অসমীয়া   বাংলা   बोड़ो   डोगरी   ગુજરાતી   ಕನ್ನಡ   كأشُر   कोंकणी   संथाली   মনিপুরি   नेपाली   ଓରିୟା   ਪੰਜਾਬੀ   संस्कृत   தமிழ்  తెలుగు   ردو

ধানের কীটশত্রু দমন

কীটশত্রু পরিচিতি

মাজরা পোকা

এ রাজ্যে হলুদ মাজরা পোকার উপদ্রব বেশি দেখা যায়। পূর্ণাঙ্গ হলুদ মথ পাতার নীচের বা উপরের দিকে সাদা পুথির মত গুচ্ছাকারে দিম পাড়ে। দিম ফুটে সবুজ কীড়া বেরিয়ে এসে কাণ্ডের ভিতর প্রবেশ করে। কীড়া কাণ্ডের ভিতরের অংশ কুড়ে কুড়ে খায়। পাশকাঠি ছাড়ার সময় এদের আক্রমন হলে মরা পাশকাঠি হয়। শিষ বের হওয়ার সময় আক্রমন হলে মরা শিষ হয়। সাধারনত পাশকাঠি ছাড়া থেকে ফুল আসা পর্যন্ত এদের আক্রমন দেখা যায়।

পাতামোরা পোকা

এই পোকার সবুজ কীড়া মুখের লালা দিয়ে পাতার দুই কিনারা জুড়ে নল সৃষ্টি করে। এই নলের মধ্যে কীড়া থেকে সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। আক্রান্ত পাতার ডগা সাদাটে হয়। আক্রমন বেশি হলে পাতার উপর অংশ খড়ের মত দেখায়। এটিও পাশকাঠি ছাড়া থেকে ফুল আসা পর্যন্ত ক্ষতি করে।

সবুজ শ্যামাপোকা

সবুজ রঙের পোকা গাছের গোড়া থেকে রস চুষে খায় এবং গাছ হলদে হয়ে ঝলসে যায়। রস চোষার সময় এরা টুংরো ভাইরাস গাছের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। পাশকাঠি বের হওয়ার সময় অল্প সংখ্যায় দেখা গেলেও ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয় কচি থোর থেকে ধান পাকা পর্যন্ত কারন এই সময় এদের সংখ্যা বেড়ে যায়।

গন্ধি পোকা

পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ কীট ধানের বৃদ্ধির শিষ আসার সময় বেশি ক্ষতি করে। এরা ধানের শিষের দুধ চুষে খায়। ধান আংশিক বা সম্পূর্ণ চিটে হয়ে যায়। ধানের যে অংশ চুষে খায় সেই অংশ বাদামী রঙের ক্ষত বা দাগ দেখা যায়।

নিয়ন্ত্রণে প্রথম পদক্ষেপ

 

dhan_intro

সহনশীল জাত

সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ হল সহনশীল অ কীট প্রতিরোধী জাত নির্বাচন। দীর্ঘমেয়াদী জাতের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি জাত নির্বাচন। স্বর্ণ ও আইআর-৩৫ পোকা সহনশীল জাত। বর্তমানে আরও কীট সহনশীল ও প্রতিরোধী জাত ব্যবহার হচ্ছে।

জমি তৈরি

ধানের জমি তিন থেকে চার বার গভীর চাষ দিয়ে কর্ষণ করতে হবে এবং রোদ খাওয়াতে হবে। জমিটিকে আগাছা ও পূর্ববর্তী ফসলের গোড়া ও নারা তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

বীজ তলায় শস্য রক্ষা

গাছের চারাকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য বীজতলায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। এরফলে কীটনাশকের উপর খরচ কম হয় এবং মূলজমিতে কীটশত্রুর বিস্তার কম হয়। মাজরা পোকা দমনে এই ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে।

চারা শোধন

বীজ তোলা থেকে চারা তোলার পর পাতার উপরের দিকে খানিকটা ছিঁড়ে ফেলতে হবে। এরফলে মাজরা পোকা ও পাতামোরা পোকার দিম নষ্ট হবে। চারা লাগানোর আগে শোধন করতে হবে। সেক্ষেত্রে ৩ মিলি ইমিডাক্লোপিড প্রতি ১০ লিটার জলে মিশিয়ে চারা শোধন করতে হবে।

মূল জমি তৈরি

পচানো জৈব সার জমিতে ভাল ভাবে মেশাতে হবে। আলের ধারের আগাছা নষ্ট করতে হবে। সুপারিশ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে।

