হোম / সমাজ কল্যাণ / বানিজ্যিক / জমি অধিগ্রহণ
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

জমি অধিগ্রহণ

শিল্প গড়তে ও আরও অনেক কারণে সরকারকে জমি নিতে হয়। কী ভাবে জমি নিলে সমাজের উপকার সম্ভব তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক, আলোচনা নিরন্তর চলছে। কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্য সরকারের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নানা নীতি রয়েছে। সেই সংক্রান্ত খবরাখবর ও নিবন্ধ থাকছে এই বিভাগে।

কেন্দ্রীয় জমি অধিগ্রহণ বিল

জমি অধিগ্রহণ বিল নিয়ে আপত্তি বেশ কিছু দলের

এন ডি এ শরিকেরা একে একে মাথা তুলছে জমি অধিগ্রহণ আইনের বিরুদ্ধে৷‌ বিদ্রোহী শরিকদের চাপের মুখে সরকার এখন অগত্যা বলছে, ভাল প্রস্তাব তারা অবশ্যই গ্রহণ করতে পারে৷‌ যদিও সরকার এখনও বলে চলেছে, আইনটি কৃষক ও গরিবদের স্বার্থ রক্ষা করবে৷‌ সড়ক পরিবহণ এবং হাইওয়ে মন্ত্রী নীতিন গাডকারি আইন নিয়ে আলোচনায় সরকারের মুখ্য প্রতিনিধি৷‌ তিনি বিরোধী দলগুলির সমালোচনা করেন তাদের দু’মুখো নীতির জন্য৷‌ বলেন, কংগ্রেস-সহ সব বিরোধী দল পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলি কেন্দ্রকে চিঠি লিখে জানিয়েছিল, ইউ পি এ-র আনা জমি অধিগ্রহণ আইন কৃষকদের স্বার্থবিরোধী৷‌ তিনি বলেন, আমরা অন্যান্য দলের দেওয়া ভাল প্রস্তাব গ্রহণ করতে রাজি৷‌ সামাজিক পরিস্হিতি বিশ্লেষণের ব্যাপারে মানুষ যদি কোনও মতামত দিতে চান অথবা সম্মতির ব্যবস্হা সম্পর্কে যদি কিছু বলতে চান, সরকার তা শুনতে রাজি৷‌ বি জে পি সরকার সম্মতির বিষয়টি তুলে দিতে চাওয়ায় এবং জমি অধিগ্রহণের জন্য সামাজিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ রদ করতে চাওয়ায় এন ডি এ-র শরিক শিবসেনা ও এল জে পি তীব্র আপত্তি তুলেছে৷‌ সরকার ৩১ ডিসেম্বর একটি অর্ডিন্যান্স এনেছিল চলতি আইনকে সংশোধন করে৷‌ এখন একটি বিল এনেছে লোকসভায়৷‌ শরিকরাই এই আইন নিয়ে আপত্তি তুলছে কেন জিজ্ঞেস করা হলে গাডকারি বলেন, এটা প্রকৃত বাস্তবতার সঙ্গে উপলব্ধির লড়াই৷‌ তিনি কংগ্রেসের দু’মুখো রাজনীতির জন্য তাদের আক্রমণ করেন৷‌ বলেন, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান তৎকালীন ইউ পি এ সরকারকে চিঠি লিখেছিলেন৷‌ চিঠিতে বলেছিলেন, এই আইনটিকে কার্যকর করা যাবে না৷‌ অন্য দিকে কংগ্রেসেরই পরিচালিত হরিয়ানার রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী দ্বিগুণ করে ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিলেন৷‌ যদিও আইনে চারগুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে৷‌ গাডকারি বলেন, এই দলটি কোন‍্ নীতিতে সংসদে চেঁচাচ্ছে? তাদের স্বার্থ অনুযায়ী তারা বহু মুখোশ ব্যবহার করে৷‌ নতুন আইন কৃষক ও গরিবদের স্বার্থ রক্ষা করছে বলে তিনি দাবি করেন৷‌ বলেন, অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী হাইওয়ে ও কয়লা মন্ত্রক ২০০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে জমির মালিকদের৷‌

