হোম / সমাজ কল্যাণ / প্রকল্প ও কর্মসূচি / বৃহৎ শিল্প এবং উদ্যোগ
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

বৃহৎ শিল্প এবং উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গে বৃহদায়তন শিল্পে ও বানিজ্যের উন্নয়ন তথা নিয়ন্ত্রন এর দায়িত্ব শিল্প ও বানিজ্য বিভাগের হাতে ন্যস্ত।এছাড়া বৃহদায়তন শিল্পের স্থাপনা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই বিভাগ সমন্নয়কারির ভুমিকা পালন করে।

এই বিভাগের কার্যাবলীকে নিচের দুটি ভাগে ভাগ করা যায় –

১। বৃহদায়তন শিল্পের স্থাপন ও উন্নয়ন

২। বানিজ্য কার্যাবলী

আগ্রহী ব্যক্তিরা নিচের ওয়েব সাইটগুলি দেখতে পারেন

i. www.wbidc.com

ii. www.wbiidc.org

অতিরিক্ত তথ্যের জন্য –

http://www.wbidc.com/overview/function.htm

রাষ্ট্রীয় উদ‍্যোগ ও শিল্প পুনর্গঠন বিভাগ

এই বিভাগের উদ্দেশ‍্য

১)এই বিভাগের শিল্পক্ষেত্রের রুগ্নতা প্রতিহত করার জন‍্য য়ে সমস্ত শিল্প রুগ্ন বা দুর্বল হয়ে পড়েছে অথবা রুগ্নতার কারণে বন্ধ হয়ে যেতে বাধৎ হয়েছে সেগুলির পুনরুজ্জীবন ঘটানো।

২) রাজ‍্যের রাষ্ট্রীয় উদ‍্যোগাধীন সংস্থা পুনর্গঠনের জন‍্য সমন্বয়সাধনকারি ভূমিকা পালন করা এই বিভাগের কার্যাবলি:

  • এই রাজ‍্যের সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে শিল্প ও অর্থনৈতিক পর্ষদের হস্তক্ষেপ করা বা না করার মাধ‍্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রুগ্ন শিল্পের (বৃহৎ/মাঝারি) পুনরুজ্জীবন ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করা। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইনডাস্ট্রীয়াল রিনিউয়াল স্কীম, ২০০১ (ডব্লু বি আই আর এস)-এর প্রণীত সুবিধা ও ছাড়ের সাহায‍্যে সক্রিয় সহায়তা ও সমন্বয়সাধনের মধ‍্য দিয়ে পুনরুজ্জীবনের কাজ রুপায়িত করা।
  • ওয়েস্ট বেঙ্গল রিলিফ আন্ডারটেকিংস্ (স্পেশাল প্রভিসন) অ‍্যাক্ট, ১৯৭২ (ডব্লু বি আই আর ইউ) অনুযায়ী বিষয়গুলি বিবেচনা করা
  • এই বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অধীন রাজ‍্যের পরিচালিত রাষ্ট্রীয় উদ‍্যোগাধীন সংস্থাগলির পরিচালনা করা
  • এই বন্ধ হওয়া এবং রুগ্ন শিল্পক্ষেত্রগুলির পুনরুজ্জীবনের কাজে এবং একইসঙ্গে নতুন প্রকল্প চালু করার জন‍্য সেখানকার কাজে না লাগা অথবা অতিরিক্ত জমিকে নতুনভাবে কাজে লাগিয়ে উদ‍্যোগপতিদের সহায়তায় ঐ ধরণের ভূসম্পদকে উৎপাদনশীল করে তোলা

(ক) রাষ্ট্রীয় উদ‍্যোগাধীন সংস্থার (রাষ্ট্রীয় উদ‍্যোগাধীন শাখা)

