয়েছিল ২০০৬-এ। ক্রমশই বাড়ছে কাজের পরিধি।

শুরুটা ২০০৬ সালে। কলকাতা শহরের একদল চিকিৎসক স্বামী বিবেকানন্দের ‘কর্মযোগ’কে আর্দশ করে গ্রামের মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই সময় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় উত্তর ২৪পরগনার সন্দেশখালি, ব্লক নং-১ –এর রামকৃষ্ণ আশ্রমের সঙ্গে। তার পর ওই আশ্রমকে কেন্দ্র করে, কখনও গ্রামের মধ্যে বা কখনও আশ্রমের চত্বরে মেডিক্যাল ক্যাম্প বসিয়ে চলত বিনামূল্যে চিকিৎসা। এই কাজ করতে করতে তাদের বার বারই মনে হচ্ছিল কোথায় যেন খামতি থেকে যাচ্ছে। তাই কাজে গতি আনার জন্য এবং টলমল ভাব কাটিয়ে দৃঢ় পায়ে হাঁটার জন্য ২০০৮ সালে তাঁরা তৈরি করেন ‘মা সারদা স্বাস্থ্য সেবা পরিষদ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। যে সংস্থার সভাপতি হন, বর্তমানে রাজ্য সরকারে মাল্টিডিসিপ্লনারি এক্সপার্ট কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ সুব্রত মৈত্র। দু’ বছর ধরে চিকিৎসা করা ছাড়াও ওই এলাকায় নানা সেবামূলক কাজ করছিল সংস্থাটি। কিন্তু ‘আয়লা’ তাদের কাজের গতিমুখকে একেবারে পাল্টে দিল। তাঁরা বঝুতে পারলেন, নিত্য নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে থাকা সুন্দরবন এলাকায় কাজ করতে হলে কাজের ধরন বদলাতে হবে। সপ্তাহান্তে এক দিন শুধু চিকিৎসা পরিষেবা দিলে হবে না, আয়লার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁরা যাতে যুঝতে পারেন তারও সহায়তা দিতে হবে। সেই লক্ষ্যেই তৈরি হল আশ্রম চত্বরেই একটি তিন তলা বাড়ি। আশ্রম চত্বরেই জমি দিল ‘আগরহাটি শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা সেবাশ্রম’। লক্ষ্য দুটি। এক, এলাকার মানুষকে প্রাথমিক জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলো দেওয়া, দুই, আয়লার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এলাকার মানুষ যাতে আশ্রয় নিতে পারেন। সঙ্কটাপন্ন রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সও কেনা হল। আয়লার সময় উদ্ধারকার্যের জন্য কেনা হল একটি স্পিড বোটও। তার পর দিন যেতে লাগল ওই হাসপাতালকে কেন্দ্র করে মানুষের চাহিদাও বাড়ল। এই কাজগুলি চালানোর জন্য দু’টি সংস্থা মিলে গিয়ে তৈরি হল ২০১০ সালে তৈরি হল ‘আগরহাটি শ্রীরামকৃষ্ণ মা সারদা স্বাস্থ্য সেবা পরিষদ।’

Back to top