হোম / সমাজ কল্যাণ / আর্থিক অন্তর্ভুক্তি / জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প
ভাগ করে নিন

জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প

জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (এনরেগা) অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে যে কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প চালু হয়েছে সে সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

প্রকল্পটির নাম পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প ২০০৬। জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন ২০০৫ অনুসারে এই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য নীচে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ---

  • ১) এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য‌ একটি আর্থিক বছরের মধ্য‌ে সব গ্রামীণ পরিবারকে অন্তত একশো দিনের কাজের গ্য‌ারান্টি দেওয়া। এই পরিবারগুলির প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য‌দের লিখিতভাবে জানাতে হবে যে তাঁরা গায়েগতরে খেটে অদক্ষ শ্রমিকের কাজ করতে ইচ্ছুক। তা হলেই তাঁরা আইন অনুযায়ী এই প্রকল্পের অধীনে কাজ পাবেন।
  • ২) গ্রামে স্থায়ী সম্পদ তৈরি করা এবং গ্রামীণ গরিবদের জীবিকার উৎসকে আরও একটু সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করা।

প্রকল্পটির বাস্তবায়ন

প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় স্পন্সরড স্কিম হিসাবে রূপায়িত হয়। আইন অনুযায়ী খরচ কেন্দ্র ও রাজ্য‌ নির্দিষ্ট হারে ভাগাভাগি করে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পের নোডাল এজেন্সি

আইনে যে ব্যবস্থা রয়েছে তা অনুসারে প্রকল্পের খরচ কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ভাগাভাগির ভিত্তিতে কেন্দ্রের এই স্পনসর্ড প্রকল্পটি রাজ্যে রূপায়ণের জন্য নোডাল এজেন্সি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর।

প্রকল্পের কৌশল

  • ১. বিভিন্ন কাজের প্রকল্প চিহ্নিত করা, তার পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা তৈরি করা এবং অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা রচনা করার কাজে গ্রাম উন্নয়ন সমিতি, গ্রাম সংসদ, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদকে অন্তর্ভুক্ত করা।
  • ২. জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্য‌মে প্রাথমিক ভাবে প্রকল্পগুলি রূপায়ণ করা। রাজ্য‌ সরকারের বিভিন্ন দফতর, কর্পোরেশন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য‌ সরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসনের স্পনসর করা স্বশাসিত ও সমবায় সংস্থা এই প্রকল্পের কার্যকর এজেন্সির ভূমিকা নিতে পারে। এই প্রকল্প রূপায়ণে পঞ্চায়েতি রাজ সংস্থাগুলি কোনও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ক্লাস্টারের সাহায্য‌ গ্রহণ করতে পারে।
  • ৩. এই প্রকল্প যথাযথ রূপায়ণের কাজে জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর এবং প্রোগ্রাম অফিসারকে চূড়ান্ত ভাবে দায়বদ্ধ কয়রা।
  • ৪. এই প্রকল্পের সামাজিক ও নজরদারির কাজে সুবিধাভোগী কমিটিকে (গ্রাম উন্নয়ন সমিতি বা ডিপিসি অনুমোদিত যে কোনও কমিটি) জড়ানো।
  • ৫. নিবিড় গণসংযোগের মাধ্য‌মে একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত এই প্রকল্পের ব্য‌াপারে সচেতনতা গড়ে তোলা। এই প্রকল্প ও আইন অনুসারে নাগরিকরা যে সব অধিকার পেতে পারেন বা তাঁদের কর্তব্য কী সে সম্পর্কে তাঁদের ঠিকমতো অবহিত করা।
  • ৬.পঞ্চায়েতি রাজ সংগঠনের সদস্য‌, পঞ্চায়েতের পদাধিকারী, আধিকারিক, কর্মচারী এবং এই আইন রূপায়ণের কাজে যাঁরা জড়িত তাঁদের জন্য‌ নিবিড় প্রশিক্ষণ শিবিরের ব্য‌বস্থা করা।
  • ৭. তথ্য‌ ব্য‌বস্থাপন পদ্ধতি বা ম্য‌ানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের নকশা প্রস্তুত ও তা কার্যকর করা।

অনুমোদনযোগ্য কাজ

  • ১) গ্রামীণ এলাকায় নিম্নলিখিত ধরনের কাজ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করা হবে ---
    • ক) জল সংরক্ষণ ও জল তোলার ব্য‌বস্থা -– সরকারি জমি এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি, ভূমি সংস্কারে উপকৃত, সরকারি ভবন, দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী পরিবার ও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের (অগ্রাধিকারের তালিকায় একেবারে শেষে) জমিতে মাটি কেটে পুকুর, চেক ড্য‌াম, অনুস্রবণ ট্যাঙ্ক, ভূগর্ভস্থ নালা এবং জল জল সংরক্ষণের কাঠামো বানানো।
    • খ) খরার মোকাবিলা করা -- জল সংক্রান্ত উন্নয়নের যাবতীয় কাজ, বনসৃজন ও গাছ লাগানো, শ্রম নিবিড় পদ্ধতিতে বেড়া দেওয়ার ব্য‌বস্থা করা, নার্শারি গঠন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যাবলি।
    • গ) ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র সেচের কাজ-সহ সেচের খাল কাটা -- ফিডার চ্য‌ানেল, ফিল্ড চ্য‌ানেল, নির্দেশিত এলাকা উন্নয়ন, শ্রম-নিবিড় সেচ কাঠামো এবং স্থায়ী সেচসম্পদ গড়ে তোলা।
    • ঘ) তফশিলি জাতি ও উপজাতি, পাট্টাপ্রাপক ও নথিভুক্ত বর্গাদার-সহ ভূমি সংস্কারে উপকৃত, ইন্দিরা আবাস যোজনায় উপকৃত এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের (অগ্রাধিকারের তালিকায় একেবারে শেষে) মালিকানাধীন জমিতে সেচের ব্য‌বস্থা করা।
    • ঙ) পলি কাটা-সহ পুরনো জলাশয়গুলোর সংস্কার --- পুরনো জলাশয়গুলোর সংস্কার গ্রামজীবনের একটি প্রধান কাজ। এর ফলে পরিবেশ দূষণ রোধ এবং পরিস্রুত জলের ব্য‌বস্থা – দু’টোই হয়। এছাড়া কূপ খনন করা, পুরনো কূপের সংস্কারও এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ব্যাক্তিগত পুকুরের জল ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ানোর কাজও করা হয় যদি ওই পুকুরের মালিক তাঁর অতিরিক্ত জল জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য ইচ্ছুক থাকেন। সে ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতি রাজ সংস্থা বা জল ব্য‌বহারকারী সমিতির সঙ্গে পুকুরের মালিকের একটি চুক্তি করতে হবে।
    • চ) তফশিলি জাতি ও উপজাতি, ভূমি সংস্কারে উপকৃত, ইন্দিরা আবাস যোজনায় উপকৃত এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের (অগ্রাধিকারের তালিকায় একেবারে শেষে) জমি উন্নয়ন। এমনকী গ্রামীণ আবাস যোজনায় উপকৃতদের বাড়ি নির্মাণ, খেলার মাঠের উন্নয়ন, গ্রামের বাজারের জন্য‌ নির্দিষ্ট জমির উন্নয়ন এবং গ্রামের স্থায়ী সম্পদ তৈরি এই প্রকল্পের অন্য‌তম লক্ষ্য‌।
    • ছ) বন্য‌া নিয়ন্ত্রণের কাজ ও বর্ষার জন্য‌ অস্থায়ী নিকাশী ব্য‌বস্থার সৃষ্টি করা।
    • জ) গ্রামীণ যোগাযোগ ব্য‌বস্থার উন্নয়ন -- প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা-সহ বিভিন্ন রাস্তা তৈরির প্রকল্পের কাজ।
    • ঝ) রাজ্য‌ সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞাপিত যে কোনও কাজ।
  • ২) উপরে বর্ণিত সব ধরনের কাজে আগে সমাজের স্বার্থকে প্রাধান্য‌ দিতে হবে, তার পর ব্য‌ক্তির স্বার্থের প্রশ্ন আসবে।

নাম নথিভুক্তকরণ

  • ১. গ্রামীণ এলাকায় বাস করে এমন প্রত্য‌েক পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য যিনি কায়িক অদক্ষ শ্রমিকের কাজ করতে ইচ্ছুক, তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতে নিজের নাম নথিভুক্ত করার জন্য আবেদন করতে পারেন। পরিবারের সব সদস্য‌ের দু’কপি গ্রুপ/ব্য‌ক্তিগত ছবি আবেদনপত্রের সঙ্গে জুড়ে দিতে হবে। আবেদনপত্র সংক্রান্ত ফর্মের জেরক্স কপিতেও কাজ চলবে।
  • ২. প্রোগ্রাম অফিসার প্রতিটি গ্রাম সংসদে শিবির করে নথিভুক্তকরণের কাজ তরান্বিত করতে পারেন। এই ধরনের শিবিরের মাধ্য‌মে টার্গেট গ্রুপ এবং সাধারণ মানুষের মধ্য‌ে প্রকল্প নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা যায়। প্রকল্প চালু হওয়ার পর দু’সপ্তাহের জন্য বিশেষ শিবির করে নথিভুক্তকরণের আবেদনপত্র গ্রহণের ব্য‌বস্থা করা যেতে পারে। গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের কাজের সময়ের মধ্য‌ে যে কোনও সময়ে আবেদন গ্রহণ করা যাবে। প্রোগ্রাম অফিসার বিভিন্ন সময়ে প্রচার অভিযান চালিয়েও আবেদনপত্র গ্রহণ করতে পারেন। প্রোগ্রাম অফিসারের এই ধরনের প্রচার অভিযানে সব সময় এক জন ফোটোগ্রাফার রাখা যেতে পারে। যদি আবেদনকারীদের ফোটো তোলার সমস্য‌া থাকলে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেও ফোটোগ্রাফার রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। নিরক্ষরদের ক্ষেত্রে প্রোগ্রাম অফিসার বা গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ফর্ম পূরণ করার কাজ করা হবে। রাজ্য‌ সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ফোটো তোলার ব্য‌াপারটি সম্পূর্ণ স্থগিত করে দিতে পারেন।
  • ৩. গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত জনগণনায় যে কোডিং পদ্ধতির ব্য‌বহার হয়, সেই অনুসারে একটি ইউনিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং গ্রাম সংসদের ক্ষেত্রে কোড হিসাবে ওয়ার্ড নম্বর দেওয়া হবে। প্রতিটি গ্রাম সংসদে প্রতিটি আবেদনপত্রের ক্ষেত্রে ক্রমিক অনুসারে কোড নম্বর প্রদান করা হবে। বিস্তারিত কোডগুলির তালিকা জেলাস্তরে লভ্য‌। প্রয়োজন পড়লে কোড ফের নিশ্চিত করা যেতে পারে। আবেদনপত্র গ্রহণের সময়ই আবেদনকারীকে ইউনিক রেজিস্ট্রেশন নাম্বার প্রদান করা হবে।
  • ৪.আবেদনপত্রের ফর্মে প্রাপ্তিস্বীকারের যে নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে সেখানে লিখিত ভাবে আবেদনপত্র গ্রহণ স্বীকার করা হবে।
  • ৫. তার পর ওই বাড়ির সংক্ষিপ্ত তথ্য‌ যা কিনা আবেদনের সঙ্গেই দেওয়া হয়েছে তা নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে রেজিস্টার অফ অ্য‌াপ্লিকেশনে নথিভুক্ত হবে।
  • ৬.আবেদনপত্র পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্য‌ে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে প্রতিটি আবেদনে উল্লিখিত বয়স, বাসস্থান ইত্য‌াদি খতিয়ে দেখে রেজিস্টারে নাম নথিভুক্ত করা হবে। ভোটার তালিকা এবং রেশন কার্ড বয়স এবং বাসস্থানের প্রমাণ। দ্রুত পরীক্ষার জন্য‌ এগুলি দেখা যেতে পারে।
  • ৭.যদি কোনও পরিবার নথিভুক্তকরণের অযোগ্য‌ হয় তাহলে আবেদনপত্রে দেওয়া রেজিস্ট্রেশন নাম্বার বাতিল বলে পরিগণিত হবে। সেটি আর ব্য‌বহার করা হবে না। পরীক্ষার পর জব কার্ড দেওয়ার সময় রেজিস্ট্রেশন নাম্বারটিই ইউনিক জব কার্ড নাম্বার হিসাবে ব্য‌বহৃত হবে।
  • ৮. গ্রাম পঞ্চায়েত যাবতীয় তথ্য‌ রেজিস্ট্রেশন-কাম-এমপ্লয়মেন্ট রেজিস্টারে নথিভুক্ত করবে। প্রোগ্রাম অফিসারকে গ্রাম পঞ্চায়েত সময়ে সময়ে নথিভুক্তকরণ সম্পর্কে রিপোর্ট দেবে।

