হোম / সমাজ কল্যাণ / শহরে দারিদ্র্য সহায়তা যোজনা / প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা

আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষদের আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যে টেনে আনতে সম্প্রতি ঘোষিত এই প্রকল্পের বিস্তারিত আলোচনা এখানে।

ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনাআর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের আর্থিক ব্য‌বস্থার মধ্য‌ে টেনে আনার লক্ষ্য‌ে বৃহস্পতিবার ২৮ আগস্ট ২০১৪ নতুন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রাসঙ্গিক কথা

আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষজনকে আর্থিক ব্য‌বস্থার মধ্য‌ে নিয়ে আসার চেষ্টা ধরেই শুরু হয়েছে। কিন্তু তেমন ভাবে সমাজের প্রত্য‌ন্ত স্তরে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। ২০০৫ সালে রিজার্ভ ব্য‌াঙ্ক অফ ইন্ডিয়া প্রথম এ ধরনের মানুষজনকে ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্ট খোলার ব্য‌াপারে আকৃষ্ট করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কেওয়াইসি সংক্রান্ত নিয়ম খানিকটা শিথিল করে ‘জিরো ব্য‌ালান্স’ ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্টের সুবিধা দেওয়া হয়। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার এই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করে প্রতিটি বাড়িতে ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লক্ষ্য‌মাত্রা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৫ আগস্ট লালকেল্লার ভাষণে পিছিয়ে পড়া ব্য‌ক্তিদের আর্থিক ব্য‌বস্থার মধ্য‌ে আনার জাতীয় মিশন—‘প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার’ কথা ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের ৬টি মূল স্তম্ভ রয়েছে। প্রথম বছর চারটি স্তম্ভ রূপায়িত হবে।

এর মধ্য‌ে আছে—

  • ১) প্রত্য‌েকের জন্য‌ ব্য‌াঙ্কিং পরিষেবা উন্মুক্ত করা।
  • ২) আর্থিক সাক্ষরতার কর্মসূচি গ্রহণ।
  • ৩) ওভারড্রাফটের সুবিধা এবং ‘রূপে’ ডেবিট কার্ডের সুবিধা সহ ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্ট খোলার সুযোগ।
  • ৪) প্রাথমিক স্তরের ক্রেডিট গ্য‌ারান্টি তহবিল গঠন।

প্রস্তুতি

এই যোজনার অঙ্গ হিসাবে ব্য‌াঙ্কগুলি কিছুদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি শিবির শুরু করেছে। এর মাধ্য‌মে ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্ট নেই এমন বাড়িতে অ্য‌াকাউন্ট খোলার কাজ ও ডেবিট কার্ড বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল শ্রেণির মধ্য‌ে আর্থিক সাক্ষরতা প্রসারের কাজও শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার প্রয়োজন মেটাতে ৫০ হাজার ব্য‌বসা সহায়ক নিয়োজিত হবেন। এঁরা ব্য‌াঙ্কিং পরিষেবার আওতাভুক্ত হননি এমন ৭কোটি বাড়িতে পৌঁছবেন। নতুন গ্রহকদের জন্য‌ সহজ পদ্ধতিতে অ্য‌াকাউন্ট খোলা হবে এবং প্রত্য‌েক গ্রাহকই ‘রূপে’ ডেবিট কার্ড পাবেন। গ্রাহকরা এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনা বিমার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাঁরা ওভারড্রাফট নেওয়ার সুযোগও গ্রহণ করতে পারবেন।

দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি

    দেশের বর্তমান পরিস্থিতি

  • ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী দেশের ২৪ কোটি ৬৭ লক্ষ বাড়ির মধ্য‌ে ১৪ কোটি ৪৮ লক্ষ বাড়ি ব্য‌াঙ্কিং পরিষেবার আওতায় এসেছে। ১৬ কোটি ৭৮ লক্ষ গ্রামীণ বাড়ির মধ্য‌ে ৯ কোটি ১৪ লক্ষ বাড়িই পরিষেবার আওতায় এসেছে। ৭ কোটি ৮৯ লক্ষ শহরের বাড়ির মধ্য‌ে ৫ কোটি ৩৪ লক্ষ বাড়িই ব্য‌াঙ্কিং পরিষেবার আওতায় এসেছে।
  • ২০১১ সালে ব্য‌াঙ্কগুলি ২ হাজার জনসংখ্য‌া রয়েছে এমন ৭৪হাজার গ্রামে ‘স্বভিমান’ প্রচারের মাধ্য‌মে পরিষেবা ছড়িয়ে দিয়েছে।
  • দেশের বর্তমান ব্য‌াঙ্ক নেটওয়ার্ক (৩১ মার্চ ২০১৪ পর্যন্ত) অনুযায়ী মোট ১১৫০৮২টি ব্য‌াঙ্ক শাখা রয়েছে। এটিএম আছে ১৬০০৫৫টি। এর মধ্য‌ে ৪৩৯৬২টি শাখা (৩৮.২ শতাংশ) এবং ২৩৩৩৪টি এটিএম গ্রামীণ এলাকায়। এ ছাড়াও গ্রামীণ ব্য‌াঙ্ক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্য‌াঙ্কগুলির ১.৪ লক্ষ ব্য‌বসা প্রতিনিধি গ্রামীণ এলাকায় কর্মরত। ব্য‌বসা প্রতিনিধিরা ব্য‌াঙ্কের সাধারণ পরিষেবাগুলি গ্রামে ছড়িয়ে দেন। বেসিক ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্ট খোলা, টাকা জমা দেওয়া, টাকা তোলা, তহবিল ট্রান্সফার, হিসাব দেখা, মিনি, স্টেটমেন্ট তৈরি প্রভৃতি ব্য‌াপারে এঁরা সহায়তা করেন।
  • ৩১ মে ২০১৪-র হিসাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্য‌াঙ্কগুলিকে ৯ কোটি ১৭ লক্ষ বাড়িতে পরিষেবা নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্য‌ে ৫ কোটি ২৩ লক্ষ বাড়িতে তারা ইতিমধ্য‌েই পৌঁছে গিয়েছে। গ্রামীণ ব্য‌াঙ্কগুলিকে ৩ কোটি ৯৭ লক্ষ বাড়ির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা ইতিমধ্য‌েই ১ কোটি ৯৯ লক্ষ বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে।

কী করতে হবে

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্য‌াঙ্ক এবং গ্রামীণ ব্য‌াঙ্ক মিলিয়ে এখনও ৫ কোটি ৯২ লক্ষ গ্রামীণ বাড়ি ব্য‌াঙ্কের আওতার বাইরে রয়েছে। মোটামুটি হিসাব অনুযায়ী ৬ কোটি গ্রামীণ বাড়িতে পৌঁছনো প্রয়োজন।
  • প্রতি পরিবার পিছু দু’টি অ্য‌াকাউন্ট খুলতে হবে, একটি স্বামীর অন্য‌টি স্ত্রীর— এই হিসাব ধরলে গ্রামে এখনও ১২ কোটি অ্য‌াকাউন্ট খোলা বাকি।
  • শহরাঞ্চলেও কিছু বাড়িতে এখনও ব্য‌াঙ্ক পরিষেবা পৌঁছয়নি। জনগণনা অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে ২ কোটি ৫৫ লক্ষ বাড়ি ব্য‌াঙ্কের আওতার বাইরে আছে। মোটামুটি হিসাব অনুযায়ী শহরাঞ্চলে প্রায় ৩ কোটি অ্য‌াকাউন্ট খোলার কাজ বাকি আছে।
  • যে সব বাড়িতে ব্য‌াঙ্ক পৌঁছেছে সেখানেও বহুস্থানে কেবলমাত্র একটি করে অ্য‌াকাউন্ট হয়েছে। কিন্তু সেই সব জায়গাতেও একটি স্বামীর ও একটি স্ত্রীর ধরে বাড়ি পিছু দু’টি করে অ্য‌াকাউন্ট করা দরকার।