অন্য দিকে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়ে সরকার আজ বলেছে, বিরোধীদের প্রস্তাব মতো তারা আলোচনা করতে রাজি এবং সরকার কৃষকদের প্রতি অন্যায় দূর করতে আরও অনেক দূর যাওয়ার জন্য প্রস্তুত৷‌ আজ এ কথা বলেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এম বেঙ্কাইয়া নাইডু৷‌ লোকসভায় তিনি বলেন, অর্ডিন্যান্স আনা হয়েছিল জরুরি কারণে৷‌ ১০ বছর উন্নয়নের কোনও কাজই হয়নি৷‌ সেই জন্যই অর্থনীতির অচলাবস্হা কাটানো দরকার৷‌ নাইডুর বক্তৃতার মধ্যেই কংগ্রেস, সি পি এম, তৃণমূল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি ওয়াকআউট করে৷‌ নাইডু বলেন, সরকার অর্ডিন্যান্স আনতে চায় না৷‌ কংগ্রেস ৬২ বছরে ৬৩৭টি অর্ডিন্যান্স এনেছে৷‌ বাম দলগুলি ও জনতা পরিবারকে আক্রমণ করে নাইডু বলেন, যুক্তফ্রন্ট সরকার ৭৭টি অর্ডিন্যান্স এনেছিল৷‌ উল্লেখ্য, নাইডু রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদসূচক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন৷‌ ওয়াকআউট করার সময় কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাক্টে অভিযোগ করেন, নাইডু বিরোধীদের অপমান করেছেন৷‌ তিনি বলেন, বিরোধীদের তরফ থেকে পাল্টা আক্রমণের জন্য তৈরি থাকুন৷‌ নাইডু বলেন, জমি অধিগ্রহণ বিলে যদি কোনও ত্রুটি থেকে থাকে তা নিয়ে আমরা আলোচনা করতে রাজি৷‌ আমরা সব সময় ধৈর্য ধরে শুনতে চাই৷‌ আমরা কৃষকদের ওপর কোনও অন্যায় হতে দেব না৷‌ মহারাষ্ট্রের শিবসেনার পাশাপাশি স্বাভিমানী শ্বেতকারি সংগঠনও জমি অধিগ্রহণ বিলের বিরোধিতা করেছে৷‌ এল জে পি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান কৃষকদের স্বার্থ সম্পর্কে আরও স্পর্শকাতর হতে বলেন৷‌ এল জে পি সাংসদ চিরাগ পাসোয়ান বলেন, জমি নেওয়ার ব্যাপারে কৃষকদের সম্মতির বিষয়টি তুলে দেওয়া হয়েছে কেন? তারা এ নিয়ে আদালতেও যেতে পারেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান৷‌ এল জে পি এ নিয়ে বৈঠক ডাকে৷‌ দলের ছ’জন সাংসদই বৈঠকে উপস্হিত ছিলেন৷‌ রামবিলাস বলেন, আমাদের স্লোগান ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’৷‌ তিনি বলেন, চারগুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে সব সংশয় দূর হোক৷‌ সরকারি হার ও ক্ষতিপূরণের আসল হারের মধ্যে অসঙ্গতি আছে৷‌

