অসমীয়া   বাংলা   बोड़ो   डोगरी   ગુજરાતી   ಕನ್ನಡ   كأشُر   कोंकणी   संथाली   মনিপুরি   नेपाली   ଓରିୟା   ਪੰਜਾਬੀ   संस्कृत   தமிழ்  తెలుగు   ردو

চটজলদি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

মাছ জলজ প্রাণী, জলের মধ্যে তাদের বাস। আমরা তাদের দেখতে পাই না। বিপদে বা যন্ত্রণার আর্তনাদ শুনতে পাই না। এদের জীবনকালও স্বল্প। আর্তনাদে যন্ত্রণায় ইতস্তত ছোটাছুটি করলে এরা খেলছে বলে আমাদের ভ্রম হওয়াটাও খুব বিচিত্র নয়। তাই রোগের লক্ষণ দেখে উপযু্ক্ত ওষুধ প্রয়োগের সময় ও সুযোগ পাওয়া কঠিন। তাই আমাদের জরুরিভিত্তিক চটজলদি কিছু করণীয় কর্তব্য থাকে। যেমন, মাছ কোনও রকম অস্বাভাবিক ব্যবহার করছে বুঝলেই যত্ন সহকারে দেখতে হবে তার এই অস্বাভাবিকতার কারণ কী? স্পষ্ট ও সঠিক কারণ জানতে না পারলেও বোঝা যায় কোনও রকম অস্থিরতা বা অস্বাভাবিকতার কারণ কী। যেমন — খাদ্যাভাব? নাকি মাছের সংখ্যাধিকত্ব বা প্রজননজনিত সমস্যা? রাক্ষুসে মাছের তাড়া? দূষিত জল নাকি হঠাৎ কোনও বিষক্রিয়া অথবা জলাভাব? অসহনীয় জলোত্তাপ (গরম বা ঠান্ডা), নাকি অন্য কোনও রোগ যার কারণ সঠিক ভাবে নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে না? সেটি কি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাসঘটিত না কি পরজীবী ক্ষুদ্র প্রাণী? এই রকম শ্রেণিভুক্ত করতে পারলে কাজ একটু সহজ হয়।

জরুরিভিত্তিক ব্যবস্থা

কোনও রকম ঘা বা ক্ষত জাতীয় রোগ তা সে ভাইরাস, ফাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়া যে কারণেই হোক, তা সুষ্ঠু ও স্পষ্ট ভাবে নির্ণয় করার আগেই আমরা জরুরিভিত্তিক নিম্নরূপ ব্যবস্থা নিতে পারি।

  • (১) যদি ২/১ টা মাছকে আক্রান্ত দেখা যায় তবে তাদের আলাদা করে তুলে পটাশিয়াম পা ম্যাঙ্গানেট (০.১ শতাংশ) ও জলের দ্রবণে খানিক ক্ষণ (২ মিনিট কাল) রেখে অথবা সাধারণ খাবার নুন (৩-৫ শতাংশ) জলে গোলা দ্রবণে ৫ মিনিট কাল রেখে ছেড়ে দেওয়া। সম্ভব হলে অন্য মাছেদের থেকে কিছু দিন আলাদা রাখা। শেষ অস্ত্র হিসাবে নষ্ট করে ফেলা।
  • (২) ভুবনেশ্বরের ওড়িশা ইউনির্ভাসিটি অফ এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির তৈরি সাইফ্যাক্স (CIFAX) ওষুধ দ্রবণে রেখে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে।
  • (৩) একই সঙ্গে সাধারণ মাছের জন্য পুকুরে হেক্টর প্রতি ১০০ – ১৫০ কেজি চুন প্রয়োগ করতে হবে।
  • (৪) বেশি ক্ষত না হলে অন্য ব্যবস্থা। যেমন হাঁস-মুরগির খাবার বা সার তৈরি। অথবা মাটিতে পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলা যেতে পারে। বৃহদাকার ধারণ করার আগেই।
  • (৫) আক্রান্ত মাছকে তুঁতে (প্রতি ১০ লি জলে ৫ গ্রাম) ৫ মিনিট কাল রাখা যেতে পারে। পরে ছেড়ে দিতে হবে।

