হোম / সমাজ কল্যাণ / সামাজিক কুপ্রথা / বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ - অপরাধ ও বিচার
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ - অপরাধ ও বিচার

ধর্ষণ একটি জঘণ্য অপরাধ। কিন্তু বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অজস্র অভিযোগে সেটি অনেক সময়ে হালকা রূপ পাচ্ছে।

যুগ ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে। পাশ্চাত্য দেশের মতো আমাদের দেশেও ছেলেমেয়েরা এখন অপেক্ষাকৃত অবাধে মেলামেশা করছে। ইউরোপে বা আমেরিকায় বিয়ে না করেও ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে থাকছে। বিয়ের আগেই তাদের অল্প-বিস্তর যৌন-অভিজ্ঞতাও হচ্ছে। আমাদের দেশেও হচ্ছে - তবে এ ব্যাপারে আমাদের দেশ অনেক বেশি রক্ষণশীল। আমাদের দেশে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত মেয়েদের কুমারীত্ব বজায় রাখাটা অতি আবশ্যিক। এর সঙ্গে জড়িত থাকে পারিবারিক সন্মান ও সুনাম। নারীর এই কুমারীত্বের মূল্য শুধু আমাদের সমাজে সীমাবদ্ধ নয় । বেশির ভাগ সমাজেই পুরুষরা বিয়ে করতে চায় এমন একটি নারীকে যে আগে অন্য কাউকে দেহদান করে নি। নারীদের ক্ষেত্রে কাউকে ভালোবাসলেও বিয়ের আগে যৌন-সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে সংযম বা সতর্কতার পেছনে এই সামাজিক কারণ অবশ্যই কাজ করছে।

আমাদের দেশে দুটি প্রাপ্ত-বয়স্ক পুরুষ ও নারী যদি অবাধে মেলামেশা করে বা স্বেচ্ছায় একসঙ্গে বসবাস করতে চায়, তাতে আইনগত কোনো বাধা নেই। আইনগত বাধা না থাকার মানে এই নয় যে, সেটা সামাজিক সমর্থন পাবে বা পুলিশ এসে তাদের উত্তক্ত করবে না। কিন্তু এতে কোনো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে না। প্রেমে ফাটল ধরে এদের ছাড়াছড়ি হতে পারে - যা অনেক ক্ষেত্রেই হয়। তাতে এমনি কোনো সমস্যা নেই, যদি না মেয়েটি অভিযোগ করে, ছেলেটি ওকে বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেই সে একসঙ্গে ঘুরেছে বা সহবাস করেছে। এখন ছেলেটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। ফলে মানসিক ভাবে মেয়েটি বিপর্যস্ত, সমাজের কাছে মুখ দেখাতে পারছে না, চরিত্রে একটা দাগ পড়েছে, ভালো ঘরে বিয়ে হবার সম্ভবনা নষ্ট হয়েছে, ইত্যাদি। সুতরাং তার জন্য ছেলেটিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রসঙ্গতঃ, এই ক্ষতিপূরণের কথাই উকিল সাহেব পত্রলেখিকাকে উল্লেখ করেছিলেন।

বিদেশে, বিশেষতঃ উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এই ধরণের ক্ষতিপূরণের দাবী নিয়ে বহু মামলা আদালতে আসতো। তার সবগুলোই যে সত্য অভিযোগ তা নয়। সহজে দু-পয়সা পাওয়ার জন্য কিছু কিছু মিথ্যে মামলাও আদালতে আসত। শেষে আদালত হাঁপিয়ে উঠলো। ১৯৩০ থেকে ১৯৪৫ সালের ভেতর আমেরিকার বেশির ভাগ রাজ্যেই Breach of promise to marry-র আইনটি বাতিল হয়ে গেল। আদালত নিশ্চিন্ত। প্রকারান্তরে মেয়েদের বলা হল, তুমি প্রেম করতে চাও করো। ছোকরা ভেগে পড়লে, হীরের যে দামী আংটিটা 'এনগেজমেণ্ট রিং' হিসেবে দিয়েছে - সেটা শুধু ফেরত্ দিও না। ব্যাস, আমাদের আর জ্বালিও না।

বিদেশের কথা থাক, আমরা উকিল সাহেবের দেওয়া উত্তরে আবার ফিরে আসি। উকিল সাহেব বলেছেন যে, মেয়েটি ছেলেটির সঙ্গে সহবাস করে থাকলে ফৌজদারী মামলা আনা যেতে পারে। সহবাসের ফলে মেয়েটি অন্তঃসত্বা হয়ে থাকলে অবশ্যই সমস্যাটা পরিষ্কার। ডাক্তারের খর্চা, সন্তানের ভরণপোষণের খর্চা, সামাজিক স্বীকৃতি, ইত্যাদি অনেক বিষয়ের ফয়সল্লা করতে হবে। কিন্তু তা না হলে, কিসের ফৌজদারি মামলা?