সূত্র : আজকাল, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

জমি অধিগ্রহণে কৃষকস্বার্থ বিরোধী কিছু করা হবে না, বললেন প্রধানমন্ত্রী

জমি বিল নিয়ে অনমনীয় থাকলে চলবে না, বুঝেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷‌ বিরোধীদের সহযোগিতা চেয়ে লোকসভায় আজ তিনি জানান, বিলটিকে ‘আরও ভাল’ করার জন্য কিছু বদল আনা যেতেই পারে৷‌ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বিতর্কের জবাবি ভাষণ দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী৷‌ তাতে সাম্প্রদায়িকতার ইস্যুতেও নিজের এবং সরকারের ভাবমূর্তি সাফ করার চেষ্টা করেন তিনি৷‌ জমি বিল প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে মোদি স্মরণ করিয়ে দেন, ইউ পি এ আমলে আনা বিলটিতে আমরা আপনাদের পাশেই ছিলাম৷‌ আমরা কিন্তু জানতাম, আপনারা এই বিল থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করবেন৷‌ মোদির দাবি, ‘কৃষক স্বার্থেই’ সেই আইন বদলানো হয়েছে৷‌ সব দলের মুখ্যমন্ত্রীরাই আইন বদলের দাবি জানিয়েছিলেন৷‌ ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতির’ দোহাই পেড়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যগুলির মত উপেক্ষা করব, তেমন উদ্ধত কি আমরা হতে পারি? প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবির যুক্তিও দেখান৷‌ বলাই বাহুল্য কর্পোরেট মহলের দাবির কথা উল্লেখ করেননি৷‌ জমি অধিগ্রহণ অর্ডিনান্সটির বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ হল, কর্পোরেট মহলের স্বার্থ দেখার জন্যই কিছু ধারায় বদল আনা হয়েছে৷‌ কৃষকদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে৷‌ এই নিয়ে রাজধানীতে কৃষক সংগঠনগুলি ধর্নায় বসেছে, সঙ্গী হয়েছেন আন্না হাজারের মতো প্রবীণ সমাজকর্মী৷‌ সরকার বেশ চাপে৷‌ আক্রমণের মুখ কংগ্রেসের দিকে ঘুরিয়ে দিতে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আনন্দ শর্মার চিঠি তুলে ধরছেন বি জে পি নেতারা, যেখানে ইউ পি এ সরকারের বিলটিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন নেতারা৷‌ মোদি আজ বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিষয়টিকে মর্যাদার লড়াই করে তুলবেন না৷‌ রাজনীতির নিক্তিতে এর বিচার করবেন না৷‌ সংসদীয় দপ্তরের মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডুও আজ বলেন, বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি৷‌ ভাল প্রস্তাব নিতেই পারি৷‌ সরকার কি তবে একটু পিছু হটছে? আরেক মন্ত্রী নীতিন গাডকারি অবশ্য বলেন, না না, আমরা চার-ছয় মেরে খেলছি৷‌ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বিতর্কে অংশ নিয়ে কংগ্রেস ও বিরোধী নেতারা বি জে পি-সহ সঙঘ পরিবারের নেতাদের হিন্দুত্ববাদী আস্ফালন নিয়ে সরব হয়েছেন৷‌ মোদি আজ বলেন, আমার সরকারের একটাই ধর্ম– সেটা হল, সবার আগে ভারত৷‌ একটাই ধর্মগ্রম্হ– সংবিধান৷‌ একটাই মন্ত্র– সবার কল্যাণ৷‌ ধর্মের নাম নিয়ে কেউ আজেবাজে কথা বলবে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটা আমি মেনে নিতে পারি না৷‌ ধর্মের ভিত্তিতে কোনও বৈষম্য চলতে দেব না৷‌ সব ধর্মেরই বিকাশ চাই আমরা৷‌ ক’দিন আগে একটি খ্রিস্টান-সমাবেশেও মোদি এই রকম বার্তা দিয়েছিলেন৷‌ কিন্তু তার পরও মাদার টেরিজাকে নিয়ে সঙঘপ্রধান মোহন ভাগবতের মম্তব্যে তিক্ততা ছড়িয়েছে৷‌ মোদি এদিন বলেন, রাজনীতির কারণে সাম্প্রদায়িকতার চর্চা দেশকে নষ্ট করে দিয়েছে৷‌ বুক ভেঙে দিয়েছে৷‌ অনেক লড়াই হয়েছে৷‌ আর নয়৷‌ সবাই মিলে এখন দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়তে হবে.।‌