বর্তমান পরিকল্পনা

আগের আর্থিক বৃদ্ধির পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনার সঙ্গে এ বারের পরিকল্পনার তিনটি বড় ফারাক রয়েছে।

  • ক) আগের পরিকল্পনায় অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামকে ইউনিট ধরা হয়েছিল। এ বার প্রতিটি বাড়িকে ইউনিট ধরা হয়েছে।
  • খ) আগে কেবলমাত্র গ্রামীণ এলাকায় জোর দেওয়া হয়েছিল। এ বার শহর ও গ্রাম- দু’টির উপরই জোর দেওয়া হয়েছে।
  • গ) বর্তমান পরিকল্পনা ‘মিশন’ হিসাবে গণ্য‌ করে রূপায়ণ করার কাজ চলছে। এই মিশনে সর্বত্র পৌঁছনোর অঙ্গীকার করা হয়েছে। ছ’টি স্তম্ভের মাধ্য‌মে দু’টি পর্যায়ে মিশন পরিপূর্ণ করা হবে।
প্রথম পর্যায়
  • ব্য‌াঙ্ক সুবিধার সর্বত্র প্রসার।
  • বেসিক ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্ট খোলা। এই অ্য‌াকাউন্টগুলিতে ৫ হাজার টাকা অবধি ওভারড্রাফট নেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রত্য‌েককে ‘রূপে’ ডেবিট কার্ড দেওয়া হবে। কার্ড পিছু এক লক্ষ টাকা দুর্ঘটনা বিমা করা থাকবে।
  • ‘ডিফল্ট’ অ্য‌াকাউন্টগুলির জন্য‌ ক্রেডিট গ্য‌ারান্টি ফান্ড খোলা হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়
  • ক্ষুদ্র বিমার সুযোগ প্রদান।
  • ‘স্বাবলম্বনের’ মতো অসংগঠিত ক্ষেত্রের পেনশন পরিকল্পনা।
  • দ্বিতীয় পর্যায়ে পাহাড়ি এলাকা, আদিবাসী অধ্য‌ুষিত দুর্গম এলাকায় পৌঁছনো হবে। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক ও ছাত্রকে পরিকল্পনার মধ্য‌ে আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনা : একটি মূল্য‌ায়ন

আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে পিছিয়ে ভারত

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ভারত যে খুব একটা ভালো জায়গায় নেই তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০১২ সালে ১৫ বছরের বেশি মানুষদের মাত্র ৩৫ শতাংশের কোনও বিধিবদ্ধ আর্থিক সংগঠনে অ্য‌াকাউন্ট ছিল। সারা বিশ্বের বিকাশশীল দেশগুলিতে গড়ে ৪১ শতাংশ মানুষের অ্য‌াকাউন্ট আছে। রিজার্ভ ব্য‌াঙ্কের তৎপরতায় বর্তমানে ২২ কোটি ৯০ লক্ষ প্রাথমিক ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্ট খোলা হয়েছে। বিধিবদ্ধ আর্থিক সংস্থাগুলি এখন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্য‌ে। কিন্তু এখনও বহু গ্রাম আছে যেখানে ব্য‌াঙ্কের একটিও শাখা নেই। বাণিজ্য‌িক ব্য‌াঙ্কের ঋণের মাত্র দশ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে যায়, যেখানে জনসংখ্য‌ার ৭০ শতাংশ বাস করেন। অতএব আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য‌ পরিকল্পনা গ্রহণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলার আর প্রয়োজন নেই।

২০১৪-এর ২৮ আগস্ট থেকে চালু হয় প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনা (পিএমজেডিওয়াই)। এর লক্ষ্য‌মাত্রা হল আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালের ১৫ আগস্টের মধ্য‌ে ৭.৫ কোটি পরিবারের জন্য‌ ব্য‌াঙ্কে অ্য‌াকাউন্ট খুলে দেওয়া। যে দিন এই প্রকল্প চালু হয় সে দিনই দু’ কোটি অ্য‌াকাউন্ট খোলা হয়। এই প্রকল্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য‌ হল প্রতিটি ভারতীয়র জন্য‌ ব্য‌াঙ্কে একটি করে অ্য‌াকাউন্ট খুলে দেওয়া। প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি পরিবারের একটি করে অ্য‌াকাউন্ট খোলার ব্য‌বস্থা নেওয়া হবে। এর জন্য‌ প্রয়োজনীয় আর্থিক সাক্ষরতাও তাদের দেওয়া হবে। ফলে কারও মধ্য‌স্থতা ছাড়া তারা সহজেই টাকা হাতে পাবে বা টাকা জমা দিতে পারবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে, যাদের অ্য‌াকাউন্ট তাদের জন্য‌ আর্থিক পরিষেবা দেওয়া হবে এবং সেই সঙ্গে তাদের ক্ষুদ্র বিমা ও পেনশন দেওয়া হবে। সারা দেশে প্রত্য‌ন্ত অঞ্চলে যেমন ব্য‌াঙ্কের শাখা খোলা যে হেতু প্রায় অসম্ভব, তাই অ্য‌াকাউন্ট হোল্ডারদের সুবিধার্থে ব্য‌াঙ্ক করেসপন্ডেন্ট নিয়োগ করা হবে। এদের সাহায্য‌ ছাড়া এই প্রকল্প সম্পূর্ণ সাফল্য‌লাভ করতে পারবে না। দেশের আনাচে কানাচে ব্য‌াঙ্কের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ব্য‌াপারে ভারত উন্নত দেশগুলির তুলনায় তো বটেই, বিশ্বের অন্য‌ান্য‌ উন্নয়নশীল দেশগুলির তুলনাতেও অনেকটাই পিছিয়ে আছে।

সূত্র : যোজনা, অক্টোবর ২০১৪

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুবিধা

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য‌ জন-ধন যোজনার প্রয়োজন ছিল। বাস্তবে, সবার জন্য‌ আর্থিক সংগঠনের সমস্ত সুবিধা নাগালের মধ্য‌ে এনে দেওয়া এবং ঋণদানের ব্য‌বস্থা করা দেশের আর্থিক উন্নয়ন এবং নতুন উদ্য‌োগ শুরু করার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পক্ষে সত্য‌িই সহায়ক।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সবার জন্য‌ আর্থিক সংগঠনগুলিকে ব্য‌বহার করবার সুযোগ করে দেওয়া বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মূলধনের সঠিক, সুষ্ঠ ও সুষম বণ্টন এবং ঝুঁকির আশঙ্কা সর্ব শ্রেণির সব মানুষের মধ্য‌ে ছড়িয়ে যাওয়ার ফলেই এই আর্থিক বিকাশ ঘটতে পারে। এ ছাড়া আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মানুষের ভাগে আয়ের অংশ বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য‌ করে এবং এর ফলে দারিদ্রের প্রকোপ কমতে থাকে। এ ছাড়া গরিব মানুষদের জন্য‌ ঋণদানের ব্য‌বস্থা করে তাদের জন্য‌ও একটু সুযোগ করে দেওয়ার ফলে সামাজিক অসাম্য‌ কমায়। আর্থিক পরিষেবা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের নাগালের ভিতরে এনে দেওয়ার ফলে স্বনিযুক্ত ক্ষুদ্র উদ্য‌োগ, গৃহস্থালিতে ভোগের মাত্রা বাড়া এবং আর্থিক কল্য‌াণ ইত্য‌াদির উন্নতি যে ঘটে, তা প্রমাণ করা আজ অত্য‌ন্ত সহজ। বিশেষজ্ঞরা এ-ও বলেন যে, দারিদ্র দূরীকরণে ক্ষুদ্র ঋণ একটি প্রয়োজনীয় হাতিয়ার।