এর উত্তর পাওয়া যাবে এখনকার পত্রপত্রিকাতেই। স্টেট্সম্যান (ভুবনেশ্বর) পত্রিকার ২০০৫ সালের ১৯শে মার্চের এক খবর। সেখানে বলা হয়েছে ২০০৪ সালে ৭৭০-টি ধর্ষণের মামলা আদালতে এসেছে। ২০০৩ ও ২০০২-এ এই সংখ্যা ছিল ৭২৫ ও ৬৮১। (উড়িষ্যা) সরকারের মতে ছেলেমেয়েদের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবাধ মেলামেশা এর একটা কারণ।

কিন্তু ধর্ষণ আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞায় যে সব শর্তগুলো আলোচিত হয়েছে তার মধ্যে তো বিবাহের প্রতিশ্রুতি-র কোনো উল্লেখ নেই! হয়তো আছে - একটু ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে। এশিয়ান এজ-এ এক খবরে প্রকাশ পশ্চিমবঙ্গের এক বিচারক তাঁর রায়ে মন্তব্য করেছেন, বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস বলতে গেলে ধর্ষণই।* এ ব্যাপারে এই বিচারক একা নন কর্ণাটকের এক মামলা যেটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিলো, সেখানেও সেসন ও হাইকোর্টের বিচারপতি একই ভাবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের আচরণটিকে বিচার করেছেন। এটা ভাববার বিষয়। আমেরিকা বা ইংল্যাণ্ডে 'ব্রিচ অফ প্রমিস টু ম্যারি'-র আইন তুলে দেওয়া হয়েছিল এই বলে যে, ছেলেমেয়েরা সাবালক - তাদের ভালোমন্দ বোঝার বোধবুদ্ধি হয়েছে; তারা স্বেচ্ছায় যে সম্পর্ক স্থাপন করেছে - সেই সম্পর্ক ভাঙলে কোর্ট তাতে মাথা গলাবে না। কিন্তু আমাদের দেশে এটাকে সেভাবে দেখা হচ্ছে না। তার কারণটা কি?

কারণটা একটু সূক্ষ্ম। যৌনমিলনে নারীর সন্মতি না থাকলে সেটি ধর্ষণ বলে ধরা হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, নারী সন্মতি দিলেই সেটি ধর্ষণ হবে না। ধর্ষণের সংজ্ঞায় অপ্রাপ্তবয়স্কা নারীর সন্মতির কোনো মূল্য নেই। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কা নারীর ক্ষেত্রেও সন্মতি কি ভাবে আদায় করা হয়েছে সেটা বিচার করতে হবে (ধর্ষণ আইন-এ এ বিষয়ে বালোচনা করা হয়েছে)। এছাড়া ভারতীয় দণ্ডবিধির ৯০ ধারায় 'সন্মতি' ব্যাপারটি আলাদা ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে 'সন্মতি' সন্মতি হবে না, যদি দুটি জিনিস তাতে জড়িত থাকে: (১) যে সন্মতি দিচ্ছে - সে সেটা দিচ্ছে একটি মিথ্যে ধারণা পোষণ করে (misconception of fact); (২) যে সন্মতি আদায় করেছে, সে জানে যে সেই মিথ্যে ধারণার বশবর্তী হয়েই অন্যপক্ষ সন্মতি দিচ্ছে।

আইনের এই সূক্ষ্ম বিচার কলকাতার হাইকোর্টের একটি রায়ে পাওয়া যায়। মামলাটি হাইকোর্টে আসে ১৯৮৪ সালে। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ছিলেন গ্রামের একজন শিক্ষক, যিনি অভিযোগকারিণীর বাড়িতে মাঝে মাঝে আসতেন। একদিন অভিযোগকারিণীর বাবা-মার অনুপস্থিতে অভিযুক্ত অভিযোগকারিণীকে ভালোবাসেন জানিয়ে তাঁকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অভিযোগকারিণী তাতে আগ্রহ প্রকাশ করলে, শিক্ষকটি জানান যে বাবা-মার সন্মতি পেলেই তিনি বিয়ে করবেন। এরপর অভিযোগকারিণী ও অভিযুক্তের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বেশ কয়েকমাস এইভাবে চলে। এর মধ্যে অভিযোগকারিণী অন্তঃসত্বা হয়ে পড়লে তিনি অভিযুক্তকে তাড়াতাড়ি বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। অভিযুক্ত অভিযোগকারিণীকে গর্ভপাত করতে বলেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলেন। কিন্তু এটা অভিযোগকারিণীর মনঃপূত হয় না। অভিযুক্ত তখন বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নেন এবং অভিযোগকারিণীর বাড়িতে আসা বন্ধ করেন।