জব কার্ড

  • ১) কোনও পরিবার সম্পর্কে যাবতীয় অনুসন্ধান করে তার এক সপ্তাহের মধ্য‌ে গ্রাম পঞ্চায়েত ওই পরিবারকে জব কার্ড প্রদান করবে।
  • ২) কোনও পরিবারের ব্য‌ক্তিবিশেষকে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সঙ্গে একটি বাই নম্বরও প্রদান করা হবে যাতে মাস্টার রোল অনুযায়ী ব্য‌ক্তিটিকে ঠিকমতো চিহ্নিত করা যায়। রেজিস্ট্রেশন-কাম-এমপ্লয়মেন্ট রেজিস্টারে প্রদত্ত ক্রমিক সংখ্য‌া এবং জব কার্ডের ক্রমিক সংখ্য‌া একই হবে। এটিই বাই নাম্বার হিসাবে ব্য‌বহৃত হবে। যে দিন জব কার্ড প্রদান করা হচ্ছে সেই দিন থেকে পাঁচটি আর্থিক বছর কার্ডের মেয়াদ থাকবে।
  • ৩) আবেদনপত্রের তথ্য‌ সংযোগ বা বিয়োগ করা যাবে। গ্রাম পঞ্চায়েত যাবতীয় তথ্য‌ খতিয়ে দেখে জব কার্ডে তথ্য‌ নথিভুক্ত করবে।
  • ৪) গ্রাম পঞ্চায়েত নিবন্ধীকরণের পদ্ধতি অনুসারেই বছর বছর তথ্য‌ বিশ্লেষণ করবে। রেজিস্ট্রেশন-কাম-এমপ্লয়মেন্ট রেজিস্টারে তথ্য‌ সংযোজন বা বিয়োজন হলে তা প্রোগ্রাম অফিসারকে জানাতে হবে। অরিজিনাল কার্ডটি যদি কোনও কারণে হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায় তা হলে ডুপ্লিকেট কার্ড প্রদান করা হবে। সে ক্ষেত্রে ফের খতিয়ে দেখে তবেই ডুপ্লিকেট কার্ড দেওয়া হবে।
  • ৫) যদি পরিবারের অন্তর্গত ব্য‌ক্তিরা আলাদা আলাদা কাজে ব্য‌পৃত থাকেন তা হলে পরিবারের এক জন মাত্র সদস্য‌ের জব কার্ড বা অন্য‌ কোনও পরিচয়পত্র থাকলেই চলবে। পরিবারের অন্য‌ সদস্য‌দের জব কার্ডের বা অন্য‌ যে কোনও পরিচয়পত্রের কপি সঙ্গে রাখলেই হবে। সমস্ত মজুরি আসল জব কার্ডে নথিভুক্ত হবে। জব কার্ড ছাড়া কোনও রকম মজুরি প্রদান করা হবে না। এই কারণে এক এক জন সুবিধাপ্রাপ্তর মজুরি পাওয়ার দিন বিভিন্ন হতে হবে।
  • ৬) জব কার্ডের নকল গ্রাম পঞ্চায়েতে রেজিস্ট্রেশন-কাম-এমপ্লয়মেন্ট রেজিস্টারে রাখা হবে।
  • ৭) যদি কোনও ব্য‌ক্তির জব কার্ড প্রদান না করা সম্পর্কিত কোনও অভিযোগ থাকে তা হলে তিনি তা প্রোগ্রাম অফিসারকে জানাতে পারেন। যদি প্রোগ্রাম অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে তবে তে এসডিপিসি বা ডিপিসির গোচরে আনতে পারেন। অভিযোগ করার ১৫ দিনের মধ্য‌ে তার সমাধান করতে হবে এবং অভিযোগকারীকে তা জানাতে হবে।

কর্মসংস্থান

  • ১) বাড়ির যে কোনও নথিভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য‌ সাদা কাগজে বা নির্দিষ্ট ফর্মে গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে কাজের জন্য‌ আবেদন করতে পারেন। বছরের বিভিন্ন সময়ের কাজের জন্য‌ একটি আবেদন জমা দিলেই চলবে। একের বেশি আবেদনকারী একসঙ্গে যৌথ আবেদন করতে পারেন। যে কাজের জন্য‌ আবেদন করবেন সেটি যেন টানা ১৪ দিনের কাজ হয়। গ্রাম উন্নয়ন সমিতি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং গোষ্ঠী ভিত্তিক সংগঠনের সক্রিয় সহযোগিতায় গ্রাম পঞ্চায়েত বছরের যে কোনও সময়ের কাজের জন্য‌ নথিভুক্ত পরিবারগুলি থেকে আগাম আবেদন সংগ্রহ করতে পারে। এর জন্য‌ প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি প্রচার অভিযান চালানো যেতে পারে। নথিভুক্তির সময় প্রথম বছরের আগাম আবেদন গ্রহণ করা যেতে পারে।
  • ২) গ্রাম পঞ্চায়েত কাজের আগাম আবেদন পাওয়ার বা যে দিন থেকে কাজ চাওয়া হচ্ছে তার ১৫ দিনের মধ্য‌ে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্য‌ক্তিকে কর্মসংস্থানের কথা জানিয়ে দেবেন। তবে ভারী বর্ষা, বন্য‌া, জল জমা বা অন্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়, অর্থাৎ যখন মাটির কাজ করা সম্ভব নয়, তখন এই নিয়মের ব্য‌তিক্রম হতে পারে। পঞ্চায়েতের হাতে যে ধরনের কাজ রয়েছে এবং পঞ্চায়েত রূপায়ণকারী এজেন্সি নয় সেই ধরনের কাজেও আবেদনকারীকে নিয়োগ করতে পারে পঞ্চায়েত, যদি কাজের তথ্য প্রোগ্রাম অফিসার পঞ্চায়েতকে আইনের ১৬(৬)(খ) অনুযায়ী জানান। কাজে নিয়োগের কথা সংশ্লিষ্ট ব্য‌ক্তিকে চিঠি দিয়ে জানাতে হবে এবং পঞ্চায়েত দফতরে ও প্রোগ্রাম অফিসারের দফতরে লিখিত নিয়োগপত্রটি টাঙিয়ে রাখতে হবে। কাজের গোষ্ঠীভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রে গ্রুপের যে কোনও একজন সদস্য‌কে লিখিত ভাবে নিয়োগের কথা জানিয়ে দিলেই হবে।
  • ৩) যদি কোনও গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের হাতে থাকা কাজ থেকে আবেদনকারীকে কাজ দিতে না পারে, তাকে যদি ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাইরে কাজ দিতে হয় তা হলে আবেদন পাওয়ার ৬ দিনের মধ্য‌ে এ কথা প্রোগ্রাম অফিসারকে জানিয়ে দিতে হবে। প্রোগ্রাম অফিসার তাঁর অধীনে থাকা কাজ থেকে কাজ বরাদ্দ করে উপরিউক্ত আবেদনকারীকে লিখিত ভাবে জানাবেন। এই কাজ বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের যৌথ কাজের মধ্যেও পড়তে পারে। যদি কাজটি আবেদনকারীর বাসস্থান থেকে পাঁচ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে হয় তা হলে আবেদনকারীদের বয়স অনুযায়ী কাছে কাজ দেওয়া হবে। বয়ঃক্রম অনুযায়ী কাজের জায়গার দূরত্ব ঠিক করা হবে। যদি প্রোগ্রাম অফিসারও কাজ দিতে ব্য‌র্থ হন তবে আবেদন পাওয়ার ১১ দিনের মধ্য‌ে লিখিতভাবে জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটারকে জানাতে হবে। তিনি জেলায় সংশ্লিষ্ট ব্লকের কাছাকাছি কোনও একটা জায়গায় কাজের ব্য‌বস্থা করে দেবেন। এ ক্ষেত্রে রূপায়ণকারী এজেন্সি সাময়িক ভাবে আবেদনকারীর থাকার ব্য‌বস্থা করে দেবে।
  • ৪) কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েদের অগ্রাধিকার দিতে হবে যাতে সুবিধাভোগীদের অন্তত এক তৃতীয়াংশ মহিলা হয়, যাঁরা তাঁদের নাম নথিভুক্ত করেছেন এবং কাজের জন্য আবেদন করেছেন।
  • ৫) যদি গ্রামের কোনও প্রতিবন্ধী ব্য‌ক্তি কাজের জন্য‌ আবেদন করেন তা হলে তিনি পারবেন এমন যথাসম্ভব উপযুক্ত কাজে তাঁকে বহাল করতে হবে।
  • ৬) আবেদনকারীর বাসস্থানের পাঁচ কিলোমিটার ব্য‌াসার্ধের মধ্য‌ে যথাসম্ভব কাজের ব্য‌বস্থা করতে হবে। যদি এই এলাকার মধ্য‌ে কাজ দেওয়া সম্ভব না হয় তা হলে অন্তত ব্লকের মধ্য‌ে কাজ দিতে হবে এবং তার মজুরির সঙ্গে রাহাখরচ হিসাবে দশ শতাংশ অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে। কাজ হবে ন্যূনতম ১৪ দিনের, সপ্তাহে ছ’দিনের বেশি নয়। ‘আগে এলে আগে পাবে’ ভিত্তিতে কাজ বণ্টন করতে হবে।
  • ৭) গ্রাম পঞ্চায়েত প্রোগ্রাম অফিসারকে কাজের বরাদ্দ সম্পর্কে অবহিত করবে।
  • ৮) প্রত্য‌েককে মজুরি দেওয়ার সময় মাস্টার রোলের মাধ্য‌মে মজুরি দেওয়ার ব্য‌বস্থা করতে হবে। জব কার্ডের নির্দিষ্ট কলমে ক’দিন কাজ দেওয়া হল, কত টাকা মজুরি দেওয়া হল তা কোনও রকম গাফিলতি ছাড়াই নথিভুক্ত করতে হবে।
  • ৯) গ্রাম পঞ্চায়েত-সহ প্রতিটি রূপায়ণকারী সংস্থা প্রোগ্রাম অফিসারকে নিয়মিত মাসিক রিপোর্ট প্রদান করবে। যদি পঞ্চায়েত ছাড়া অন্য‌ কোনও এজেন্সি কাজ দেয় তা হলে তারা প্রতিটি কাজের মাস্টার রোলের কপি এবং বিস্তারিত রিপোর্ট যে গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ ব্য‌ক্তিকে কাজ দেওয়া হয়েছে তাদের কাছে পাঠিয়ে দেবে। এই কাজ নিখুঁত করার জন্য‌ রূপায়ণকারী সংস্থা গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক শ্রমিকদের মাস্টার রোল তৈরি করবে।
  • ১০) গ্রাম পঞ্চায়েত বাড়ি অনুযায়ী কাজের তথ্য‌ সংগ্রহ করবে এবং রেজিস্ট্রেশন কাম এমপ্লয়মেন্ট রেজিস্টারে তা নথিভুক্ত করবে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে এই কাজের দেখভাল করার দায়িত্ব গ্রাম পঞ্চায়েতের এবং ব্লক স্তরে এই দায়িত্ব প্রোগ্রাম অফিসারের। জীবিকা সংক্রান্ত তথ্য‌ নথিভুক্তকরণ খুবই জরুরি কারণ এর থেকেই বোঝা যাবে কোনও বাড়ি একশো দিনের কাজ পেয়েছে কিনা। তা ছাড়া ডুপ্লিকেট জব কার্ড ইস্য‌ু করার প্রশ্নেও নথিভুক্তকরণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রেজিস্টারের মাধ্য‌মে হাতেনাতে প্রমাণ করা যায় সংশ্লিষ্ট ব্য‌ক্তি মজুরি পেয়েছ কিনা।