ভারতের মতো অপ্রথাগত অর্থনীতিতে গরিব মানুষ টাকা ধার করে আবার সুযোগ বুঝে দেনা মিটিয়ে তাঁদের রুজি রোজগার বা ব্য‌বসাপাতির প্রয়োজন কোনও মতে মেটান। আত্মীয় বন্ধু বা মহাজনের কাছ থেকে টাকা ধার করা বা আবর্তনশীল সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে টাকা জমা রাখা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এবং এ ভাবে যতটুকু অর্থ পাওয়া যায় তা আদৌ এঁদের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম নয়। প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনা একটি নির্ভরযোগ্য‌ প্রকল্প যা দরিদ্রদের যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ সঞ্চয় করতে উৎসাহিত করবে। দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতে সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, দেশের প্রত্য‌ন্ত অঞ্চলে ব্য‌াঙ্কের পরিষেবা ছড়িয়ে দিতে পারলে তা অবশ্য‌ই সঞ্চয়ের অভ্য‌াস গড়ে তুলতে সাহায্য‌ করবে যা দেশ ও দশের উপকারে লাগবে।

সূত্র : যোজনা, অক্টোবর ২০১৪

জন-ধন যোজনায় ঋণদানের প্রতিশ্রুতি

ভারতের মতো দেশে আর্থিক সংস্কার আনাটাই সব সময়ে সব থেকে ভালো ফল দিয়েছে। যে সমস্ত আর্থিক সংগঠন নিরাপদ, ঝুঁকিবিহীন ভাবে আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে এবং মানুষের মধ্য‌ে সঞ্চয় প্রবণতা গড়ে তুলতে সাহায্য‌ করে, সেগুলি এ দেশের পক্ষে সব থেকে সুবিধাজনক।

নির্ভরযোগ্য‌ আর্থিক সংগঠনগুলি যদি উৎসাহব্য‌ঞ্জক আর্থিক সুবিধাদানের প্রতিশ্রুতি দেয় তা হলে সঞ্চয়ের অভ্য‌াস গড়ে উঠতে বাধ্য‌। উন্নয়নশীল দেশগুলির গ্রামবাসী বা প্রত্য‌ন্ত অঞ্চলে বসবাসকারীরা এ সুযোগ সব সময় পান না। এ ধরনের সুবিধা পেলে গরিব মানুষ প্রয়োজন মাফিক অর্থ ব্য‌য় করে সঞ্চয়ের জন্য‌ সচেষ্ট হতে পারে। হাতের টাকা অনর্থক ভাবে খরচ করে ফেলার প্রবণতা তাঁদের কমে যায়।

প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনা ওভারড্রাফট বা ঋণদানের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঋণ পাওয়ার এই সুবিধা পেলে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় উন্নতি ঘটবে, সিদ্ধান্তগ্রহণে আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে এবং তারা ব্য‌বসা বা অন্য‌ান্য‌ রুজিরোজগারের পরিকল্পনাও করতে পারবে এই আর্থিক সহযোগিতার সুবিধা থাকার ফলে। এ ছাড়া গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য‌ থাকবে ১ লক্ষ টাকার বিমার সুরক্ষা। বিমার এই সুরক্ষার ফল এরা কাজে কর্মে ঝুঁকি নেওয়ার এবং তেমন কোনও আর্থিক ক্ষতি হলে তা সামাল দিয়ে দ্বিতীয় বার শুরু করার মতো সাহস এবং আত্মপ্রত্য‌য় খুঁজে পাবে। এই আর্থিক সমর্থনটুকু না থাকার ফলে অনেক সময় দরিদ্র মানুষজনেরা ইচ্ছা ও দক্ষতা থাকলেও নতুন কোনও উদ্য‌োগ গ্রহণ করতে পারেন না। যার ফলে তাঁরা দারিদ্ররেখাও অতিক্রম করতে পারেন না। গ্রামাঞ্চলে ব্য‌াঙ্কের শাখা খোলার ফলে মানুষের আর্থিক অবস্থার একটু আধটু উন্নতি হতে দেখা যাচ্ছে। আর আর্থিক উন্নতি ছাড়াও, মানুষকে প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনার মাধ্য‌মে ব্য‌াঙ্কিং পরিষেবার আওতায় আনতে পারলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক সাহায্য‌, ভাতা ইত্য‌াদি তাঁরা সরাসরি পেয়ে যেতে পারেন। আর তার জন্য‌ অতিরিক্ত সরকারি ব্য‌য়ের প্রয়োজন হবে না। ব্য‌াঙ্কগুলি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবেই আর্থিক সাহায্য‌ের হাত বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র : যোজনা, অক্টোবর ২০১৪

প্রকল্পের পরিধি ও ব্য‌াঙ্কিং পরিষেবা

প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনার মুখ্য‌ উদ্দেশ্য‌ ব্য‌াঙ্কে অ্য‌াকাউন্ট খোলা। কিন্তু ২০১৫ সালের ১৫ আগস্ট-এর আগে যাঁরা অ্য‌াকাউন্ট খুলবেন তাঁরা বেশ কিছু সুযোগ- সুবিধা পাবেন, যেমন একটি ‘রু-পে’ ডেবিট কার্ড, ১ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা বিমা, এবং ৩০ হাজার টাকা কভারেজের একটি জীবনবিমা। যাঁরা সময়মতো অ্য‌াকাউন্টে টাকা জমা দিতে থাকবেন তাঁদের ওভারড্রাফটের সুবিধা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনার লক্ষ্য‌ পূরণ করা বড় সহজ কাজ নয়। অ্য‌াকাউন্ট খুলতে সময় লাগে জনপ্রতি অন্তত কুড়ি মিনিট। যাঁরা কোনও দিন ব্য‌াঙ্কে অ্য‌াকাউন্ট খোলেননি তাঁদের ক্ষেত্রে হয়তো আরও একটু সময় লাগতে পারে। গ্রামাঞ্চলের ছোট ছোট শাখাগুলিতে ব্য‌াঙ্ক কর্মচারী সংখ্য‌ায় কম। দেরি হওয়ার এটাও অন্য‌তম কারণ হয়ে উঠতে পারে। আট ঘণ্টায় অর্থাৎ একটা পুরো কাজের দিনে হয়তো সর্বসাকুল্য‌ে ২৪টি অ্য‌াকাউন্ট খোলা যেতে পারে। বেশ কয়েক বছর আগে রিজার্ভ ব্য‌াঙ্ক এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য‌ প্রাথমিক অ্য‌াকাউন্ট খোলার নির্দেশ দেয়। প্রায় দশ কোটি অ্য‌াকাউন্ট খোলা হয় ঠিকই কিন্তু তাতে সময় লেগে যায় ৩ বছর।

প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনার সূচনার দিনে সারা দেশের গ্রাম ও শহর মিলিয়ে ২ কোটি অ্য‌াকাউন্ট খোলা হয়। অ্য‌াকাউন্ট খোলার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। এই ভাবে বাড়তে থাকলে ব্য‌াঙ্কগুলির উপর প্রচুর চাপ পড়বে। অন্য‌ান্য‌ দেশের সঙ্গে তুলনামূলক হিসাবে দেখা গিয়েছে, ভারতে প্রতি লক্ষ মানুষে ব্য‌াঙ্ক শাখার সংখ্য‌া কিছু বাড়লেও ব্রাজিল, রাশিয়া ও মেক্সিকোর তুলনায় তা কিছুই নয়।

ভারতে মোট জনসংখ্য‌ার ৪২ শতাংশ ব্য‌াঙ্কিং ব্য‌বস্থার আওতায় এখনও পড়ে না। তারা এখনও মহাজন বা অপ্রথাগত ঋণদানকারী সংস্থার উপর নির্ভর করে। বর্তমানে দেশে ১,১৫,০৮২ টি ব্য‌াঙ্ক শাখা আছে যার মধ্য‌ে ৪৩,৯৬২ বা ৩৮.২ শতাংশ ব্য‌াঙ্ক গ্রামাঞ্চলের। প্রতিটি ব্য‌াঙ্ককে একটি নির্দিষ্ট সংখ্য‌ায় শাখা ও এটিএম গ্রামাঞ্চলে খুলতে হবে, রিজার্ভ ব্য‌াঙ্ক-এর নির্দেশ পাওয়ার পর এ ব্য‌াপারে উদ্য‌োগ নেওয়া আরম্ভ হয়।