এই মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ বাতিল করে হাইকোর্ট রায় দেয় যে, একজন প্রাপ্তবয়স্কা নারী যখন বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ঘনিষ্ঠতা ঘটতে দেয় এবং অন্তঃসত্বা না হওয়া পর্যন্ত সেই সম্পর্ক চালিয়ে যায় - সেটা বাধবিচারবিহীন মিলন (promiscuity); সেখানে মিথ্যে ধারণার বশবর্তী হওয়া বা ভুল বোঝাবুঝির (misconception of fact) প্রশ্ন নেই। এক্ষেত্রে ৯০ ধারার দোহাই দিয়ে নারীকে ক্ষমা করে অন্যায়ের বোঝা অন্যের ঘাড়ে চাপানো যায় না - যতক্ষণ না পর্যন্ত আদালতে সন্তুষ্ট হচ্ছে যে একেবারে গোড়া থেকে অভিযুক্তের অভিযোগকারিণীকে বিয়ে করার কোনও ইচ্ছা ছিলো না।

শুধু কলকাতা হাইকোর্ট নয়, ভারতবর্ষের অন্য রাজ্যে আরও কয়েকটি আদালতও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের বিচার একই ভাবে করেছে। তবে ব্যতিক্রমও আছে। ২০০৩ সালে কর্ণাটকের হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা আসে। এটিও কলকাতার মামলাটিরই মতো। কিন্তু এক্ষেত্রে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করার অভিযোগে একজনকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণ) প্রয়োগ করে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে কর্ণাটক হাইকোর্টে আপিল করলে, হাইকোর্ট নিচের কোর্টের রায় বহাল রাখে, তবে সাজার পরিমান কমিয়ে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করে। মামলাটা তখন সুপ্রিম কোর্টে যায় (ক্রিমিন্যাল আপীল নং ৩৩৬, ১৯৯৬, তারিখ ১৯/২/২০০৩) উদয় বনাম কর্ণাটক রাজ্য)। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি শ্রী বি.পি. সিংহ তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন যে, সেসন জজ অভিযোগকারিণীর বক্তব্য মেনে নিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছিলো, অভিযোগকারিণীর সন্মতিটা সন্মতি নয়, কারণ সেটা আদায় করা হয়েছে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে, অতএব সন্মতিটা পাওয়া গেছে প্রতারণা (fraud) ও ভ্রান্ত-উপস্থাপনার (mis-represntation) ভিত্তিতে। সেইজন্য এই দৈহিক মিলন অভিযোগরারিণীর অসন্মতিতে ঘটেছে, অতএব এটা ধর্ষণ এবং ভারতীয় দণ্ডবিধি ৩৭৬ ধারা ব্যবহার করে দণ্ডদান করা যাবে। হাইকোর্টও ট্রায়াল কোর্টের সঙ্গে একমত হয়েছেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অভিযুক্তকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারে এই মিলন ঘটেছে স্বেচ্ছায় দুজনে দুজনকে ভালোবাসতো বলে। ৯০ ধারার প্রয়োগ খুবই কঠিন। কারণ এটা বলা খুবই শক্ত হবে যে, অভিযুক্ত জানতো যে, অভিযোগকারিণী তার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে একটা ভুল ধারণার বশবর্তী (misconception of fact) হয়ে সন্মতি দান করেছে। .... অভিযোগকারিণী যখন সন্মতিদান করেছিলো তখন তার মনের ভেতর কি ছিল - অভিযুক্তের পক্ষে জানা সম্ভব নয়; কারণ সন্মতিদানের একাধিক কারণ ছিলো। তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এটাও বলেছেন যে, এ ধরণের অভিযোগ এলে ঘটনাবলী খুঁটিয়ে দেখা প্রয়োজন - যাতে বিচার করা যায় ঠিক কোন ধারা এতে প্রযোজ্য হবে।
সোজা কথায় এর অর্থ, বিয়ের প্রতিশ্রুতির ছলনায় যারা নিজের কামনা চরিতার্থ করেই অদৃশ্য হওয়ার চেষ্টা করবে, তারা সহজে পার পাবে না। অন্যপক্ষে, যেখানে ঘনিষ্ট সম্পর্কটা দীর্ঘকালীন, সেখানে নারীর দায়িত্বের ব্যাপারটাও উপেক্ষা করা হবে না।