বেকারভাতা

কখন, কী ভাবে মিলবে বেকারভাতা

  • ১) যদি কোনও আবেদনকারী আবেদন করার দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্য‌ে কাজ না পান বা আগাম আবেদন করার ক্ষেত্রে যে দিন থেকে কাজ চাওয়া হয়েছে তার ১৫ দিনের মধ্য‌ে কাজ না পান সে ক্ষেত্রে তিনি তার পরের দিন থেকেই বিধি অনুযায়ী বেকার ভাতা পাওয়ার যোগ্য‌ বলে বিবেচিত হবেন। দৈনিক ভিত্তিতে এই ভাতা দেওয়া হবে।
  • ২) এই ভাতার জন্য‌ আবেদনকারীকে প্রোগ্রাম অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে। গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্য‌মেও আবেদন করা যেতে পারে। গ্রাম পঞ্চায়েত তার মতামত-সহ আবেদনটি প্রোগ্রাম অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেবে। সঠিক ভাবে অনুসন্ধানের পর প্রোগ্রাম অফিসার ভাতা সংক্রান্ত আবেদনটি গ্রহণ করতে পারেন বা বর্জন করতে পারেন।
  • ৩) কোনও ব্য‌ক্তি বা পরিবার বেকারভাতা পাওয়ার যোগ্য‌ বলে বিবেচিত হলে তাঁরা বা তিনি কোনও মতেই প্রথম তিরিশ দিনের জন্য‌ মজুরির এক চতুর্থাংশের কম টাকা পাবেন না। আর্থিক বছরের বাকি দিনগুলির জন্য‌ ভাতার পরিমাণ ধার্য মজুরির অর্ধেকের কম হবে না। যতক্ষণ না ভাতা ধার্য হচ্ছে প্রথম তিরিশ দিনের জন্য‌ দৈনিক ১৭ টাকা করে ও তার পর থেকে দিনে তিরিশ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
  • ৪) প্রত্য‌েক দিনের বেকারভাতা দেওয়ার তথ্য‌ রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হবে এবং জব কার্ডেও তা উল্লিখিত হবে। রেজিস্ট্রেশন কাম এমপ্লয়মেন্ট রেজিস্টারেও সেই তথ্য‌ থাকবে।
  • ৫) যে সব ক্ষেত্রে বেকার ভাতা দিতে হবে সেখানে প্রোগ্রাম অফিসারকে লিখিত ভাবে জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরকে জানাতে হবে কেন কাজের আবেদন করার ১১ দিনের মধ্য‌ে কাজের ব্য‌বস্থা করা সম্ভব হয়নি। ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর কারণ দর্শিয়ে বিষয়টি রাজ্য‌ সরকারের গোচরভুক্ত করবেন। রাজ্য‌ সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। যদি সরকার সন্তুষ্ট না হয় তা হলে যাঁরা কাজ দিতে পারেননি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্য‌বস্থা নেওয়া হতে পারে।
  • ৬) জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর স্টেট কাউন্সিলকেও বার্ষিক রিপোর্টের মাধ্য‌মে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ দিতে না পারার কারণ সম্পর্কে অবহিত করবেন।
  • ৭) আইনের ১৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী নিযুক্ত প্রোগ্রাম অফিসার প্রকল্পের আওতাভুক্ত যে কোনও ধরনের কাজ করার জন্য‌ আবেদনকারীকে বলতে পারে।

কখন বন্ধ বেকারভাতা

বেকারভাতা দেওয়ার সুবিধা তৎক্ষণাৎ বন্ধ হয়ে যাবে যদি --

  • ক) নির্দিষ্ট এলাকায় যদি স্কিমের প্য‌ারা ১০ সাব প্য‌ারা ২ অনুযায়ী অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দেয় বা
  • খ) আবেদনকারীকে গ্রাম পঞ্চায়েত বা প্রোগ্রাম অফিসার সরাসরি কাজের ব্য‌াপারে তাঁকে বা তাঁর বাড়ির অন্য‌ কাউকে রিপোর্ট করতে বলবে, অথবা
  • গ) যদি একটি বাড়ির একাধিক লোক কাজের জন্য আবেদন করেন এবং তাঁদের মধ্য‌ থেকে একজনকে কাজ দেওয়া হয়, অথবা
  • ঘ) যে সময়ের মধ্য‌ে কাজ চাওয়া হয়েছিল সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, অথবা
  • ঙ) যদি পরিবারের কেউ কাজের জন্য‌ এসে উপস্থিত না হয়, অথবা
  • চ) আবেদনকারীর পরিবারের লোকজন একটি আর্থিক বর্ষে মোট ১০০ দিনের কাজের পেয়েছেন, অথবা
  • ছ) মজুরি এবং এবং বেকারভাতা মিলিয়ে আবেদনকারী নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে একশো দিনের মজুরির সমান টাকা উপার্জন করেছেন, অথবা কোনও আবেদনকারী তিন মাসের জন্য‌ বেকারভাতা দাবি করতে পারবেন না যদি ---
    • ক) প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাজ যদি তিনি গ্রহণ না করেন, অথবা
    • খ) কাজ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্য‌ে যদি কাজ করতে না যান, অথবা
    • গ) সংশ্লিষ্ট রূপায়ণকারী এজেন্সিকে না জানিয়ে কাজের জায়গায় টানা এক সপ্তাহ অনুপস্থিত থাকেন বা মাসে মোট এক সপ্তাহ কাজে অনুপস্থিত থাকেন।
  • ১০) বেকারভাতা যে দিন থেকে পাওনা হবে তার ১৫ দিনের মধ্য‌ে বেকারভাতা দেওয়া হবে বা নিতে বলা হবে।

পরিকল্পনা

ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিকল্পনা

  • ক) প্রতিটি জেলা পাঁচ বছরের জন্য‌ একটি ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করবে যাতে কর্মসংস্থানের প্রয়োজন কতটা এবং কী ধরনের কাজ একশো দিনের কাজের প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা যায় সেগুলি চিহ্নিত করা থাকবে। এই পরিকল্পনা তৈরি হবে গ্রাম সংসদকে প্রাথমিক ইউনিট হিসাবে ধরে সকলের যোগদান সুনিশ্চিত করে। পরিকল্পনা এমন হবে যেন একটা নতুন কিছু সূচনা হচ্ছে বলে মনে হয়।
  • খ) অন্য প্রকল্প বা কর্মসূচি থেকে জেলায় কী সম্পদ তৈরি হচ্ছে সেই ব্যাপারটি ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিকল্পনা রচনার সময় মাথায় রাখতে হবে। কাজে কী ভাবে সাফল্য আসবে তার ইঙ্গিত থাকবে পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনায়।
  • গ) যদি ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিকল্পনাটি কাজের বিনিময় খাদ্য‌ সংক্রান্ত জাতীয় প্রকল্পের অধীন হয় তা হলে এনরেগা আইনের ধারা অনুযায়ী সব কিছু ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা তা দেখে নেওয়া দরকার। প্রয়োজন পড়লে প্রকল্পের খসড়া গ্রাম সংসদ, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ থেকে পরিবর্তন করিয়ে অনুমোদন করানো যেতে পারে।
  • ঘ) এই আইনের আওতায় আসা নতুন জেলা যেখানে কাজের জন্য‌ খাদ্য‌ প্রকল্প চালু নেই সেখানে নতুন করে পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা গড়ে তুলতে হবে। এই পরিকল্পনা তৈরির জন্য‌ কোনও পেশাদার সংস্থা বা অভিজ্ঞ এজেন্সিকে নিয়োগ করা যেতে পারে।
  • ঞ) এই প্রকল্পের আওতায় যাঁরা কাজ চাইতে পারেন, সেই সব গ্রামবাসীর যোগদান সুনিশ্চিত করতে গ্রাম স্তরে সক্রিয় উদ্যোগ নিতে হবে। ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিকল্পনা যাতে গ্রামবাসীদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ দেওয়ার হাতিয়ার হতে পারে তার জন্য তাঁরা কোন সময়ে কী ধরনের কাজ করতে চান সে সম্পর্কে পরিকল্পনা তৈরির সময় বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে। ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিকল্পনাটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি কাঠামো। তবে এলাকায় নতুন যে সব কাজের চাহিদা তৈরি হচ্ছে সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার যদি নতুন কোনও ধরনের কাজ চিহ্নিত করে সেটিও পরিকল্পনার অঙ্গীভূত করতে হবে।
  • চ) গ্রাম সংসদ এবং সমাজ -- গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে অংশীদারিভিত্তিক পরিকল্পনা রচনা করতে বেশ খানিকটা সময় লাগে। কিন্তু এই ধরনের প্রকল্পের ভিত্তিই হল অংশীদারিভিত্তিক পরিকল্পনা, তার জন্য সময় লাগে লাগুক। সেই সময়টা দেওয়া উচিত। এতে গ্রাম সংসদের সর্বস্তরে ক্ষমতার বৃদ্ধি হয়। কী করে দক্ষতা বাড়ানো যায় তার পরিকল্পনা করতে হবে এবং তা দ্রুত রূপায়ণ করতে হবে। দক্ষতা তৈরি হলে গ্রাম সংসদের ঘরোয়া বৈঠক/বিশেষ বৈঠক বারে বারে করা যেতে পারে যাতে দ্রুত প্রয়োজনভিত্তিক ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিকল্পনাটি তৈরি করা যায়। ২০০৫-০৬ সালের জন্য‌ কাজের বিনিময় খাদ্য‌ প্রকল্প অথবা সম্পূর্ণ গ্রামীণ রোজগার অন্তর্ভুক্ত কাজ এই প্রকল্পের আওতায় রূপায়িত হয়েছে এবং নথিভুক্ত মানুষজন কাজ পেয়েছেন।