চারা রোয়া

সঠিক দূরত্বে চারা বসাতে হবে। বাদামী শোষক পোকার আক্রমণ যেখানে বেশী সেখানে ঘন করে বসানো যাবে না। সেক্ষেত্রে প্রতি সাত থেকে আট সারির পর একসারি রোয়া যাবে না। এছাড়া নিয়মিত আগাছা নিয়ন্ত্রন ও প্রয়োজন মত জলসেচ দেওয়া উচিত।

প্রয়োজনীয় মনে রাখার কথা

  1. নিয়মিত জমি পরিদর্শন ও আক্রান্ত পাতা তুলে পুড়িয়ে ফেলা।
  2. বন্ধুপোকা যেমন বিভিন্ন মাকড়সা, ফড়িং এবং লম্বা শুঁড়যুক্ত গঙ্গা ফড়িং জমিতে যত বেশি থাকবে শত্রু পোকার সংখ্যা কমবে।
  3. রোগ ও পোকার আক্রমণ বেশি হলে নাইট্রোজেন সার চাপান হিসাবে ব্যভার না করে মিউরিয়েট অব পটাশ সার বিঘা প্রতি ৫ কেজি হারে ব্যবহার করা যেতে পারে। রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হলে তখন চাপান হিসাবে নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করা যেতে পারে।
  4. নির্দিষ্ট সময় অন্তর পাঠশালা দেওয়া উচিত। এরফলে আলো বাতাস গাছের গোরাতে প্রবেশ করতে পারে।
  5. পাটের দরি কেরসিনে ভিজিয়ে ধানের জমির উপর টানলে পামরি ও চুঙ্গি পোকাকে দমন করা যায়।
  6. ইঁদুর ও শীষকাটা লেদা পোকা নিয়ন্ত্রনে জমিতে পাখি বসার জন্য গাছের ডালপালা পোঁতার ব্যবস্থা করতে হবে।
  7. সন্ধ্যাবেলায় জমির বিভিন্ন স্থানে মশাল জ্বালিয়ে মাজরাপোকা ও শ্যামাপোকা দমন করা যায়।
  8. ধানের কীটশত্রু দমনের ক্ষেত্রে আমাদের জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত যেমন নিমজাত কৃষি বিষ। তামাক পাতার নির্যাস। জৈব কীটনাশক কীটশত্রু ধ্বংস করলেও বন্ধু পোকার কোন ক্ষতি করে না। রাসায়নিক কীটনাশক আমরা সবসময় সর্বশেষ কৌশল হিসাবে গ্রহণ করব।

কীটশত্রু নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারঃ সময়সূচী

গাছের চারাকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য বীজতলায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। এরফলে কীটনাশকের ওপর খরচ কম হবে এবং মূলজমিতে কীটনাশকের বিস্তার কম হয়। মাজরা পোকা নিয়ন্ত্রনে এই ব্যবস্থা গ্রহন করলে মূলজমিতে পোকার আক্রমণ অনেক কম হয়।

লক্ষ করলে দেখা যাবে ধানের জমিতে প্রথম দিকে অর্থাৎ চারা অবস্থা থেকে পাশকাঠি বার হওয়া পর্যন্ত সময়ে মাজরা পোকা ও পাতামোরা পোকার আক্রমণ বেশি থাকে। এরপর পাশকাঠি বার হওয়া থেকে কচি থোর আসার সময় পর্যন্ত মাজরা, পাতামোরা বেশি পরিমানে থাকলেও সবুজ শ্যামা পোকা ও স্থান বিশেষে বাদামি শোষক পোকার আক্রমণ আরম্ভ হয়। থোর আসা থেকে ধান পাকা পর্যন্ত সবুজ শ্যামা পোকা ও বাদামী শোষকের আক্রমণ বেশি হয় এবং মাজরা ও পাতামোরা পোকার পরিমান ক্রমশ কমতে থাকে।

তাই আমরা যখন রাসায়নিক পদ্ধতিতে পোকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহন করব তখন অবশ্যই উপরোক্ত ব্যাপারটি মনে রাখব। কৃষি ক্ষেত্রে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় সর্বশেষ কৌশল হিসাবে। রাসায়নিক ব্যবহার করব ক্ষতির মাত্রা আর্থিক সীমারেখায় পৌঁছাবার আগে। উপযুক্ত রাসায়নিক কখন ও কিভাবে ব্যবহার করলে পোকাকে দমন করা যায় তাঁর পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হল।