এই ধরনের রোগ পুকুরময় ব্যাপক ভাবে হলে মাছকে তুলে আলাদা ভাবে চিকিত্সার চেষ্টা না করে সমগ্র মাছের জন্য মাছের সঙ্গে সঙ্গে পুকুরের চিকিত্সার জন্য ওষুধ পথ্য পুকুরেই প্রয়োগ করা ভালো।

  • (১) এর জন্য সাধারণ ভাবে চুন প্রয়োগের বিধি ও প্রয়োজনীয়তা আছে। চুন যদি মাত্রাতিরিক্ত না হয় তবে হঠাৎ করে পুকুরের জল বা মাছের ক্ষতি করার পরিবর্তে উভয়েরই স্বাস্থ্য রক্ষার্থে কাজে লাগে। তাই যদি দু–এক মাসের মধ্যে চুন প্রয়োগ না হয়ে থাকে তবে হেক্টর প্রতি ১০০–১৫০ কেজি কলিচুন প্রয়োগ করে ভালো করে জলের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।
  • ২) পুকুরের জলে সাধারণ খাবার নুন ১৫ – ২৫ কেজি প্রতি হেক্টরে প্রয়োগ করলেও অনেক সময় ফল পাওয়া যায়।
  • ৩) পুকুরে হেক্টর প্রতি ২.৫ থেকে ৫ কেজি হারে তুঁতে জলের সঙ্গে বেশ করে মিশিয়ে দিলেও লাভ হতে পারে।
  • ৪) মাছকে বাইরের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে প্রতি কেজি খাবারের সঙ্গে ১০০ গ্রাম টেরামাইসিন বা সালফাডায়াক্সিন পর পর ৭ দিন দিয়েও অনেক সময় সুফল পাওয়া যায়।

যে কোনও ক্ষুদ্র পরজীবীর আক্রমণ হলে যদি মাছকে পৃথক করা যায় তবে ---

  • (১) নুন জলে (৩-৪ শতাংশ) পর পর কয়েক দিন ডুবিয়ে ছেড়ে দেওয়া যায়।
  • (২) এ ছাড়া ফর্মালিন (২ পি পি এম) দ্রবণ জলেও ডুবনো যায়।

ব্যাপক আক্রমণ হলে প্রতি মাছের চিকিত্সার পরিবর্তে পুকুরে প্রয়োগ করা যেতে পারে —

ul>
  • (১) চুন ১৫০ – ২০০ কেজি প্রতি হেক্টরে।
  • (২) নুভান ৭০০-৪০০ মি. লি. প্রতি হেক্টরে।
  • চার দিন বাদে আবার প্রয়োগ করতে হয়। কারণ অনেক সময় কীটের ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়ার পর আবার আক্রমণ করে।

    ভৌত কারণে ব্যবস্থা

    ভৌত কারণের কোনও রকম চিহ্ন পেলেই পুকুরকে সংশোধন করা দরকার। এর জন্য সাধারণ ভাবে লক্ষ করলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাছের মড়কের কারণ সম্বন্ধে মোটামুটি ধারণা হয়ে যায়। সেইমতো আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি। যেমন —

    অধিক সংখ্যায় মাছ যখন উপরের দিকে ভেসে ওঠে, খাবি খায় তখন হয় জলে অক্সিজেনের অভাব। জলের নীচে জৈব পদার্থের পচনের ফলে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস তৈরির আশঙ্কা, জলে অন্য দূষণ, মাছের অধিক সংখ্যা ইত্যাদি কারণগুলিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে নীচের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

    • (ক) অধিক সংখ্যক মাছ আছে মনে হলে কিছু মাছ তুলে অন্য জলাশয়ে ছাড়া বা বিক্রি করা যেতে পারে।
    • (খ) মাছের সংখ্যা খুব বেশি নেই কিন্তু উপর দিকে মাছগুলি এসে বেড়াচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জলে অক্সিজেনের অভাব বা জল দূষণের কথা ভাবা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে জল তোলপাড় করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। জলে চুন প্রয়োগে লাভ হয়। নতুন জলের প্রবেশ ঘটানো যেতে পারে।

    জল দূষিত মনে হলে তার ব্যবস্থাস্বরূপ মাছ ধরে অন্যত্র পাঠানো যেতে পারে। চুন প্রয়োগেও কাজ হয়। নুতন জলের প্রবেশ ঘটানো যেতে পারে। জলের নীচের পাঁক মাটি দূষিত হলে ভালো করে ঘেঁটে চুন প্রয়োগের প্রয়োজন। জলে অধিক জুপ্ল্যাঙ্কটন, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন থাকে অথবা তাদের মৃত্যুর ফলে জল দূষণ হলে চুন প্রয়োগে লাভ হয়। জলে শ্যাওলার আধিক্যে তুঁতে প্রয়োগ দরকার।

