হোম / সমাজ কল্যাণ / সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর / পঞ্চায়েতি ব্যবস্থা ও গ্রামোন্নয়ন / পঞ্চায়েত স্তরের বিভিন্ন সুরক্ষা প্রকল্প ও কর্মসূচি
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা Review in Process

পঞ্চায়েত স্তরের বিভিন্ন সুরক্ষা প্রকল্প ও কর্মসূচি

পঞ্চায়েত স্তরের বিভিন্ন সুরক্ষা প্রকল্প ও কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প

পঞ্চায়েত স্তরে খাদ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা কেন

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সব চেয়ে প্রথমে দরকার ‘খাদ্য’। আজকের পৃথিবীতে আর পাঁচটা জিনিসের মতো খাদ্যও একটি ‘পণ্য’। তাই ভয়। তাই আশঙ্কা। আশঙ্কা এই যে, অর্থ যেখানে সেখানেই না তার একছত্র অবস্থা হয়ে যায়! খাদ্য কেবল-ই ধনীর ‘ধন’ যেন না হয়ে যায়! এই ভয়, এই আশঙ্কা যে মিথ্যে নয় তার প্রমাণ ইতিহাসে বার বার আছে। পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা যায় বার বার দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে মানুষ। কিন্তু যাদের টাকা ছিল তারা বাজারে টাকা নিয়ে গেলে খাদ্যের অভাব ঘটেনি। যাদের অতিরিক্ত অর্থের জোগান ছিল না খেতে পেয়ে মারা গিয়ে ছিল। কালোবাজারির অতিরিক্ত মুনাফার লালসার নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি বা যায়নি। ফলে গরিবের না খেতে পাওয়া অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।

চাল উত্পাদন

( মিলিয়ন টন )

১৯৩৮

৮ . ৪৭৮

১৯৩৯

৭ . ৯২২

১৯৪০

৮ . ২২৩

১৯৪১

৬ . ৭৬৮

১৯৪২

৯ . ২৯৬

১৯৪৩

৭ . ৬২৮

১৯৪৩ সালে বাংলায় (অবিভক্ত) যে ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ (যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত) দেখা দিয়েছিল তাতে কম বেশি ৩০ লাখ লোক মারা যায়। যারা মারা গেল তারা ছোট চাষি, ভাগচাষি, ক্ষেতমজুর, জেলে, ঠিকামজুর ইত্যাদি কম রোজগারের মানুষ। পরবর্তীকালে পঞ্চাশের মন্বন্তরের কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেল বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা, ইত্যাদি এই দুর্ভিক্ষের কারণ। উত্পাদনের ঘাটতির কথা বললেও তা মূল কারণ ছিল না। উপরের সারণি থেকেই তা বোঝা যাবে।

দুর্ভিক্ষ, অনাহার, অপুষ্টি, বেরোজগার ইত্যাদির সঙ্গে দীর্ঘ দীনের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সব মঙ্গলকামী রাষ্ট্রকেই খাদ্য উত্পাদন ও সরবরাহ বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। আমাদের দেশ ভারতও সেই দায়িত্ব পালন করে চলেছে। স্বাধীনতার পরে পরেই পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে সেই প্রচেষ্টা নিরন্তর চলছে। ১৯৯২ সালের ৭৩ তম সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে সারা ভারতবর্ষের সমস্ত রাজ্যয় পঞ্চায়েতি ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সক্ষম ও শক্তিসালী পঞ্চায়েতি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২৯টি বিষয়ে পরিকল্পনা, দেখভাল ও রূপায়ণ করার দায়িত্ব পঞ্চায়েতকে দেওয়া হল। পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত আইন ১৯৭৩-এর ১২৪ ধারা ও ১৭১ ধারাতে পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের মধ্যে খাদ্য ও সরবরাহ স্থায়ী সমিতিকে যুক্ত করা হয়।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

গণ বণ্টন ব্যবস্থা

আজকের পৃথিবীতে খাদ্য উত্পাদনের বৃদ্ধি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। মাথাপিছু গড়ে যে খাদ্য উত্পাদন হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। যোগাযোগ ব্যবস্থাও যথেষ্ট শক্তিশালী, তার ফলে খাদ্যের আদান প্রদান ও আজ আর কোনও বাধা নয়। তা সত্ত্বেও অনাহার, অর্ধাহার, অপুষ্টি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর নিত্য অভিজ্ঞতা। আমাদের দেশের ৫০% শিশু ও ৪০% নারী-পুরুষ অপুষ্টির শিকার।

তা হলে বলা যায় সুষ্ঠু বণ্টন না হওয়ার জন্যই এই অনাহার, অর্ধাহার, অপুষ্টি – যা গ্রাস করেছে গরিব মানুষের শ্রেণিকে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দরকার একটি দায়বদ্ধ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার নাম গণ বণ্টন ব্যবস্থা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মিলিত দায়িত্ব এই গণ বণ্টন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা। ১২০ কোটি মানুষের এই সুবিশাল দেশে প্রতিনিয়ত এই পরিষেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। এই কঠিন কাজ করা একমাত্র সম্ভব যদি সর্বস্তরের দায়িত্বশীল সহযোগিতা পাওয়া যায়। সেই কারণে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ত্রি-স্তরীয় পঞ্চায়েত ও পৌর সংস্থাগুলোকে। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল অঙ্গ হল জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য ও সরবরাহ স্থায়ী সমিতি। আর এই দায়িত্বের কারণে এই স্থায়ী সমিতিগুলোর সুদক্ষ পরিচালনা অত্যন্ত জরুরি, যেখানে সভাধিপতি, সভাপতি ও দুই স্তরের কর্মাধ্যক্ষদের সুযোগ্য নেতৃত্ব একান্ত ভাবে দরকার।

 

গণবণ্টন ব্য‌বস্থার বহু পুরনো ইতিহাস রয়েছে। আমাদের দেশে স্বাধীনতার আগে এবং পরে বেশ কয়েকটি দুর্ভিক্ষ হয়। তাতে বহু মানুষ প্রাণ হারান। সরকারের তরফে প্রমাণ করার চেষ্টা হয় উৎপাদন কম হওয়ার ফলে দুর্ভিক্ষ হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে অমর্ত্য‌ সেন প্রমুখের গবেষণায় প্রমাণিত হয় খাদ্য‌সামগ্রী বণ্টন ব্য‌বস্থা মুষ্টিমেয় ব্য‌ক্তির কুক্ষিগত হয়ে পড়ায় কৃত্রিম খাদ্য‌ সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সরকারি বণ্টন ব্য‌বস্থা থাকলে একচেটিয়া ব্য‌বস্থার উপর হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হত। এতে বহুলোকের প্রাণ বাঁচত।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা

উদ্দেশ্য ও

সুবিধা

  • দারিদ্রসীমার নীচে থাকা দরিদ্রতম পরিবারগুলোকে মাসে পরিবার পিছু ( সর্বোচ্চ ৫ জন পর্যন্ত ) ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য দেওয়া।

  • খাদ্যশস্যের চালু মূল্য হল চাল ও গম প্রতি কেজি ২ টাকা।

  • পরিবারগুলোকে দেওয়া হয় বিশেষ ধরনের অন্ত্যোদয় রেশন কার্ড।

উপভোক্তা

বাছাই পদ্ধতি

  • বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারগুলোর মধ্যে দরিদ্রতম পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পাবে।

  • পরিবারের প্রধান যদি বিধবা , অসুস্থ বা অক্ষম , অক্ষম কোনও একক মানুষ , যাঁর বয়স ৬০ বা তার বেশি এবং যদি কোনও সামাজিক সুনিশ্চিত আয়ের বা জীবিকানির্বাহের ব্যবস্থা না থাকে বা কোনও সামাজিক সহায়তা না পেয়ে থাকেন , তবে সেই পরিবারকে এই যোজনার আওতায় আনা যেতে পারে।

  • আদিবাসী ও জনজাতি ভুক্ত পরিবারগুলো এই যোজনার সুযোগ পাবেন।

তালিকা

অনুমোদন

উপভোক্তা বাছাই - এর নীতি মেনে প্রস্তুত গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক তালিকা ব্লকে একত্রিত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জেলা শাসকের দফতরে পাঠাতে হবে। দারিদ্রসীমার বাইরে বসবাসকারী অতিরিক্ত পরিবার থাকলে , সে ক্ষেত্রে গ্রাম সংসদ সভার সুপারিশ - সহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরকে অবহিত করতে হবে।

তদারকি

শপ লেভেল মনিটরিং কমিট , ব্লক লেভেল মনিটরিং কমিটি তদারকি করবেন।

অভিযোগ

উপভোক্তার যদি কোনও অভিযোগ থাকে তবে তা গ্রাম পঞ্চায়েত , ব্লক ইনস্পেক্টর ( খাদ্য ও সরবরাহ ), পঞ্চায়েত সমিতি বা বিডিও - র কাছে জানাতে পারেন।

টোল ফ্রি নং – ১৮০০৩৪৫৫৫০৫ তে সরাসরি অভিযোগ করা যাবে।

প্রশ্নোত্তরে

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন?

উত্তরঃ যে সকল পরিবারের গ্রামীণ পারিবারিক সমীক্ষায় মোট প্রাপ্ত নম্বর ২৮-এর কম।

এই প্রকল্প থেকে কী সুবিধা পাওয়া যায়?

