হোম / সমাজ কল্যাণ / ওঁরা পথ দেখান / বাড়তি আছে বাক্সে ফেলুন ।
ভাগ করে নিন

বাড়তি আছে বাক্সে ফেলুন ।

বাক্স মানে ডাস্টবিন নয় । এমন এক ড্রপবক্স -এ , যেখান থেকে তা পৌঁছে যাবে সমাজকর্মীদের কাছে ।

প্রিয়ায় সিনেমা দেখতে যাননি কলকাতায় এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার৷ ফিল্ম দেখা আর হল থেকে বেরিয়ে আসার মাঝে কখনও লক্ষ্য করেছেন কি এই সিনেমা হলে রয়েছে একটি ড্রপ বক্স? দেখে থাকলে ভেবেছেন কি কোন উদ্দেশ্যে রয়েছে সেটা? আদতে এই ড্রপ বক্সটি হল মেডিসিন বক্স

ঠিক যেমন আমাদের বাড়িতে থাকে৷ তবে এই মেডিসিন বক্সের উদ্দেশ্যটা একটু অন্য৷ এটা এমন এক উদ্যোগ যাতে উপকৃত হতে পারেন প্রকৃত অর্থেই যাঁদের দামী ওষুধ কেনার ক্ষমতা নেই তাঁরা৷ কী রকমভাবে ? প্রিয়া এন্টারটেনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড (পিইপিএল)-এর তরফে ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরিজিত্ দত্ত জানাচ্ছেন, ‘অনেক সময়ই আমরা যে ওষুধ কিনি তা পুরোটা খাই না৷ সুস্থ হয়ে গেলেই ওষুধ খাওয়ার ইচ্ছে চলে যায়৷ তাই বাকিটা আমরা ফেলে দিই, নষ্ট করি৷ কিন্ত্ত সেই ওষুধই হয়তো অন্য কেউ কিনতে পারছেন না টাকার অভাবে৷ তাই আমরা এই উদ্যোগটা নিই৷ একজনের কাছ থেকে নিয়ে অন্যজনকে সেটা পৌঁছে দেওয়ার৷যে কেউ এখানে ওষুধ ডোনেট করতে পারেন৷ যাতাযাতের পথে অব্যবহারের ওষুধটা বাড়িতে নষ্ট না করে প্রিয়ার এই ড্রপ বক্সে ফেলে গেলেই হবে৷ পিইপিএল -এর তরফে দেখে নেওয়া হয় এক্সপায়ারি ডেট অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে কিনা৷ প্রাথমিক স্ক্রিনিং -এর পর তা তুলে দেওয়া হয় এনজিওর হাতে৷ বলাকানামে একটি স্বেচ্ছসেবী সংস্থা প্রথমে এই ওষুধ পৌঁছে দেয় বিভিন্ন জেলায়৷ অন্য কোনও স্বেচ্ছসেবী সংস্থা নিতে ইচ্ছুক হলে তাদেরও দেওয়া হয়৷ এখন প্রায় পনেরোটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এখান থেকে ওষুধ নিয়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গে , যাঁদের এই ওষুধ প্রয়োজন তাঁদের কাছে পৌঁছে দেয়৷ শুধু কলকাতায় নয়, যেখানে পিইপিএল-এর সংস্থা রয়েছে, সেখানেই রয়েছে মেডিসিন বক্স৷ সম্প্রতি ত্রিপুরাতেও শুরু হয়েছে এই উদ্যোগ৷ গত বছর পয়লা বৈশাখে এই মেডিসিন বক্স শুরু করার কথা প্রথম মাথায় আসে পিইপিএল -এর চেয়ারপার্সন পুর্ণিমা দত্তের৷

তারপরেই শুরু হয় তোড়জোড়৷ অরিজিত্ জানাচ্ছেন , ‘আমার মা প্রথম এই উদ্যোগ শুরু করতে চান৷ এরপর আমার স্ত্রীও অংশ নেন৷ ওঁরাই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন৷ প্রথমিক আলোচনার পর শুরু হয় এই উদ্যোগ৷ আমাদের কাজ ছিল অনবরত মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো৷ যাতে তাঁরা অব্যবহূত ওষুধ ফেলে না দিয়ে আমাদের ড্রপ বক্সে দিয়ে যান ৷ শুরুর দিকে জেলার সিঙ্গল স্ক্রিন গুলোয় তেমন সাড়া পাওয়া যেতো না৷ কিন্ত্ত ক্রমশ পরিস্থিতি বদলেছে৷ তাহলে এখন মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন? তাঁরা কতটা সাহায্য করতে উত্সাহী? ‘এখন আমরা খুব ভালো রেসপন্স পাচ্ছি৷ অনেক মানুষ নিজে থেকে এসে ওষুধ দিয়ে যান৷ তাঁরা বুঝতে পেরেছেন তাঁদের এই সামান্য উদ্যোগ মানুষের কত উপকারে লাগে৷ আমরাও খুশি এভাবে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে থাকতে পেরে ’- জানাচ্ছেন অরিজিত্৷ এই উদ্যোগ যাতে আরও মানুষের কাছে পৌঁছায় , আরও জনপ্রিয়তা পায় তার জন্যে শুরু হয়েছে স্লাইড শো৷ পিইপিএল -এর যে কোনও হলেই দেখতে পাবেন নোটিস বোর্ডও৷ যাঁরা জানেন না সহজেই যাতে তাঁদের কাছে পৌঁছে যায় এই উদ্যোগের কথা৷

তথ্যসূত্রঃ দেবলীনা ঘোষ মুখোপাধ্যায়, এই সময়

2.82608695652
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top