সূত্র : আজকাল, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

রাষ্ট্রপতি কৃষকস্বার্থের পক্ষে

সংসদের সেন্ট্রাল হলে উভয় কক্ষের সদস্যদের সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি কৃষকদের স্বার্থরক্ষার ওপর জোর দেন৷‌ তিনি বলেন, আমার সরকার কৃষকদের স্বার্থরক্ষার বিষয়ে প্রচণ্ড গুরুত্ব দিচ্ছে৷‌ জমি অধিগ্রহণের দরুন যে সব কৃষক ও তাঁদের পরিবার জমি হারান তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে যেন সব রকম ব্যবস্হা নেওয়া হয়৷‌ তাঁদের প্রাপ্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ স্বচ্ছতার সঙ্গে দিতে হবে৷‌ সেই সঙ্গে পুনর্বাসন ও পুনঃস্হাপনের ন্যায়সঙ্গত অধিকারও তাঁদের প্রাপ্য৷‌ ব্যবস্হাগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারকে সব পদক্ষেপ নিতে হবে৷‌ দেখতে হবে যেন খুব বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রেই জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয়৷‌ জনস্বার্থ সম্পর্কিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে, পরিকাঠামো উন্নয়ন, মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি যেমন গ্রামীণ আবাসন, বিদ্যালয় ও হাসপাতাল গড়ে তোলা, বিশেষ করে প্রত্যম্ত এলাকায়৷‌ এ সব ক্ষেত্রেই জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে৷‌ এবং সে সব ক্ষেত্রে কৃষককে তাঁর ন্যায্য প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং পুনঃস্হাপনের ব্যবস্হা করে দিতে হবে৷‌ রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার মূল উদ্দেশ্য হল কৃষকের অন্নসংস্হান৷‌ ‘অন্নদাতা সুখীভব’– এই বাণী আমাদের সভ্যতার মৌলিক মূল্যবোধ৷‌ আমার সরকার কৃষকদের সচ্ছলতার প্রতি প্রচণ্ড গুরুত্ব আরোপ করছে৷‌ এ জন্য মূল্যযুক্ত কৃষি, বাজারের সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে নতুন নতুন এলাকায়৷‌ ২০১৫-তে আম্তর্জাতিক মৃত্তিকা বর্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে৷‌ রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী বলেছিলেন, ‘দারিদ্র্যের কুফল অনেকগুলি৷‌ অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দারিদ্র্য গণতন্ত্রকেও দুর্বল করে দেয়৷‌ সবচেয়ে হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণসাধন আমার সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য৷‌ তফসিলি জাতি, উপজাতি, অনগ্রসর শ্রেণী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্রদের বৃত্তি দেওয়ার ওপরে জোর দেওয়া হয়েছে৷‌ শিক্ষা হল সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র৷‌ ‘পড়ে ভারত বড়ে ভারত’ প্রকল্প চালু হয়েছে পড়াশোনার উন্নতিসাধন ও শিক্ষার ভিত গড়ার জন্য৷‌ রাষ্ট্রপতি বলেন, কালো টাকার সৃজন তৈরি হওয়া রুখতে সরকার সবরকম ব্যবস্হা নিতে চায়৷‌ অভ্যম্তরীণ ও আম্তর্জাতিক ক্ষেত্রে৷‌ এ জন্য চাই জবরদস্ত আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো৷‌ ব্যবস্হা এবং প্রক্রিয়া৷‌ প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্যের আদানপ্রদান এবং দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তিপ্রদান৷‌ তিনি বলেন, রেলে বিদেশি পুঁজির দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে৷‌ প্রতিরক্ষায় বিদেশি পুঁজি বাড়ানো হয়েছে ৪৯ শতাংশ পর্যম্ত৷‌ এর কিছু কিছু শর্ত আছে৷‌ ভারতের শিল্প যাতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে সেই ব্যবস্হা করা হয়েছে৷‌ জোর দেওয়া হয়েছে গবেষণা ও নতুন নতুন আবিষ্কারের ওপর৷‌ বাড়তি কর্মসংস্হানের দিকে লক্ষ্য রেখে সরকার পরিষেবা ক্ষেত্রে শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করে যাবে৷‌