উঃ পরিবারের সদস্য‌ সংখ্য‌া অনুযায়ী চাল, গম ও চিনি পাওয়া যাবে (চালের দাম ২টাকা/কেজি, গম ২ টাকা/কেজি)

রেশন কার্ডে মাসে সর্বাধিক ৩৫ কেজি চাল/গম বরাদ্দ (যদি পরিবারে পাঁচ জন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য‌ থাকে তবে মাথাপিছু সাত কেজি করে চাল দেওয়া হয়, পরিবারের সদস্য‌সংখ্য‌া যদি পাঁচের বেশি হয় তা হলে ৩৫ কেজির বেশি চাল দেওয়া হবে না।)

এই প্রকল্পে পঞ্চায়েত ভিত্তিক কোটা নির্দিষ্ট করা আছে।

অন্নপূর্ণা প্রকল্প

উদ্দেশ্য

  • দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন এবং বয়স ৬৫ - এর বেশি , জাতীয় সামাজিক সহায়তা প্রকল্পে পেনশন পাওয়ার যোগ্য কিন্তু কোনও কারণে পেনশন প্রাপকের তালিকায় যুক্ত করা যায়নি , সেই সব নাগরিকদের এই প্রকল্পে আনা হয়।

বৈশিষ্ট্য ও

সুবিধা

  • দারিদ্রসীমার নীচে থাকা ৬৫ বছরের বশি বয়স্ক মানুষদের সনাক্ত করা।

  • ব্যক্তি পিছু ১০ কেজি খাদ্যশস্য বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় ডিলারের মাধ্যমে।

  • খাদ্যশস্যের জন্য কোনও মূল্য নেওয়া যাবে না।

  • উপভোক্তাকে দেওয়া হয় বিশেষ ধরনের ‘অন্নপূর্ণা’ রেশন কার্ড।

উপভোক্তা

বাছাই এর

পদ্ধতি

  • সাধারণত রাজ্য ও জেলাস্তর থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক উপভোক্তা সংখ্যা ঠিক করে দেওয়া হয়।

  • প্রাথমিক ভাবে গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ হল শর্ত অনুযায়ী একটি তালিকা প্রস্তুত করে তা গ্রাম সংসদ সভায় পেশ করা। গ্রাম সংসদ সভা থেকে যে তালিকা অনুমোদিত হবে তা একত্রিত করে পঞ্চায়েতভিত্তিক তালিকা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে পাঠাতে হবে।

  • সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সকল গ্রাম পঞ্চায়েতের তালিকা একত্রিত করে জেলাশাসকের কাছে পাঠাবেন।

  • সারা জেলার তালিকা জেলাশাসক পাঠান জেলা খাদ্য নিয়ামকের দফতরে।

  • জেলা খাদ্য নিয়ামক ওই তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এম আর ডিলারের কাছে খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন এবং ব্লক খাদ্য পরিদর্শকের মাধ্যমে চিহ্নিত উপভোক্তাদের কাছে বিশেষ অন্নপূর্ণা রেশন কার্ড বিলির ব্যবস্থা করবেন।

তদারকি

শপ লেভেল মনিটরিং কমিট , ব্লক লেভেল মনিটরিং কমিটি তদারকি করবেন।

অভিযোগ

উপভোক্তার যদি কোন অভিযোগ থাকে তবে তা গ্রাম পঞ্চায়েত , ব্লক ইনস্পেক্টর ( খাদ্য ও সরবরাহ ), পঞ্চায়েত সমিতি বা বিডিও - র কাছে জানাতে পারেন।

টোল ফ্রিন নং – ১৮০০৩৪৫৫৫০৫ - তে সরাসরি অভিযোগ করা যাবে।

প্রশ্নোত্তরে

এটি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির অন্তর্গত একটি প্রকল্প। রূপায়ণকারী দফতর হল খাদ্য‌ দফতর।

এই প্রকল্পের সাহায্য‌ কারা পেতে পারেন?

উঃ-দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী পরিবারগুলির মধ্য‌ে ৬৫ বছরের বেশি বয়সের সহায় সম্বলহীন বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা, যাঁরা বার্ধক্য‌ভাতা পাওয়ার যোগ্য‌ কিন্তু পাচ্ছেন না।

এই প্রকল্প থেকে বাড়তি কী সুবিধা পাওয়া যায়?

বিনামূল্য‌ে প্রতি মাসে ১০ কেজি খাদ্য‌শস্য (চাল বা গম) পাওয়া যায়।

নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা নির্বাচন করা যাবে?

উঃ-না। আদেশনামা অনুযায়ী বর্তমানে যাঁরা জাতীয় বার্ধক্য‌ভাতা পাচ্ছেন তাঁদের নাম এই তালিকা থেকে বাদ যাবে। লক্ষ্য‌ হল প্রতিটি যোগ্য‌ ব্য‌ক্তিকে বার্ধক্য‌ভাতা প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা। গ্রাম পঞ্চায়েতের যে কোটাটি আছে তা এক সময়ে শেষ হয়ে যাবে অর্থাৎ সবাই বার্ধক্য‌ভাতার আওতাভুক্ত হয়ে গেলে এই প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাবে।

এই প্রকল্পে কি কোনও নির্দিষ্ট সংখ্য‌া বা কোটা আছে?

উঃ হ্য‌াঁ। জেলাভিত্তিক নির্দিষ্ট কোটা থাকে। জেলা থেকে ব্লক এবং গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক কোটা নির্দিষ্ট করা আছে।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

নানা খয়রাতি সাহায্য

ভারতের সংবিধানের নির্দেশাত্মক নীতিতে রাষ্ট্রকে নানা ধরনের কল্য‌াণমূলক কাজ করার জন্য‌ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৪১ অনুযায়ী কাজ করতে অক্ষম, বয়স্ক ব্য‌ক্তি, অসুস্থ এবং প্রতিবন্ধী ব্য‌ক্তিদের রাষ্ট্র সহায়তা প্রদান করবে। এ ছাড়াও বিধবা মহিলাদের বা হঠাৎ কোনও পরিবারের কর্তার মৃত্য‌ু হয়ে আয় বন্ধ হয়ে গেলে সহায়তা দরকার হয়।

স্বাভাবিক ভাবেই এই সহায়তা পাবে বিপিএলভুক্ত পরিবার।

সকলেই জানেন বিপিএল তালিকায় থাকা উচিত নয় এমন পরিবারের নাম আছে এবং থাকা উচিত ছিল এমন অনেক পরিবারের নাম বাদ গিয়েছে। এই তালিকাকে সঠিক করার দায়িত্ব সরকারি কর্মচারীর, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ প্রত্য‌েকের। এটি সঠিক না হলে অনেক চরম অসহায় পরিবার সরকারের সাহায্য‌ থেকে বঞ্চিত হন। অনেক পরিবারের সহায়তার প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ভুল ভাবে অন্য‌ায় ভাবে সাহায্য‌ পান। যাঁদের নাম থাকা উচিত নয় তাঁদের নিজেদেরই এগিয়ে এসে নাম বাদ দেওয়ার জন্য‌ আবেদন করা উচিত।

জি.আর (খয়রাতি সাহায্য)

যাঁর কোনও সক্ষম আত্মীয় নেই সহায়তা করার জন্য‌ তাঁকে- ১) জরদগব ও পাগল ২) প্রতিবন্ধী ৩) অন্ধ ৪) শারীরিক অক্ষমতার কারণে উপার্জন করতে পারে না ৬)উচ্চবংশীয় মহিলা যাঁর খাদ্য‌াভাব কিন্তু জনসমক্ষে যেতে পারেন না বা চাইতে পারেন না বা কাজ করতে পারেন না ৭) যে কাজ করতে পারে না বা কাজ দেওয়া যায় না।

চাল ১২ কেজি। শিশুদের অর্ধেক। এককালীন।

প্রাপকদের একটি তালিকা তৈরি করে গ্রাম পঞ্চায়েত;নারী শিশু জনকল্য‌াণ স্থায়ী সমিতি অনুমোদন করে; চাল নির্দিষ্ট ডিলারের মাধ্য‌মে বিলি করা হয়।

স্পেশাল জি আর (বিশেষ খয়রাতি সাহায্য)

কুষ্ঠ বা এইডস বা যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্য‌ক্তিদের বা বন্য‌ায় আক্রান্ত ব্য‌ক্তিদের বা ঘর পুড়ে গেলে বা যে কোনও বিপদে ১২ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। বিডিও-র কাছে আবেদন করলে পাওয়া যায়।

ক্য‌াশ জি আর (নগদ খয়রাতি সাহায্য)

ভীষণ বিপদে পড়লে এককালীন ৬০ টাকা পাওয়া যায়। বিডিও বা এসডিও-র কাছে আবেদন করতে হয়।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

রেশন কার্ড পাওয়ার পদ্ধতি

গণ বণ্টন ব্যবস্থার সুফল পেতে গেলে সব চেয়ে প্রয়োজনীয় নথিটির নাম — সংভরণ পত্র বা ‘রেশন কার্ড’। পশ্চিমবঙ্গ গণ বণ্টন ব্যবস্থা (রক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ) আদেশ ২০০৩-এর অনুচ্ছেদ ৩ থেকে অনুচ্ছেদ ১৩ এবং খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের ৭৮ এফ এস তাং ০৫/০১/২০০৭ আদেশনামাতে রেশন কার্ড কী ভাবে, কী পদ্ধতিতে দেওয়া হবে তা সবিস্তার বলা হয়েছে। এখানে সেই আদেশনামার প্রেক্ষিতে কী ভাবে, কী পদ্ধতিতে রেশন কার্ড দেওয়া হয় বা পাওয়া যায় তা সংক্ষেপে দেওয়া হল :

নতুন রেশন কার্ড

কে পাবেন

ভারতীয় সকল নাগরিক যাঁদের রেশন কার্ড নেই তাঁরা পাবেন।

কী ভাবে পাওয়া যাবে

রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের অধিকারপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে লিখিত নির্দিষ্ট আর – ১ / আর ও - ১ নিদর্শে আবেদনের মাধ্যমে। বিনামূল্যে এই আবেদনপত্র ব্লক খাদ্য ও সরবরাহ পরিদর্শকের কার্যালয়ে পাওয়া যাবে।