    সর্বোপরি একটা কথা বলে রাখা ভালো। এক একটা মাছের চিকিত্সা করার জন্য চিকিত্সার যে পথ অবলম্বন করা হয় তাতে সমুহ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু আক্রান্ত পুকুরে সাধারণ ভাবে কোনও রাসায়নিক প্রয়োগে ত্রুটি থাকলে ঝুঁকি একটু বেশি, ক্ষতির সম্ভাবনাও একটু বেশি। তাই চুন ছাড়া অন্য কোনও রাসায়নিক প্রয়োগে (যেমন — নুভান, তুঁতে, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, ফরমালিন ইত্যাদি) একটু বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পরিমাণ বেশি হলে জল ও অন্যান্য মাছেরও ক্ষতি হতে পারে।

    রোগ প্রতিরোধে কয়েকটি অবশ্য করণীয় বিধি

    খুব বেশি রোগাক্রান্ত হওয়ার আগে খুব সচেষ্ট না হলে বোঝা যায় না মাছ রোগাক্রান্ত হয়েছে কিনা। যখন বুঝতে পারি তখন অনেকটা ক্ষতি হয়ে যায় এবং প্রতিকার করতে অনেক কষ্ট হয় ও ঝুঁকি থেকে যায়। তাই মাছ চাষে মাছের স্বাস্থ্য রক্ষা ও রোগ প্রতিরোধের কয়েকটি বিধি অবশ্যই মেনে চলা উচিত।

    জলাশয়ের গুণাগুণের দিকে সজাগ থাকা

    • (ক) নতুন জলাশয় কাটা অথবা পুরনো জলাশয় সংস্কার করার সময় আকার যথাসম্ভব চৌকোনা করার চেষ্টা করতে হবে যাতে প্রয়োজনে জাল টানতে অসুবিধা না হয়।
    • (খ) জলাশয়ের তলদেশে যথেষ্ট পলিমাটি এবং প্রয়োজনমতো জৈব সার ও খাদ্য উপাদান যেন থাকে।
    • (গ) পুকুরে জল প্রবেশ করানোর আগে তলদেশ ও ভিতরের পার্শ্বদেশ সম্পূর্ণ আগাছা ও কীটমুক্ত করতে হবে।
    • (ঘ) মহুয়া খৈল প্রয়োগ করে জলাশয়কে সম্পূর্ণ অবাঞ্ছিত জলজ প্রাণীমুক্ত করতে হবে।
    • (ঙ) জলাশয়ের চার ধার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
    • (চ) জলাশয়ের চার ধার উপযুক্ত ভাবে উঁচু রাখতে হবে যাতে অবাঞ্ছিত জল বা জলের সঙ্গে নোংরা আবর্জনা প্রবেশ না করে।
    • (ছ) জল প্রবেশের নির্দিষ্ট রাস্তা তৈরি রাখতে হবে।
    • (জ) পুকুরে বর্হিনালার ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে পুকুরের অতিরিক্ত জল সুষ্ঠু ভাবে নিকাশ করা যায়।
    • (ঝ) জলাশয়ে পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও বাতাসের সুগম ব্যবস্থা থাকতে হবে।
    • (ঞ) জলাশয়ে বন্য বা গৃহপালিত পশুর স্নান ও যাতায়াত নিষিদ্ধ করতে হবে। মানুষজনের স্নানে বাধানিষেধ থাকা ভালো। মলত্যাগ নিষিদ্ধ। কাপড়চোপড় না কাচাই ভাল।

    পুকুরের জলের প্রতি দৃষ্টি রাখা

    জলই মাছের জীবন। মাছ ২৪ ঘণ্টা জলেই বসবাস করে। তাই বাসযোগ্য হওয়ার জন্য জলের নীচের গুণগুলির দিকে নজর রাখা দরকার —