তবে ঘনিষ্ট সম্পর্কটা দীর্ঘকালীন হলেও নারীর সহবাসে 'সম্মতি' ছিল কিনা, সেটার বিচার অতটা সহজ নয়। কলকাতা হাইকোর্টের এক বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, সম্মতি অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে ভয়, কিছু বাধ্যবাধকতা, নিরাপত্তা ইত্যাদি কারণে সম্মতি দেওয়া হয়। সম্মতি সব সময়ে স্বতঃস্ফূর্ত নয়। দরিদ্র মহিলার আর্থ-সামাজিক অবস্থাও সম্মতি দিতে বাধ্য করায়।

মন্তব্যটি সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আমাদের সামনে তুলে ধরে। যদিও আইনের চোখে সবাই সমান, কিন্তু পুরুষ আর নারীর আর্থ-সামাজিক বৈষম্য সহবাসে সম্মতি জানানোর ব্যাপারে উপেক্ষণীয় নয়। একটি দরিদ্র নারীর পক্ষে সমাজে প্রতিষ্ঠিত ধনী পুরুষ বা মনিবের ইচ্ছায় সম্মতি জানানো স্বতঃস্ফূর্ত নাও হতে পারে - যদিও এক্ষেত্রে ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনও চাপ পুরুষটি প্রত্যক্ষ ভাবে প্রয়োগ করে নি। এই চাপ সৃষ্টি হচ্ছে সামাজিক বিষম অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে।

ধর্ষণ একটি জঘণ্য অপরাধ। কিন্তু বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অজস্র অভিযোগে সেটি অনেক সময়ে হালকা রূপ পাচ্ছে। এটির বহুল প্রয়োগ সুরু হয়েছে অনিচ্ছুক পাত্র বা প্রেমিককে আইনের 'দাওয়াই' দেওয়ার জন্য। বিয়েতে রাজি না হলে পুরুষটিকে ধর্ষক বলে জেলে পাঠানোর তোড়জোর; আর সে রাজি হলেই তাকে সাদরে জামাই হিসেবে বরণ! পাত্রীরও নিজের 'ধর্ষক'কে বিয়ে করতে কোনও আপত্তি নেই! এরকম বিয়ে অনেকই ঘটছে। সেই বিয়ের আসরে পুলিশ কর্তারাও যোগ দিচ্ছেন, এমন কি উদ্যোক্তার ভূমিকাও নিচ্ছেন। মনে হয় এতে সাধারণ লোকের সমর্থন আছে, কারণ এ ব্যাপারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিশেষ চোখে পড়ে না। একেবারে পড়ে না তা নয়, ইংরেজি পত্রিকায় দুয়েকটা লেখা দেখেছি। বছর দুই আগে (১৭ই মার্চ, ২০০৫) দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় দেখলাম এক সাংবাদিক লিখেছেন, "ইদানীং পশ্চিমবঙ্গে পুরুষদের গ্রেপ্তার করে জেলে আটকে রাখা হচ্ছে ধর্ষণের অভিযোগে। পরে দেখা যাচ্ছে যে, যৌনমিলনে দুজনেরই সন্মতি ছিল। অভিযোগ আনা হয়েছে মেয়েটি যখন অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে এবং ছেলেটি বিয়ে করতে অস্বীকৃত হয় বা অন্য কাউকে বিয়ে করতে যায়। পাকচক্রে, যা বোধহয় ভারবর্ষেই একমাত্র সম্ভব, অভিযুক্তদের উপর চাপ দেওয়া হয় অভিযোগকারিণীদের বিয়ে করার জন্য (পাশ্চাত্য দেশে আগের যুগের shotgun marriage - লেখক)! এইসব পুরুষদের বিরুদ্ধে বড়জোর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ আনা যায়, কিন্তু কোনো মতেই এরা ধর্ষক (rapist) নয়। এদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা আইনের চরম অপব্যবহার!" (লেখকের অনুবাদ)

তথ্য সংকলন : বিকাসপিডিয়া টীম

2.9649122807
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top