আবেদনপত্রের সাথে কী কী নথি দিতে হবে

সাধারণ ভাবে চার প্রকারের নথি জমা দিতে হবে :

১ ) বাসস্থানের প্রমাণ ২ ) বয়সের প্রমাণ , ৩ ) নাগরিকত্বের প্রমাণ , ৪ ) রেশন কার্ড থাকা না থাকা সম্পর্কিত প্রমাণ।

বাসস্থানের প্রমাণ স্বরূপ গ্রহণযোগ্য নথি

কোনও পরিবারের সমস্ত সদস্যের রেশন কার্ডের প্রয়োজন থাকলে আবেদনকারীকে পঞ্চায়েত ট্যাক্স / বাড়ি ভাড়া রসিদ / বিদ্যুৎ বিল / টেলিফোন বিল , যে কোনও একটির প্রতিলিপি জমা দিতে হবে।

বয়সের প্রমাণে গ্রহণযোগ্য নথি

জন্ম নিবন্ধীকরণ শংসাপত্র / সরকার অনুমোদিত বিদ্যালয়ের দেওয়া বয়স সংক্রান্ত শংসাপত্র গ্রহ্য হবে।

রেশন কার্ড থাকা না থাকা সম্পর্কিত প্রমাণ

পূর্ববর্তী বাসস্থানের কোনও রেশন কার্ড থেকে থাকলে , খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ স্বাক্ষরিত রেশন কার্ড সমর্পণ সংক্রান্ত শংসাপত্র দাখিল করতে হবে।

যদি ওই ব্যক্তর কখনও কোনও রেশন কার্ড না থাকে তবে তাঁর পূর্ববর্তী বাসস্থান যেখানে ছিল , সেখানকার স্থানীয় নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধির দেওয়া শংসাপত্র প্রয়োজন। এই শংসাপত্রে থাকবে ব্যক্তির নাম , ঠিকানা , জাতিগত পরিচয় , ওই স্থানে তাঁর অবস্থিতিকাল এবং রেশন কার্ড না থাকার কারণ। বর্তমান বাসস্থানের ঠিকানার জন্যও ওই রূপ শংসাপত্র দাখিল করতে হবে।

নাগরিকত্বের প্রমাণ

সাধারণ ভাবে আবেদনকারীর বা তাঁর বাবা / মা / পিতামহ / পিতামহীর সচিত্র নির্বাচনী পরিচয়পত্র ( ভোটার কার্ড ) ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচায়ক।

এমন পরিচয়পত্র না থাকলে সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকা সমেত আবেদনকারীর পরিচয় বহনকারী কোনও নথি যেমন — ড্রাইভিং লাইসেন্স / এল আই সি বা মেডিক্লেম পলিসি / পেনসন নথি / প্রতিবন্ধী হওয়া সংক্রান্ত শংসাপত্র ইত্যাদি নথি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য দাখিল করা যেতে পারে।

নাম / পদবি / পরিবারের প্রধান / বয়স ইত্যাদি পরিবর্তন বা সংশোধনের উপায়

  • এই সব ক্ষেত্রে ২ নং ফর্মে আবেদন করতে হবে।

  • এই ফর্মের নমুনা ১ নং ফর্মের মতো নির্দিষ্ট কার্যালয় থেকে পাওয়া যাবে। এই ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে স্থানীয় খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের পরিদর্শকের কাছে।

  • আবেদনকারী যে পরিবর্তন বা সংশোধন চান তার উপযুক্ত প্রমাণস্বরূপ নথি অবশ্যই জমা দিতে হবে।

কার্ড নষ্ট হয়ে গেলে / হারিয়ে গেলে নতুন কার্ড পাওয়ার পদ্ধতি

  • নতুন ‘ডুপ্লিকেট’ কার্ড পাওয়া যাবে।

  • এ ক্ষেত্রে ৩ নং ফর্মে আবেদন করতে হবে।

  • হারিয়ে যাওয়া কার্ডের ক্ষেত্রে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি করে , সেই নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে এবং শেষ কবে রেশন থেকে মালপত্র নেওয়া হয়েছে , সেই মর্মে একটি শংসাপত্র সংগ্রহ করে আবেদন পত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

  • নষ্ট হয়ে যাওয়া কার্ডের ক্ষেত্রে , শেষ কবে রেশন থেকে মালপত্র নেওয়া হয়েছে সেই রসিদ বা ক্যাশ মেমো দিয়ে আবেদন করতে হবে।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

ডিলার নিয়োগ

খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের সব প্রত্যক্ষ পরিষেবা নাগরিকদের পৌঁছে দেওয়া হয় এম আর ডিলারের মাধ্যমে। আর এম আর ডিলারদের ‘ন্যায্য মূল্যের দোকান’ (ফেয়ার প্রাইস সপ) অর্থাৎ ‘রেশন’ দোকানে মাল পৌঁছয় এম আর ডিস্ট্রিবউটারের মাধ্যমে।

অত্যাবশকীয় পণ্য আইন ১৯৫৫-এর ৩ নং ধারা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগীয় ২০০৩ সালে ‘পশ্চিমবঙ্গ গণ বণ্টন ব্যবস্থা (রক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ) আদেশ -২০০৩’ জারি ও চালু করে। খাদ্য দফতরের এই আদেশকে সাধারণ ভাবে ‘কন্ট্রোল অর্ডার – ২০০৩’ বলা হয়। এই আদেশ অনুযায়ী সাধারণ ভাবে গণ বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয়।

ডিলার এর নিয়োগ পদ্ধতি

এম আর ডিলার (মডিফায়েড রেশন ডিলার) দু’ ধরনের। সাধারণ এম আর ডিলার এবং এম আর ডিলার (কেরোসিন)। দু’ ধরনেরডিলারের নিয়োগ পদ্ধতি একই। প্রশ্নোত্তরে বিষয়টি দেওয়া হল।

বিষয় বা প্রশ্ন

নিয়ম বা পদ্ধতি

ন্যায্য মূল্যের দোকান / রেশন দোকান বলতে কি বুঝি ?

যে দোকান সরকারের লাইসেন্স প্রাপ্ত এবং সরকারের দেওয়া রেশন কার্ড / রেশন পারমিট প্রাপকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বন্টন করতে বাধ্য থাকে সেই দোকানকেই ন্যায্য মূল্যের দোকান বা রেশন দোকান বলা হবে। দোকানের মালিককে ডিলার বলা হয়।

কখন ডিলার নিয়োগ হয় ?

কোনও ডিলারের পদত্যাগ বা মৃত্যুজনিত কারণে শূন্যতা তৈরি হলে সেখানে ডিলার নিয়োগ করা হয়।

কে ডিলার নিয়োগ করতে পারেন ?

রাজ্য সরকারের অনুমোদন ক্রমে অধিকর্তা – জেলা বণ্টন , সংগ্রহ ও সরবরাহ বা অধিকর্তা দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনও আধিকারিক ডিলার নিয়োগ করতে পারেন।

নিয়োগকর্তা কে ?

উভয় ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা হলেন অধিকর্তা জেলা বণ্টন , সংগ্রহ ও সরবরাহ বা অধিকর্তা দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনও আধিকারিক।

কে আবেদন করতে পারবেন ?

পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী যে কোনও ভারতীয় নাগরিক আবেদন করতে পারেন। নির্ধারিত ফর্ম - A তে আবেদন করতে হয়।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

ডিলারের করণীয়, দায়িত্ব ও কর্তব্য

বিষয় বা প্রশ্ন

নিয়ম বা পদ্ধতি

ডিলারের মূল করণীয়

ডিলারের মূল দায়িত্বগুলো হল —

  • সময়মতো মালের চাহিদা পত্র ( ইনডেন্ট ) খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের পরিদর্শকের কাছে আর - ১ নিদর্শে পাঠানো।

  • যে সব পণ্য দেওয়া হয় তা ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে সংগ্রহ করা।

  • রেশন কার্ড গ্রাহকদের মধ্যে দফতরের দেওয়া পণ্য বিতরণ করা।

রেশন কার্ড গ্রাহকদের মধ্যে পণ্য বিতরণ করার নিয়ম

প্রত্যেক ডিলার সপ্তাহে মঙ্গল থেকে রবিবার সকাল ৭ . ৩০ মি থেকে ১১ . ৩০ মি পর্যন্ত এবং সপ্তাহে মঙ্গল থেকে শনিবার বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখবেন এবং এই সময়ের মধ্যে সমস্ত রেশন কার্ড গ্রাহকদের রেশন দিতে হবে। ১ম সপ্তাহের মাল দ্বিতীয় সপ্তাহে এবং তৃতীয় সপ্তাহের মাল চতুর্থ সপ্তাহে গ্রাহকরা সংগ্রহ করতে পারবেন।

ডিলারের অবশ্য পালনীয় দায়িত্বগুলো

ডিলারের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব হল —

  • ডিস্ট্রিবউটারের কাছ থেকে সঠিক গুণগত মান অনুযায়ী মাল বুঝে নেওয়া।

  • ডিলার নির্ধারিত মূল্যে মাল বিক্রি করবেন এবং অতি অবশ্যই ক্যাশ মেমো দেবেন।

  • হিসাবপত্তর ঠিক রাখার জন্য সমস্ত নথি যথা রেশন কার্ড রেজিস্টার , স্টক রেজিস্টার , দৈনিক বিক্রয় রেজিস্টার ইত্যাদি যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। খাদ্য দফতরের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের ( এস সি এফ এস ) অনুমোদিত ব্যক্তিদের পরিদর্শনের সময়ে ওই সব নথি দেখাবেন।

  • প্রতি দিন দোকানের সামনে নোটিশ বোর্ড ঝোলাবেন , যাতে নীচের তথ্যগুলি থাকবে :

  • বি পি এল , অন্ত্যোদয় উপভোক্তাদের নামের তালিকা

  • কার্ড পিছু বরাদ্দের পরিমাণ

  • বিভিন্ন জিনিসের দাম

  • দোকান খোলা ও বন্ধের সময়

  • সেই মাসে বিভিন্ন জিনিস কত পাওয়া গেছে তার হিসাব

  • সেই দিনের মজুত দ্রব্যের পরিমাণ

  • পণ্যের গুণগত মান , পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়ে কোথায় অভিযোগ করা যাবে তার বিশদ বিবরণ

  • প্রত্যেক ডিলারকে ফর্ম আর - ১ - এর সঙ্গে পরবর্তী চাহিদা পত্র ( ইনডেন্ট ) জমা দিতে হবে। আর সাপ্তাহিক রিটার্ন - এর সঙ্গে মাসে একবার নথিভুক্ত রেশন কার্ড গ্রাহকের তালিকা পরিদর্শকের নিকট জমা দিতে হবে।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

ডিস্ট্রিবউটর নিয়োগ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য

ডিস্ট্রিবউটর নিয়োগ

বিষয় বা প্রশ্ন

নিয়ম বা পদ্ধতি

ডিস্ট্রিবিউটর কে বা কারা ?

