হোম / প্রভাবসম্পন্ন খবর / সমাজ আর পরিবেশের উপকারে মৃন্ময়ী
ভাগ করে নিন

সমাজ আর পরিবেশের উপকারে মৃন্ময়ী

এই প্রকল্পে মৃন্ময়ী কাজে নামিয়েছেন বস্তিবাসী মহিলাদেরই। তাঁদের কিছু আর্থিক সুরাহা হচ্ছে। পাশাপাশি কলকাতায় বর্জ্য সমস্যারও সমাধান হচ্ছে।

পূর্ব কলকাতার জলা অঞ্চলের মৃন্ময়ী নস্কর কমপক্ষে এক ডজন মহিলাকে শিখেয়েছেন কী ভাবে ফেলে দেওয়া বাতিল কাগজ থেকে অফিস স্টেশনারি বা উপহারসামগ্রী বানানো যায়। উপকার করেছেন এক দিকে সমাজের, অন্য দিকে পরিবেশেরও। এ বার মৃন্ময়ী ১৮০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে গোটা বিশ্বকে দেখাতে যাবেন কী করে বাতিল জিনিস থেকে সম্পদ তৈরি করা যায়।

বিশ্ব মানচিত্রে রামসর সাইট বলে চিহ্নিত পূর্ব কলকাতার জলা অঞ্চলের গোলতলা ভেড়ির উল্টো দিকের বস্তিতে থাকেন ২৩ বছরের স্নাতক মৃন্ময়ী। এ বার তিনি লিমায় গিয়ে ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্স’-এ গোটা বিশ্বকে দেখাবেন কী ভাবে ‘ট্র্য‌াশ টু ক্য‌াশ’ অর্থাৎ বাতিল জঞ্জাল থেকে অর্থকরী দ্রব্য‌ উৎপাদনে তিনি সফল হয়েছেন। ‘ট্র্য‌াশ টু ক্য‌াশ’ প্রকল্পে ১২টি দৃষ্টান্ত দেখানো হবে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি টিম ‘পরিবর্তনের দিশারী’ শীর্ষক উদ্য‌োগের অঙ্গ হিসাবে খুঁজে খুঁজে গোটা বিশ্ব থেকে এই দৃষ্টান্তগুলি সংগ্রহ করেছে। এর মধ্য‌ে মৃন্ময়ীর কাজও স্থান পেয়েছে।

কলকাতায় ‘ট্র্য‌াশ টু ক্য‌াশ’ প্রকল্প চার বছর আগে চালু হয়। দক্ষিণ এশিয়ার ফোরাম ফর এনভায়রনমেন্ট (সেফ) কলকাতার কঠিন বর্জ্য‌ের সমস্য‌া নিয়ে কাজ করতে করতে পরীক্ষা শুরু করে কী ভাবে বাতিল পদার্থ থেকে কার্যকর কিছু তৈরি করা যায়। এটি স্বাধীন গোষ্ঠীনির্ভর উদ্য‌োগ হিসাবে বস্তিবাসী মহিলাদের নিয়ে শুরু হয়েছিল। মৃন্ময়ীর বক্তব্য‌, ‘‘আমরা বর্জ্য‌ পদার্থকে একেবারে উৎস থেকেই আলাদা করে নিই। জৈব বর্জ্য‌কে মাঠে ফেলে কম্পোস্ট তৈরি হয়। আর বর্জ্য‌ কাগজ মহিলাদের পরিচালিত ওয়ার্কশপে রিসাইকেল হয়। এর থেকে তৈরি হয় হস্তশিল্পের নানা সামগ্রী।’’ তিনি ‘সেফ’ উদ্য‌োগের কর্মী অমৃতা চট্টোপাধ্য‌ায় ও চিরঞ্জিত চট্টোপাধ্য‌ায়ের সঙ্গে পেরুর রাজধানী লিমায় গিয়ে ১২৮টি দেশের প্রতিনিধির সামনে তাঁদের প্রকল্পের কথা শোনাবেন। এই কনফারেন্স হবে ডিসেম্বরে পর্যন্ত। মৃন্ময়ী এই প্রকল্পের টিম লিডার হিসাবে উৎপাদিত পণ্য‌ের বাজারজাত করার বিষয়টি, উদ্য‌োগের আরও খুঁটিনাটি বিষয়, সিএসআর প্রোমোশন দেখভাল করেন। দুঃখের বিষয় ৪৫ বছর বয়সী মায়া ঘোষ যিনি বর্জ্য‌ জলাভূমিতে মাছ চাষ করেন এবং এই উদ্য‌োগের প্রধান, তিনি পাসপোর্ট না থাকার কারণে লিমায় গিয়ে ‘লাইটহাউস অ্য‌াক্টিভিটিস’ পুরস্কার গ্রহণ করতে পারছেন না।

Back to top