অসমীয়া   বাংলা   बोड़ो   डोगरी   ગુજરાતી   ಕನ್ನಡ   كأشُر   कोंकणी   संथाली   মনিপুরি   नेपाली   ଓରିୟା   ਪੰਜਾਬੀ   संस्कृत   தமிழ்  తెలుగు   ردو

মৌমাছির শীত-গ্রীষ্ম

মৌমাছির শীত-গ্রীষ্ম

সবার প্রথমে তোমাদের মৌমাছির বাসা মানে মৌচাক আর মৌমাছিদের সমাজের একটা সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে দিই। মৌমাছিরা বেশ সামাজিক জীব আর মৌচাক কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে ওদের মৌ-সভ্যতা। মৌচাক যেন অনেকটা দুর্গের মতো। কর্মী-প্রহরী বেষ্টিত দুর্গের ভিতরে রয়েছে মূলত তিন ধরনের কক্ষ – আঁতুড়ঘর, ভাঁড়ার ঘর আর বৈঠকখানা। আঁতুড়ঘরে চলে ডিম, সদ্যজাত লার্ভা এবং শুককীটের রক্ষণাবেক্ষণ, ভাঁড়ার ঘরে হয় মধু ও পরাগরেণুর সঞ্চয় আর বৈঠকখানায় মৌমাছিদের মধ্যে চলে আলাপ-আলোচনা। নানা রকম নাচ করে নিজেদের মধ্যে খবর বিনিময় করে ঠিক কোথায়, কত দূরে মধুর সন্ধান আছে, সে এক অন্য বিষয়। এ সবই খাটনির কাজ করে কর্মী মৌমাছিরা।

কর্মী বা শ্রমিক মৌমাছি ছাড়াও মৌচাকে আরও দু’ধরনের মৌমাছি থাকে। রানি, যাদের কাজ হল শুধুই ডিম পাড়া আর পুরুষ মৌমাছির কাজ হল রানি মৌমাছির গর্ভসঞ্চার করা । এক একটা মৌচাকে প্রায় ৫০,০০০ কর্মী-মৌমাছি থাকে। এই কর্মী মৌমাছিরা যাবতীয় পরিশ্রম করে থাকে। অন্যান্য অনেক কাজের সাথে মূল যে দু’টো কাজ এরা করে তা হল মধু-পরাগরেণু খুঁজে সংগ্রহ করে এনে সঞ্চয় করা আর লার্ভাদের খাইয়ে-দাইয়ে বড় করা। কর্মীরা এই লার্ভাদের খুব যত্ন-আত্তি করে যাতে সেগুলোর কোনও ক্ষতি না হয় ।

লার্ভারা বড্ড সুখি প্রকৃতির, মৌচাকের তাপমাত্রার একটু হের-ফের হলেই ফল হয় মারাত্মক। তাই মৌচাকের অন্তঃপুরের উষ্ণতা 30°C থেকে 32°C -এর মধ্যে বজায় রাখাটা খুবই জরুরি। পরিণত মৌমাছিরা যদিও 10°C থেকে 50°C তাপমাত্রা অবধি বেশ সামলে নেয় কিন্তু অপরিণত মৌমাছি অর্থাৎ লার্ভা বা শুককীটের সহ্য ক্ষমতা বেশ কম। আঁতুড়ঘরের তাপমাত্রা 34.5°±1.5° -এর বাইরে গেলেই এদের মধ্যে মড়ক দেখা যায়। খুব গরমে ডিম নষ্ট হয়ে যায় অথবা স্বাভাবিক জৈবিক বৃদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটে হয়ে যায় বিকলাঙ্গ। অন্য দিকে ঠান্ডা বেড়ে গেলেও হয় অনেক রকম সমস্যা। যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায় তেমনি খাদ্য সংগ্রহ এবং সঞ্চয়ে তারা হয়ে পড়ে বেশ অপটু। তাই অন্তঃপুরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে এদের মধ্যে বেশ কিছু দারুণ আচরণের পরিবর্তন দেখা যায়।

