শওকত আলি (জন্ম:১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬) কথাসাহিত্যিক। পেশায় সাংবাদিক ও শিক্ষক। তিনি বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে গল্প ও উপন্যাস লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর অন্যতম বিখ্যাত উপন্যাস ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’। শওকত পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার সদর রায়গঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শ্রীরামপুর মিশনারি স্কুলে শওকত আলির বাল্যশিক্ষা শুরু হয়। কিন্তু ১৯৪১ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে কলকাতায় বোমা হামলা শুরু হলে তাঁরা সপরিবার রায়গঞ্জে ফিরে আসেন। রায়গঞ্জে তাঁর মা সেখানকার গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন এবং বাবা ডাক্তারি পেশা শুরু করেন। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দেই জন্মভূমি ত্যাগ করে তিনি ভাইবোন সহ পূর্ব বাংলার দিনাজপুরে চলে যান। প্রথমে তাঁর বাবা কলকাতাতে থেকে গেলেও ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে তিনিও দিনাজপুরে চলে যান। কলেজ জীবন থেকেই কমিউনিস্ট পার্টি করতেন এবং বিভিন্ন মিছিল, আন্দোলনে তিনি থাকতেন। ফলে ১৯৫৪ সালে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হলে তিনি এই বছর এপ্রিলে ধরা পড়ে জেলে যান ও ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে তিনি ছাড়া পান। জেল থেকে বের হওয়ার পর ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে বিএ পরীক্ষা দিয়ে তৃতীয় বিভাগে পাস করেন । তিনি এর পর ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এমএ-তে ভর্তি হন ও ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে পাস করেন। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে শুরু করে। ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক মিল্লাতে চাকরি পান। পেশায় শিক্ষক শওকত ১৯৮৮ সালে জেলা গেজেটিয়ারের ঢাকার হেড অফিসে অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৯ সালে তাঁকে সরকারি সঙ্গীত কলেজের প্রিন্সিপ্যাল করা হয়। এর পর ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ক্লাস নাইন টেনে-পড়তেই শওকত আলি লেখালেখি শুরু করেন। তবে দেশভাগের পর দিনাজপুরে এসে তাঁর প্রথম লেখা একটি গল্প প্রকাশিত হয় কলকাতার বামপন্থীদের 'নতুন সাহিত্য' নামে একটি পত্রিকায়। এরপর দৈনিক মিল্লাত, মাসিক সমকাল, ইত্তেফাকে তাঁর অনেক গল্প, কবিতা এবং বাচ্চাদের জন্য লেখা প্রকাশিত হয়। শওকত আলি ২২টি উপন্যাস রচনা করেছেন। তাঁর ‘দক্ষিণায়নের দিন’, ‘কুলায় কালস্রোত’ এবং ‘পূর্বরাত্রি পূর্বদিন’-কে ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়, যার জন্য তিনি ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬) পান। এ ছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা অ্যাকাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮)। সূত্র: উইকিপিডিয়া