পরিচালনা ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ভূমিকা

১। মে ২০১১-তে এই বিভাগের নিয়ন্ত্রাধীন ১৩টি এস পি এস ই-র মধ‍্যে ২০১৩-১৪ সালে ৭টি এস পি এস সি বিভিন্ন বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে চলে যায় এবং ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে গ্লুকোনেট হেল্থ লিমিটেড নামক এস পি এস ই স্বাস্থ‍্য ও পরিবার কল‍্যাণ বিভাগের অধীনে আসে। বর্তমানে সরস্বতী প্রেস লিমিটেড (এস পি এল), দুর্গাপুর কেমিক‍্যালস্ লিমিটেড(ডিসিএল), নিও পাইপস্ অ‍্যান্ড টিউবস্ কোং লিমিটেড (এন পি টি), ন‍্যাশনাল আয়রন অ‍্যান্ড স্টিল কোং লিমিটেড (এন আই এস সি ও) এবং লিলি প্রোডাক্টস লিমিটেড (এল পি এল) এই বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আছে। বেশিরভাগ কোম্পানিই আগে রুগ্ন বেসরকারি সংস্থা ছিল এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রাথমিকভাবে শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা করার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই ঐ কোম্পানিগুলি অধিগ্রহণ করে। যদিও, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে  এন পি টি, এন আই এস সি ও, এল পি এল এবং ডি সি এল-এর অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়ে। সরকারের পক্ষ থেকে এন পি টি, এন আই এস সি ও এবং এল পি এল-এর পুনরগঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডি সি এল -যা ব‍্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিল - সেই কোম্পানিকেও অধিগ্রহণ করার জন‍্য সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ক) সরস্বতী প্রেস লিমিটেড (এস পি এল) একটি আই এস ও ৯০০১-২০০৮ কোয়ালিটি সিস্টেম সার্টিফায়েড কোম্পানি।১৯৭৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এটি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি একটি লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত হয়। সম্প্রতি এস পি এল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডিজিটাল রেশন কার্ড ছাপানোর বরাত পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ধরণের ডাটা প্রিন্টিং ও উচ্চ প্রযুক্তির হলোগ্রাম তৈরী করে ট্রাক ও ট্রেস বৈশিষ্ট‍্যসম্পন্ন লিকারের বোতলে ছাপার কাজ করার মতো ক্ষেত্রে এরা এদের কাজ বিস্তৃত করেছে।

এখন এস পি এল একটি ঋণমুক্ত সংস্থা এবং এরা নিয়মিত সরকারকে লভ‍্যাংশ প্রদান করছে।

ওয়েস্ট বেঙ্গল টেক্সট্ বুক কর্পোরেশন নামে এস পি এল এর একটি অনুসারী কোম্পানি আছে যা স্কুল পাঠ‍্য বই ছাপানো এবং সরবরাহের জন‍্য সরকারের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়েছে।

এস পি এল - এর আর্থিক সাফল‍্য (কোটি হিসাবে):

পূর্ণ বিবরণ

২০১০-১১

২০১১-১২

২০১২-১৩

২০১৩-১৪

২০১৪-১৫

মোট উৎপাদন

৫8.১৯

8৯.8৯

১৪8.৬৫

১৭৩.০৯

৩৩8.৭২

নীট লাভ

০৩৯

১.৪৩

১.২৯

১৭

১৬.৫২

লভ‍্যাংশ

এস পি এল/ডব্লু বি টি বি সি(%)

১০/২০

২০/২০

২০/২০

৫/২০

৫/২০

খ)দুর্গাপুর কেমিক‍্যালস্ লিমিটেড (ডিসিএল) (১৯৬৩ সালে একটি সরকারি কোম্পানি হিসাবে নিগমবদ্ধ) কসটিক সোডা আই, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, স্টেবল ব্লিচিং পাউডার প্রভৃতি রাসায়নিকের উৎপাদন ও বিক্রয় করে থাকে।

আর্থিক সাফল‍্য (কোটি হিসাবে):