প্রথমে গরমকালের কথাই তোমাদের বলি। গরমে যখন চারপাশের তাপমাত্রা খুব বেড়ে যায় তখন একদল কর্মী-মৌমাছি উঠে-পড়ে লাগে যাতে বাসার তাপমাত্রা বেড়ে না যায়। কী করে হয় আন্দাজ করতে পারো কী ? কিছু কর্মী-মৌমাছি বাইরে থেকে জল এনে বাসার ভিতরে ছিটিয়ে দেয় আর একদল সাথে সাথে ডানা নেড়ে হাওয়া করতে থাকে। এই ঠান্ডা করার সহজ ব্যাপারটা এ বার বুঝে গেছ কিন্তু এর সাথে আরও ঘটনা ঘটে যাকে বলে heat shielding, কমবয়সি শ্রমিক-মৌমাছিরা নিজেদের দেহের আঁতুড়ঘর থেকে তাপ শুষে নিয়ে বাইরে উড়ে গিয়ে সেই তাপ ছেড়ে দেয়। এই গরমে জল আরও একটা ব্যাপারে বেশ জরুরি। খুব তাপে জল শুকিয়ে মধুর মধ্যের শর্করাগুলো crystallised হয়ে খাবার অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে তাই মধু তরল রাখতেও জলের জোগান দরকার।

এ বার আসি শীতকালের ঘটনায়। শীতকালে ঠিক কী হয় ? শীতকালে নজর রাখতে হয় তাপমাত্রা যেন খুব কমে না যায়। কুঠুরিগুলো গরম রাখার পদ্ধতিটা সত্যিই বেশ মজার। শীতকালে যেমন আমরা ভাই-বোনেরা সবাই মিলে খুব কাছাকাছি ঘেঁষে দাদু-দিদিমাকে ঘিরে গল্প শুনতে বসি, এরাও কতকটা একই ভাবে অনেকে মিলে আঁতুড়ঘরের চারপাশে ভিড় জমায়। কর্মী-মৌমাছিরা একে অপরকে ঘিরে গায়ে গা লাগিয়ে একটা ক্লাস্টার তৈরি করে। ক্লাস্টারের বাইরের মৌমাছিরা তাদের ঘিরে একটা তাপপ্রতিরোধক (thermal insulating ) বলয় সৃষ্টি করে, ফলে ভিতরের তাপ বাইরে যায় না আর অন্তঃপুর বেশ গরম থাকে। এ ক্ষেত্রে একটা ব্যাপার বলা বেশ প্রয়োজন। এই আঁতুড়ঘরের সংলগ্ন মৌমাছিরা ডানা একদম না নেড়ে তাদের ওড়ার জন্য বক্ষদেশে যে পেশিগুলো (thoracic flight muscle ) আছে তাদের isometric contraction ঘটায়।  Isometric contraction -এর মাধ্যমে যে বিপাকীয় তাপ নির্গত হয়  সেটাকেই কাজে লাগায়  কুঠুরি গরম করতে।

এই isometric contraction-এর ফলে কী ভাবে তাপ নির্গত হয় সেটা তোমাদের একটু বুঝিয়ে বলি। পেশির সংকোচন-প্রসারণের ফলে যে আমরা  কাজ করতে পারি এটা তোমরা সবাই জানো। এ ক্ষেত্রে পেশি কোষের দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে  আর পেশি কোষকে এই কাজের শক্তি জোগায় ATP অণু। Isometric contraction-এ কিন্তু পেশি কোষের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন মোটেই  ঘটে না।  ধরো তুমি একটা ইট হাতে তুলে একই জায়গায় ধরে রেখেছো সে ক্ষেত্রে  পেশি কোষের দৈর্ঘ্য কিন্তু অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। ইটটাকে একই জায়গায় ধরে রাখতে কিছু বিপাকীয় কার্যকলাপ চালু রয়েছে যার ফলে উত্পন্ন হয় কিঞ্চিৎ তাপশক্তি। এ বার মনে হয় কিছুটা পরিষ্কার হল। তবে অন্তরবলয়ের মৌমাছিরা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে যাতে ক্লান্ত না হয়ে পড়ে তাই বাইরের বলয়ের মৌমাছিদের সাথে মাঝে মাঝে স্থান পরিবর্তন করে নিজেদের কাজটা ভাগাভাগি করে নেয় আর এ ভাবেই শীতকালেও মৌচাকের ভিতরের উপযুক্ত তাপমাত্রা ঠিক বজায় থাকে। এতক্ষণ ধরে তোমাদের যেটা বললাম সেটা আসলে মৌমাছিদের মৌচাকের ভিতরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের  একটা দারুণ কৌশল। প্রকৃতিতে জীব-জগতের  কিছু ঘটনা সত্যিই চমকপ্রদ !

ছবি : অরুময় চ্যাটার্জি

সূত্র: অরুময় চ্যাটার্জি, ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োলজিকাল সায়েন্সেস, বেঙ্গালুরু, bigyan.org.in



© 2006–2019 C–DAC.All content appearing on the vikaspedia portal is through collaborative effort of vikaspedia and its partners.We encourage you to use and share the content in a respectful and fair manner. Please leave all source links intact and adhere to applicable copyright and intellectual property guidelines and laws.
English to Hindi Transliterate