বার্ষিক পরিকল্পনা

কাজের চাহিদার হিসাব

  • ১) আইনের ১৬ (৪) ধারা অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রোগ্রাম অফিসারের কাছে জমা দেবে। এ দিকে জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর সারা বছরে জেলার অদক্ষ শ্রম সংক্রান্ত কাজের জন্য‌ মজুরির বাজেট তৈরি করবেন এবং এই স্কিমের আওতায় শ্রমিকদের কাজে লাগানোর জন্য‌ পরিকল্পনা তৈরি করবেন ও তা জেলা পরিষদের কাছে জমা দেবেন। প্রকল্প অনুযায়ী যে ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে সেই অনুযায়ী প্রোগ্রাম অফিসার কাজ নির্ধারণ করবেন। কর্মসংস্থানের চাহিদার কথা মাথায় রেখে পাঁচ বছর মেয়াদি ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিকল্পনা থেকেই বেরিয়ে আসবে বার্ষিক কাজের পরিকল্পনা।
  • ২) ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরির জন্য‌ কিছুটা সময় লাগে। সেই কারণে কাজের বিনিময়ে খাদ্য‌ প্রকল্পের প্রচলিত ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিকল্পনাটিই কাজের বিনিময়ে খাদ্য‌ প্রকল্পের জেলাগুলিতে গৃহীত হয়েছিল এবং তারই ভিত্তিতে ২০০৬-০৭ আর্থিক বছরের জন্য বার্ষিক কাজের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। যে সব জেলায় কাজের বিনিময় খাদ্য‌ প্রকল্প চালু ছিল না সেখানে দ্রুততার সঙ্গে বার্ষিক কাজের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
  • ৩) যথেষ্ট পরিমাণ কাজ চিহ্নিত করার জন্য আগে কাজের কতটা চাহিদা রয়েছে সেটা হিসাব করা জরুরি। এর জন্য‌ প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারীর জনসংখ্য‌া, একেবারে প্রান্তিক কৃষিশ্রমিকদের সংখ্য‌া, মাইগ্রেশন বা অন্য‌ত্র কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকের সঠিক সংখ্য‌া এবং অন্যান্য মাপকাঠি হিসাবের মধ্য‌ে রাখতে হবে।

গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে পরিকল্পনা

  • ১) ২০০৭-০৮ থেকে বার্ষিক কাজের পরিকল্পনা তৈরি করার জন্য‌ প্রতি বছর নভেম্বরে গ্রাম সংসদের বৈঠকে গ্রাম উন্নয়ন সমিতি সকলের যোগদানের ভিত্তিতে পরবর্তী আর্থিক বছরের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজের তালিকা তৈরি করে। চাহিদার ১৫০ শতাংশ রূপায়ণের লক্ষ্য‌ে কাজের তালিকা তৈরি হয়। সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ব্যাপারটা গ্রাম উন্নয়ন সমিতি অনেক আগে থেকেই শুরু করতে পারে যাতে চূড়ান্ত পরিকল্পনা নভেম্বর মাসে গ্রাম সংসদের বৈঠকে অনুমোদন করা সম্ভব হয়।
  • ২) অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজের তালিকা সংক্রান্ত গ্রাম সংসদের প্রস্তাব গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে পেশ করবে। গ্রাম সংসদের বৈঠকে অনুমোদন প্রাপ্ত বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করেই গ্রাম পঞ্চায়েত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সমস্ত গ্রাম সংসদের প্রস্তাব এক জায়গায় জড়ো করে জানুয়ারি মাসের মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত সুসংহত প্রস্তাব উপরের স্তরে পাঠিয়ে দেবে। ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিকল্পনায় যে সব কাজ চিহ্নিত হয়েছে এবং গ্রাম সংসদ যে সব কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছে তারই ভিত্তিতে কাজ বেছে নেবে গ্রাম পঞ্চায়েত। যে কাজের জন্য‌ চলতি বছরে চাহিদা রয়েছে, গত বছরে কী কাজের চাহিদা ছিল, গত বছরে কী কাজ হয়েছে, কী কাজ চলছে, আগামী বছরের জন্য কী কাজের প্রস্তাব করা হয়েছে, সম্ভাব্য খরচ এবং প্রস্তাবিত রূপায়ণকারী এজেন্সিগুলোর নাম --- সব কিছু থাকবে বার্ষিক কাজের পরিকল্পনায়। নিজেদের এলাকায় অন্তত ৫০ শতাংশ কাজ নিজেরাই রূপায়ণ করতে পারে, গ্রাম পঞ্চায়েতকে এমন কাজ চিহ্নিত করতে হবে। গ্রাম পঞ্চায়েতের চিহ্নিত প্রকল্পগুলিকে একটা ইউনিক ক্রমিক সংখ্যা দেওয়া হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে সম্ভব না হলেও এই ইউনিক কোড নম্বর প্রোগ্রাম অফিসারের স্তরে দেওয়া হবে।
  • ৩) প্রোগ্রাম অফিসার আদৌ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা যায় কিনা তার কারিগরি দিকটি খতিয়ে দেখবেন। নথিভুক্তি ও পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই পরিকল্পনা কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটাচ্ছে কিনা, তা তিনি ভালো ভাবে খতিয়ে দেখবেন। তিনি যদি মনে করেন প্রাপ্ত তালিকা কাজের চাহিদা অনুযায়ী যথেষ্ট নয় তা হলে তিনি অতিরিক্ত তালিকা চেয়ে পাঠাতে পারেন। কোনও কাজ যদি আইনের আওতায় থাকে এবং কারিগরি ও অন্যান্য দিক ঠিকঠাক থাকে তা হলে প্রোগ্রাম অফিসার গ্রাম পঞ্চায়েতের দেওয়া সেই কাজের প্রস্তাব বাতিল করতে পারেন না। ওই প্রস্তাব সম্পর্কে নিজের মন্তব্য জুড়ে বিকল্প প্রস্তাব সম্বলিত একটি সুসংহত বিবৃতি তিনি পঞ্চায়েত সমিতির কাছে পাঠিয়ে দেবেন। আইনের আওতার মধ্য‌ে থাকলে গ্রাম পঞ্চায়েতে গৃহীত কোনও প্রকল্প পঞ্চায়েত সমিতি বাতিল করবে না। যদি তা আইনের আওতায় না থাকে তা হলে সমিতি তা ফের গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে পাঠিয়ে বিকল্প বৈধ প্রস্তাব চাইবে।

পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে পরিকল্পনা

পঞ্চায়েত সমিতি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৈরি করা অগ্রাধিকারের ভিত্তিটি অটুট রাখবে। একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতকে জড়িয়ে কোনও কাজ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতেই পারে। পঞ্চায়েত সমিতি এ ধরনের কাজকেও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করবে। এ ধরনের কাজ গ্রহণ করার আগে ওই এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, ওই এলাকায় গ্রামোন্নয়নের কাজ করছে এমন এনজিও এবং সরকারি দফতরের মতামত নিতে পারে পঞ্চায়েত সমিতি। এই স্তরে রূপায়ণকারী সংস্থাগুলির প্রস্তাবগুলো গ্রাম পঞ্চায়েত অনুযায়ী বিভক্ত করতে হবে যাতে গ্রাম পঞ্চায়েত তার নিজের এলাকায় কাজের সুযোগ সম্পর্কে অবহিত হয় এবং নথিভুক্ত আবেদনকারীদের মধ্যে কাজ বরাদ্দ করতে পারে। পঞ্চায়েত সমিতি এলাকার পরিকল্পনা পঞ্চায়েত সমিতি অনুমোদন করে জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরের কাছে পাঠিয়ে দেয়। প্রোগ্রাম অফিসারের পেশ করা প্রস্তাব সম্পর্কে সমিতি ১৫ দিনের মধ্য‌ে সিদ্ধান্ত নেবে। এই সমস্ত কাজ ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের মধ্য‌ে শেষ করতে হবে।

জেলা স্তরে পরিকল্পনা

১) জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর প্রতিটি পঞ্চায়েত সমিতি গৃহীত পরিকল্পনাগুলি খতিয়ে দেখবেন, কাজের পরিমাণ, যথার্থতা এবং পরিপূরক চাহিদার বিষয়টিও নজরে রাখবেন। কারিগরি ও আর্থিক দিক দিয়ে এই পরিকল্পনা রূপায়ণ করা সম্ভব কিনা তা দেখার দায়িত্বও ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরের। তিনি অন্য‌ান্য‌ রূপায়ণকারী সংস্থা কাছ থেকেও পরিকল্পনা চেয়ে পাঠাতে পারেন (এই স্তরে রূপায়ণকারী সংস্থাগুলির প্রস্তাবগুলো গ্রাম পঞ্চায়েত অনুযায়ী ও ব্লক অনুযায়ী বিভক্ত করতে হবে যাতে ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত তার নিজের এলাকায় কাজের সুযোগ সম্পর্কে অবহিত হয় এবং নথিভুক্ত আবেদনকারীদের মধ্যে কাজ বরাদ্দ করতে পারে।)। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েত গৃহীত পরিকল্পনার সর্বাধিক গুরুত্ব মাথায় রেখে তাঁকে প্রকল্পের অনুমোদন দিতে হবে। ব্লক স্তরের প্রকল্পগুলিতে পঞ্চায়েত সমিতির বক্তব্য‌কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি এ ধরনের সমস্ত প্রকল্পকে একত্রে এনে একটি জেলা স্তরের পরিকল্পনা তৈরি করবেন এবং জেলা পরিষদের অনুমোদনের জন্য‌ পেশ করবেন। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য‌ কতটা সময় লাগবে তা বার্ষিক পরিকল্পনায় অবশ্য‌ই উল্লেখ করতে হবে। জেলা পরিকল্পনায় ব্লক অনুযায়ী প্রকল্পের ভাগ থাকবে। ব্লকভিত্তিক প্রকল্পগুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিত্তিতে সাজানো হবে। প্রয়োজন পড়লে একাধিক পঞ্চায়েত সমিতিকে নিয়ে কাজ করতে হবে, এমন পরিকল্পনাও জেলা পরিষদ গ্রহণ করতে পারে। জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর বার্ষিক পরিকল্পনা পেশ করার ১৫ দিনের মধ্য‌ে জেলা পরিষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সমস্ত ক্রিয়াকাণ্ড ১৫ মার্চের মধ্যে শেষ করতে হবে।

