অসমীয়া   বাংলা   बोड़ो   डोगरी   ગુજરાતી   ಕನ್ನಡ   كأشُر   कोंकणी   संथाली   মনিপুরি   नेपाली   ଓରିୟା   ਪੰਜਾਬੀ   संस्कृत   தமிழ்  తెలుగు   ردو

মাছ চাষ নিয়ে আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর

মাছ চাষ নিয়ে আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর
  1. সাধারণভাবে গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবিকার উপায়গুলি কী কী ?
  2. গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষ বর্তমানে জীবিকার জন্য যেসব উপায় অবলম্বন করে থাকেন সেই সব উপায় থেকে সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট রোজগার না হওয়ার কারণগুলি কী কী ?
  3. গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া যে সব মানুষ বর্তমানে জীবিকার জন্য প্রধানত মাছচাষের উপর নির্ভর করেন, এই মাছ চাষ থেকে যথেষ্ট উপার্জন না হওয়ার কারণগুলি কী কী ?
  4. যেসব মানুষ বর্তমানে জীবিকার জন্য প্রধানত মাছ চাষের উপর নির্ভর করেন, তারা মাছচাষের জন্য সাধারণত কী করেন ?
  5. বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাছ চাষ করতে গিয়ে এক বিঘা পুকুরে কত পরিমাণ খরচ ও লাভ হয় ?
  6. গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া যেসব মানুষ বর্তমানে জীবিকার জন্য প্রধানত মাছ চাষের উপর নির্ভর করেন, তাদের মাছ চাষ করতে গিয়ে ঠিক কী কী অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয় ?
  7. গ্রামের পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির মধ্যে যাদের নিজস্ব পুকুর আছে, সেই পুকুরগুলিতে জলের স্বচ্ছতা ও গভীরতা কেমন থাকে ?
  8. পুকুরগুলিতে মাছচাষকে লাভজনক করতে কী কী করা দরকার ?
  9. গ্রামের এই সব পুকুরগুলিতে কী কী জাতের মাছ চাষ করা যেতে পারে ?

সাধারণভাবে গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবিকার উপায়গুলি কী কী ?

উঃ গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষেরা সাধারণ ভাবে চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। কেউ নিজের জমিতে চাষ করেন, আবার কেউ অন্যের জমিতে দিন-মজুর হিসাবে কাজ করেন। এছাড়া কেউ কেউ মাছচাষের কাজ ছাড়াও বাড়িতে হাঁস, মুরগি, ছাগল, গরু ইত্যাদি পালন করে থাকেন। কেউ কেউ আবার ঝুড়ি বোনা, চাটাই বোনা, দড়ি বোনা, মাটির জিনিস তৈরি করা, মাছ ধরার জাল বোনা ইত্যাদি নানান ধরনের কুটর শিল্প বা ছোট ছোট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ধোপা, নাপিত, পুরোহিত পরিষেবার বিনিময়ে উপার্জন করেন। কেউ কেউ আবার বছরের কিছু দিন কাজের খোজে বাইরেও চলে যান। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, নানান উপায়ে গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষেরা জীবিকা নির্বাহ করেন।

গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষ বর্তমানে জীবিকার জন্য যেসব উপায় অবলম্বন করে থাকেন সেই সব উপায় থেকে সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট রোজগার না হওয়ার কারণগুলি কী কী ?

উঃ গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষ জীবিকার জন্য যে সব উপায় অবলম্বন করে থাকেন, সেই সব উপায় থেকে যথেষ্ট রোজগার না হওয়ার প্রধান কারণগুলি হল টাকাপয়সার অভাব, উৎপাদনমূলক কাজগুলি বা পরিষেবার কাজে ঠিকমতো প্রযুক্তি ব্যবহার করতে না পারা, ঠিকমতো বাজার না পাওয়া, দলগতভাবে কাজ করার মনোভাবের অভাব, নিজেদের সম্পদ ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকার সঠিক উপায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে না পারা, নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে সামিল না হতে পারা। প্রধানত এই সব কারণে গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষ যথেষ্ট রোজগার করতে পারেন না।

গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া যে সব মানুষ বর্তমানে জীবিকার জন্য প্রধানত মাছচাষের উপর নির্ভর করেন, এই মাছ চাষ থেকে যথেষ্ট উপার্জন না হওয়ার কারণগুলি কী কী ?