ডিস্ট্রিবউটর বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝাবে যাঁর নামে রাজ্য সরকার গণ বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদেয় পণ্য ডিলারদের বণ্টন করার লাইসেন্স ( অনুজ্ঞাপত্র ) প্রদান করেছেন।

কখন ডিস্ট্রিবউটর নিয়োগ হয় ?

পদত্যাগ বা মৃত্যুজনিত কারণে শূন্যতা তৈরি হলে সেখানে ডিস্ট্রিবউটর নিয়োগ করা হয়। পদত্যাগ বা মৃত্যুজনিত কারণে শূন্যতা তৈরি ছাড়াও কোথাও প্রয়োজন থাকলে বা প্রয়োজন আছে বিবেচিত হলে সেখানেও নিয়োগ হতে পারে।

ডিস্ট্রিবউটার কে নিয়োগ করতে পারেন ?

রাজ্য সরকারের অনুমোদন ক্রমে অধিকর্তা — জেলা বণ্টন , সংগ্রহ ও সরবরাহ বা অধিকর্তা দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনও আধিকারিক ডিস্ট্রিবউটর নিয়োগ করতে পারেন।

ডিস্ট্রিবউটরের করণীয়, দায়িত্ব ও কর্তব্য

বিষয় বা প্রশ্ন

নিয়ম বা পদ্ধতি

একজন ডিস্ট্রিবউটারের মূল করণীয়

ডিস্ট্রিবউটরের মূল দায়িত্ব গুলো হল —

  • সময়মতো মালের চাহিদা পত্র ( ইনডেন্ট ) খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের মহকুমা নিয়ামকের কাছে আর - ১ নিদর্শে পাঠানো। পাঠানো।

  • গণ বণ্টন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যে সব পণ্য দেওয়া হয় তা নির্দিষ্ট খাদ্য ভাণ্ডার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সংগ্রহ করা।

  • আওতাধীন ডিলারদের মধ্যে দফতরের দেওয়া পণ্য বিতরণ করা।

ডিলারদের মধ্যে পণ্য বিতরণ করার নিয়ম কী ?

প্রত্যেক ডিলারকে যে বরাদ্দ আদেশ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দেবেন সেই আদেশ দেখালে সেই অনুযায়ী তিনি মাল পাবেন ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে। বর্তমানে ডিলারের দোকান পর্যন্ত মাল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ডিস্ট্রিবউটরের।

এক জন ডিস্ট্রিবউটরের অবশ্য পালনীয় দায়িত্বগুলো কী ?

ডিস্ট্রিবউটরের অবশ্য পালনীয় দায়িত্বগুলো হল —

  • খাদ্য ভাণ্ডার থেকে সঠিক গুণগন মান অনুযায়ী মাল বুঝে নেওয়া।

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে মাল সংগ্রহ ও মজুত রাখা।

  • নির্ধারিত মুল্যে মাল বিক্রি করা এবং অবশ্য ক্যাশ মেমো দেবেন। প্রতি দিন ডিস্ট্রিবউটর তাঁর মজুত ভাণ্ডারের সামনে নোটিশ বোর্ড ঝোলাবেন , যাতে নীচের তথ্যগুলো থাকবে :

  • বিভিন্ন জিনিসের দাম

  • সেই দিনের মজুত দ্রব্যের পরিমাণ

প্রত্যেক ডিস্ট্রিবিউটরকে সমস্ত পণ্য স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে মজুত রাখতে হবে এবং পচন প্রতিরোধক ব্যবস্থা রাখতে হবে , যাতে গুণগত মান বজায় থাকে।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

পরিদর্শন ও তদারকি

বিষয় বা প্রশ্ন

নিয়ম বা পদ্ধতি

ডিস্ট্রিবিউটারের গোডাউন পরিদর্শন ও তদারকি কে করতে পারেন ?

ন্যূনতম খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের পরিদর্শক পদমর্যাদার আধিকারিক যিনি এসসিএফএস দ্বারা প্রাধিকৃত ( অথরাইজড ) হয়েছন , ডিসিএফএস , আঞ্চলিক উপ অধিকর্তা প্রমুখ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত রেশন দোকানগুলো পরিদর্শন করতে পারেন।

কী কী বিষয় পরিদর্শন বা তদারকি করা যাবে ?

ডিস্ট্রিবিউটরের দকান / অফিস / গোডাউন , মজুত - ঘর , মজুত - পণ্য , সমস্ত ধরনের খাতা - পত্তর , রেজিস্টার , ওজনের যন্ত্রপাতি - সহ পি ডি এস ব্যবস্থার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক সমস্ত কিছু দেখতে পারেন।

পরিদর্শন কালে ত্রুটি থাকলে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় ?

অসঙ্গতি আছে এবং তার সত্যতা যাচাই করা দরকার আছে এমন করলে পরিদর্শন আধিকারিক খাতাপত্র , যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করতে পারেন। এই বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি পরিদর্শন আধিকারিক ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারা অনুযায়ী করবেন। এ ছাড়া ১৯৫৫ - এর অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের ৭ ( ১ ), ৭ ( ২ ) অনুযায়ী দোষীর বিরুদ্ধে ডিসিএফএস বা মহকুমা খাদ্য ও সরবরাহ নিয়ামক বা ঊর্ধ্বতন আধিকারিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন।

পঞ্চায়েত স্তরে কোন পর্যায়ে পরিদর্শন করা প্রয়োজন ?

পঞ্চায়েত স্তরে আগে কোনও পরিদর্শনই হত না। পরে দুর্নীতি সংক্রান্ত নানা খবর প্রকাশ হয়ে পড়ায় পরিদর্শন ব্য‌বস্থা চালু হয়। কম্পট্রোলার আন্ড অডিটর জেনারেলকে দিয়ে একেবারে গ্রাম পঞ্চায়েত পর্যায়ে অডিট করার প্রথা এখন প্রচলিত আছে।এর ফলে পঞ্চায়েতের কার্যপ্রণালীরও ব্য‌াপক উন্নতি হয়েছে। দুর্নীতিমু্ত প্রশাসন গড়ার ক্ষেত্রে পরিদর্শন ও তদারকি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

তদারকির অধিকার কি সংবিধানসম্মত ?

সরকারি বা জনপ্রশাসনের যে কোনও কাজে তদারকি প্রয়োজন। এর জন্য‌ আলাদা বিধি ও আইন নির্মাণ করতে পারে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য‌ সরকার। বিচারব্য‌বস্থাও তদারকির সংক্রান্ত সরকারি নীতি ও পদ্ধতিকে মান্য‌তা দেয়। এই জন্য‌ গোটা দেশজুড়ে তদারকি ব্য‌বস্থার প্রচলন হয়েছে। আগামী দিনে এই ব্য‌বস্থা আরও বাড়বে।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

গণ বণ্টন ব্যবস্থার সমস্যা ও প্রতিকারে বিভিন্ন কমিটির ভূমিকা

খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের প্রধান কাজ এবং একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ, এর গণ বণ্টন ব্যবস্থার সুফল সব নাগরিক যাতে পান তা সুনিশ্চিত করা। এই ব্যবস্থায় যে সব সমস্যা আছে সেগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ এখানে নেই। নীচের সারণি থেকে আমরা সমস্যাগুলোর ইঙ্গিত পেতে পারি।

সমস্যার মূল বিষয়

সমস্যার মূল বিষয়

১ ) অনিয়মিত সরবরাহ

৫ ) ভুয়া রেশন কার্ড সমস্যা

২ ) বাজারের দামের সঙ্গে ব্যবধান

৬ ) দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী পরিবার চিহ্নিতকরণে ত্রুটি

৩ ) খাদ্যশস্যের খারাপ মান

৭ ) আর্থিক কারণে সাপ্তাহিক বরাদ্দ তুলতে না পারা।

৪ ) রেশন দোকান নিয়মিত না খোলা

৮ ) ওজনে এবং দামে ঠকানো

সমস্যাগুলোর প্রতিকার করতে হলে সমস্ত স্তরে তদারকি ব্যবস্থা থাকা দরকার। কিন্তু দেশের চার লক্ষের বেশি রেশন দোকানের প্রায় প্রতি দিনের কাজকর্ম তদারকি করা কার্যত সরকারি ভাবে প্রায় সম্ভব নয়। সেই কারণে সাধারণ উপভোক্তা, পঞ্চায়েতি প্রতিষ্ঠান, সাধারণ প্রশাসন ও খাদ্য ও সরবরাহ দফতর, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের আধিকারিক, সাংসদ, বিধায়কদের সম্বন্বয়ে বিভিন্ন স্তরে তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রতিটি কমিটির কাজ