২) যদি কোনও পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্য‌ে প্রকল্প সংক্রান্ত অনুমোদনের কথা কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া প্রোগ্রাম অফিসার বা ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটরকে না জানায় তা হলে ধরে নেওয়া হবে যে ওই প্রকল্পে তাদের কোনও আপত্তি নেই। ফলে সেই প্রকল্পে ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর বা প্রোগ্রাম অফিসার অনুমোদন দেবেন।

পরিকল্পনা প্রস্তুতি ও খরচের আগাম হিসাব

  • ১) প্রোগ্রাম অফিসারের মাধ্য‌মে ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর কারিগরি পরিকল্পনার খুঁটিনাটি ও খরচের আগাম হিসাবের মধ্যে সমন্বয় করবেন। যে এজেন্সির মাধ্য‌মে কাজ হবে সেই এজেন্সিই আর্থিক খরচের হিসাব তৈরি করবে। যদি তাদের সে ধরনের কারিগরি দক্ষতা না থাকে তা হলে রাজ্য‌ সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কোনও পেশাদারি সংস্থাকে দিয়ে খরচের আগাম হিসাব করানো যেতে পারে। রাজ্য‌ সরকারের ওয়ার্ক ম্য‌ানুয়াল অনুযায়ী প্রকল্প রিপোর্টে বিস্তারিত সব কিছু উল্লেখ করতে হবে। ওই রিপোর্টে কত শ্রমদিবস তৈরি হবে, কী ধরনের সম্পদ তৈরি হবে (রাস্তার মাপ, পুকুরের পরিধি ইত্য‌াদি) এবং কতটা এলাকায় সেচের ব্য‌বস্থা হবে, কত গ্রামে যোগাযোগ ব্যবাওস্থার আওতায় আসবে, কত অদক্ষ, অর্ধ দক্ষ ও দক্ষ শ্রমিক কাজ করবে, তাঁদের কত মজুরি দিতে হবে এবং কী উপকরণ লাগবে, সব কিছুই ম্য‌ানুয়াল অনুসারে রিপোর্টে উল্লিখিত হবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ আগাম খরচের হিসাব খতিয়ে দেখবে এবং ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর বা প্রোগ্রাম অফিসার প্রশাসনিক বা আর্থিক অনুমোদন দেবেন।
  • ২) জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর অনুমোদিত পরিকল্পনার ব্য‌াপারে প্রোগ্রাম অফিসারকে অবহিত করবেন। প্রোগ্রাম অফিসার অনুমোদিত পরিকল্পনা ব্লকের অধীনস্থ সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতকে পাঠিয়ে দেবেন। আন্তর্গ্রাম পঞ্চায়েত পরিকল্পনাগুলির ক্ষেত্রেও (অর্থাৎ যে কাজের ক্ষেত্রে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত জড়িত রয়েছে) পরিকল্পনাটি সমস্ত সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই পরিকল্পনায় খরচের পরিমাণ, শ্রমদিবসের সংখ্যা, সময়ের হিসাব, রূপায়ণকারী সংস্থার নাম, বিস্তারিত সব তথ্য‌ই দেওয়া থাকবে। আগের বছরের মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্য‌ে এই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। গ্রাম সংসদকে অনুমোদিত কাজের কথা গ্রাম পঞ্চায়েত গ্রাম উন্নয়ন সমিতিকে জানিয়ে দেবে। তাতেও যথারীতি খরচের পরিমাণ, শ্রমদিবসের সংখ্যা, সময়ের হিসাব, রূপায়ণকারী সংস্থার নাম জানিয়ে দেওয়া হবে। গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গ্রাম সংসদের বৈঠকে এই সব তথ্য‌ পেশ করবে।

উপকৃতদের কমিটি

  • ১) সাধারণ ভাবে গ্রাম উন্নয়ন সমিতি কাজের ক্ষেত্রে উপকৃতদের কমিটি বা বেনেফিসিয়ারি হিসাবে কাজ করে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরের সাধারণ ও সুনির্দিষ্ট অনুমোদন নিয়ে অন্য‌ উপকৃত কমিটিও তৈরি করা যায়।
  • ২) এই কমিটিগুলি নির্দেশ মোতাবেক কাজ করবে। তবে কমিটি কাজ না করলে বা ভুল কাজ করলে কাজের চাহিদা সৃষ্টি বা কাজ বন্ধ করা হবে না।

কর্মস্থলে প্রাপ্ত সুবিধা

  • ১) কাজের জায়গায় পানীয় জলের ব্য‌বস্থা, বিশ্রাম নেওয়ার জন্য‌ ছাউনির ব্য‌বস্থা, মায়েদের কাজ করার জন্য‌ বাচ্চাদের ক্রেশের ব্য‌বস্থা, ফার্স্ট এইড বক্স, জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ব্য‌বস্থা, যাতে অন্য‌ান্য‌ স্বাস্থ্য‌ সংক্রান্ত ঝুঁকি না থাকে তার ব্য‌বস্থা রাখতে হবে। কর্মস্থলে এ ধরনের ব্য‌বস্থা রাখার জন্য‌ যা খরচ হবে আইন অনুযায়ী সেই খরচ গোটা প্রকল্পটির বাজেটের মধ্য‌েই ধরা থাকবে।
  • ২) যদি কোনও শ্রমিক এই প্রকল্পের কাজ চলাকালীন দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়ে আহত হন তা হলে প্রকল্পের টাকা থেকেই সরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার ব্য‌বস্থা করা হবে। তাঁকে কোনও খরচ দিতে হবে না।
  • ৩) হাসপাতালে ভর্তি করাটা জরুরি হলে তার ব্য‌বস্থা করবেন প্রোগ্রাম অফিসার। থাকা, চিকিৎসা, ওষুধের ব্য‌বস্থা করা এবং দিনে ৩৪ টাকা হারে মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থা প্রোগ্রাম অফিসার করবেন।
  • ৪) যদি এই প্রকল্পের কাজ চলাকালীন আহত হয়ে কোনও শ্রমিক বরাবরের মতো পঙ্গু হয়ে যান বা মারা যান তা হলে রূপায়ণকারী এজেন্সি তাঁর আইনসম্মত উত্তরাধিকারী বা নিকটতম আত্মীয়কে ২৫ হাজার টাকা বা কেন্দ্রীয় সরকার যে পরিমাণ ঠিক করে দেবে, এককালীন সাহায্য দেবেন।

প্রশাসনিক ও কারিগরি ক্ষমতা

  • ১) বর্ধিত কারিগরি ক্ষমতা টেকনিকাল অফিসারদের দেওয়া হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে নির্মাণ সহায়ক/জব অ্যাসিস্ট্যান্ট, মধ্য‌বর্তী স্তরে সাব অ্য‌াসিস্ট্য‌ান্ট ইঞ্জিনিয়ার/জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার/অ্য‌াসিস্ট্য‌ান্ট ইঞ্জিনিয়ার/ এবং জেলা পরিষদ স্তরে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার/ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ারদের খতিয়ে দেখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
  • ২) এই প্রকল্পের আওতায় যে সব কাজ হাতে নেওয়া হয় তার কারিগরি মান ও মাপ ওয়ার্ক শিডিউল অনুযায়ী হতে হবে। প্রকল্পের আলাদা আলাদা কাজের জন্য নির্দিষ্ট কারিগরি নিয়ম এবং নির্দিষ্ট রেটের থাকবে। যত দিন নতুন রেট তৈরি না হবে তত দিন চলতি রেট বজায় থাকবে।
  • ৩) জুনিয়ার ই্ঞ্জিনিয়ারের খতিয়ে দেখা কাজের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব প্রোগ্রাম অফিসারের। আর্থিক সীমার বাইরে কাজ হলে তার অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরের।
  • ৪) বার্ষিক কাজের পরিকল্পনায় চিহ্নিত কাজের ব্য‌াপারে সংশ্লিষ্ট অন্য‌ কোনও দফতরের কারিগরি বা ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মীদের সাহায্য‌ের প্রয়োজন থাকলে জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর অন্য‌ দফতরের সাহায্য‌ নিতে পারেন। আইনের ১৪(৫) ধারা অনুযায়ী, ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটরের নির্দেশে বিভিন্ন দফতরের জেলা স্তরের অফিসারেরা সমস্ত রকম সহযোগিতা করবেন। যদি সহযোগিতা না করা হয় তবে তা আইন লঙ্ঘন করার সামিল হবে এবং ২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী সে জন্য‌ ব্য‌বস্থা নেওয়া যেতে পারে।
  • ৫) পরিকল্পনা ও আগাম খরচের হিসাব করার জন্য‌ এবং প্রকল্প খতিয়ে দেখার জন্য‌ জেলা কোঅর্ডিনেটর জেলা ও ব্লক স্তরে ইঞ্জিনিয়ারদের একটি প্য‌ানেল প্রস্তুত করতে পারেন। গ্রাম পঞ্চায়েত ও প্রোগ্রাম অফিসার ইঞ্জিনিয়ারদের সেই পরিষেবা নেবেন এবং এর বিনিময়ে তাঁরা রাজ্য‌ সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটরের কাছ থেকে কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবেন।

নির্মিত সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ

এই প্রকল্প বা স্কিম অনুযায়ী তৈরি হওয়া স্থায়ী সম্পদ কী ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে সে ব্য‌াপারে কেন্দ্রীয় সরকার একটি নির্দেশিকা প্রস্তুত করেছে। গোষ্ঠীভিত্তিক সম্পদের ক্ষেত্রে গোষ্ঠী-মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের নীতি প্রয়োগ করা হবে। জমির মালিকের সঙ্গে এ ব্য‌াপারে পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠান বা অন্য‌ প্রতিষ্ঠানের যথাযথ চুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রসঙ্গ মজুরি

  • ১) অদক্ষ শ্রমিকদের আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী মজুরি প্রদান করা হবে।
  • ২) যতদিন না সংশোধন হচ্ছে ততদিন মজুরির পরিমাণ দৈনিক ৬৮ টাকা।
  • ৩) রেটের তালিকা অনুযায়ী শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজ করে দিতে হবে। দক্ষ ও অর্ধ দক্ষ শ্রমিকদের মজুরি রাজ্য‌ সরকার সময়ে সময়ে স্থির করে দেবে। যতদিন না মজুরির পরিমাণ স্থিরীকৃত হচ্ছে তত দিন সম্পূর্ণ গ্রামীণ রোজগার যোজনা বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য‌ প্রকল্পের রেট অনুযায়ী টাকা দেওয়া যেতে পারে।

বেশি কাজ বেশি মজুরি

যদি কাজের পরিমাণের চেয়ে নিযুক্ত শ্রমিক বা শ্রমিকদের গোষ্ঠী অনেক বেশি কাজ করে থাকেন তা হলে তাঁদের মজুরি যত পরিমাণ কাজ তাঁরা করেছেন তার সঙ্গে সাযুজ্য‌পূর্ণ হবে। যদি কর্মসূচি অনুযায়ী কাজ কম হয় তা হলে মজুরিও কম ধার্য করা হবে।

