(জন্ম ২৪ জুলাই ১৯৫০) গৌতম ঘোষ বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম হিমাংশু কুমার ঘোষ ও মায়ের নাম সান্ত্বনা ঘোষ। বাবা ছিলেন অধ্যাপক। গ্রামের বাড়ি ছিল ভাঙা আলগীর ও শহরের বাড়ি ফরিদপুরে। বাবা-কাকারা ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। মা সান্ত্বনা ঘোষের পূর্বপুরুষের ভিটেও বিক্রমপুরে। গৌতম ঘোষ কলকাতার সেন্ট জন ডায়সেসান স্কুল এবং ক্যাথিড্রাল মিশনারি বয়েজ স্কুল-এ পড়ালেখা করেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন। গৌতম নিজের চিত্র পরিচালক হয়ে ওঠার বিষয়ে বলেন, ‘আমরা যখন কলেজে পড়ি, তখন ষাটের দশক। সেটা ছিল একটা উত্তাল সময়। কলকাতায় নকশালবাড়ী আন্দোলন দানা বাঁধছে। ভিয়েতনামে যুদ্ধ চলছে। ফ্রান্সে ছাত্র-আন্দোলন চলছে। তারপর বাংলাদেশে তখন মুক্তিযুদ্ধ-পূর্বাবস্থা। তো, সেই সময়ে একাডেমিক শিক্ষাটা আমাদের ঠিক মনপছন্দ হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল, পুরোটাই পাল্টে দিই। নতুন একটা কিছু করি। ছোটবেলা থেকেই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। গান গাইতাম। ম্যাজিক শো, স্টিল ফটোগ্রাফি করতাম। এরপর একসময় দেখলাম, নাটক-গান-ম্যাজিক-ছবি তোলা—সবকিছুর সমন্বয় হচ্ছে সিনেমা। তখন সিনেমাটাই আমাকে বেশি করে টানল। এই টান থেকেই চলচ্চিত্রে চলে আসা। আমার বাবা-মা আমাকে অনেক স্বাধীনতা দিয়েছেন। আমার ইচ্ছার মূল্য দিয়েছেন।‘(প্রথম আলো, বাংলা দেশ) গৌতম ঘোষ ১৯৭৩ সালে তথ্যচিত্র বানানো শুরু করেন। তিনি কলকাতা গ্রুপেও কাজ করতেন। সঙ্গে ছিল চিত্র সাংবাদিকের কাজ। তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি ‘মা ভূমি’ মুক্তি পায় ১৯৭৯ সালে। তাঁর পরিচালিত ছবিগুলো হল -- মা ভূমি-তেলুগু দখল-বাংলা পার-হিন্দি অন্তর্জলী যাত্রা-বাংলা পদ্মা নদীর মাঝি-বাংলা গুড়িয়া-হিন্দি দেখা-বাংলা আবার অরণ্যে-বাংলা যাত্রা-হিন্দি কালবেলা-বাংলা মনের মানুষ-বাংলা শুন্য অঙ্ক-বাংলা তাঁর পরিচালিত দখল, পার, অন্তর্জলী যাত্রা, পদ্মা নদীর মাঝি, গুড়িয়া, দেখা, মনের মানুষ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। তিনি গৃহযুদ্ধ, ২২ শে শ্রাবণ ও একলা আকাশ নামের ৩টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সূত্র: bioscopeblog.net