  • সেই স্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে, তার সমাধানের পথ বের করে নেওয়া।
  • প্রয়োজনভিত্তিক উপরের স্তরের পরামর্শ বা সহায়তা নেওয়া এবং নীচের স্তরকে পরামর্শ দেওয়া বা সহায়তা করা।

যে হেতু এই পরিষেবা একটি নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিক প্রক্রিয়া সেই জন্য সব স্তরের কমিটিগুলিকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।

কমিটির দায়িত্ব

গণবণ্টন ব্য‌বস্থার মূল সমস্য‌া দুর্নীতি সংক্রান্ত। অনেক সময় খোলা বাজারে গণবণ্টনে সরবরাহিত চাল ডাল বিক্রি হয়। এর প্রতিকার করতে নজরদারি কমিটি থাকা প্রয়োজন। বিভিন্ন্ ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতও সেই দায়িত্ব পালনে ব্রতী হয়। এ ছাড়া সরকারি কমিটিরও নানা ব্য‌াপারে ভূমিকা থাকে। খাদ্য‌ দপ্তরের পরিদর্শনকারী দল এই কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

রাজ্য স্তরের তদারকি ও নজরদারি কমিটি

ভূমিকা

রাজ্য‌ স্তরে তদারকি করার ক্ষেত্রে একটি কমিটি তৈরি করা হয় সচরাচর রাজ্য‌ সরকার নিজেরাই এই কমিটি তৈরি করে দেয়। কমিটিতে সরকারি লোকজন ছাড়াও বেসরকারি লোকজনও থাকেন। কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধকেও কমিটিতে নেওয়া হয়। কমিটিতে বিশেষজ্ঞ নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখা প্রয়োজন। সেই ব্য‌ক্তি কোওযনও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত তাকলে সংস্থার কার্যপ্রণালী ও মত কমিটিতে প্রতিফলিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞর মতামত নেওয়া এবং তাঁকে কমিটিতে স্থান করে দেওয়া অনেক বেশি লাভজনক এবং সুবিবেচকের কাজ। সম্প্রতি রাজ্য‌ সরকারগুলি রাজ্য‌স্তরের কমিটি গড়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আগাম পরামর্শ করে রাখছে। এর মূল কারণ হল পরে যাতে কোনওভাবেই বিতর্ক দানা বাঁধতে না পারে। তদারকি ও নজরদারির জন্য‌ আলাদা কমিটি গড়ার অবশ্য‌ কোনও প্রয়োজন নেই। তার কারণ দুটি কাজের মূল উদ্দেশ্য‌ কিন্তু একই। সরকারি বিশেষজ্ঞরা একটিই কমিটি গঠন করার উপর জোর দেন।

কাদের নিয়ে গঠিত

পদাধিকার

ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী

সভাপতি

কমিশনার , খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ

সহ - সভাপিত

অধিকর্তা , জেলা সরবরাহ সংগ্রহ অধিকর্তা , খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ

আহ্বায়ক সদস্য

সাধারণ অধিকর্তা ( ডাইরেক্টর জেনারেল )- খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ

সদস্য

সচিব , অর্থ বিভাগ

সদস্য

সচিব , পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগ

সদস্য

সচিব , পৌর বিষয়ক বিভাগ

সদস্য

সচিব , বিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগ

সদস্য

সচিব , নারী ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজ কল্যাণ বিভাগ

সদস্য

১০

পরিচালন অধিকর্তা ( ম্যানেজিং ডিরেক্টর ), ডব্লউ বি ই সি এস সি লিমিটেড

সদস্য

১১

রেশন অধিকর্তা , খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ

সদস্য

১২

ভোগ্যপণ্য অধিকর্তা , খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ

সদস্য

১৩

অর্থ অধিকর্তা , খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ

সদস্য

১৪

জেনারেল ম্যানেজার , ভারতীয় খাদ্য নিগম

 

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

জেলা ও মহকুমা স্তরের তদারকি ও নজরদারি কমিটি

ভূমিকা

জেলা স্তরে তদারকি করার ক্ষেত্রে একটি কমিটি তৈরি করা হয় সচরাচর রাজ্য‌ সরকার নিজেরাই এই কমিটি তৈরি করে দেয়। কমিটিতে সরকারি লোকজন ছাড়াও বেসরকারি লোকজনও থাকেন। কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিকেও কমিটিতে নেওয়া হয়। কমিটিতে বিশেষজ্ঞ নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখা প্রয়োজন। সেই ব্য‌ক্তি কোনও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত তাকলে সংস্থার কার্যপ্রণালী ও মত কমিটিতে প্রতিফলিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞর মতামত নেওয়া এবং তাঁকে কমিটিতে স্থান করে দেওয়া অনেক বেশি লাভজনক এবং সুবিবেচকের কাজ। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনগুলি জেলাস্তরের কমিটি গড়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আগাম পরামর্শ করে রাখছে। এর মূল কারণ হল পরে যাতে কোনওভাবেই বিতর্ক দানা বাঁধতে না পারে। তদারকি ও নজরদারির জন্য‌ আলাদা কমিটি গড়ার অবশ্য‌ কোনও প্রয়োজন নেই। তার কারণ দুটি কাজের মূল উদ্দেশ্য‌ কিন্তু একই। সরকারি বিশেষজ্ঞরা একটিই কমিটি গঠন করার উপর জোর দেন।

জেলা স্তরের কমিটি

কাদের নিয়ে গঠিত

পদাধিকার

সভাধিপতি , জেলা পরিষদ

সভাপতি

জেলা শাসক

নির্বাহী সভাপতি

জেলা নিয়ামক , খাদ্য ও সরবরাহ

আহ্বায়ক - সদস্য

এস পি ( ডি ই বি )

সদস্য

সাংসদের প্রতিনিধি

সদস্য

কর্মাধ্যক্ষ , খাদ্য ও সরবরাহ স্থায়ী সমিতি , জেলা পরিষদ

সদস্য

অতিরিক্ত জেলা শাসক ( খাদ্য বিষয় দেখভালের যিনি ভারপ্রাপ্ত )

সদস্য

ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর প্রতিনিধি

সদস্য

জেলার সকল বিধায়কের প্রতিনিধি

সদস্য

১০

এক জন এন জি ও ( ডিডিপিএস দ্বারা মনোনীত )

সদস্য

মহকুমা স্তরের কমিটি

কাদের নিয়ে গঠিত

পদাধিকার

মহাকুমা শাসক

সভাপতি

মহকুমা নিয়ামক খাদ্য ও সরবরাহ

আহ্বায়ক - সদস্য

কর্মাধ্যক্ষ , খাদ্য ও সরবরাহ স্থায়ী সমিতি , জেলা পরিষদ

সদস্য

মহকুমার সকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি

সদস্য

মহকুমার সকল পৌরসভার পৌরপ্রধান

সদস্য

সাংসদ প্রতিনিধি

সদস্য

এক জন এন জি ও প্রতিনিধি ( ডিডিপিএস দ্বারা মনোনীত )

সদস্য

ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর প্রতিনিধি

সদস্য

মহকুমার সকল বিধায়কের প্রতিনিধি

সদস্য

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের তদারকি ও নজরদারি কমিটি

ভূমিকা

ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে তদারকি করার ক্ষেত্রে একটি কমিটি তৈরি করা হয় সচরাচর রাজ্য‌ সরকার নিজেরাই এই কমিটি তৈরি করে দেয়। কমিটিতে সরকারি লোকজন ছাড়াও বেসরকারি লোকজনও থাকেন। কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিকেও কমিটিতে নেওয়া হয়। কমিটিতে বিশেষজ্ঞ নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখা প্রয়োজন। সেই ব্য‌ক্তি কোনও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত তাকলে সংস্থার কার্যপ্রণালী ও মত কমিটিতে প্রতিফলিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞর মতামত নেওয়া এবং তাঁকে কমিটিতে স্থান করে দেওয়া অনেক বেশি লাভজনক এবং সুবিবেচকের কাজ। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনগুলি ব্লক ও গ্রামপঞ্চায়েতস্তরের কমিটি গড়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আগাম পরামর্শ করে রাখছে। এর মূল কারণ হল পরে যাতে কোনওভাবেই বিতর্ক দানা বাঁধতে না পারে। তদারকি ও নজরদারির জন্য‌ আলাদা কমিটি গড়ার অবশ্য‌ কোনও প্রয়োজন নেই। তার কারণ দুটি কাজের মূল উদ্দেশ্য‌ কিন্তু একই। সরকারি বিশেষজ্ঞরা একটিই কমিটি গঠন করার উপর জোর দেন।

ব্লক স্তরের তদারকি ও নজরদারি কমিটি

বিডিও

সহ সভাপতি

মুখ্য পরিদর্শক / পরিদর্শক খাদ্য ও সরবরাহ ( আহ্বায়ক )

আহ্বায়ক - সদস্য

কর্মাধ্যক্ষ , খাদ্য ও সরবরাহ স্থায়ী সমিতি , পঞ্চায়েত সমিতি

সদস্য

থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক

সদস্য

বিধায়কের প্রতিনিধি

সদস্য

একজন এন জি ও প্রতিনিধি ( এস ডি ও দ্বারা মনোনীত )

সদস্য

গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ( সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের সভার ক্ষেত্রে )

আমন্ত্রিত সদস্য

গ্রাম পঞ্চায়েত/রেশন দোকান স্তরের তদারকি ও নজরদারি কমিটি

পরিদর্শক / অবর পরিদর্শক , খাদ্য ও সরবরাহ

আহ্বায়ক - সদস্য

পঞ্চায়েতের প্রতিটি রেশন দোকানের এলাকা থেকে এক জন করে বি পি এল রেশন কার্ডধারী গ্রাহক বি পি এল শ্রেণির প্রতিনিধি রূপে ( বি ডিও দ্বারা মনোনীত )

