হোম / খবর / গেরস্তের হেঁসেলে টাটকা মাছ দিতে আসছে নয়া গাড়ি
ভাগ করে নিন

গেরস্তের হেঁসেলে টাটকা মাছ দিতে আসছে নয়া গাড়ি

যে জ্যান্ত কই মাছের দাম পাইকারি বাজারেই অন্তত সাড়ে তিনশো টাকা কেজি , মরে গেলে একধাক্কায় দাম নামে দেড়শোয়৷ শুধু কই নয় , জ্যান্ত আর মরা রুই -কাতলার দামের ফারাকও কেজিতে অন্তত ৬০ থেকে ৮০ টাকা৷ অথচ , চাইলেও ক্রেতাদের ব্যাগে জ্যান্ত রুই , কাতলা , ট্যাংরা , কই , পাবদা , গলদা , বাগদা , পাঙ্গাশের মতো মাছ জ্যান্ত পোরার সুযোগ এখন নেহাতই কম৷

যে জ্যান্ত কই মাছের দাম পাইকারি বাজারেই অন্তত সাড়ে তিনশো টাকা কেজি , মরে গেলে একধাক্কায় দাম নামে দেড়শোয়৷ শুধু কই নয় , জ্যান্ত আর মরা রুই -কাতলার দামের ফারাকও কেজিতে অন্তত ৬০ থেকে ৮০ টাকা৷ অথচ , চাইলেও ক্রেতাদের ব্যাগে জ্যান্ত রুই , কাতলা , ট্যাংরা , কই , পাবদা , গলদা , বাগদা , পাঙ্গাশের মতো মাছ জ্যান্ত পোরার সুযোগ এখন নেহাতই কম৷ শুধু এ রাজ্য নয় , সারা দেশেই মাছের পরিবহণে এখনও ভরসা সেকেলে পদ্ধতিই৷ হাত দিয়ে হাঁড়িতে জল নাড়িয়ে অক্সিজেনের জোগান বজায় রেখেই মাছ চালানি করা এখনও দস্ত্তর৷ তবে অদূর ভবিষ্যতে বদলাতে চলেছে এই চিত্র৷ জ্যান্ত মাছ পরিবহণে নতুন যান আনতে চলেছে স্টেট ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এসএফডিসি )৷ জাপান , থাইল্যান্ডের মতো দেশে ফিশ কন্টেনারের মাধ্যমে জ্যান্ত মাছ পরিবহণের ব্যবস্থা রয়েছে৷ প্রতিটি কন্টেনারে ৪০ টন পর্যন্ত মাছ পরিবহণ করা যায়৷ অবশেষে এ দেশেও বদলাতে চলেছে মাছ পরিবহণের সাবেকি ব্যবস্থা৷ কেন এই উদ্যোগ ? রাজ্য মত্স্য উন্নয়ন নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে , এ রাজ্যে কোবিয়া উত্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে৷ তামিলনাড়ু থেকে এক একটি কোবিয়ার চারা আনতে খরচ হচ্ছে ২০০ টাকা৷ যদিও , এখন রাজ্যে কোবিয়ার চারা উত্পাদনেরও প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে৷ কিন্ত্ত , এই যানের মাধ্যমে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এমনকি ভিন্ রাজ্য থেকেও মাছের চারা পরিবহণে সুবিধে হবে৷

তবে , এটিই একমাত্র কারণ নয়৷ রাজ্য মত্স্য উন্নয়ন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৌম্যজিত্ দাশ জানান , ফ্রেজারগঞ্জ , হেনরিস আইল্যান্ড , দিঘার মতো নিগমের প্রকল্পগুলিতে যে মাছ উত্পাদন করা হচ্ছে , তার পরিবহণ করা হচ্ছে রেফ্রিজেরেটেড ভ্যানে৷ স্বভাবতই বরফচাপা অবস্থাতেই সে সব মাছ বিক্রি করা হচ্ছে কলকাতা , বিধাননগরের মতো এলাকায়৷ আধুনিক ব্যস্ত জীবনে এখন অনেকেই ফ্রোজেন ফিশে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও , ব্যবসার অভিজ্ঞতা থেকে নিগম দেখছে , বাধ্য হয়ে সে মাছ মানুষ খেলেও , এখনও প্রথম পছন্দ জ্যান্ত মাছ৷ আর সে কারণেই জ্যান্ত মাছ আর মরা মাছের দামের ক্ষেত্রে রয়ে গিয়েছে দামের যথেষ্ট ফারাক৷ এই পরিস্থিতিতেই জ্যান্ত মাছ পরিবহণে নিগমের এই উদ্যোগ৷

কেমন হবে ব্যবস্থাটি ? গাড়িগুলি দেখতে হবে অনেকটা তেলের ট্যাঙ্কারের মতো৷ উপর দিকে থাকবে ঢাকনা৷ ব্যবস্থা হবে অনেকটা চলন্ত অ্যাকোয়ারিয়ামের মতো৷ অ্যাকোয়ারিয়ামের মধ্যে এয়ারেটর ব্যবহার করে যে ভাবে অক্সিজেনের জোগান বাড়ানো হয় , এক্ষেত্রেও থাকবে তেমনই ব্যবস্থা৷ থাকবে অক্সিজেন সিলিন্ডারও৷ এক একটি মাছের অক্সিজেন প্রয়োজন হয় একেক পরিমাণে৷ কী মাছ পরিবহণ করা হচ্ছে , তা বিচার করেই রেগুলেটরের মাধ্যমে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ানো বা কমানো হবে৷ একইসঙ্গে জলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা৷ ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এ ভাবে বাঁচিয়ে রাখা যাবে মাছগুলিকে৷ তবে , জাপানের মতো বিশালাকায় কন্টেনার এখনই তৈরি করাচ্ছে না মত্স্য উন্নয়ন নিগম৷ আপাতত যে গাড়িগুলি তারা রাস্তায় নামাতে চলেছে , তার প্রতিটির বহনক্ষমতা হবে ১ টন৷ জল -সহ তার প্রতিটিতে অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি পর্যন্ত মাছ পরিবহণ করা যাবে গাড়িগুলির মাধ্যমে৷ নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে , প্রতিটি গাড়ির জন্য খরচ হবে আনুমানিক ১১ লাখ টাকা৷ প্রথম পর্যায়ে রাজ্যে এমন ১০টি গাড়ি নামাতে রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল নিগমের তরফে৷ জানা গিয়েছে , ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে সেই প্রস্তাব৷ মত্স্য বিশেষজ্ঞদের মতে , এই ব্যবস্থা শুরু হলে দেশে মাছ পরিবহণের ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটবে৷

সূত্র: এই সময়

Back to top