পূর্ণ বিবরণ

২০১০-১১

২০১১-১২

২০১২-১৩

২০১৩-১৪

২০১৪-১৫

মোট উৎপাদন

৫৯.৬৬

৬৬.০৬

৭৬.৭১

৭৯

৯১

নীট ক্ষতি

১8.৫১

২৩.৯৫

২০.৯১

৩৪.৫৬

২৭.৬৬

লভ‍্যাংশ

-

-

-

-

-

গ)ন‍্যাশনাল আয়রন এ‍্যান্ড স্টিল কোং (১৯৮৪) লিমিটেড (এন আই এস সি ও): (১৯৮৪ সালে রাজ‍্য সরকার কর্তৃক অধিগ্রহীত)

আর্থিক সাফল‍্য (কোটি হিসাবে):

পূর্ণ বিবরণ

২০১০-১১

২০১১-১২

২০১২-১৩

২০১৩-১৪

২০১৪-১৫

মোট উৎপাদন

৬.৭৫

৪.০৭

১২.৫১

১১.২২

৯.১8

নীট ক্ষতি

১৬.8৩

১৭.৩০

১৭.৭২

১8.৩৭

১৯.১৭

লভ‍্যাংশ

-

-

-

-

-

এই কোম্পানি ২০০৫ সাল থেকে উৎপাদনের কাজ বন্ধ রেখেছে। যদিও বর্তমানে সীমিত ব‍্যসায়িক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘ) নিও পাইপস্‌ অ‍্যান্ড টিউবস্‌ কোং লিমিটেড: (১/৪/১৯৮৪ থেকেই ন‍্যাশনাল পাইপস্‌ এ‍্যান্ড টিউবস্‌ কোং লিমিটেডও অধিগ্রহণ করা হয়)

আর্থিক সাফল‍্য (কোটি হিসাবে):

পূর্ণ বিবরণ

২০১০-১১

২০১১-১২

২০১২-১৩

২০১৩-১৪

২০১৪-১৫

মোট উৎপাদন

১৩৩.২৫

২০১.১৩

২৫৯.০০

১.৫৩

.৩০

নীট উৎপাদন

৫৬৫.০০

৬২১.৭8

৫৬৩.০০

৭.২৩

৭.৪৩

লভ‍্যাংশ

-

-

-

-

-

অক্টোবর, ২০১৪ থেকে এই কোম্পানি তাদের কাজ বন্ধ রেখেছে।

ঙ) লিলি প্রোডাক্টস্‌ লিমিটেড: (১৯৯৬ সালে রাজ‍্য সরকার অধিগ্রহণ করেছে)

এই কোম্পানি ২০০৫ সাল থেকে তাদের কাজ বন্ধ রেখেছে।

অর্থবিভাগের মেমো নং ৩১৬১-এফ(পি) তাং ১৭.০৬.২০১৪ এবং নং ৩৯৬৭-এফ(পি) নির্দেশিকা অনুসারে পুনর্নিয়োগের মাধ‍্যমে এই তিনটি পিএসই যেমন এন আই এস সি ও, এন পি টি এবং এল পি এল-এর কর্মচারীদের ক্ষেত্র (স্থায়ী ও চুক্তিবদ্ধ) কর্মচ‍্যুতি ঘটেনি। এই তিনটি এস পি সি যেগুলির পুনর্গঠন করা হয়েছে - তাদের বেশীরভাগ কর্মচারী বিভিন্ন সরকারী ক্ষেত্রে পুনর্নিয়োগের মাদ‍্যমে লাভবান হয়েছেন।

নিচে উল্লিখিত চারটি সংস্থা যৌথ উদ‍্যোগ সংস্থা হিসাবে কাজ করছে

১) ই এম টি মেগাথার্ম প্রাইভেট লিমিটেড (সরকারি শেয়ার ২৬%)

২) ডব্লু. বি. অ‍্যাগ্রো-টেক্সটাইল কর্পোরেশন লিমিটেড (সরকারি শেয়ার ২৬%)