সদস্য

পঞ্চায়েতের প্রতিটি রেশন দোকানের এলাকা থেকে এক জন করে এ পি এল রেশন কার্ডধারী গ্রাহক এ পি এল শ্রেণির প্রতিনিধিরূপে ( বি ডি ও দ্রাবা মনোনীত )

সদস্য

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্য

সদস্য

বিধায়কের প্রতিনিধি

সদস্য

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

খাদ্যশস্য সংগ্রহ

দেশের মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে, কৃষকের উত্পন্ন ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পেতে, সমাজের দুর্বল শ্রেণির ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে, মজুতদারি ও কালোবাজারি বন্ধ করতে এবং গণ বণ্টন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে সরকারকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে হয়। আমাদের দেশের খাদ্য নিগম এবং সেই সঙ্গে রাজ্যের কিছু সংস্থা যেমন পশ্চিমবঙ্গ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ নিগম ধান, গম, ডাল ইত্যাদি শস্য ইত্যাদি ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (এম এস পি বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস) সংগ্রহের পাশাপাশি লেভিতে চাল সংগ্রহের দায়িত্ব থাকেন।

চাষের খরচ, অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ এবং কৃষকের যুক্তিগ্রাহ্য লাভ ইত্যাদি বিবেচনা করে এগ্রিকালচারাল কষ্ট অ্যান্ড প্রাইসেস কমিশনের দেওয়া সুপারিশ অনুযায়ী রবি ও খরিফ শস্য কাটার সময় সরকার এই সহায়ক মূল্য ঘোষণা করেন। রাজ্য সরকারের সঙ্গে এফ সি আই এবং অন্যান্য সংস্থা সরাসরি নগদ মূল্যে শস্য সংগ্রহ করে থাকেন। কোথায় এই শিবির হবে এবং কত সংখ্যায় হবে তা স্থানীয় স্তরে প্রয়োজনের নিরিখে রাজ্য সরকার স্থির করেন।

খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের খাদ্য সচিব – অধিকর্তা – ডিডিপিএস (ডিসট্রিক্ট ডিস্ট্রিবিউশন প্রকিওরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই) অধিকার – আঞ্চলিক উপ অধিকর্তা- জেলা বণ্টন, সংগ্রহ ও সরবরাহ – এই দায়িত্বে থাকেন। ডিডিপিএস অধিকারের নিয়ন্ত্রণে জেলা নিয়ামক প্রতিটি জেলার খাদ্যশস্য সংগ্রহের কাজ করেন।

এম এস পি-তে পণ্য কেনার জন্য রাজ্য সরকারের অনুমোদিত সংস্থাগুলি হল —

  • ই সি এস সি, বেনফেড, এন সি সি এফ ইত্যাদি।

জেলা, মহকুমা ও ব্লক পর্যায়ের কোন আধিকারিকরা এর তদারকি ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থাকেন?

জেলা খাদ্য নিয়ামক ( ডি সি এফ এস), মহকুমা খাদ্য নিয়ামক (এস সি এফ এস) এবং ব্লক স্তরে খাদ্য পরিদর্শ এই দায়িত্বে থাকবেন।

রাইস মিলগুলো চাষিদের থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান কিনতে কতখানি দায়বদ্ধ ?

সম্পূর্ণরূপে দায়বদ্ধ। এম এস পি তে কোনও মিল ধান না কিনলে সরকার তার থেকে লেভি নেবে না।

‘ফেয়ার অ্যাভারেজ কোয়ালিটি’র ধান বলতে কী বোঝা যাবে?

‘ফেয়ার অ্যাভারেজ কোয়ালিটি’ বলতে কতকগুলি সূচকের ভিত্তিতে ধানের গুণগত মানের একটা সীমা ঠিক করা হয়। যে সীমার নীচে থাকা ধান এম এস পি তে কেনা যায় না। সাধারণ ভাবে নতুন ঝাড়াই বাছাই করা সব ধানই ‘ফেয়ার অ্যাভারেজ কোয়ালিটি’র উপরে থাকে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা ভেজাল না দিলে কোনও ধানের মান ‘ফেয়ার অ্যাভারেজ কোয়ালিটি’র নীচে নামে না।

রাইস মিলগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি কোনও ব্যবস্থা বা আইন আছে কি?

হ্যাঁ আছে। ১৯৫৫-এর পশ্চিমবঙ্গ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের ৩ নং ধারা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ওই ধারা অনুযায়ী আমাদের রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গ চালকল ও পাইকারি বিক্রেতা (নিয়ন্ত্রণ ও লেভি) আদেশ অনুযায়ী রাইস মিল ও পাইকারি চাল ব্যবসায়ীর ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রতি বছর কে এম এস (খরিফ মার্কেটিং সিজন) অনুযায়ী লেভির পরিমাণ আলাদা করে প্রকাশ করা হয়।

শস্য সংগ্রহের কাজে জেলা শাসক, এসডিও বা বিডিও-দের ভূমিকা কী ?

আধিকারিকগণ তাঁদের স্তরে মনিটরিং বা তদারকি করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা পরিষদের ভূমিকা কী ?

জেলা পরিষদ জেলা স্তরের মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে রাইস মিল, এফ সি আই, রাজ্য সরকারের অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে সমন্বয় সাধন করবে যাতে এই খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচি সফল ভাবে পরিচালিত হতে পারে।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

ক্রেতা সুরক্ষা আইন

ক্রেতা সুরক্ষা আইন কি?

উচিত দামে সঠিক পণ্য বা জিনিস পাওয়া হল ক্রেতাদের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষার্থে ১৯৮৬ সালে একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনটির পরিধি আরও বিস্তৃত করার জন্য ১৯৯৩ সালে এটি সংশোধিত হয়। বর্তমানে এই আইনটি শুধু ক্রেতাদের (buyers) মধ্যেই সীমিত নয়, এটি উপভোক্তাদের (consumers) অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।

ক্রেতা বা উপভোক্তা কারা?

যিনি বা যাঁরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য দাম দিয়ে জিনিস কেনেন, অথবা কোনও কিছু ভাড়া নেন, কিংবা কোনও পরিষেবা গ্রহণ করেন - তাঁরা সকলেই হলেন ক্রেতা বা উপভোক্তা। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, পুরো দাম নগদ না দিলেও চলবে। পরে দাম দেবেন কথা দিয়ে আংশিক অগ্রিম দিলেও তাঁরা ক্রেতা বা উপভোক্তা হিসেবে গণ্য হবেন। কিন্তু ব্যবসার উদ্দেশ্যে জিনিস কিনলে বা পরিষেবা গ্রহণ করলে এই আইনের সংজ্ঞা অনুসারে তাঁরা ক্রেতা বা উপভোক্তা হিসেবে গণ্য হবেন না।

ক্রেতা সুরক্ষার আইনের সুযোগ কারা পেতে পারেন?

জম্মু ও কাশ্মীর বাদ দিয়ে অন্য যে-কোনও রাজ্যের ক্রেতা/ উপভোক্তা এই আইনের সুযোগ নিতে পারেন।

ক্রেতা হিসেবে আপনি কোন কোন ক্ষেত্রে এই আইনের সুযোগ নিতে পারেন?

আপনি নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলির ক্ষেত্রে এই আইনের সুযোগ নিতে পারেন।
- আপনি যে জিনিস কিনেছেন বা কিনতে সন্মত হয়েছেন, তাতে যদি এক বা একাধিক দোষ বা ত্রুটি থাকে।
- আপনি যে পরিষেবা ভাড়া করেছেন বা ভাড়া করার জন্য চুক্তি করেছেন, তাতে যদি কোন অপরিপূর্ণতা বা ঘাটতি থাকে।
- যদি কোনও ব্যবসায়ী জিনিসের জন্য নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত দাম আপনার কাছ থেকে নিয়ে থাকেন। (নির্ধারিত দাম বলতে এখানে বোঝাচ্ছে - জিনিসটির ওপর বা যে প্যাকেজের মধ্যে জিনিসটি আছে তার ওপর লিখিত দাম কিংবা আইনের দ্বারা স্বীকৃত দাম)।
- ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে-সব জিনিস জীবনের পক্ষে বিপদ্জনক - নিরাপত্তা হানিকর সেই সমস্ত জিনিস যখন নির্দেশিত বিধি না মেনে বিক্রি করা হয় বা বিক্রির উদ্দেশ্যে তার তথ্যাদি প্রদর্শন করা হয়।
- যদি কোনও ব্যবসায়ী অবৈধ ব্যবসা বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবসা চালায় বা অনুশীলন করে।

কোন ধারার ওপর ভিত্তি করে আপনি আপনার অভিযোগপত্র জমা দেবেন?

ক্রেতা সুরক্ষা আইনের 12 নং ধারায় আপনার আবেদনপত্র বা অভিযোগপত্র জমা দিন।

অভিযোগপত্র কার কাছে জমা দেবেন?

- আপনার ক্ষতিপূরণের মূল্য যদি পাঁচ লক্ষ টাকার মধ্যে হয়, তাহলে আপনার অভিযোগপত্র জমা দেবেন জেলা কন্সিউমার ফোরামে।
- আপনার ক্ষতিপূরণের মূল্য যদি পাঁচ লক্ষ থেকে কুড়ি লক্ষ টাকার মধ্যে হয়, তাহলে আপনার অভিযোগপত্র জমা দেবেন রাজ্য কমিশনে।
- আপনার ক্ষতিপূরণের মূল্য যদি কুড়ি লক্ষ টাকার অধিক হয়, তাহলে আপনার অভিযোগপত্র জমা দেবেন জাতীয় কমিশনে।


অভিযোগপত্র কিভাবে জমা দেবেন?

