হোম / খবর / ন্যায্যমূল্যের ওষুধ দোকানের পরে এ বার হতে চলেছে ন্যায্যমূল্যের অস্থায়ী ফুল -ফলের দোকান৷
ভাগ করে নিন

ন্যায্যমূল্যের ওষুধ দোকানের পরে এ বার হতে চলেছে ন্যায্যমূল্যের অস্থায়ী ফুল -ফলের দোকান৷

সৌজন্যে রাজ্যের হর্টিকালচার দপ্তর৷

যে শাঁকালুর দাম সাধারণত ২০ টাকা কিলো , সরস্বতী পুজোর আগে তার দাম চড়ে ৫০ -৬০ টাকায়৷ পুজোর আগে পানিফল ৩০ টাকা থেকে ৪০ -৫০ টাকা , কাঁঠালি কলা ১০ টাকায় তিনটে থেকে ১০ টাকায় দুটোয় গিয়ে দাঁড়ায়৷ কখনও ২০ টাকায় তিনটে কাঁঠালিও মেলে৷ আখ থেকে গাঁদা -রজনীগন্ধ --- ফুল -ফলের দাম চড়ে অনেকটাই৷ এই অবস্থায় ন্যায্যমূল্যে ফুল -ফল বিক্রির ক্ষেত্রে সব ধর্মীয় পার্বণকে মাথায় রাখতে চাইছে হর্টিকালচার দন্তর৷ তবে রমজান মাসজুড়ে এ ভাবে ফল সরবরাহ করা সম্ভব না -হওয়ায় , বাছাই করা দিনে ফলের জোগান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে৷ সূত্রের খবর , হয়তো রমজানের প্রথম এবং শেষ দিনে এ ভাবে ফল বিক্রি করা হতে পারে৷ কবে হবে , তা অবশ্যই আগে থেকে ঘোষণা করা হবে৷ একই ভাবে ছটপুজোয় কলার কাঁদি কিংবা আখ বিক্রি করা যায় কি না , তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ তবে রাজ্যে বহুল পরিমাণে চাষ হয় , এমন ফুল -ফলই হর্টিকালচার দন্তরের মাধ্যমে বিক্রি হবে৷ রেট -চার্ট দেওয়া থাকবে মোবাইল ভ্যানে৷ রমজানে ফলের দাম বাড়তে থাকে৷ ছটপুজোয় কলার কাঁদির চাহিদা বাড়ে৷ বারো মাসে এহেন তেরো পার্বণে ফুল -ফল কিনতে আমজনতার নাভিশ্বাস ওঠে৷ মহানগরের সমস্ত বাজারে তখন অগ্নিমূল্য৷ তার আঁচ থেকে জনতাকে রেহাই দিতে শহরের জনবহুল জায়গায় মোবাইল ভ্যানে বাংলার ফুল -ফল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ ওই সময়ে বাজারের দাম থেকে অন্তত ২০ -৩০ শতাংশ কম দামে এই ফুল -ফল বিক্রি করা হবে৷ কোন কোন পার্বণে এই ন্যায্যমূল্যে ফুল -ফল বিক্রি করা যায় , তার ক্যালেন্ডার তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে হর্টিকালচার দন্তর৷ শহরের কোথায় কোথায় এই মোবাইল ভ্যানে বিক্রি করা যায় , তার ভাবনাও শুরু হয়েছে৷ কী কী ফুল -ফল বিক্রি করা যায় , তার প্রাথমিক ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে৷ হর্টিকালচার দন্তর সূত্রের খবর , প্রত্যেক ক্রেতাকে নির্দিষ্ট পরিমাণে ফুল -ফল কেনার সুযোগ দেওয়া হবে৷ কাউকে একসঙ্গে একাধিকবার বিপুল পরিমাণ সামগ্রী কিনতে দেওয়া হবে না৷ নতুন আর্থিক বছরের এই পরিকল্পনা রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ হর্টিকালচার দন্তরের মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লার কথায় , ‘কোন কোন পুজো -পার্বণের আগে এ ভাবে মোবাইল ভ্যানে ফুল -ফল বিক্রি করা যায় , তার জন্য একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে৷ সেই ক্যালেন্ডার মেনে বাজারের চলতি দাম থেকে কিছুটা কম দামে ফুল -ফল বিক্রি করা হবে মহানগরের বিভিন্ন প্রান্তে৷ এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো হর্টিকালচার দন্তর সরবরাহ করবে৷ ’ কয়েক দিন আগে হর্টিকালচার দন্তর একটি প্রতিষ্ঠিত নার্সারির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভ্যালেন্টাইন্স ডে -র দিন শহরে মোবাইল ভ্যান থেকে বাজারের দাম থেকে কিছুটা কমে গোলাপ বিক্রির বন্দোবস্ত করে৷ ভ্যালেন্টাইন্স ডে ’তে কিশোর -কিশোরীর দল ঝাঁক বেঁধে এই গোলাপ কিনেছে৷ এককথায় , সুপারহিট হয়েছে গোলাপ বিক্রির উদ্যোগ৷ কারণ ভ্যালেন্টাইন্স ডে -তে বাজারে গোলাপের দাম অত্যন্ত বেড়ে যায়৷ তাই শহরের পুরোনো একটি নার্সারি গোলাপ বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ায় হর্টিকালচার দন্তর তা লুফে নেয়৷ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর জোগান দেয়৷ এই মডেল সফল হওয়ায় উত্সব -পার্বণে ফুল -ফল বিক্রির বিষয়টি মাথায় আসে রেজ্জাক মোল্লার৷ তাঁর কথায় , ‘পুজোর আগে ফুল -ফলের দাম অত্যন্ত বেড়ে যায়৷ রমজানের সময়েও ফলের দাম বেড়ে যায়৷ এই প্রকল্প রূপায়িত হলে মানুষ কিছুটা রিলিফ পাবে৷ ’ হর্টিকালচার দন্তর সূত্রের খবর , কোন পুজো -পার্বণে কোন ফুল -ফল প্রয়োজন হয় , তার একটি তালিকা প্রথমে তৈরি করা হবে৷ এর মধ্যে রাজ্যের চাষিরা কোন ফুল -ফল উত্পাদন করেন , তা বেছে সেই উত্পাদকদের সঙ্গে হর্টিকালচার দন্তর সমন্বয় তৈরি করবে৷ দন্তরের নিজস্ব মোবাইল ভ্যান রয়েছে৷ চাষিদের সঙ্গে আগাম সমন্বয় করে তাঁদের ফুল -ফল সরাসরি এই মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে৷ এর ফলে ফড়েদের হাত থেকে কিছুটা রেহাই পাবেন চাষিদের একাংশ৷ স্বস্তি পাবে সাধারণ মানুষও৷ রেজ্জাকের কথায় , ‘চাষি ও আমজনতার যাতে লাভ হয় , সেটা নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য৷ ’ ন্যায্যমূল্যের অস্থায়ী দোকানের উদ্যোগ রাজ্য সরকারেরশহরের নানাপ্রান্তে বিক্রি হওয়া এই ফুল -ফল এবার বিক্রি হবে মোবাইল ভ্যানে --- ফাইল চিত্র৷


Back to top