সূত্র : যোজনা, অক্টোবর ২০১৪

এটিএম নেটওয়ার্ক ও অন্তর্ভুক্তিকরণ

এটিএম নেটওয়ার্ককে আরও সফল করে তোলার উদ্দেশ্য‌ে প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনায় ডেবিট কার্ডের ব্য‌বহার আরম্ভ করার কথা ভাবা হচ্ছে।

দেশে এখন প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য‌ ১১টি করে এটিএম রয়েছে। রাশিয়াতে প্রতি এক লক্ষ জনের জন্য‌ ১৮২টি, ব্রাজিলে ১১৮টি, মেক্সিকোতে ৪৭টি ও চিনে ৩৭টি এটিএম বর্তমান। তবে ভারতে গত বছরে এটিএমের সংখ্য‌াবৃদ্ধির হার ছিল বেশ ভালো, পৃথিবীতে দ্বিতীয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনার যত প্রসার ঘটবে এটিএম ও ডেবিট কার্ড ব্য‌বহারকারীদের সংখ্য‌াও বাড়তে থাকবে। এর ফলে চাপ বাড়বে ব্য‌াঙ্কগুলির উপর। তার প্রধান কারণ এটিএম সমস্ত অঞ্চলে সমান ভাবে ছড়ানো সম্ভব নয়।

বিমা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ১৯৯৯ সালে বলবৎ হওয়ার পর থেকে ভারতে বিমা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ছিল মাত্র চারটি জাতীয় কোম্পানি। সে জায়গায় এখন ৫১টি বেসরকারি বিমা কোম্পানি হয়েছে। ২০১১-১২ সালে বিমা শিল্পের ইকুইটি ক্য‌াপিটাল ছিল মোট ৩২,৩২৪ কোটি টাকা। এর মধ্য‌ে জীবনবিমার অংশ ছিল ৭৭ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য বিমার অংশ বাকি ৩৩ শতাংশ। জীবনবিমার তুলনায় দ্বিতীয় ক্ষেত্রটির বৃদ্ধি দ্রুত ঘটেছে। ২০১১-১২ সালে জীবনবিমার প্রিমিয়ামের হার ৮.৫ শতাংশ কমে যায়। (সারা বিশ্বে ওই সময় কমে ছিল ২.৭ শতাংশ)। অন্য‌ান্য‌ বিমার বৃদ্ধি ঘটে ১৩.৫ শতাংশ (অন্য‌ান্য‌ দেশে এই বৃদ্ধির হার ছিল ১.৮ শতাংশ)। ২০১১ সালে বিমা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা, বিমা প্রকল্পের প্রসার এবং বিভিন্ন রাজ্য‌ ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে নানা জিনিসকে বিমার নিরাপত্তা দেওয়া এবং তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ‘প্য‌ান ইন্ডিয়া ইন্সিওরেন্স অ্য‌াওয়ারনেস ক্য‌াম্পেন’-এর সূচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনা যদি ভালো ভাবে কার্যকর করা হয় তা হলে বিমা কোম্পানিগুলির প্রসার শহর থেকে শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলে হওয়া দরকার কারণ গরিব মানুষেরা বিমার দ্বারা ভীষণ উপকৃত হবেন। এর জন্য‌ চাই বিমা পণ্য‌ের অভিনবত্ব, ভালো নেটওয়ার্ক, ঝুঁকি ব্য‌বস্থাপনা ও বিনিয়োগের পরিমাণে বৃদ্ধি।

সূত্র : যোজনা, অক্টোবর ২০১৪

বিমা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি

গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে যাওয়ার জন্য‌ বিমা কোম্পানিগুলির প্রয়োজন হবে ৬১,২০০ কোটি টাকা যা ভারতীয় বিনিয়োগ বাজারের পক্ষে তোলা কঠিন। বেসরকারি ও বিদেশি বিমা কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণের ফলে (২৬ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বসীমা) বিমা ক্ষেত্রের অনেকটাই উন্নতি ঘটেছে কিন্তু তা সত্ত্বেও‘ইন্সিওরেন্স পেনিট্রেশন’-এর (অর্থাৎ বছরে জিডিপি ও প্রিমিয়ামের অনুপাত) পরিমাণ জীবন বিমা ও অন্য‌ান্য‌ বিমা মিলিয়ে মাত্র ৪.১ শতাংশে রয়েছে। অন্য‌ান্য‌ বিমার ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারতের অবস্থান ৫২তম। ২০১১-১২ সালে পেনিট্রেশন ছিল ০.৭ শতাংশ (বিশ্বের বিনিয়োগের ২.৮ শতাংশ) জীবন বিমার ক্ষেত্রে দেশে পেনিট্রেশনের হার ছিল ৩.৪ শতাংশ (বিশ্বের নিরিখে ভারত ২.৮ শতাংশ, ইউকে ১২.৫ শতাংশ, জাপান ১০.৫ শতাংশ, কোরিয়া ১০.৩ শতাংশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৯.২ শতাংশ)। আমাদের দেশে বিমাক্ষেত্র যে অনুন্নত, তার আরও একটি সূচক হল বিমা-ঘনত্ব (জন প্রতি প্রিমিয়ামের হিসাব)। ভারতে জীবনবিমা ও অন্য‌ান্য‌ বিমার ক্ষেত্রে যা যথাক্রমে ৪৯ ও ১০ মার্কিন ডলার, চিনে তা ৯৯ ও ৬৪ মার্কিন ডলার। এমতাবস্থায় দরিদ্র ও দুর্বল শ্রেণিভুক্তদের জন্য‌ (যাঁরা প্রাথমিক ব্য‌াঙ্কে অ্য‌াকাউন্ট খুলেছেন) বিমার ব্য‌বস্থা করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে এক বিরাট পদক্ষেপ। তবে এ ব্য‌াপারে কতটা সাফল্য‌ আসবে বা না আসবে তা নির্ভর করে এর উপযুক্ত রূপায়ণ ও ব্য‌াঙ্কিং পরিকাঠামো ও পরিষেবার উন্নয়নের উপর।

অন্য‌ান্য‌ উন্নয়নশীল দেশে আর্থিক বিকাশের জন্য‌ যে সব পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে, তার মধ্য‌ে সমস্ত শ্রেণির নাগরিকদের ব্য‌াঙ্কিং-এর আওতায় আনার প্রক্রিয়া অন্য‌তম। এর জন্য‌ ব্য‌াঙ্কিং পরিষেবার নতুনত্ব আনতে হয়েছে সব দেশেই। যেমন, ‘করেসপন্ডেন্ট ব্য‌াঙ্কিং’ মডেলের সূত্রপাত। এ ক্ষেত্রে ব্য‌াঙ্ককর্মীরা প্রত্য‌ন্ত অঞ্চলে গিয়ে অ্য‌াকাউন্ট খোলা ও টাকা জমা দেওয়া বা ঋণদান ইত্য‌াদির কাজ করে থাকেন। এর ফলে সব জায়গায় পৃথক শাখা খোলার ব্য‌য় ও ঝঞ্ঝাট থাকে না। যেমন ব্রাজিলে ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্ট নেই এমন গরিব নাগরিকদের কাছে সরকারি অনুদান তুলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য‌ ব্য‌াঙ্ক করেসপন্ডেন্ট বা বিসি নিয়োগ করা হয়। ২০০০ সালের মধ্য‌ে ব্রাজিলে এক তৃতীয়াংশ পৌরসভায় ব্য‌াঙ্ক শাখা খোলা হয়। এ দিকে ৯৫ হাজার ব্য‌াঙ্ক করেসপন্ডেন্ট মাত্র তিন বছরে ১২০ লক্ষ ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্ট খুলে দেয় দেশের সমস্ত পৌর অঞ্চল জুড়ে।