আপনার অভিযোগপত্র সাদা পাতায় লিখিত ভাবে জমা দিলেই চলবে।


অভিযোগপত্র জমা দেবার ফি কত?

অভিযোগপত্র জমা দিতে কোনও কোর্ট ফি লাগে না।


অভিযোগপত্র কত দিনের মধ্যে জমা দেবেন?

ঘটনার সময় থেকে দু বছরের মধ্যে আপনার অভিযোগ পত্র দাখিল করতে পারেন। তবে বিচারক ইচ্ছে করলে এই সময়ের পরেও আপনার অভিযোগ পত্র গ্রহণ করতে পারেন।


অভিযোগপত্র জমা দেবার জন্য কি কোনও উকিলের প্রায়োজন আছে?

অভিযোগ দাখিলের জন্য (কিংবা তারপরেও) কোনও উকিল লাগে না।

অভিযোগ পত্র জমা দেবার কত দিনের মধ্যে আপনি প্রতিবিধান পাবেন?

সাধারণতঃ বিবাদীপক্ষ ফোরামের বিজ্ঞপ্তি পাবার পর থেকে ৯০ দিনের মধ্যে আপনি আপনার প্রতিবিধান পেতে পারেন।


কারা উপভোক্তা বা ক্রেতা নন?

ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেউ কিছু ক্রয় করলে বা কোনও পরিষেবা গ্রহণ করলে - এই আইন অনুসারে তাকে ক্রেতা বা উপভোক্তা বলে গণ্য করা হয় না।


কোন কোন সংস্থার ক্ষেত্রে আপনি এই আইনের সাহায্য পেতে পারেন?

সাধারণ দোকান বা বিক্রয়কারী সংস্থাগুলি অবশ্যই এর আওতায় পড়ে। তবে এই আইনের বিস্তৃতি খুবই ব্যাপক। যেমন, ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, টেলিফোন, বিদ্যুত্, রান্নার গ্যাস, চিকিত্সক, ফ্রিজ, রেল, কেব্ল টিভি, ক্যুরিয়ার সার্ভিস, ইত্যাদির বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ থাকলে আপনি এদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ পত্র দাখিল করতে পারেন। প্রভিডেণ্ট ফাণ্ড, গ্র্যাচুইটি, পেনসন অথবা অবসরকালীন সুবিধে না পাওয়ার জন্য মালিকের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ পত্র দাখিল করার অধিকার আছে। বেসরকারী হাসপাতাল, নার্সিংহোম, বেসরকারী চিকিত্সক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কিছু ক্ষেত্রে) ইত্যাদির বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগও এই আইনের আওতায় পরে।


হেরে গেলে বা ক্ষতিপূরণ না পেলে আপনি কি করতে পারেন?

আপনার অভিযোগের সুরাহা না হলে আপনি অবশ্যই আপীল করতে পারেন।


আপীল করলে কোথায় তা করবেন?

- জেলা ফোরামের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে আপনাকে তা ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে রাজ্য কমিশনে।
- রাজ্য কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে আপনাকে তা ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে জাতীয় কমিশনে।


কেসের রায় কার্যকরী না করলে কোন শাস্তিমূলক বিধান এই আইনে আছে কি?

কেসের সিদ্ধান্ত অভিযুক্ত না মানলে অভিযুক্তকে নিম্নোক্ত যে কোন একটি বা সব কটি শাস্তিই দেওয়া হতে পারে:
- কম পক্ষে একমাস, সর্বাধিক তিন বছরের কারাবাস।
- কম পক্ষে 2,000 (দু হাজার) টাকা, সর্বাধিক 10,000 (দশ হাজার) টাকা জরিমানা।


অভিযোগ পত্রে কি কি লিখবেন?

- আপনার নাম ও সম্পূর্ণ ঠিকানা।
- যার বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, তার বা তাদের নাম ও সম্পূর্ণ ঠিকানা।
- জিনিস কেনা/ভাড়া নেওয়া/পরিষেবা গ্রহণের তারিখ।
- দাম হিসেবে দেওয়া টাকার পরিমান।
- কেনা বা ভাড়া নেওয়া জিনিসটির বর্ণনা ও তার পরিমাণ/পরিমাপ বা পরিষেবার প্রকৃতি।
- অভিযোগ কি ধরণের; অসাধু ব্যবসা সম্পর্কে/ত্রুটিপূর্ণ দ্রব্য সম্পর্কে/পরিষেবা ক্ষেত্রে ঘাটতির বিষয়/বেশী দাম নেওয়া সম্পর্কে।
- মূল্যপত্র বা বিল/ভাউচার/রসিদ আর এই ব্যাপারে চিঠিপত্র যদি কিছু থাকে।
- আপনি কি ধরণের প্রতিবিধান চাইছেন।

মনে রাখবেন: তুচ্ছ কারণে বা হয়রাণি করার উদ্দেশ্যে অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগকারীরই জরিমানা হতে পারে।


কয়েকটি ক্রেতা-সুরক্ষা জেলা ফোরামের (কনসিউমার ডিসপিউট্স রিড্রেসাল ফোরাম) ঠিকানা:

উত্তর 24 পরগনা: 7 কে.বি. বোস রোড, বারাসত।

দক্ষিণ 24 পরগনা: 18 জজেস কোর্ট রোড, আলিপুর, কলকাতা 700027, ফোন 2479-4335।

হাওড়া: রেড কোর্ট বিল্ডিং, হাওড়া, 711001, ফোন 2660-0892।

কলকাতা (ইউনিট 1): ভবানী ভবন (এক তলা), কলকাতা 700027, ফোন 2479-4862।

কলকাতা (ইউনিট 2): 8বি নেলী সেনগুপ্ত সরণী (সাত তলা), কলকাতা 700087।


পশ্চিমবঙ্গের ক্রেতা-সুরক্ষা রাজ্য কমিশনের ঠিকানা:

স্টেট কনসিউমার ডিস্প্যুটস রিড্রেসাল কমিশন: ভবানী ভবন (এক তলা), কলকাতা 700027, ফোন 2479-4916।


অন্যান্য জেলা ফোরামের ঠিকানার জন্য ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে যোগাযোগ করুন:

ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের ঠিকানা:
11এ মির্জা গালিব স্ট্রিট
কলকাতা 700087
ইমেইল sec.cons@wb.nic.in
ওয়েবসাইট: http:kolkata.wb.nic.in/consumer

সামাজিক সহায়তামূলক প্রকল্পসমূহ

জাতীয় সামাজিক সহায়তা প্রকল্প

এর আওতায় ৪ ধরনের প্রকল্প আছে।

আবশ্যিক শর্ত : বিপিএল তালিকা ভুক্ত হতে হবে। সরকারি অন্য কোন পেনশন বা সহায়তা প্রাপক হলে এই সহায়তা পাওয়া যাবে না।

সহায়তা দেন : সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগের পক্ষে পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাহী আধিকারিক এই পেনশন ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠান।

ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বার্ধক্য ভাতা

শর্ত

৬০ বা তার বেশি বয়স্ক বি পি এল তালিকা ভুক্ত পরিবারের সদস্য।

উপভোক্তা সনাক্ত

গ্রাম পঞ্চায়েতের সংসদ সভায় RHS তালিকা অনুযায়ী নামগুলি সনাক্ত করা হয় ও উপযুক্ততা বিচার করা হয়। অনুপযুক্ত নাম বাদ দেওয়া হয়।

কী সুবিধা দেওয়া হয়

মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। ৬০ থেকে ৭৯ পর্যন্ত বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাদের জন্য ৪০০ টাকা। ৮০ বছরের ঊর্ধ্বদের জন্য ১০০০ টাকা।

ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বিধবা ভাতা

উপভোক্তা কে

৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়সি দারিদ্রসীমার নীচে এলাকায় বসবাসকারী বিধবা মহিলা নাগরিক।

উপভোক্তা সনাক্ত কী ভাবে হবে

গ্রামীণ পরিবার তালিকায় বি পি এল রূপে নথিভুক্ত পরিবারের সদস্যা হবেন প্রাথমিক ভাবে। গ্রাম পঞ্চায়েতের সংসদ সভায় অনুপযুক্তদের নাম বাদ দেওয়া যেতে পারে।

কী সুবিধা দেওয়া হয়

মাসিক ৬০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়।

ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় প্রতিবন্ধী ভাতা

উপভোক্তা কে

১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সি দারিদ্রসীমার নীচে এলাকায় বসবাসকারী ৮০ শতাংশ বা তার বেশি প্রতিবন্ধকতা যুক্ত নাগরিক।

উপভোক্তা

গ্রামীণ পরিবার তালিকায় বি পি এল রূপে নথিভুক্ত পরিবারের সদস্য হবেন প্রাথমিক ভাবে। গ্রাম পঞ্চায়েত সংসদ সভায় অনুপযুক্তদের নাম বাদ দেওয়া যেতে পারে।

সুবিধা

মাসিক ৬০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়।

ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় পরিবার সহায়তা প্রকল্প

উপভোক্তা কে

পরিবারের মুখ্য উপার্জনশীল ১৮ বছর বয়সের ঊর্ধ্ব কিন্তু ৬০ বছরের কম কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে পরিবারটিকে আর্থিক বিপর্যয়ের হাত থেকে উদ্ধারের জন্য এককালীন ৪০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়।

উপভোক্তা সনাক্ত কী ভাবে হবে

মৃত্যু শংসাপত্র , অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট , বয়সের প্রমাণপত্র ইত্যাদি দিয়ে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাহী আধিকারিকের কাছে দরখাস্ত করতে হবে।