    • (ক) জলাশয়ের জল অম্লভাবাপন্ন হওয়া চলবে না। তাই জলে নিয়ম করে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
    • (খ) মাছের অনেক রোগবাহী জীবাণু জলে চুন প্রয়োগের ফলে বিনষ্ট হয়। তাই চুন প্রয়োগ করা দরকার।
    • (গ) পুকুরের জল কমে গেলে সহজেই সেই জল বেশি গরম বা ঠান্ডা হয়ে যায় যা মাছের কাক্ষিত নয়। মাছের চলাফেরা থেকে শুরু করে শ্বাসপ্রশ্বাস, সবেতেই অসুবিধা হয়। তাই জলাশয়ে জলের গভীরতা বজায় রাখতে হবে।
    • (ঘ) পুকুরের জল কোনও ভাবেই দূষিত হওয়া চলবে না। দূষিত হওয়ার কারণগুলো, যেমন কীটনাশক ওষুধের স্প্রেয়ার ধোয়া, পাত্রগুলি পুকুরে বা পুকুরের পাড়ে ফেলা বন্ধ করতে হবে। জলে জৈব পদার্থর পচনক্রিয়ার ফলেও জল দূষিত হয়।
    • (ঙ) জলে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছের খাবার থাকা দরকার। তার জন্য নিয়মিত জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাছের খাদ্য জুপ্ল্যাঙ্কটন ও ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন যাতে উপযুক্ত পরিমাণে উত্পন্ন হয় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। বেশি পরিমাণে এগুলির উৎপত্তি আবার বিপত্তির কারণ হয়। এগুলির আধিক্যে এবং পচনের ফলে মাছের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। মাছের সংখ্যার সঙ্গে এর অনুপাত ঠিক রাখতে হবে।
    • (চ) পাঁক বেশি থাকলে সংস্কার না করলে জল দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
    • (ছ) মাঝেমধ্যে জলাশয়ের জল শুকিয়ে, তলদেশে রোদ্দুর ও বাতাস খাওয়ানো দরকার।
    • (জ) নর্দমার দূষিত জলের প্রবেশ দৃঢ় ভাবে বন্ধ করতে হবে।

    মাছের সংখ্যা ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখা

    জলাশয় থেকে ভালো, সুস্থ্ ও পরিমাণমতো ফলন পেতে আমাদের কতগুলি অবশ্য করণীয় আছে।

    • (ক) মাছের চারা তা সে ডিম, ধানি পোনা, চারা পোনা বা পূর্ণাঙ্গ মাছ যা-ই হোক, স্বাস্থ্যবান এবং প্রকৃত জাতের হতে হবে। এ সব পছন্দ করার আগেই দেখতে হবে সেগুলো ওই জলাশয়ের উপযুক্ত কি না। এগুলো স্থানান্তরিত করার সময় বিশেষ নজর দেওয়া উচিত, যাতে না মারা যায়। সংখ্যায় অধিক হলে, জল উপযুক্ত না হলে, জলে অক্সিজেনের অভাব ঘটলে, কোনও রকম আঘাত লাগলে মাছের মৃত্যু হয়। মাছের মৃত্যুতে জল দূষিত হয়। আঘাতে ক্ষত সৃষ্টি হলে পরে রোগাক্রান্ত হয়ে মাছের মড়ক লাগতে পারে।
    • (খ) পুকুরে উপযুক্ত সংখ্যায় মাছ থাকা দরকার। কম হলে যেমন ফলন কম হবে বেশি হলে রুগ্ন ও মড়ক লাগতে পারে। জল দূষিত হতে পারে, খাবার, অক্সিজেন ও স্থানাভাবে ভুগবে মাছ।
    • (গ) বিভিন্ন জাতির মাছের অনুপাত, বিজ্ঞানভিত্তিক হতে হবে। মাছের খাদ্যাভ্যাস ও বসবাসের জলস্তর ভিন্ন। এই কথা মাথায় রেখে অনুপাত ঠিক করলে মাছেদের মধ্যে এ সবের জন্য কম প্রতিযোগিতা হয়। কম ক্ষতি হয়।
    • (ঘ) মাঝে মাঝে জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।

    সুত্রঃ পোর্টাল কনটেন্ট টিম



    © 2006–2019 C–DAC.All content appearing on the vikaspedia portal is through collaborative effort of vikaspedia and its partners.We encourage you to use and share the content in a respectful and fair manner. Please leave all source links intact and adhere to applicable copyright and intellectual property guidelines and laws.
    English to Hindi Transliterate