সূত্র : যোজনা, অক্টোবর ২০১৪

অন্তর্ভুক্তিকরণে ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা

উপসংহার

ব্রাজিল অর্থনৈতিক দিক দিয়ে প্রায়শই টালমাটাল অবস্থার মধ্য‌ দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারা একটি লক্ষ্য‌ে অবিচল ছিল। তা হল কত বেশি সম্ভব মানুষকে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকর্মের মধ্য‌ে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। ব্রেজিলের প্রত্য‌ন্ত গ্রামে আজ একাধিক এটিএম রয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্য‌ঙ্কিং ব্য‌বস্থা সেখানে একেবারে বাড়ির দোরগোড়ায় এসে হাজির হয়। এই অভিজ্ঞতা ভারতের পক্ষে খুবই কার্যকরী। অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণে ভারত ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ভারত অন্তর্ভুক্তিকরণের ব্য‌াপারে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছে। কিন্তু ব্য‌াঙ্কগুলিকে নিয়ে সম্প্রতি সরকার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তাতে খুব শীঘ্রই অন্তর্ভুক্তিকরণের ব্য‌াপারে আমরা প্রথম বিশ্বের সমকক্ষ হয়ে উঠব। ইতিমধ্য‌ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষিত জনধন যোজনা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ব্য‌াঙ্ক করেসপন্ডেন্টদের কাজের সাফল্য‌ে ব্রাজিলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। যার থেকে অন্য‌রাও অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। ব্রাজিলের সাফল্য‌ে উদ্বুদ্ধ হয়ে পেরু, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, চিলির মতো দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে, যেখানে ব্য‌াঙ্ক সংক্রান্ত পরিকাঠামো অত্য‌ন্ত অপ্রতুল, সেখানে উপযুক্ত প্রযুক্তির ব্য‌বহার খুবই ভালো ফল দিয়েছে। কেনিয়ার কথাই বলি। সেখানে সাফারিকম নামে সেলফোন নেটওয়ার্ক অপারেটর ‘এম পেসা’ নামে মানি ট্রান্সফারের সুবিধা দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ নথিভুক্ত গ্রাহক এর দ্বারা উপকৃত। এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর আর্থিক পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না এমন মানুষের হার মাত্র কয়েক বছরের মধ্য‌ে ৬ শতাংশ হারে কমেছে।

আজ বৈদ্য‌ুতিন টোলিযোগাযোগের মাধ্য‌মে ৭৫ শতাংশেরও বেশি কেনিয়াবাসী আর্থিক পরিষেবার সুবিধা ভোগ করেন। এই একই পদ্ধতিতে মেক্সিকোতেও ভালো ফল পাওয়া গিয়েছে। তারাও এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে যথেষ্ট উন্নতি করেছে। সেখানে কল্য‌াণমূলক আর্থিক অনুদানের জন্য‌ও ব্য‌াঙ্ক ব্য‌বহার হয়। মোবাইল ফোনের মাধ্য‌মে অর্থ প্রেরণের এই ব্য‌বস্থা প্রাপক ও প্রেরক উভয়ের পক্ষেই অনেক সুবিধাজনক ও সাশ্রয়কারী। ভারতের জন্য‌ও এমন ব্য‌বস্থা গ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে। এর ফলে অর্থ সাশ্রয় ও হবেই, দুর্নীতিও রোধ করা সম্ভব হবে।

সূত্র : যোজনা, অক্টোবর ২০১৪

জন-ধন যোজনার ভবিষ্য‌ৎ

প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনার একমাত্র উদ্দেশ্য‌ কিন্তু ব্য‌াঙ্ক অ্য‌াকাউন্ট খোলা নয়। তা হলে এই অ্য‌াকাউন্ট অব্য‌বহৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। এই অ্য‌াকাউন্টের মাধ্য‌মে বিভিন্ন কল্য‌াণমূলক সরকারি প্রকল্পের অর্থ পাঠানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীরা নিয়মিত টাকা তুলবেন, জমাও করবেন। মধ্য‌স্থতাকারীদের অসাধুতা মানুষকে বিব্রত করবে না। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলিতে যেমন অ্য‌াকাউন্ট খোলার ফলে মানুষের সুবিধা হয়েছে, তেমনই এখানেও অবশ্য‌ই হবে বলে আশা করা যায়। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ বিপরীত মতও পোষণ করেন।

ডাক বিভাগের সাহায্য‌ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ঘটানোও আমাদের দেশে সাফল্য‌ লাভ করতে পারে। গ্রামাঞ্চলে অল্প সময়ে নতুন শাখা বা অন্য‌ান্য‌ পরিকাঠামো গড়ে তোলার থেকে ডাক পরিষেবার সাহায্য‌ নেওয়া অনেক বাস্তবসম্মত ও ব্য‌য় সাশ্রয়কারী ব্য‌বস্থা হবে বলে মনে হয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ব্য‌াঙ্ক শাখা গড়ে তোলার আগে দু’টি কাজ সারা খুব দরকার। এক, ব্য‌াঙ্কে অ্য‌াকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াটিকে যথাসম্ভব সহজ করা। আর দুই, সাধারণ মানুষকে অ্য‌াকাউন্ট খোলার প্রয়োজনীয়তা ও সুযোগসুবিধা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। অন্য‌ান্য‌ দেশে এই দু’টি বিষয়ের উপর অনেকটা গুরুত্ব দেওয়া হয়। মূলত ব্য‌াঙ্কে করেসপন্ডেন্টদের মাধ্য‌মে এই কাজ করানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্পে ব্য‌াঙ্কিংয়ে মোবাইল ফোনও ব্য‌বহৃত হবে। *99#- এই সার্ভিস কোডের সাহায্য‌ে অ্য‌াকাউন্টে কত ব্য‌ালান্স রয়েছে, তা দেখে নেওয়া সম্ভব হবে।

ব্য‌াঙ্কিং করেসপন্ডেন্টদের দিয়ে অ্য‌াকাউন্ট খোলার কাজ করানো গেলেও টাকা তোলা ও সঠিক লোকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ তাদের দিয়ে করানোর ঝুঁকি আছে। তাদের বর্তমানে মাসে ১৫০০-২০০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এই বেতন একেবারেই অপর্যাপ্ত। সরকার তাদের ৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাও নিষ্ঠাবান এবং পরিশ্রমী কর্মী পাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয়। ভালো ব্য‌াঙ্ক কর্মী নিয়োগ সরকারের কাছে একটি চ্য‌ালেঞ্জ।

গোড়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্য‌াঙ্কগুলি এই যোজনার ব্য‌াপারে তেমন উৎসাহ দেখাবে না ধরে নিয়ে সরকার খুবই কড়া বার্তা পাঠিয়েছে। খেলাপি ঋণের আগাম চিন্তা যেন কোনওভাবেই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় না হয়। সেই দিকে লক্ষ্য‌ দেওয়ায় এই প্রকল্প সফল হবেই।

সূত্র : যোজনা, অক্টোবর ২০১৪

জন ধন থেকে জন সুরক্ষা

প্রধান মন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা

ভারতীয় জনসংখ্যার একটি বড় অংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে এবং তাদের অধিকাংশই কোন ধরণের সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় পড়ে না। এমনকি এই জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ব্যাংকিং সুবিধাগুলো উপভোগ করেনা এবং বেশীর ভাগই সময়ের সাথে সাথে চালু হওয়া বিভিন্ন সরকারি স্কিম গুলি সম্পর্কে অজ্ঞাত।

সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের জীবনের এই গুরুতর অনিয়ম সংশোধন করার জন্য, ভারতের প্রধান মন্ত্রী ২০১৫ সালের ৯-ই মে কলকাতায় পি.এম.এস.বি.ওয়াই প্রকল্প চালু করেন এবং তার পাশাপাশি দুটি অন্যান্য বীমা ও পেনশন সংক্রান্ত স্কিম চালু করেন। এই প্রকল্পগুলিকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে সরকারের এই ধরনের গম্ভীরতা যা প্রায় সমগ্র গরিষ্ঠ মন্ত্রীপরিষদকে বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানী ও প্রধান শহরগুলিতে একযোগে প্রকল্পগুলির প্রবর্তন ও সেগুলির সফল বাস্তবায়নকে সুনিশ্চিত করার তাগিদে তৎপর করে রেখেছে।