সমান মজুরি

এই প্রকল্প অনুযায়ী নারী ও পুরুষ সমান মজুরি পাবেন।

মজুরি বণ্টন

  • ১) জনগণের সামনে গ্রাম উন্নয়ন সমিতির প্রতিনিধির/উপকৃত কমিটির প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মজুরি প্রদান করা হবে। কোনওক্রমেই মজুরি কাজ শেষ হওয়ার দিন থেকে ১৫ দিনের বেশি দেরি করা যাবে না।
  • ২) মজুরি ব্য‌ক্তিকে দিতে হবে। গোষ্ঠীকে নয়।
  • ৩) যদি সময়মতো মজুরি প্রদান করা না হয় তা হলে শ্রমিকরা ‘পেমেন্ট অফ ওয়েজেস অ্য‌াক্ট ১৯৩৬’ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন।
  • ৪) আবেদনকারীর জব কার্ডে মজুরি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য‌ নথিভুক্ত করতে হবে। গ্রাম পঞ্চায়েতে রক্ষিত রেজিস্ট্রেশন কাম এমপ্লয়মেন্ট রেজিস্টারে একই তথ্য‌ নথিভুক্ত রাখতে হবে।
  • ৫) যেখানে সম্ভব সেখানে মজুরি শ্রমিকের ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্টে জমা করার ব্য‌বস্থা করতে হবে। এই কারণে প্রোগ্রাম অফিসার বা গ্রাম পঞ্চায়েত বোঝাতে কাছাকাছি ব্য‌াঙ্কে বা পোস্ট অফিসে অ্য‌াকাউন্ট খোলার জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে বোঝানোর চেষ্টা করবে ।
  • ৬) মাস্টার রোলের মাধ্য‌মে মজুরি পঞ্চায়েতের সরকারি কর্মচারীই একমাত্র প্রদান করবেন। এটি নিশ্চিত করার জন্য‌ প্রোগ্রাম অফিসার ব্লক স্তরের সরকারি কর্মচারীদের মধ্য‌ থেকে কয়েক জনকে এই কাজের জন্য‌ পাঠাতে পারেন। প্রোগ্রাম অফিসারের নির্দেশ মেনে সংশ্লিষ্ট সব স্তরের ব্লক স্তরীয় অফিসাররা তাঁকে সহযোগিতা করবেন। যদি তা না করা হয় তবে তা আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য‌ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সেই অনুযায়ী ব্য‌বস্থা গ্রহণ করা যাবে।
  • ৭) যদি কোনও ব্লকে প্রয়োজনীয় সরকারি কর্মচারী না পাওয়া যায় তা হলে জেলা কোঅডির্নেটরের অনুমোদন সাপেক্ষে গ্রেড-১ প্রাপ্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দিয়ে মজুরি বণ্টন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্টে মজুরির টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। মাস্টার রোল তৈরি ও সেই অনুযায়ী মজুরি বণ্টন করার কাজের জন্য‌ স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি ২৫ শ্রমদিবসের ১০২ টাকা হারে মজুরি পাবে।
  • ৮) কোনও ভাবেই অন্য‌ কোনও অসরকারি ব্য‌ক্তি মজুরি প্রদানের কাজ করতে পারবে না।

প্রসঙ্গ উপকরণ

উপকরণের দাম

প্রকল্পের জন্য‌ প্রয়োজনীয় মালপত্র এবং দক্ষ ও অর্ধ দক্ষ শ্রমিকদের মজুরি প্রকল্পের জন্য‌ ধার্য জেলার মোট খরচের ৪০ শতাংশের বেশি হবে না। ব্লকগুলির ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব এই অনুপাত বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

উপকরণ সংগ্রহ

যতদিন না নতুন নির্দেশ আসছে ততদিন সম্পূর্ণ গ্রামীণ রোজগার যোজনায় যে পদ্ধতিতে জিনিস কেনা হয় এ ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে।

ঠিকাদার নিষিদ্ধ

এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত কোনও কাজের জন্য‌ ঠিকাদার নিয়োগ করা যাবে না। যদি প্রকল্প কার্যকর করার ব্য‌াপারে ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয় তা হলে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সদস্য‌ এবং আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়াও হতে পারে।

রাজ্য কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা পরিষদ

  • ১) রাজ্য স্তরে আইনের রূপায়ণে যথাযথ নজরদারি ও পর্যালোচনার জন্য একটি কাউন্সিল বা পরিষদ গঠন করা হবে। এর নাম হবে ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট এমপ্লয়মেন্ট গ্য‌ারান্টি কাউন্সিল, যার চেয়্য‌ারম্য‌ান, দশজন সরকারি সদস্য‌ ও অনধিক ১৫ জন বেসরকারি সদস্যকে নিয়গ করবে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামন্নোয়ন দফতর। পঞ্চায়েত কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, নারী সংগঠন এবং অসুবিধায় রয়েছে এমন গোষ্ঠী মধ্য‌ থেকে এই সদস্য‌দের মনোনীত করা হবে। এই সদস্য‌দের মধ্য‌ে্ তফসিলি জাতি-উপজাতি এবং অন্য‌ান্য‌ অনগ্রসর ও সংখ্যালঘু শ্রেণির যথেষ্ট সংখ্য‌ক প্রতিনিধি থাকবে। বেসরকারি সদস্য‌দের মধ্য‌ে অন্তত এক তৃতীয়াংশ সদস্য‌ মহিলা হতে হবে। এক তৃতীয়াংশ সদস্য‌ তফসিলি জাতি-উপজাতি, অন্য‌ান্য‌ অনগ্রসর ও সংখ্য‌ালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হতে হবে। স্টেট এমপ্লয়মেন্ট গ্য‌ারান্টি কাউন্সিলের সদস্য‌-সচিব হবেন স্টেট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর।
  • ২) চেয়ারপারসন ও বেসরকারি সদস্য‌দের মেয়াদ হবে ২ বছর। রাজ্য‌ সরকার প্রয়োজনে মেয়াদ বাড়িয়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত করতে পারে। পাঁচ বছরের পর পুরনো সদস্য‌কে আবার কাউন্সিলে নেওয়া যেতে পারে। সরকারি সদস্য‌দের ক্ষেত্রে সেই ব্য‌ক্তি তাঁর দফতরে যতদিন সেই পদে আসীন ততদিনই সদস্য‌ থাকতে পারবেন।
  • ৩) স্টেট কাউন্সিলের কর্তব্য‌ এবং কাজ --
    • ক) রাজ্য‌ে প্রকল্প রূপায়ণের ব্য‌াপারে রাজ্য‌ সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।
    • খ) কোন কাজে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তা স্থির করা।
    • গ) নজরদারি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির যে ব্যবস্থা আছে তা মাঝেমাঝে পর্যালোচনা করা এবং এই ব্য‌বস্থা যাতে আরও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য‌ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।
    • ঘ) প্রকল্প এবং আইন সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য‌ ঠিকমতো সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার ব্য‌বস্থা করা।
    • ঙ) রাজ্য‌ে প্রকল্প দেখভাল ও রূপায়ণ করা এবং রূপায়ণ করার ব্য‌াপারে রাজ্য‌ সরকারের মাধ্য‌মে কেন্দ্রীয় পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলা।
    • চ) রাজ্য‌ বিধানসভায় পেশ করার জন্য রাজ্য‌ সরকারের এই সম্পর্কিত রিপোর্ট তৈরি করা।
    • ছ) রাজ্য‌ সরকার বা কেন্দ্রীয় পরিষদ সময়ে সময়ে যে নির্দেশ দেবে তা পালন করা।

জেলা, মধ্য‌বর্তী ও গ্রাম স্তরে পঞ্চায়েতের কাজ

  • ১) এই প্রকল্পের পরিকল্পনা ও রূপায়ণের মুখ্য দায়িত্ব গ্রাম স্তরে গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক সত্রে পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা স্তরে জেলা পরিষদের।
  • ২) জেলা স্তরে জেলা পরিষদের কাজ --
    • ক) এই প্রকল্পের আওতায় ব্লকভিত্তিক পরিকল্পনাগুলি চূড়ান্ত করা ও অনুমোদন দেওয়া;
    • খ) ব্লক স্তর ও জেলা স্তরে প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখা ও নজরদারি করা, এবং
    • গ) রাজ্য‌ সরকার বা স্টেট কাউন্সিল সময়ে সময়ে অন্য‌ যে সব দায়িত্ব প্রদান করবে তা সম্পন্ন করা।
  • ৩) মধ্য‌বর্তী স্তরে পঞ্চায়েত সমিতির কাজ --
    • ক) জেলা স্তরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জেলা পরিষদে পাঠানোর আগে ব্লকভিত্তিক পরিকল্পনাগুলির অনুমোদন দেওয়া।
    • খ) ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখা ও দেখভাল করা এবং
    • গ) জেলা পরিষদ, রাজ্য‌ সরকার বা স্টেট কাউন্সিল সময়ে সময়ে অন্য‌ যে সব দায়িত্ব দেবে তা সম্পন্ন করা।
  • ৪) গ্রাম পর্যায়ে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির কাজ --
    • ক) গ্রাম সংসদের প্রস্তাবমতো গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের বার্ষিক পরিকল্পনা তৈরি করা ও সেগুলি প্রোগ্রাম অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া। প্রোগ্রাম অফিসার সেই অনুযায়ী পঞ্চায়েত সমিতিতে পাঠানোর জন্য‌ সেটির চূড়ান্ত রূপ দেবে।
    • খ) প্রোগ্রাম অফিসার প্রদত্ত বিভিন্ন ধরনের কাজ রূপায়ণ করা। প্রোগ্রাম অফিসার প্রকল্পের আওতায় থাকা অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ (খরচের হিসাবে) কাজ গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্য‌মে রূপায়িত করবেন।
    • গ) পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, রাজ্য‌ সরকার ও স্টেট কাউন্সিল প্রদত্ত কাজগুলি করা।

ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর

  • ১) জেলা স্তরে জেলাশাসক হবেন ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর (ডিপিসি)। তাঁকে সাহায্য‌ করবেন একজন অ্যাডিশন্যাল ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর (এডিপিসি)। তাঁর পদমর্যাদা হওয়া চাই অতিরিক্ত জেলাশাসকের সমান। এ ছাড়া জেলা গ্রামোন্নয়ন সেলের অধীনে এক জন ডাবলুবিসিএস এক্সিকিউটিভ পদমর্যাদার নোডাল অফিসার ডেপুটি প্রোজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করবেন। ডেপুটি প্রোজেক্ট ডিরেক্টরের কাজ হবে এই স্কিমের কাজ সার্বিক ভাবে দেখভাল করা এবং প্রকল্প রূপায়ণের ব্য‌বস্থা করা। ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর তাঁর সমস্ত ক্ষমতা এডিপিসি ও এসডিপিসিকে দিয়ে দিতে পারে।
  • ২) ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর কাজ --
    • ক) এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার ব্য‌াপারে জেলা পরিষদকে সাহায্য‌ করা।
    • খ) ব্লকের তৈরি করা পরিকল্পনা এবং অন্য‌ান্য‌ রূপায়ণকারী সংস্থার তৈরি করা পরিকল্পনাগুলি একত্র করা এবং তা জেলা স্তরে অনুমোদনের ব্য‌বস্থা করা।
    • গ) প্রয়োজনীয় মঞ্জুরি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ব্য‌বস্থা করা।
    • ঘ)এই আইনের আওতায় আবেদনকারীরা ঠিকমতো কাজ পাচ্ছে কিনা সে ব্য‌াপারে সব সময় রূপায়ণকারী সংস্থাগুলি ও প্রোগ্রাম অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলা।
    • ঙ) প্রোগ্রাম অফিসারের কাজ খতিয়ে দেখা, দেখভাল করা এবং তদারকি করা। প্রোগ্রাম অফিসারকে সাহায্য‌ করার জন্য‌ দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য‌ অফিসারদের কাজের উপর নজরদারি করার দায়িত্বও ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটরের।
    • চ) কাজ চলার সময় পর্যায়ক্রমে তা নিরীক্ষা করা। এবং
    • ছ) আবেদনকারীদের অভিযোগের সুরাহা করা।
    • জ) আগামী আর্থিক বছরে জেলার অদক্ষ শ্রমিকদের কতটা কাজের দরকার এবং এই প্রকল্পের অধীনে কত জন শ্রমিককে নিয়গ করা যায় তার হিসাব প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে প্রস্তুত করা এবং তা জেলা পরিষদে পাঠানো।
    • ঝ) আবেদনকারীরা ঠিক সময়ে কাজ পাচ্ছে কিনা তা দেখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরের উপরই ন্য‌স্ত। যাতে বেকারভাতার বোঝা রাজ্য‌ সরকারের ঘাড়ে না চাপিয়ে ঠিকমতো আবেদনকারীদের কাজ দেওয়া যায় কোঅর্ডিনেটর তার ব্য‌বস্থা করবেন। আইন অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েত/পঞ্চায়েত সমিতি/রূপায়ণকারী সংস্থার মাধ্যমে যে কোনও জরুরি কাজ শুরু করাতে পারেন ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর। সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত/পঞ্চায়েত সমিতি/রূপায়ণকারী সংস্থাকে ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরের কথা শুনে চলতে হবে।
    • ঞ) রাজ্য সরকারের প্রদত্ত যে কোনও কাজ করা।
  • ৩) ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর তাঁর অধীনস্থ রাজ্য‌ সরকারের, স্থানীয় প্রশাসনের কোনও অফিসারের কাজের দায়িত্ব লিখিত ভাবে ভাগ করে দিতে পারেন যাতে সেই সংশ্লিষ্ট অফিসার এই প্রকল্পের কাজে তাঁকে সহায়তা করতে পারেন। আইনের ১৪(৫) ধারা অনুযায়ী এই প্রকল্প রূপায়ণের ব্য‌াপারে জেলার সমস্ত দফতরের সমস্ত অফিসার কোঅর্ডিনেটরকে সাহায্য‌ করবেন। যদি তা না করেন তা হলে আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য‌ হিসাবে বিবেচতি হবে।

মহকুমা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর

  • ১) মহকুমা শাসকরা মহকুমা স্তরের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
    • ক) এই প্রকল্প যাতে সঠিক ভাবে রূপায়িত হয় সে ব্য‌াপারে জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর ও জেলার অতিরিক্ত প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরকে তাঁরা সব রকমের সাহায্য‌ করবেন।
    • খ) মহকুমা স্তরের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরদের জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরদের হয়ে প্রোগ্রাম অফিসারদের কাজ দেখভাল করার দায়িত্ব রয়েছে। তাঁরা কাজের গুণগতমান নজরদারি করে দেখতে পারেন।এ ব্য‌াপারে কোনও রকম অভাব অভিযোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে ব্য‌বস্থা নেওয়ার পন্থা স্থির করতে পারেন। এ ছাড়া জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরের নির্দেশ অনুসারে রাজ্য‌ সরকার প্রদত্ত অন্য‌ যে কোনও ধরনের কাজ করার দায়িত্ব অর্পিত হতে পারে।

প্রোগ্রাম অফিসার

  • ১) এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরকে সাহায্য‌ করতে পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে একজন করে প্রোগ্রাম অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।
  • ২) ব্লকের বিডিও, যিনি পঞ্চায়েত সমিতির এক্সিকিউটিভ অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাঁকেই প্রোগ্রাম অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • ৩) কাজের অগ্রগতির দেখভাল ও পর্যালোচনা করার ব্য‌াপারে তাঁকে সাহায্য‌ করার জন্য‌ ব্লকের জয়েন্ট বিডিওকে জয়েন্ট প্রোগ্রাম অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রোগ্রাম অফিসারের অধীনে ও তাঁর নজরদারিতে কাজ করবেন।
  • ৪) কাজ ঠিকমতো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য‌ একজন করে পূর্ণ সময়ের সহকারি প্রোগ্রাম অফিসার (এপিও) নিয়োগ করা হবে।
  • ৫) ব্লকের জীবিকা উন্নয়ন আধিকারিকও এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন এবং তিনি প্রোগ্রাম অফিসারকে সাহায্য‌ করবেন।
  • ৬) এপিওদের চুক্তিতে নিয়োগ করা যেতে পারে। তবে এর জন্য‌ রাজ্য‌ সরকারের সাধারণ ও নির্দিষ্ট অনুমোদন দরকার।
  • ৭) প্রোগ্রাম অফিসার তাঁর দায়িত্বে থাকা কোনও বা সব বিষয় সরাসরি জয়েন্ট পিও বা এপিওদের দিতে পারেন।
  • ৮) প্রোগ্রাম অফিসারের কাজের মধ্য‌ে রয়েছে --
    • ক) এই প্রকল্পের কাজ করার ব্য‌াপারে পঞ্চায়েত সমিতিকে সব রকম সাহায্য‌ করা।
    • খ) কাজের সুযোগ এবং কাজের চাহিদার মধ্য‌ে সামঞ্জস্য‌ বিধানের ব্য‌বস্থা করা এবং লক্ষ্য‌ রাখা যাতে তাঁর এলাকার মধ্য‌ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্য‌ে আবেদনকারীরা কাজ পান।
    • গ) তাঁর এলাকার মধ্য‌ে গ্রাম পঞ্চায়েত ও অন্য‌ান্য‌ রূপায়ণকারী এজেন্সির গৃহীত প্রকল্প দেখভাল করা।
    • ঘ) যে সব পরিবারের বেকারভাতা পাওয়ার কথা তাদের জন্য তা মঞ্জুর করা এবং তা দেওয়ার ব্য‌বস্থা করা।
    • ঙ) তাঁর এলাকার মধ্য‌ে প্রকল্পের কাজে কর্মরত সমস্ত শ্রমিক যাতে ঠিকমতো ও দ্রুত মজুরি পান তার ব্য‌বস্থা করা।
    • চ) গ্রাম পঞ্চায়েতের এক্তিয়ারে থাকা সমস্ত কাজের সামাজিক অডিট গ্রাম সংসদ নিয়মিত করছে কিনা সে ব্য‌াপারে নজরদারি করা এবং সামাজিক অডিটে উঠে আসা বিষয়গুলি নিয়ে যাতে দ্রুত ব্য‌বস্থা নেওয়া যায় সেই ব্য‌বস্থা করা।
    • ছ) তাঁর ব্লকের মধ্য‌ে প্রকল্প রূপায়ণ সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগের ব্যাপারে দ্রুত ব্য‌বস্থা নেওয়া এবং
    • জ) গ্রাম পঞ্চায়েত যদি তাদের কর্তব্য ঠিকমতো পালন না করে তা হলে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের কর্মী ও অফিসারদের কাজ করার সরাসরি নির্দেশ দেওয়া।
    • জ) রাজ্য‌ সরকার ও জেলা প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর প্রদত্ত অন্য‌ যে কোনও ধরনের কাজ।
  • ৯) এই প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো সম্পন্ন করা এবং নজরদারি করার জন্য‌ প্রোগ্রাম অফিসার হিসাবে কর্মরত বিডিও ব্লক, পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের যে কোনও অফিসারের সাহায্য নিতে পারেন। এই প্রকল্পের ব্য‌াপারে কোনও কাজের দায়িত্ব কোনও অফিসারকে দেওয়া হলে আইনত তিনি তা করতে বাধ্য‌।
  • ১০) এক্সিকিউটিভ অ্য‌াসিস্ট্য‌ান্ট, নির্মাণ সহায়ক/জব অ্য‌াসিস্ট্য‌ান্ট ও গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব এবং অন্য‌ কর্মীরা সময়ে সময়ে প্রোগ্রাম অফিসার যে কাজ দেবেন তা পালন করবেন।

কাজে ব্যর্থতা

এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও কাজ যদি রূপায়ণকারী এজেন্সি নির্দিষ্ট সময়ে করতে ব্য‌র্থ হয় তা হলে ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর ও তাঁর অনুমোদনে প্রোগ্রাম অফিসার নিজেরাই সেই কাজের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে পারেন অথবা প্রয়োজনে অন্য‌ রূপায়ণকারী এজেন্সিকেও কাজের দায়িত্ব দিতে পারেন। এবং ব্য‌র্থ এজেন্সির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারেন।

যন্ত্রের ব্য‌বহার

যতটা সম্ভব এই প্রকল্পের কাজ যন্ত্রের বদলে কায়িক শ্রম দিয়ে করতে হবে। যদি কোনও সময়ে যন্ত্রের ব্য‌বহার অবশ্য‌ম্ভাবী হয় তা হলে রূপায়ণকারী এজেন্সি আগাম এর জন্য‌ ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরের লিখিত অনুমোদন নেবে এবং প্রকল্পের খরচের হিসাবে যন্ত্র ব্যবহারের কারণ উল্লেখ করতে হবে। যন্ত্র ব্য‌বহারের ব্যবহারের ব্যাপারে ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরকে সন্তুষ্ট হয়ে অনুমোদন দেবেন এবং কেন তিনি অনুমোদন দিলেন তার কারণ বিস্তারিত জানিয়ে অনুমতি দেবেন।

