হোম / সমাজ কল্যাণ / ওঁরা পথ দেখান / স্কুল শিক্ষক হূদরোগে আক্রান্ত সৌমীকে সুস্থ করতে এগিয়ে এলেন
ভাগ করে নিন

স্কুল শিক্ষক হূদরোগে আক্রান্ত সৌমীকে সুস্থ করতে এগিয়ে এলেন

হূদরোগে আক্রান্ত সৌমীকে সুস্থ করতে এগিয়ে এলেন স্কুল শিক্ষক

দুর্গাপুর একরত্তি মেয়েটা ছিল একটু বেশিই চঞ্চল৷ আর পাঁচটা ছেলেমেয়ের থেকে দৌড় ঝাপেও থাকত এগিয়ে৷ স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও ছিল চরম আগ্রহ৷ খেলাধুলার আগ্রহটাই যে মেয়েকে শয্যাশায়ী করে দেবে তা ভাবতে পারেননি মা মালা চৌধুরী৷ কাঁকসা থানার পূর্ব ক্যানাল পাড়ের বাসিন্দা মালাদেবীর মেয়ে বছর ১৫ -র সৌমী৷ স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় লংজাম্পে অংশ নিয়ে ঝাঁপ মারতে গিয়ে বুকে আঘাত পায় সে৷ পরে হূদযন্ত্রে ত্রুটি ধরা পড়ায় শৈশবের স্বভাবিক ছন্দটাই হারিয়ে গিয়েছে তার জীবনে৷ বাবা মণিলাল চৌধুরী আগেই মারা গিয়েছেন৷ কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন অসুস্থ মা৷ এই অবস্থায় অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে জীবন -মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিদিন পাঞ্জা লড়ছে ক্যানালপাড়ের ছোট্ট মেয়েটা৷ যদিও পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন সৌমীর স্কুলের শিক্ষক রামাধর পাণ্ডে৷ নিজে পাঁচ হাজার টাকা ও স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদের কাছ থেকে আরও সাত হাজার টাকা তুলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন রামাধর৷ চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছে ব্লক প্রশাসনও৷ কিন্ত্ত দিন দিন মেয়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে৷

স্কুল শিক্ষক হূদরোগে আক্রান্ত সৌমীকে সুস্থ করতে এগিয়ে এলেন

শনিবার রাতে সৌমীর শরীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ তবে অতিরিক্ত রোগী থাকায় সারা রাত বারান্দায় কাটাতে হয়েছে তাকে৷ শিক্ষক রামাধর বলেন, ‘আমি আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলছি৷ যেভাবেই হোক মেয়েটাকে বাঁচাতে হবে৷ দক্ষিণের একটি হাসপাতালের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি৷ তারা বিনা পয়সায় চিকিৎসা করাতে রাজি হয়েছে৷ কিন্ত্ত যাতায়াত ও থাকার জন্য অন্তত ৫০ হাজার টাকা লাগবে৷ সেই টাকা সংগ্রহ করছি৷ ’পানাগড় হিন্দি স্কুলে পড়ত সৌমী৷ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় লংজাম্পে অংশ নেয় সে৷ দৌড়ে এসে ঝাঁপ দিতেই বুকটা গিয়ে পড়ে একটা পাথরের উপর৷ মারাত্মক আঘাত লাগে৷ অভাবের সংসারে সেভাবে চিকিৎসা হয়নি৷ বছর ঘুরতেই বুকের ব্যামোটা মাঝে মধ্যে চাগাড় দিয়ে উঠতে শুরু করে৷ পরিস্থিতি এমন জায়গায়  যে স্কুলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায়৷ এদিক ওদিক থেকে কিছু টাকা জোগাড় করে মেয়েকে নিয়ে চিকিত্সকের কাছে দৌড়ন মালা৷ চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানিয়ে দেন, হৃদযন্ত্রে র একটি ভালভ অকেজো হয়ে গিয়েছে৷ অন্যের বাড়িতে কাজ করে সামান্য যা আয় করতেন তা দিয়ে কোনও রকমে সংসার চালাতেন মালা৷ সম্প্রতি তাঁর পেটে টিউমার হওয়ায় কাজের শক্তি হারিয়েছেন৷ সৌমীদের বাড়িতে অভাব আর রোগটা যেন থাবা গেড়ে বসেছে৷ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা করিয়েছেন মালা৷ ভালভ বদল না করলে সৌমীকে বাঁচানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা৷ হাসপাতাল সুপার দেবব্রত দাস অবশ্য সৌমীর সুচিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন৷ মালাদেবী বলেন, ‘ঘরে কোনও জিনিস অবশিষ্ট নেই৷ মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সব বিক্রি করে দিয়েছি৷ ডাক্তার বলছে দু’লক্ষ টাকা লাগবে৷ কোথা থেকে জোগাড় করব জানি না৷’ কাঁদতে কাঁদতে মালা বলেন, ‘চোখের সামনে মেয়ের মৃত্যু দেখা ছাড়া কোনও উপায় নেই৷’ শনিবার রাতে সৌমীর শরীরিক অবস্থার অবনতি হলে কাঁকসার বিডিও অরবিন্দ বিশ্বাসের উদ্যোগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ অরবিন্দ বলেন, ‘আমি খবর পাওয়া মাত্র বিএমওএইচকে নির্দেশ দিয়েছিলাম অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে৷ ব্লক প্রশাসনের তরফে যতটা সম্ভব আমরা চেষ্টা করব৷

সুত্র: এই সময়

2.5
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top