সূত্র : আজকাল, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

জমি কিনবে রাজ্য সরকার, দাম ঠিক করতে কমিটি

সরকারি প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণের বদলে জমি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে আগেই। সেই পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে শুক্রবার রাজ্য সরকার জানিয়ে দিল, জমির দাম নির্ধারণে কলকাতা-সহ প্রতি জেলায় কমিটি তৈরি হবে। কলকাতার ক্ষেত্রে কমিটির মাথায় থাকবেন ভূমি কমিশনার। এবং জেলাগুলির ক্ষেত্রে জেলাশাসক। নবান্নে শিল্প সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার সাব-কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেনায় জর্জরিত রাজ্য সরকার যেখানে ঋণ মকুব কিংবা ঋণশোধের চাপ থেকে অন্তত কিছু দিনের রেহাই ও ‘বিশেষ প্যাকেজ’ পাওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে  নিরন্তর দরবার করে যাচ্ছে, সেখানে জমি কেনার টাকা কোথা থেকে আসবে, সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠেছে নবান্নের কর্তাদের কাছে। অবশ্য  বণিকমহলের একটি অংশ বলছে, জমি কিনেও যদি রাজ্যের থমকে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলি এগোয়, তাতে বাংলারই লাভ।

ক্ষমতায় এসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, বেসরকারি তো বটেই, সরকারি প্রকল্পের জন্যও তাঁরা জমি অধিগ্রহণ করবেন না। সেই নীতি আঁকড়ে থেকেই গত নভেম্বর মাসে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজ্য ঘোষণা করে, পরিকাঠামো, সেতু, সড়ক, গুদাম, পানীয় জল প্রকল্প বা বাঁধ নির্মাণের মতো উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জমি কিনবে সরকার। জমি কেনা হবে জেলা পরিষদ ও পুরসভার মতো স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে। বণিক মহলের একাংশের বক্তব্য, সরকারি নীতির কারণে গত চার বছরে শিল্প তো বটেই, এমনকী রাস্তা, সেতু, নিকাশি বা পানীয় জল প্রকল্পের মতো উন্নয়নমূলক কাজেও জমি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের হাতে জমি থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে তা হাতে পাচ্ছে না প্রশাসন। এই কারণে দীর্ঘ কয়েক বছরে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের মতো জরুরি কাজও বন্ধ। এই অবস্থায় জমি কিনেও যদি সরকারি প্রকল্পগুলি রূপায়ণ করা সম্ভব হয়, তাতে রাজ্যেরই মঙ্গল।

নবান্ন সূত্রের খবর, কোনও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দফতরকে প্রথমে মন্ত্রিসভার শিল্প সংক্রান্ত সাব-কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। সেই অনুমোদন মিললে তা জানাতে হবে ওই কমিটিকে। তার ভিত্তিতে কমিটি জমি চিহ্নিত করে তার দাম নির্ধারণ করবে। সেই কাজ সম্পন্ন হলে জমি কিনবে সংশ্লিষ্ট পুরসভা, জেলা পরিষদ কিংবা কর্পোরেশন।

এ দিন ঠিক হয়েছে, দাম নির্ধারণের কমিটিতে জেলাশাসক বা ভূমি কমিশনার ছাড়াও থাকবেন স্থানীয় ভূমি-রাজস্ব অফিসার, বিশেষ জমি অধিগ্রহণ অফিসার, চেয়ারপার্সনের মনোনীত দু’জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, জেলা পরিষদের ফিনান্সিয়াল কন্ট্রোলার ও চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার, জেলা রেজিস্ট্রার ও জেলা পরিষদের সচিব। জেলা পরিষদের সচিবই হবেন কমিটির সদস্য-সচিব।

সূত্র : নিজস্ব সংবাদদাতা, আনন্দবাজার পত্রিকা, ২২ মার্চ ২০১৫

2.95180722892
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top