পূর্ববর্তী অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প থেকে এই প্রকল্পের তফাৎ

পি.এম.এস.বি.ওয়াই-র দুটি দিক একে আকর্ষণীয় এবং সহজলভ্য করে তোলে। প্রথমত, এর স্পষ্ট বাহ্যরূপ এবং বোধগম্যতা এবং এই প্রকল্পের অধীনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে আচ্ছাদিত করা এই প্রকল্পকে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং প্রতিদ্বন্ধিতামূলক করে তোলে।

বর্তমানে, কোন পরিবারের একজন রোজগেরে সদস্য যদি চিরতরে প্রতিবন্ধী হয়ে যায় বা তার আকস্মিক মৃত্যু হয় তাহলে তার পরিবার কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম গ্রুপের থেকে কোন সুরক্ষা বা সহায়তা না পেয়ে এক দারিদ্র ও কষ্টকর জীবনের সম্মুখীন হবে। পি.এম.এস.বি.ওয়াই প্রকল্পে যোগদানের মাধ্যমে এবং একটি নামমাত্র প্রিমিয়াম প্রতি বছর মাথাপিছু ১২/- টাকা প্রদান করলে, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা স্থায়ী সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে তিনি ২,০০,০০০/- (দুই লাখ) টাকার একটি বীমা অথবা আংশিক কিন্তু সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে তিনি ১,০০,০০০/- (এক লাখ) টাকার একটি বীমা কভারেজ পাবেন। এই প্রকল্প এক বছরের জন্য বহাল থাকবে এবং এটা প্রতি বছর পুনর্নবীকরণ করতে হবে।

বহু সরকারী সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প কাছাকাছি অবস্থিত আর্থিক ব্যবস্থা পরিকাঠামোর অভাবের জন্য বা অ্যাকাউন্ট খোলার সাথে জড়িত কাগজপত্র হ্যান্ডেল করার জন্য এগুলি খুব বেশী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে নি। এছাড়াও এই ব্যবস্থাগুলিতে অবহেলা থাকায় বিপুল অংশ এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়ে যায়। বর্তমানে এইগুলি সরকারের দ্বারা খুব ভালোভাবে সুরাহ করা হয়েছে, যেখানে সামাজিক প্রকল্প বিতরণ এবং নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করেছে। সকল পেমেন্ট সরাসরি সুবিধাভোগীরর অ্যাকাউন্টে জমা হবে কোন রকমের ফাঁকি ছাড়া।

কারা প্রধান মন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনায় যোগদান করতে পারে

১৮ এবং ৭০ বছর বয়সের মধ্যে একটি সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আধার কার্ড সহ যেকেউ এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারেন। একজন ব্যক্তিকে মনোনীত ব্যাক্তি (নমিনি)-র নাম উল্লেখ করে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার কার্ড যুক্ত করে একটি সাধারণ ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই প্রকল্পটিকে অব্যাহত রাখার জন্য ব্যক্তিকে প্রতি বছর ১-লা জুনের মধ্যে এই ফর্মটি জমা দিতে হবে।এই ভাবে অ্যাকাউন্টটি খুব সহজেই সক্রিয় হয়ে যাবে এবং সম্পূর্ণ প্রিমিয়ামটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলে যাবে। অন্যভাবে বলা যায়, কোন ব্যক্তিকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং তারপর তার অ্যাকাউন্টে অন্তত ১২/- টাকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে ও প্রতি বছর ১-লা জুনের আগে এই প্রকল্পের স্বয়ংক্রিয় পুনর্নবীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রতি বছর এই প্রকল্পের স্বয়ংক্রিয় পুনর্নবীকরণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি এই প্রকল্পের একটি দীর্ঘমেয়াদী বিকল্পের জন্য অন্তর্ভুক্তি পেতে পারেন।

কারা প্রধান মন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা-কে বাস্তবায়িত করবে

সমস্ত সরকারী স্পনসর্ড সাধারণ বীমা কোম্পানি এই প্রকল্প প্রদান করবে ও অন্যান্য বীমা কোম্পানি ব্যাংকগুলির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এই কর্মসূচি বন্টনে যোগদান করতে পারে।

আমি কি এই প্রকল্পে যোগ দেওয়ায় কোনো শুল্ক সুবিধা পাব

গ্রাহকদের দ্বারা দেওয়া সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম ধারা ৮০-সি অনুযায়ী করমুক্ত হবে। উপরন্তু, প্রত্যেক ব্যক্তি ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা পাবেন যা ধারা ১০ (১০-ডি) অনুযায়ী করমুক্ত হবে। কোন ব্যক্তি যদি ফর্ম ১৫-এইচ বা ১৫-জি বীমা সংস্থাকে জমা না দেয়, তাহলে ১,০০,০০০/-টাকার অধিক টাকায় ২% হারে একটি টি.ডি.এস. (ট্যাক্স ডিডাকটেড অ্যাট সোর্স) প্রয়োগ করা হবে।

আবেদন পত্র

আবেদনপত্রটি, http://www.jansuraksha.gov.in/FORMS-PMJJBY.aspx থেকে ডাউনলোড করা যাবে। এই ফর্ম বিভিন্ন ভাষায় উপলব্ধ রয়েছে; যথা – ইংরেজি, হিন্দি, গুজরাটি, বাংলা, কন্নড, উড়িয়া, মারাঠি, তেলুগু এবং তামিল।

অবিরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জানতে ক্লিক করুন এখানে

সুত্র: বিকাসপিডিয়া কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট টীম

প্রধান মন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা

নির্দিষ্টকালের জীবন বীমা নীতি যেটি একটি বার্ষিক ভিত্তিতে বা দীর্ঘ সময়সীমার জন্য নবায়ন করা যাবে।পলিসি ধারকের মৃত্যুতে এটি জীবন বীমা কভারেজ প্রদান করবে।

কারা এই প্রকল্পে নথিভুক্ত করার জন্য উপযুক্ত

১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সের সকল ব্যক্তিদের জন্য প্রধান মন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা উপলব্ধ। আগ্রহী ব্যক্তির একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা উচিত। ৫০ বছরের আগে যারা এই বীমা শুরু করবে, তারা ৫৫ বছর পর্যন্ত জীবন কভারেজ পাবেন।তবে, এই সুবিধা পেতে হলে তাদেরকে একটি সুসংগত ভিত্তিতে প্রিমিয়াম প্রদান করতে হবে।

প্রিমিয়াম

বীমা ধারককে প্রতি বছর ৩৩০/- টাকা দিতে হবে। এইভাবে প্রতি বছর তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি একক কিস্তির পরিমাণ কাটা হবে। এই নীতিটি যেখানে খোলা হয়েছে সেই ব্যাংক দ্বারা এই কাজটি সম্পন্ন করা হবে।

সম্ভাব্য বিপদের কভারেজ

প্রধান মন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা নীতিতে ২ লাখ টাকা-র সম্ভাব্য বিপদের কভারেজ প্রদান করা হয়। যদি কেউ এই নীতি এক বছরেরও বেশী একটি দীর্ঘমেয়াদী সময়ের জন্য করে, তাহলে সেই পরিমান টাকা তাদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি বছরের নিয়মানুযায়ী কেটে নেওয়া হবে।

এই কর্মসূচি প্রদান করবে

লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এল.আই.সি) এই পরিকল্পনা প্রদান করবে। তবে, অন্যান্য জীবন বীমা, যারা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করতে আগ্রহী, তারা সুনির্দিষ্ট ব্যাংকগুলোর সাথে টাই আপের মাধ্যমে এই কর্মসুচিতে যোগ দিতে পারেন। কোন ব্যাংক, যার মক্কেল এই কর্মসুচিতে যোগদান করতে চায়, পি.এম.জে.জে.এস.-এর ক্ষেত্রে মাস্টার অ্যাকাউন্ট ধারক হিসেবে গণ্য হবে। এল.আই.সি বা অন্যান্য বিমা দাবী নিস্পত্তি এবং পরিচালনার পদ্ধতি নির্ধারণ করবে যা গ্রাহকদের জন্য সরল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ হবে বলে আশা করা হয়। এই কাজগুলি ব্যাংকগুলোর পরামর্শ নিয়ে সম্পন্ন করা হবে।