উঃ সব পরিবারের মাছচাষ করার মতো পুকুর বা অন্য জলাশয় নেই, যতটুকু পুকুর বা অন্য জলাশয় আছে তাতে লাভজনকভাবে মাছচাষ করার উপায় ঠিকমতো জানা নেই।ডপায় জানা থাকলেও টাকাপয়সার অভাবে মাছচাষের জন বেশির ভাগ মানুষের মাছচাষের সঠিক যে জিনিসপত্র যোগাড় করতে পারেন না। মাছচাষের জন্য যেসব সরকারি সহায়তা আছে সে বিষয়ে সচেতনতার অভাবের ফলে অনেকে সেই সব সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন না। এই রকম নানা কারণে বেশির ভাগম না |

যেসব মানুষ বর্তমানে জীবিকার জন্য প্রধানত মাছ চাষের উপর নির্ভর করেন, তারা মাছচাষের জন্য সাধারণত কী করেন ?

উঃ সাধারণভাবে মাছচাষ করতে গিয়ে যা করা হয় সেটি হল চারামাছ বা কোনো কোনো সময় ধানীপোনা সরাসরি পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। মাঝে মাঝে মাছ ধরে খাওয়া হয় এবং মাছ বড় হলে পুকুর থেকে তুলে বাজারে পাঠানো হয়। অর্থাৎ, সাধারণত নিবিড়ভাবে মাছচাষ করা হয় না।

বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাছ চাষ করতে গিয়ে এক বিঘা পুকুরে কত পরিমাণ খরচ ও লাভ হয় ?

উঃ বিজ্ঞানসন্মতভাবে মাছ চাষ করতে বিঘা (৩৩ শতক) প্রতি খরচ হয় প্রায় ৬০০০ টাকা। আর লাভ হতে পারে ৭০০০ থেকে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত।

গ্রামের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া যেসব মানুষ বর্তমানে জীবিকার জন্য প্রধানত মাছ চাষের উপর নির্ভর করেন, তাদের মাছ চাষ করতে গিয়ে ঠিক কী কী অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয় ?

উঃ ভালোমানের ডিমপোনা বা ধানীপোনা সহজে পাওয়া যায় না। মাছের কোনো রোগ বা মড়ক হলে পরামর্শ নেবার জন্য কাউকে সহজে পাওয়া যায় না। বাজারে তেমন ভাল দাম পাওয়া যায় না।

গ্রামের পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির মধ্যে যাদের নিজস্ব পুকুর আছে, সেই পুকুরগুলিতে জলের স্বচ্ছতা ও গভীরতা কেমন থাকে ?

উঃ সাধারণত পুকুরগুলির বেশির ভাগ অগভীর, পাক ও আবর্জনায় ভরা, বেশির ভাগ সময় লাল শ্যাওলা ও পানায় ভরা থাকে।

পুকুরগুলিতে মাছচাষকে লাভজনক করতে কী কী করা দরকার ?

উঃ মাছচাষের উপযোগী করার জন্য পুকুরের পাড়গুলির ঝোপঝাড় কেটে ফেলে পরিষ্কার রাখা দরকার। গরম কালে জল তুলে ফেলে পাক তুলে নিয়ে মাটি শুকিয়ে গেলে একটা চাষ দিয়ে দেওয়া ভাল। পরে বৃষ্টির জলে ভরে গেলে বিজ্ঞানসন্মত পদ্ধতি অনুসারে মাছচাষের কাজ অর্থাৎ খইল, গোবর, রাসায়নিক সার ও পরিপূরক খাবার দিয়ে মাছচাষকে লাভজনক করা যায়।

গ্রামের এই সব পুকুরগুলিতে কী কী জাতের মাছ চাষ করা যেতে পারে ?

উঃ পুকুরের পরিমাণ ও জলের গুণাগুন অনুযায়ী রুই,কাতলা ও মৃগেল মাছের মিশ্রচাষ; রুই,কাতলা ও মৃগেল মাছের সাথে আমেরিকান রুই, রুপালি রুই ও ঘেসে রুই দিয়ে ছয় প্রকার মাছের মিশ্রচাষ; শিঙি ও মাগুর মাছের চাষ এবং চিংড়ির চাষ করা যায়।

সু্ত্র: পঞ্চায়েত এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, গভর্নমেন্ট অফ ওয়েস্টবেঙ্গল



© 2006–2019 C–DAC.All content appearing on the vikaspedia portal is through collaborative effort of vikaspedia and its partners.We encourage you to use and share the content in a respectful and fair manner. Please leave all source links intact and adhere to applicable copyright and intellectual property guidelines and laws.
English to Hindi Transliterate