কাজের স্বচ্ছতা

  • ১) প্রকল্পের পরিকল্পনা ও রূপায়ণের ব্য‌াপারে সমস্ত রূপায়ণকারী এজেন্সিকে পুর স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। এ ব্য‌াপারে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে হবে --
    • ক) গ্রাম পঞ্চায়েত ও গ্রাম সংসদে আইন ও প্রকল্প নিয়ে সমস্ত আলোচনার কার্যবিবরণী ঠিকমতো সংরক্ষণ করা এবং ওই সব বৈঠকের মাধ্যমে আইন এবং প্রকল্পের সব দিক ব্যাপক ভাবে প্রচার করা।
    • খ) বৈঠকের কার্যবিবরণী, হিসাব, কাজের পরিকল্পনা, মাস্টার রোল, এমপ্লয়েমন্ট রেজিস্টার, বিল, ভাউচার এবং বিভিন্ন প্রকল্প সংক্রান্ত অন্যান্য নথি জনসাধারণকে দেখতে দিতে হবে। এবং তথ্য‌ের অধিকার আইন ২০০৫ অনুযায়ী কেউ সেই সব কপি চাইলে তাঁকে নির্দিষ্ট খরচের বিনিময়ে তা দেওয়ার ব্য‌বস্থা করতে হবে।
    • গ) কাজের জন্য কত খরচ ধার্য করা হয়েছে, কত শ্রম দিবস তৈরি হতে পারে, কবে থেকে কাজ শুরু হয়েছে ইত্যাদি বিবরণ প্রতিটি কাজের শুরুতে একটি বোর্ডে কাজের জায়গাতেই টাঙিয়ে দিতে হবে। কত জন শ্রমিককে কাজে লাগানো হল তা-ও প্রতি দিন টাঙিয়ে দিতে পারলে ভালো হয়। কাজের শেষে কী সম্পদ তৈরি হল, কত শ্রম দিবস লাগল এবং কত খরচ হল তার বিবরণও একটি স্থায়ী বোর্ডে টাঙিয়ে দিতে হবে।
  • ২) রূপায়ণকারী অফিসার/এজেন্সি কতটা কাজ হল তার বিবরণ গ্রামের মানুষকে, জনপ্রতিনিধিকে, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে, গণমাধ্য‌মকে -- অর্থাৎ যাঁরা এ ব্য‌াপারে আগ্রহী তাঁরা জিজ্ঞাসা করা মাত্র মৌখিক ভাবে জানিয়ে দেবেন।

মাস্টার রোল

  • ১) যথাযথ নম্বর-সহ সমস্ত মাস্টার রোল প্রোগ্রাম অফিসার গ্রাম পঞ্চায়েত ও রূপায়ণকারী এজেন্সিকে সরবরাহ করবেন।
  • ২) গ্রাম পঞ্চায়েত ও সমস্ত রূপায়ণকারী এজেন্সি প্রতিটি কাজের সেই মাস্টার রোল সংরক্ষণ করবে যাতে কাজে নিযুক্ত ব্য‌ক্তির নাম, তাঁর জব কার্ড নম্বর, সে কত দিন কাজ করছে তার বিবরণ, কত মজুরি তাঁকে দেওয়া হয়েছে তা উল্লিখিত থাকবে। মাস্টার রোলে সংশ্লিষ্ট ব্য‌ক্তির স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ থাকতে হবে। প্রতিটি কাজের জন্য‌ কত টাকা মজুরি দেওয়া হয়েছে এবং ক’দিন কাজ দেওয়া হয়েছে তা জব কার্ডে উল্লেখ করতে হবে। যিনি মজুরি প্রদান করেছেন জব কার্ডে তাঁর স্বাক্ষর থাকাটা বাধ্য‌তামূলক।
  • ৩) আসল মাস্টার রোলটি রূপায়ণকারী এজেন্সির খরচের নথির অঙ্গ হবে। তার একটি ফোটোকপি সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতে পাঠানো হবে যাতে তাদের কাছে সংরক্ষিত রেজিস্টারে তা ঠিকমতো নথিভুক্ত হয়। এর জন্য‌ রূপায়ণকারী এজেন্সিকে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত অনুযায়ী আলাদা মাস্টার রোল তৈরি করতে হবে।
  • ৪) সব মাস্টার রোলকেই প্রোগ্রাম অফিসার কর্তৃক্ত অনুমোদিত হতে হবে। তা না হলে সেটি অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। রূপায়ণকারী এজেন্সি বা গ্রাম পঞ্চায়েত যদি এই ধরনের অবৈধ মাস্টার রোল ব্য‌বহার করেন তবে তার বিরুদ্ধে ব্য‌বস্থা নেওয়া হবে।
  • ৫) প্রোগ্রাম অফিসার মাস্টার রোলের স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ করবেন। মাস্টার রোলের স্টক রেজিস্টার রূপায়ণকারী এজেন্সি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছেও থাকবে। অন্য‌ান্য‌ রূপায়ণকারী এজেন্সির কাছ থেকে পাওয়া মাস্টার রোলের কপিও গ্রাম পঞ্চায়েত সংরক্ষণ করবে এবং এমপ্লয়মেন্ট রেজিস্টারে সেই তথ্য‌ তুলবে।

সম্পদ রেজিস্টার

  • ১) যে কাজের অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে, যে কাজ হয়েছে এবং যা সম্পন্ন হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ রূপায়ণকারী এজেন্সির স্তরে অ্য‌াসেট রেজিস্টার-এ সংরক্ষিত থাকবে। রেজিস্টার সংক্রান্ত তথ্য‌ রূপায়ণকারী এজেন্সি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত একই প্রোফর্মা অনুসারে প্রোগ্রাম অফিসারকে জানাবে।
  • ২) প্রোগ্রাম অফিসার কম্পিউটারে তথ্য‌ সংগ্রহ করবেন এবং তার কপি ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরকে দেবেন। ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর সব প্রোগ্রাম অফিসারের দেওয়া তথ্য একত্র মাসিক ও বার্ষিক রিপোর্টে উল্লেখ করবেন এবং তা স্টেট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরকে ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রককে ই-মেল করে বা ইলেকট্রনিক কপি দিয়ে দেবেন। পরে হার্ড কপি স্টেট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরকে দিয়ে সই করিয়ে পাঠাবেন।

পরিমাপের খাতা ও পরিমাপের কাগজ

একই ভাবে প্রোগ্রাম অফিসার সমস্ত রূপায়ণকারী এজেন্সিকে পরিমাপের খাতা ও পরিমাপের কাগজ (মেজারমেন্ট শিট) প্রদান করবেন। তার স্টক রেজিস্টারও প্রোগ্রাম অফিসারকে রাখতে হবে।

কাজের অডিট

  • ১) প্রতি আর্থিক বছরের শেষে প্রতিটি জেলা এই স্কিমের আওতাধীন কাজের সরেজমিন ও আর্থিক অডিট কোনও চার্টার্ড অ্য‌াকাউন্ট্য‌ান্টকে দিয়ে করাবে এবং এই কারণে একটি প্য‌ানেল প্রস্তুত করতে হবে। স্থানীয় হিসাবপরীক্ষক রাজ্যের অ্য‌াকাউন্ট্য‌ান্ট জেনারেলকে (অ্য‌াকাউন্টস অ্যান্ড এনটাইটলমেন্টস) দিয়েও হিসাব পরীক্ষার ব্য‌বস্থা করতে হবে।
  • ২) জেলা পরিষদের পরিষদ অ্য‌াকাউন্টস অ্যান্ড অডিট অফিসার, পঞ্চায়েত সমিতির সমিতি অডিট অ্যান্ড অ্য‌াকাউন্টস অফিসারকে নিয়ে গঠিত জেলার অভ্য‌ন্তরীণ অডিট সেল ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মিত অভ্য‌ন্তরীণ অডিট করবে। উপকৃতদের কমিটি ও গ্রাম সংসদের রিপোর্ট অডিট সেল খতিয়ে দেখবে এবং ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরকে রিপোর্ট পাঠিয়ে দেবে। চূড়ান্ত বেনিয়ম হলে তা ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর রাজ্য‌ সরকারকে অবহিত করবে।

অভিযোগ রেজিস্টার

গ্রাম পঞ্চায়েত এবং প্রোগ্রাম অফিসার ও ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরের অফিসে অভিযোগ নথিভুক্ত করার রেজিস্টার রাখতে হবে।

সামাজিক অডিট ও সতর্কতা

এই প্রকল্পের অধীনে মঞ্জুরীকৃত সমস্ত কাজ গ্রাম উন্নয়ন সমিতি বা উপকৃতদের কমিটি নজরদারি করবে। গ্রাম পঞ্চায়েত/রূপায়ণকারী এজেন্সি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি বা উপকৃতদের কমিটিকে কাজের বিস্তারিত রিপোর্ট দেবে। তাতে কতটা সময় লাগছে, আনুমানিক খরচ, সময়সীমা, শ্রমিকদের নামের তালিকা, কাজের গুণগত মান ইত্য‌াদি যাবতীয় বিষয় উল্লিখিত থাকবে। কাজের শেষে কাজ শেষের শংসাপত্রর সঙ্গে গ্রাম উন্নয়ন সমিতি বা উপকৃতদের কমিটির রিপোর্ট সংযোজিত হবে। তা গ্রাম সংসদের পরবর্তী বৈঠকেও পেশ করা হবে। ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর যদি মনে করেন তা হলে অন্য‌ত্রও তা পেশ করা যেতে পারে। রিপোর্টের কপি প্রোগ্রাম অফিসার ও ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটরকে দেওয়া হবে।

নজরদারি ও পরিদর্শন

  • ১) কাজ যাতে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয় সেই কারণে রাজ্য‌, জেলা, মহকুমা ও ব্লক স্তরের সমস্ত অফিসার প্রকল্পের কাজের প্রতিটি স্তরে যেমন, পরিবার নথিভুক্তকরণ, জব কার্ড প্রদান, কাজ প্রদান, মজুরি প্রদান, বেকারভাতা প্রদানের ব্য‌াপারে (যদি প্রয়োজন হয়) নজরদারি করবেন এবং প্রয়োজনে এলাকায় গিয়ে তদারকি করবেন।
  • ২) প্রতিটি জেলায় নিরীক্ষার তালিকা করতে হবে যাতে করে জেলা ও মহকুমা পর্যায়ের অফিসাররা আলাদা করে কমপক্ষে দশ শতাংশ কাজ নিরীক্ষা করতে পারে। এই ধরনের আগাম নিরীক্ষার তালিকা স্টেট কাউন্সিলে ও পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

রিপোর্ট এবং রিটার্ন

মাসিক আর্থিক ও প্রকৃত কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট প্রতিটি জেলাকে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্য‌ে রাজ্য‌ সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিতে হবে।

তহবিল বিতরণের ব্য‌বস্থা

আইন অনুযায়ী রাজ্য‌ সরকার সময়মতো তাদের প্রদেয় অর্থ রূপায়ণকারী এজেন্সির কাছে পৌঁছে দেবে এবং এ ব্য‌াপারে ভারত সরকারের প্রদেয় অর্থ গ্রহণের জন্য‌ও প্রয়োজনীয় ব্য‌বস্থা করবে।

অন্য‌ান্য‌ প্রকল্পের সঙ্গে একত্রীকরণ

স্থায়ী সম্পদ তৈরির জন্য‌ অন্য‌ প্রকল্পের তহবিলের সঙ্গে এই প্রকল্পের তহবিল মিলিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে। ফলে গোষ্ঠীর স্থায়ী সম্পদ তৈরি করার জন্য বা এই আইনে অনুমোদন রয়েছে এমন কাজ করার জন্য রাজ্য‌ অর্থ কমিশন, জাতীয় অর্থ কমিশন, স্বর্ণ জয়ন্তী স্বরোজগার যোজনা, ড্রট প্রোন এরিয়াস প্রোগ্রাম, রাষ্ট্রীয় সম বিকাশ যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প সূত্রে পঞ্চায়েতের পাওয়া টাকা এই প্রকল্পের সঙ্গে যতটা সম্ভব মিলিয়ে দেওয়া যায়।

সুত্রঃ পোর্টাল কনটেন্ট টিম

2.98888888889
ন্যাভিগেশন
Back to top