৩) ডব্লু. বি. কেমিক‍্যালস্‌ লিমিটেড (সরকারি শেয়ার ২৬%) এবং

৪) দি ললিত গ্রেট ইস্টার্ন হোটেলস্‌ (সরকারি শেয়ার ১০%)

খ) পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় উদ‍্যোগগাধীন সংস্থা (সি পি এস ইউ) এবং বেসরকারি উদ‍্যোগ ইউনিট-এর (শিল্প পুনর্গঠন শাখা) ভুমিকা

ভারতীয় সংবিধানের কেন্দ্রীয় তালিকার একটি বিষয় হল ‘শিল্প'। ‘দ‍্য কোম্পানিজ অ‍্যাক্ট ১৯৫৬', ‘দ‍্য সিক ইনডাস্ট্রিয়াল কোম্পানিজ (স্পেশাল প্রভিশনস্‌) অ‍্যাক্ট ১৯৮৫' এবং ‘দ‍্য সিকিউরিটাইজেসান এ‍্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন অফ ফিনানসিয়াল অ‍্যাসেটস্‌ অ‍্যান্ড এনফোর্সমেন্ট অফ সিকিউরিটি ইনটারেস্‌ট অ‍্যাক্ট ২০০২ (এস এ আর এফ এ ই এস আই অ‍্যাক্ট) আইনগত রূপরেখা গড়ে তোলে যার মধ‍্য থেকেই সংবিধি অনুসারে রুগ্ন ও বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পের জন‍্য যার মধ‍্য থেকেই সংবিধি অনুসারে রুগ্ন ও বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পের জন‍্য কাজ শুরু করার বিষয়ে রাজ‍্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিকল্পা গ্রহণ করতে হবে।

এতদসত্বেও রাজ‍্য সরকার এই রাজ‍্যের রুগ্ন শিল্পগুলির পুনরুজ্জীবনে সহায়তা প্রদনের জন‍্য একটি সক্রিয় কর্মসূচীর পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্দেশ‍্যে (ওয়েস্ট বেঙ্গল ইনডাস্ট্রিয়াল রিনিউয়াল স্কিম ২০০১ (ডব্লু বি আই আর এস ২০০১ নামে) পূর্বতন শিল্প পুনর্গঠন বিভাগ ২০০১ সালের মার্চ মাসে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইনডাসট্রিয়াল রিনিউয়াল স্কিম ২০০১ (ডব্লু বি আই আর এস ২০০১) নামে নিজস্ব নীতি সূত্রপাত করে।

এই বিভাগ ধীরে ধীরে অনুভব করছে যে এই পরিকল্পের অধীনে যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে তা ‘শিল্পের রুগ্নতায়' উপযুক্তভাবে রূপায়িত হতে পারছে না কারণ অধিকাংশ শিল্প সংস্থা  ডব্লু বি আই আর এস ২০০১-এর অধীনে রাজ‍্য সরকারের কাছ থেকে তুলনামূলকভাবে স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে তাদের নিজেদের ঋণের বোঝা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব‍্যাঙ্কের উপর সরিয়ে দিচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা স্মরণে রেখে ২০০৩ সালের এপ্রিলে স্থির করা হয়েছে যে রাজ‍্য সরকার তার সহায়তা কেবলমাত্র নিচে উল্লিখিত ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রদান করবে। যেখানে রাজ‍্যের ব‍্যয়বরেদ্দে নতুন কোন ব‍্যয় হবে না:

ক) ১১ বছর ধরে পরিশোধযোগ‍্য স্বল্পসুদে ঋণের ব‍্যবস্থার রূপান্তরিত করে বকেয়া বিক্রয় কর পুনর্নিদ্ধারণ

খ) আগামী ৫ বছরের জন‍্য বিদ‍্যুৎ কর মকুব করা;

গ) কোন নতুন প্রোমোটার বন্ধ কাখানা পুনরুজ্জীবনের জন‍্য গ্রহ্ন করলে স্টাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০ শতাংশ র্যন্ত ছাড় দেওয়া।