নথিভুক্ত

এই পরিকল্পনা, ২০১৫ সালের ১-লা জুন থেকে ২০১৬ সালের ৩১-শে মে পর্যন্ত চালু আছে। গ্রাহকদের ২০১৫ সালের ১-লা, মে-র আগে নথিভুক্ত, সেইসাথে তাদের প্রিমিয়ামের স্বয়ংক্রিয় ডেবিটিং-এর জন্য বিকল্প প্রদান করতে হবে। এই প্রকল্পের সময়টি ২০১৫ সালের ৩১-শে আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হবে। কেউ যদি এই তারিখের পরে নথিভুক্ত করতে চায় তাহলে তাদের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রশংসাপত্র জমা দিতে হবে, যাতে এটি উল্লেখ করতে হবে যে তারা ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তারা সমগ্র বার্ষিক প্রিমিয়াম প্রদান করবে। কেউ যদি প্রথম বছরের পর থেকে এটি চালাতে চায় তাহলে তাকে পরে ৩১-মে-এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ডেবিটিং-এ সম্মতি দিতে হবে। এরপর এই নীতি পুনর্নবীকরণ করার জন্য, তাকে একটি সু-স্বাস্থ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণ শংসাপত্র ও সেইসাথে সমগ্র বার্ষিক প্রিমিয়াম জমা করতে হবে। যদি কেউ প্রথম বছরের মধ্যে যোগদান না করে তাহলে তাকেও একটি সু-স্বাস্থ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণ শংসাপত্র ও সেইসাথে সমগ্র বার্ষিক প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে। যারা এই নীতি একবার যোগদান করে পরে ছেড়ে দিয়েছেন, তারা যদি আবার পুনরায় যোগদান করতে চান তাহলে তাদের জন্যও নথিভুক্ত করার পদ্ধতি একই।

কখন এই নীতি বাতিল করা হবে

ধারক ৫৫ বছর বয়সে পৌঁছালে এই নীতি সমাপ্ত হবে। তবে, এই নীতি কার্যকর করার জন্য বীমা ধারককে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এই নীতি পুনর্নবীকরণ করে যেতে হবে। কোন অ্যাকাউন্ট ধারক যদি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে চান, এই বীমা চলাকালীন ব্যাংকে যথেষ্ট অর্থের অভাবের জন্য অর্থাৎ বীমাটির সক্রিয়তা নিশ্চিত করার জন্য যে নূন্যতম ব্যাল্যান্সের দরকার তা না থাকে, তাহলে তার বীমাপত্র বন্ধ হয়ে যাবে। যদি এই নির্দিষ্ট ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং বীমাকারী একটি অনিচ্ছাকৃত পদ্ধতিতে অর্থ পাচ্ছে তাহলে উল্লিখিত প্রিমিয়াম বাজেয়াপ্ত করা হবে।

ব্যাংক কিরকম ভূমিকা পালন করবে

মাস্টার অ্যাকাউন্ট ধারক এবং প্রতি বছর প্রিমিয়াম বিয়োগ করার পাশাপাশি ব্যাংক আরও কয়েকটি ভূমিকা পালন করে থাকে। তাদের প্রাথমিক কর্তব্য হল বীমাকারীর প্রিমিয়ামটি কেটে স্থানান্তর করা।

তারা নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর যত্ন নেয় –

ফর্ম নথিভুক্তকরণ।

অটো-ডেবিট অনুমোদন।

সঠিক আকারে কার্য পরিচালনা করার ঘোষণা তথা সম্মতি প্রদান করা। তারা বীমাকারীর নথি গুলি সংরক্ষন করে রাখবেন এবং যেকোন অবস্থায় সেটা তারা বীমাকারীদের কাছে তুলে ধরতে পারবেন।

প্রিমিয়ামটি কিভাবে বিভক্ত করা হবে

বার্ষিক ৩৩০/- টাকার প্রিমিয়াম-এর মধ্যে, ২৮৯/- টাকা বীমাকারীর কাছে যাবে এবং 3০/- টাকা বিসি’স, কর্পোরেট বা মাইক্রো এজেন্ট দ্বারা যথাযোগ্য খরচের জন্য বিয়োগ করা হবে। ব্যাংক তাদের দ্বারা যথাযোগ্য প্রশাসনিক খরচের জন্য ১১/- টাকা বিয়োগ করবে।

আবেদন পত্র

আবেদনপত্রটি, http://www.jansuraksha.gov.in/FORMS-APY.aspx থেকে ডাউনলোড করা যাবে। এই ফর্ম বিভিন্ন ভাষায় উপলব্ধ, যথা – ইংরেজি, হিন্দি, গুজরাটি, বাংলা, কন্নড, উড়িয়া, মারাঠি, তেলুগু এবং তামিল।

অবিরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

জানতে ক্লিক করুন এখানে

বিশদ তথ্যের জন্য www.jansuraksha.gov.in বা ww.financialservices.gov.in: লগ ইন করুন। আপনি জাতীয় টোল ফ্রি নম্বর-গুলিতেও ফোন করতে পারেন : ১৮০০ ১১০ ০০১/১৮০০ ১৮০ ১১১১ এবং রাজ্য ভিত্তিক টোল ফ্রি নম্বর এই নথিতে তালিকাভুক্ত করা রয়েছে – http://www.jansuraksha.gov.in/PDF/STATEWISETOLLFREE.pdf

সুত্র: জনসুরক্ষা.গভ.ইন

অটল পেনশন যোজনা

অটল পেনশন প্রকল্প এবং অন্যান্য বীমা প্রকল্প একই সাথে ৯-ই মে চালু করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে বা কোন বৃত্তিতে নিযুক্ত মানুষরা যারা বার্ধক্যভাতার সুবিধা পাননা, তারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন। ৬০ বছর বয়সের পর তারা ১,000/- টাকা, বা ২,000/- টাকা, বা ৩,000/- টাকা, বা 8,000/- টাকা, বা ৫,000/- টাকার একটি নির্দিষ্ট বার্ধক্যভাতা নির্বাচন করতে পারেন। অর্থ বিনিয়োগের পরিমাণ এবং ব্যক্তির বয়স অনুযায়ী বার্ধক্যভাতা নির্ধারণ করা হবে। আবেদানকারীর মৃত্যুর পরে, আবেদানকারীর স্ত্রী বার্ধক্যভাতা দাবী করতে পারেন এবং স্ত্রীর মৃত্যুর পর মনোনীত ব্যক্তি (নমিনি) সেই অর্থ পাবেন।

সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিনিয়োগ নিয়মানুযায়ী এই প্রকল্পের অধীনে পেনশন তহবিল দ্বারা এই অর্থ সংগৃহীত হবে। ব্যক্তিগত প্রার্থীদের পেনশন তহবিল বা বিনিয়োগ বণ্টনে নির্ধারিত কোন উপায় নেই।

অটল পেনশন যোজনার উপকারিতা

অটল পেনশন প্রকল্প বৃদ্ধ ভারতীয়দের জন্য নিরাপত্তা আনে, তার সাথে সমাজের নিম্ন এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত জনসাধারণের মধ্যে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের একটি সংস্কৃতি প্রচার করে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধাটি সম্ভবত সমাজের দরিদ্র বিভাগ দ্বারা আস্বাদিত হবে। ভারত সরকার ব্যবহারকারীর বিনিয়োগে ৫০ শতাংশ প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা পাঁচ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতি বছর ১০০০/- টাকা প্রদান করবে (যেটা সব থেকে কম)। এটি শুধুমাত্র তারাই উপভোগ করবেন যারা আয় করদাতা নয় এবং যারা ৩১-শে ডিসেম্বর ২০১৫ সালের আগে এই প্রকল্পে নিযুক্ত হবেন।

এই প্রকল্পের জন্য কারা উপযুক্ত ?