কী সুবিধা আছে

পরিবারটিকে এককালীন ৪০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

পেনশন প্রকল্প

ভূমিকা

মানুষের অবসর জীবনে যখন খাআর ক্ষমতা চলে যায় বা মানসিক ভাবেও সে শ্রম প্রদান করতে সক্ষম হয় না তখন পেনশনের মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প তাঁকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান করে। আগে শুধু সরকারি কর্মচারীরাই পেনশন প্রকল্পের সুযোগ গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু ইদানীং পেনশনের সুবিধা বিস্তৃত হয়েছে। বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরতরাও ব্য‌াঙ্কের মাধ্য‌মে বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের মাধ্য‌মে অবসর নেওয়ার পর পেনশন পেতে পারেন। পেনশনের জন্য‌ সর্বমিম্ন বয়স সীমা প্রভিডেন্ট ফান্ডের ক্ষেত্রে ৫৮ বছর ধরা হয়েছে। এ চাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্য‌াঙ্কও আকর্ষণীয় হারে জমা পড়া রাশির উপর পেনশন দিয়ে থাকে। লাইপ ইন্সিওরেন্স করপোরেশনের মতো কোম্পানি বিমার প্রিমিয়ামের ভিত্তিতে পেনশন দিয়ে থাকে। ইদানীং অবশ্য‌ সরকার নিজের টাকা থেকে পেনশন দেওআ বন্ধ করেছে। এখন কোনও সরকারি কর্মচারী নিজেরা যা সঞ্চয় করতে পারবেন তার থেকেই ভবিষ্য‌তে পেনশন পাবেন। এর জন্য‌ বিভিন্ন ব্য‌াঙ্ক ও অন্য‌ান্য‌ নানা ধরনের সঞ্চয় প্রকল্পের ব্য‌বস্থা রাখা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমাজ কল্যাণ বিভাগ এই পেনশন দেয়। ৩ রকমের পেনশন দেওয়া হয়।

শর্ত :

  • উপভোক্তাকে প্রকৃত দরিদ্র হতে হবে (বিপিএল তালিকায় নাম না থাকলেও চলবে)।
  • কোটাভিত্তিক, পঞ্চায়েত সমিতি উপভোক্তা ঠিক করে।
  • মাসিক ৭৫০ টাকা করে পেনশন পাওয়া যাবে।
  • বিডিও ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের উপভোক্তার অ্যাকাউনেটের মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন।
  • অন্য কোনও সরকারি পেনশন প্রকল্পের আওতাভুক্ত হওয়া চলবে না।

যোগাযোগ : পঞ্চায়েত সমিতির কার্য্য‌ালয়। ব্লক সমাজ কল্যাণ আধিকারিক।

বার্ধক্য ভাতা

উপভোক্তা কে

বয়স ৬০ ঊর্ধ্ব নাগরিক হতে হবে।

বিধবা ভাতা

উপভোক্তা কে

বয়স ১৮ ঊর্ধ্ব নাগরিক হতে হবে। বিধবা হতে হবে।

প্রতিবন্ধী ভাতা

উপভোক্তা কে

বয়স ১৮ ঊর্ধ্ব নাগরিক হতে হবে। ন্যূনতম ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতা থাকতে হবে।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সহায়তা

বিভিন্ন ধরনের সহায়তা এই বিভাগ থেকে পাওয়া যায়।

সহায়তা দেন : সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের পক্ষে বিডিও।

যোগাযোগ : ব্লকের বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক। পঞ্চায়েত সমিতির নারী ও শিশু উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও ত্রাণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ।

খয়রাতি দান ( স্পেশাল জি আর )

অনুদানের পরিমাণ চাল / গম ১২ কিলো এক ইউনিট বা ১২০ টাকা। ব্লক এলাকার যে কোন দরিদ্র মানুষের অনাহার অবস্থা তৈরি হলে তাকে এই রিলিফ দেওয়া হয়। বিডিও অফিস থেকে এই জি আর পাওয়া যাবে।

রিলিফ বা ত্রাণ

বন্যা বা প্রাকৃতিক বির্পযয়ের বা আগুনে ঘর বাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে ত্রিপল , জামা , কাপড় , কম্বল ইত্যাদি তদন্ত সাপেক্ষে দেওয়া হয় বিডিও অফিস থেকে। ত্রাণ শিবির করা হলে সেখানে রান্না খাবার ব্যবস্থা করা হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

গৃহ নির্মাণে অনুদান

বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বসবাস গৃহ পুন : নির্মাণে অনুদান দেওয়া হয়। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ক্ষেত্রে ৩২০০ টাকা এবং পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ক্ষেত্রে ১৫০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। ( উপভোক্তাকে বি পি এল তালিকাভুক্ত হতে হবে ) ।

এককালীন অনুদান

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যু ঘটলে এককালীন পরিবারটিকে ২০০০০০ টাকা , সর্পাঘাতে মৃত্যু হলে ১০০০০০ টাকা দেওয়া হয়।

এই গ্রান্ট পেতে গেলে ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বি ডি ও অফিসের বির্পযয় মোকাবিলা দফতরের নজরে আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে মৃতদেহের ময়না তদন্ত করা বাধ্যতামূলক। ( পরিবারকে দু : স্থ হতে হবে ) ।

ইয়ার গ্রান্ট

অতি দু : স্থদের ( যারা জি আর পাওয়ার উপযুক্ত ) তাদের ১০০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য দেওয়া হয়।

শিশু, কিশোর ও নারী সুরক্ষায় প্রকল্প

উদ্দেশ্য

অনাথ শিশু , কিশোরী সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা।

উপভোক্তা

অনাথ এবং বিপদগ্রস্ত শিশু , কিশোরী ও মহিলা

সুবিধা

আই সি ডি এস সহ সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্বল্পকালীন আবাস এবং হোমের ব্যবস্থা আছে।

যোগাযোগ

ব্লকের সি ডি পি ও , বি ডব্লু ও এবং জেলার সমাজ কল্যাণ আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

ভবিষ্যনিধি প্রকল্প

ভূমিহীন কৃষিশ্রমিকদের জন্য‌ ভবিষ্য‌নিধি প্রকল্প

এটি একটি ভবিষ্য‌তের সুরক্ষার জন্য‌ প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রকল্প

  • ১) এই প্রকল্পে উপভোক্তাকে মাসিক ২০ টাকা করে জমা দিতে হবে।
  • ২) রাজ্য‌ সরকারও সমপরিমাণ অর্থ অর্থাৎ ২০ টাকা করে ওই ব্য‌ক্তির অনুকূলে জমা রাখবেন। এই জমা দেওয়া চলবে উপভোক্তার বয়স ৫৯ বছর হওয়া পর্যন্ত।
  • ৩) ৫৯ বছর বয়স পূর্ণ হলে তাঁর এবং রাজ্য‌ সরকারের দেওয়া মোট টাকা সুদ সহ ফেরতযোগ্য‌ হবে।
  • ৪) রাজ্য‌ সরকারের কর্মচারীরা তাঁদের ভবিষ্য‌নিধি প্রকল্পে জমা টাকার উপরে যে বছরে যে হারে সুদ পেয়ে থাকেন, এ ক্ষেত্রেও সেই একই হারে সুদ দেওয়া হবে।

প্রশ্নঃ এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে গেলে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে?

উঃ

  • (ক) ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক হতে হবে।
  • (খ) বয়স ১৮ থেকে ৫৯-এর মধ্য‌ে হতে হবে।
  • (গ) তাঁর নামে বাস্তু-সহ মোট জমি ০.৫০ একর অর্থাৎ ৫০ শতকের কম থাকতে হবে।
  • (ঘ) যাঁর কোনও রকম কৃষি বা অন্য‌ প্রকারের জমিতে উত্তরাধিকার স্বত্ব নেই যা তাঁর জমির সঙ্গে যোগ করলে ০.৫০ একর অর্থাৎ ৫০ শতকের বেশি হতে পারে।
  • (ঙ) তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সম্মিলিত আয়ের প্রধান উৎস হবে কৃষিশ্রম বা খেতমজুরি থেকে।

এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য‌ যে কোনও সময় সরাসরি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে অথবা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য‌ মারফত নির্দিষ্ট ফর্মে (ফর্ম নং ১) প্রধানের কাছে আবেদন করতে হবে।

শহরাঞ্চলে বহুদিন যাবৎ অপ্রথাগত ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ভবিষ্য‌নিধি প্রকল্প চালু আছে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে একমাত্র বিড়ি শ্রমিক ছাড়া অপ্রথাগত ক্ষেত্রে ভবিষ্য‌নিধি প্রকল্পের আওতায় অন্য‌ কোনও শ্রমিক পড়েন না। সে ক্ষেত্রে ভূমিহীন কৃষিশ্রমিকদের ভবিষ্য‌নিধি প্রকল্প চালু করাটা অভূতপূর্ব কাজ। এর ফলে শহরাঞ্চলের অপ্রথাগত শ্রমিকদের গ্রামাঞ্চলের শ্রমিকরাও অবসর নেওয়ার পর একটু অন্তত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন।

সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া

শ্রম দফতরের অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য‌ ভবিষ্য‌নিধি প্রকল্প

এটি একটি প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রকল্প, বৃদ্ধ ও অক্ষম হয়ে গেলে বাকি জীবনের সুরক্ষা বা ভবিষ্য‌তের সুরক্ষা।

এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে কী কী শর্ত পূরণ করতে হয়?

উঃ পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত তালিকাভুক্ত শিল্পে এবং স্বনিযুক্তি পেশায় নিযুক্ত শ্রমিক-

  • যাঁর বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্য‌ে
  • যাঁর পারিবারিক মাসিক গড় আয় ৬৫০০ টাকার বেশি নয়।
  • পারিবারিক আয়ের উৎস শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত শিল্প বা