ঘ) কঠোরভাবে কার্যকারিতার সাপেক্ষে সংস্থার পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশে সম্পদ সৃষ্টি করার জন‍্য বিনিয়োগের লক্ষ‍্যে কোন ইউনিটের হাতে থাকা উদ্বৃত্ত জমির সদ্‌ব‍্যবহার

১) বি আই এফ আর ক্ষেত্রে ছাড়-এর প্রসারণ

অর্থ বিভাগ এবং অন‍্যান‍্য প্রাসঙ্গিক  বিভাগগুলির সঙ্গে পরামর্শক্রমে বি.আই.এফ.আর-এর অনুমোদন অনুসারে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিনিউয়াল স্কিম ২০০১-এর নির্দেশ অনুযায়ী এই বিভাগ সমস্ত যোগ‍্য ক্ষেত্রে প্রাপ‍্য সুযোগসুবিধা ছাড় দেওয়ার কথা বিবেচনা করেছে। পরপর দুবছর নগদ ক্ষতির সম্মুখীন দুর্বল ইউনিটগুলিকেও ছাড় দেওয়ার কথা বিবেচনে করা হয়েছে।

২. ওয়েস্ট বেঙ্গল রিলিফ আন্ডারটেকিং (গ্লোবাল প্রভিশনস্) অ‍্যাক্ট ১৯৭২-এর প্রয়োগ:

ওয়েস্ট বেঙ্গল রিলিফ আন্ডারটেকিং (গ্লোবাল প্রভিশনস্) অ‍্যাক্ট ১৯৭২-এর অধীনে এই বিভাগ যোগ‍্য রুগ্ন শিল্পগুলিকে রিলিফ আন্ডারটেকিং ঘোষণা করে তাদের আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার কথা বিবেচনা করেছে।

৩. রুগ্ন শিল্পের জমি ব‍্যাঙ্ক

·এই বিভাগ লক্ষ‍্য করেছে যে রুগ্ন/বন্ধ শিল্প ইউনিটগুলির মালিকানাধীনে বহু পরিমাণ জমি অব‍্যবহৃত/ন‍্যূনতম মাত্রায় ব‍্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রুগ্ন/বন্ধ শিল্প ইউনিটগুলির অব‍্যবহৃত/উদ্বৃত্ত জমি নিয়ে রুগ্ন শিল্পের জমি ব‍্যাঙ্ক গঠন করার একটি উদ‍্যোগ নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে রুগ্ন/বন্ধ শিল্প ইউনিটগুলির অব‍্যবহৃত জমি নিয়ে জমিব‍্যাঙ্ক গঠনের জন‍্য মেসার্স প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপার্স প্রাইভেট লিমিটেড (পি ডব্লু সি)-কে পরামর্শদান তথা সহয়তার জন‍্য নিয়োগ করা হয়েছে। পি ডব্লু সি-র তৃতীয় অন্তবর্তী রিপোর্টের তথ‍্যাবলির ভিত্তিতে তেইশটি শিল্পের জমি নিয়ে উক্ত তেইশটি শিল্পের ক্ষেত্রে জমিব‍্যাঙ্ক গঠনের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। আঠারোটি শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে পি ডব্লু সি ১৯৫০৬.১৩ একর জমি অব‍্যবহৃত এবং ৮৩৬৩.২৭ একর জমি উদ্বৃত্ত হিসাবে চিহ্নিত করেছে। উপরন্তু, পাঁচটি শিল্প ইউনিটে ১৬৮১.৫১ একর জমি ঋণ খালাস অবস্থায় আছে।

·রাজ‍্য সরকার বন্ধ শিল্পের নানাবিধ বিষয় নিয়ে বিবেচনা রার জন‍্য একটি মন্ত্রীগোষ্ঠী (জি ও এম) গঠন করেছে এবং বর্তমানে দুটি বন্ধ কোম্পানি বিষয়ের বিবেচনাধীন।