বীজতলা

যেহেতু বীজতলায় মাজরা ও পাতামোরার আক্রমণ দেখা যায় তাই বীজতলায় ২০ থেকে ২১ দিনের মাথায় ক্লোরপাইরিফস ২০% ইসি ২.৫ মিলি/লি বা ট্রায়াযোফস ২০% ইসি ২ মিলি/লি হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মূলজমি

ধান রোয়ার পর পাশকাঠি বার হওয়ার পর থেকে মাজরা, পাতামোরা ও শ্যামাপোকার আক্রমণ বেশি দেখা যায়। এই সময় কারটপ হাইড্রোক্লোরাইড ৫০% এসপি ১ গ্রাম/লি ট্রায়াযোফস ২০% ইসি ২ মিলি/লি বা অ্যাসিফেট ৭৫% ডব্লিউ পি ০.৭৫% গ্রাম/লি বা (দেলতামেথ্রিন ১% + ট্রায়াযোফস ৩৫%) ইসি ১.৫ মিলি/লি। কচি থোর আসার সময়ে জমিতে শ্যামাপোকা, বাদামী শোষক ও মাজরা পোকার সংখ্যা বেশি থাকে। এই সময় মাজরা পোকার সংখ্যা বেশি থাকলে আসিফেট ৭৫% ডব্লিউ পি ০.৭৫ গ্রাম/লি বা ফিপ্রোনিল ১ মিলি/লি বা লান্সার গোল্ড (ইমিডাক্লোরপ্রিড + অ্যাসিফেট) ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি শ্যামাপোকা ও বাদামী শোষক পোকার সংখ্যা বেশি হয় তখন বিউপ্রোফেজিন ১.৫ মিলি – ২ মিলি/লি বা থায়ামিথাস্ক্রোম ১গ্রাম/৩লি বা ল্যানসার গোল্ড ২ গ্রাম/লি ব্যাভার করতে হবে। সুতরাং জমিতে কি ধরনের কীটশত্রু আছে তা জেনে এবং তার পরিমান জেনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

কখন কখন দুধদানা পর্যায়ের পরবর্তীকালে বাদামি শোষকের আক্রমণ বেশি দেখা দিলে থায়ামিথাস্ক্রোম ১ গ্রাম/৩লি বা বিউপ্রোফেজিন ১.৫মিলি – ২মিলি/লি বা ডাইনোটিফিউরান ২০% এসজি ০.৫ গ্রাম/লিটার বা ফ্লোনিসামিড ৫০% ডব্লিউজি ০.৫ গ্রাম/ লিটার ব্যাবহার করতে হবে।

মনে রাখা দরকার

রাসায়নিক ব্যাবহারের ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে যে একই ধরনের রাসায়নিক পরপর যেন ব্যাবহার করা হয়। একই রাসায়নিক ব্যাবহার করলে পোকার মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় এবং পরবর্তীকালে পোকা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যায়।

বিশ্ব উষঞ্ঝায়নের ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও অনিয়ন্ত্রিত কৃষি বিষের ব্যাবহার ধানের পোকার ক্ষেত্রে কিছু চরিত্রগত পরিবর্তন তৈরি করেছে। ফলে যেসব পোকা এক সময় ধানের জমিতে নিরীহ ভাবে অবস্থান করত টা এখন ভয়ংকর সমস্যার সৃষ্টি করছে। দেখা যাচ্ছে সঠিক সময়ের অনেক আগেই তারা জমিতে উপস্থিত হচ্ছে এবং অনেকদিন পর্যন্ত তারা জমিতে থেকে যাচ্ছে। পোকাদের মধ্যে আবহাওয়া ও কৃষি বিষ প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। তাই আমাদের সবাইকে সুচিন্তিত, সুনিয়ন্ত্রিত ও সমবেত ভাবে পরিবেশের অনুকুলে নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা গ্রহন করে ধানের কীটশত্রু দমন করে উৎপাদন বৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হবে।

 

তথ্য ও লেখকঃ S.Kundu, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, বর্ধমান, কেন্দ্রীয় পাট ও সহযোগী তন্তু অনুসন্ধান সংস্থা (ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান পরিষদ), বুদ বুদ, বর্ধমান – ৭১৩৪০৩



© 2006–2019 C–DAC.All content appearing on the vikaspedia portal is through collaborative effort of vikaspedia and its partners.We encourage you to use and share the content in a respectful and fair manner. Please leave all source links intact and adhere to applicable copyright and intellectual property guidelines and laws.
English to Hindi Transliterate