১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সের সকল ভারতীয়দের জন্য অটল পেনশন যোজনা (এ.পি.অয়াই) উপলব্ধ রয়েছে। এই প্রকল্পটি একজন ব্যক্তি অন্তত ২০ বছর চালানোর পরেই বন্ধ করতে পারবে। কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ধারক যারা কোনো বিধিবদ্ধ সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের সদস্য নয় একমাত্র তারাই এই প্রকল্পে যোগদান করতে পারেন।

সরকারের “স্বাবলম্বন যোজনা এন.পি.এস. লাইট” এর সকল বিদ্যমান সদস্যদের আ্যকাউন্ট স্বয়ং-ক্রিয়রূপে অটল পেনশন যোজনায় রূপান্তরিত হয়ে যাবে। এটা এখন স্বাবলম্বন প্রকল্পের প্রতিস্থাপন করবে যা দেশ জুড়ে সেরকম জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি।

কিভাবে নথিভুক্ত করবেন ?

অটল পেনশন যোজনার জন্য নথিভুক্ত করার আগে অ্যাকাউন্ট ধারককে আগে একটি অনুমতি ফর্ম অবশ্যই পূরণ করতে হবে এবং তার ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এই ফর্মের আবশ্যক বিষয়গুলি হল অ্যাকাউন্ট নম্বর, স্ত্রী এবং মনোনীত ব্যক্তি (নমিনি)-র বিবরণ সহ সম্পূর্ণ বিবরণ এবং অনুদান পরিমান অটো ডেবিটের অনুমোদন। এই প্রকল্পের জন্য অ্যাকাউন্ট ধারককে নিশ্চিত করতে হবে যে তার অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে যেন যথেষ্ট পরিমাণ ব্যালেন্স থাকে, নাহলে সেই ব্যক্তিকে একটি মাসিক জরিমানা দিতে হবে, যেমন –

  • ১০০/- টাকার মাসিক বিনিয়োগের জন্য ১/- টাকা
  • ১০১/- থেকে ৫০০/- টাকার মাসিক বিনিয়োগের জন্য ২/- টাকা
  • ৫০১/- থেকে ১,০০০/- টাকার মাসিক বিনিয়োগের জন্য ৫/- টাকা
  • ১,০০১/- টাকার অধিক মাসিক বিনিয়োগের জন্য ১০/- টাকা
যদি এই প্রকল্পের প্রতি কোন অর্থ প্রদান না করা হয়, তাহলে
  • ছয় মাস ধরে অর্থ প্রদান না করলে, ধারকের অ্যাকাউন্ট নিথর করে দেওয়া হবে।
  • বারো মাস ধরে অর্থ প্রদান না করলে, ধারকের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে।
  • চব্বিশ মাস ধরে অর্থ প্রদান না করলে, ধারকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
যাদের কোন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নেই তাদের জন্য

একজন ব্যক্তিকে প্রথমে কে.ওয়াই.সি নথি এবং আধার কার্ড জমা দেওয়ার দ্বারা একটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তাকে এ.পি.ওয়াই. প্রস্তাবনা ফর্মটিও জমা দিতে হবে।

প্রকল্প থেকে প্রস্থান

অটল পেনশন যোজনার জন্য নথিভুক্ত করেছেন এরকম একজন অ্যাকাউন্ট ধারক কোনরকম সাধারণ পরিস্থিতিতে ৬০ বছর বয়সের পূর্বে এই প্রকল্প থেকে প্রস্থান করতে পারবেন না। শুধুমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে এই প্রকল্প থেকে প্রস্থান করা সম্ভব, যেমন – বিনিয়োগকারীর যদি হঠাৎ মৃত্যু ঘটে।

বিভিন্ন পেনশন বিকল্পের জন্য ইঙ্গিতবহ বিনিয়োগ (ভারতীয় মূদ্রায়)*

প্রার্থীর বয়স

মাসিক বার্ধক্য ভাতা ১০০০/- টাকা

মাসিক বার্ধক্য ভাতা ২০০০/- টাকা

মাসিক বার্ধক্য ভাতা ৩০০০/- টাকা

মাসিক বার্ধক্য ভাতা ৪০০০/- টাকা

মাসিক বার্ধক্য ভাতা ৫০০০/- টাকা

18

৪২

৮৪

১২৬

১৬৮

২১০

২০

৫০

১০০

১৫০

১৯৮

২৪৮

২৫

৭৬

১৫১

২২৬

৩০১

৩৭৬

৩০

১১৬

২৩১

৩৪৭

৪৬২

৫৭৭

৩৫

১৮১

৩৬২

৫৪৩

৭২২

৯০২

৪০

২৯১

৫৮২

৮৭৩

১১৬৪

১৪৫৪

মোট অর্থ

১,৭০,০০০

৩,৪০,০০০

৫,১০,০০০

৬,৮০,০০০

৮,৫০,০০০

* অটল পেনশন যোজনা প্রচারপত্র থেকে গৃহীত তথ্য।

গ্রাহকের অকাল মৃত্যুর পর তার স্বামী অথবা স্ত্রী বাদবাকি সময়ের জন্য কিস্তির টাকা জমিয়ে যেতে পারবে

অটল পেনশন যোজনা (এ পি ওয়াই)-র আওতায় বর্তমানে প্রচলিত সংস্থান অনুযায়ী গ্রাহক দম্পতিদের কোনো একজনের অকাল মৃত্যুর পর এককালীন যে কিছু পরিমান অর্থ দেওয়া হয়, সে সম্পর্কে বিভিন্ন অংশ থেকে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে এই সংস্থান বহু গ্রাহকের কাছেই পছন্দসই নয়। এ থেকে একটা সত্য বড় হয়ে বেরিয়ে এসেছে যে, সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের মৃত্যুর পর তার ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত গ্রাহকের স্বামী অথবা স্ত্রী এই যোজনাতে কিস্তির অর্থ জমা দিতে আগ্রহী। সেই জন্য এ ধরনের অভিমত বিবেচনা করে কোনো গ্রাহকের অকাল মৃত্যুর পর (৬০ বছর বয়সের আগে) তার স্বামী অথবা স্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রয়াত গ্রাহকের অর্থ জমা দেওয়ার অবশিষ্ট কিস্তিগুলিতে টাকা জমা দেওয়ার পদ্ধতি অব্যাহত রাখতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে দম্পতিদের যে কোনো একজন গ্রাহক, স্বামী অথবা স্ত্রীর মৃত্যুর, পর এককালীন অর্থ নেওয়ার পরিবর্তে একই হারে একই পরিমানে তার স্বামী অথবা স্ত্রীর মতো পেনশনের অর্থ পাওয়ার অধিকারী হবে।

উল্লেখ্য, অসংগঠিত অংশের শ্রমিকদের জীবন সংক্রান্ত ঝুঁকির সমস্যার মোকাবিলা করতে তাদের অবসর গ্রহনের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য স্বেচ্ছায় সঞ্চয় করতে উৎসাহ দেবার জন্য ‘অটল পেনশন যোজনা’ নামে একটি নতুন উদ্যোগের সূচনা করেছিল। এই যোজনাটি কার্যকর হয় ২০১৫-র ১ জুন থেকে। এ পি ওয়াই-এর আওতায় যদি গ্রাহক এই যোজনায় কিস্তির অর্থ জমা দেন, তাহলে প্রত্যেক গ্রাহক তাদের ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর, গ্রাহকেরা নিশ্চিতভাবে ন্যূনতম মাসিক পেনশন পাবে।
আবেদন পত্র

আবেদনপত্রটি, http://www.jansuraksha.gov.in/FORMS-APY.aspx থেকে ডাউনলোড করা যাবে। এই আবেদনপত্র বিভিন্ন ভাষায় উপলব্ধ, যেমন – ইংরেজি, হিন্দি, গুজরাটি, বাংলা, কন্নড, উড়িয়া, মারাঠি, তেলুগু এবং তামিল।

অবিরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী জানতে ক্লিক করুন এখানে

সুত্র: জনসুরক্ষা.গভ.ইন

2.96875
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top