·বন্ধ শিল্পগুলিতে অব‍্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা জমির সদ্ববহারের জন‍্য কর্মপন্থা নির্ধারণের উদ্দেশ‍্যে গঠিত মন্ত্রীগোষ্ঠিকে সহায়তার লক্ষ‍্যে উক্ত মন্ত্রীগোষ্ঠির সুপারিশের আধিকারিকদের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রীগোষ্ঠির দ্বারা চিহ্নিত জমি সম্পর্কে কী ব‍্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা নির্ধারণের জন‍্য কমিটি নিয়োমিতভাবে বৈঠক করছে।

৪. অর্থ বিভাগের নানাবিধ অসুবিধা এবং রুগ্ন শিল্প নিয়ে বি আই এফ আর-এর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রুগ্ন শিল্পগুলিকে ছাড়/সুযোগসুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে অধিকতর নমনীয়তার সহকারে একটি নতুন পরিকল্প রচনা করার কথা ভাবা হয়েছে। সুতরাং, রাজ‍্যের রুগ্ন শিল্পগুলির জন‍্য সংশোধিত ও বর্ধিত ছাড়/সুযোগসুবিধাসহ একটি নতুন পরিকল্প রচনা করা হচ্ছে। এটি বর্তমান ডব্লু বি আই আর এস, ২০০১ পরিকল্পের বদলে কার্যকর করা হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে নতুন পরিকল্পটি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৫. বকেয়া ঋণ আদায়

যে সমস্ত কোম্পানি সল্পসুদের ঋণ/মধ‍্যবর্তী ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়েছে তাদের ঋণ পরিশোধ করার জন‍্য নোটিশ জারি করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে ঋণখেলাপি কোম্পানিগুলির নিকট থেকে ৩.২১ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।

৬. বি আই এফ আর-এর কাছে পেশ করা রাজ‍্যের রুগ্নশিল্প ইউনিটগুলির বর্তমান স্থিতি

শিল্প ও আর্থিক পুনর্গঠন পর্ষদ (বোর্ড ফর ইনডাসট্রিয়াল অ‍্যান্ড ফাইনানশিয়াল রিকনস্ট্রাকশন - বি আই এফ আর) প্রাথমিকভাবে বৃহৎ /মাঝারি শিল্পক্ষেত্রভুক্ত কোম্পানিগুলির ক্ষেত্রে কী ব‍্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা স্থির করে। এই শিল্পক্ষেত্রগুলি তাদের ক্ষয়ক্ষতির  একটি প্রাথমিক মূল‍্যায়নের ভিত্তিতে রুগ্নতা বিষয়টি পর্ষদের কাছে পেশ করবে এবং পর্ষদে তাদের নাম নথিভুক্ত করবে। কী ধরণের স্বার্থত‍্যাগ প্রয়োজন সে বিষয়ে ভুক্তভোগী সকল পক্ষের সম্মতি নিয়ে ‘সিক ইনডাসট্রিয়াল কোম্পানিস' (স্পেশাল প্রভিসন্‌স) অ‍্যাক্ট ১৯৮৫-র বিধান অনুসারে শিল্পে রুগ্নতার সংশ্লিষ্ট কারণগুলিকে দূর করার জন‍্য পুনরুজ্জীবনের পরিকল্প প্রনয়ণ করবে। অনুমোদিত পরিকল্পগুলি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির দ্বারা রূপায়িত হওয়ার পর্বে পর্ষদ রূপায়ণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করবে।

এযাবৎ এই বিভাগ এই রাজ‍্য থেকে বি আই এফ আর-এ নথিভুক্ত ৩৯৭টি শিল্পে রুগ্নতার বিষয়ে কাজ করেছে। এর মধ‍্যে ২৫টি কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনাধীন সংস্থা এবং বাদবাকী ৩৭২টি বেসরকারী ক্ষেত্রের শিল্প ইউনিট।

সূত্র: পশ্চিমবঙ্গ সরকার

2.61538461538
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top