অসমীয়া   বাংলা   बोड़ो   डोगरी   ગુજરાતી   ಕನ್ನಡ   كأشُر   कोंकणी   संथाली   মনিপুরি   नेपाली   ଓରିୟା   ਪੰਜਾਬੀ   संस्कृत   தமிழ்  తెలుగు   ردو

ভারতের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি

গণতান্ত্রিক ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ভারতবর্ষের মিল থাকলেও ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির পদটি বংশানুক্রমিক নয়। এ ক্ষেত্রে প্রজাতান্ত্রিক দেশ চিন বা সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে অনেকাংশে মিল আছে। ওই সব দেশের মতো ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপ্রধানও প্রজাপুঞ্জের মধ্যে থেকে পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। ইংল্যান্ডের রাজা বা রানির মতো ভারতে রাষ্ট্রপতি ‘নিয়মতান্ত্রিক বা নামসর্বস্ব’ [Titular executive] আর মন্ত্রীসভা হল ‘প্রকৃত শাসক’ (real executive)। রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক তথা সশস্ত্র তিন বাহিনীর প্রধান। তাঁর কার্যকাল পাঁচ বছর। পাঁচ বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তিনি পুনরায় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন প্রার্থী হতে পারেন। অন্যথায় অন্য কেউ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। ভারতীয় লোকসভা, রাজ্যসভা এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কেদ্রীয় শাসিত অঞ্চলের বিধানসভা সমূহের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হয়ে থাকেন।

রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর যোগ্যতাবলী

(ক) রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে।

(খ) তাঁর বয়স অন্তত ৩৫ বছর বা তার বেশি হতে হবে।

(গ) রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হওয়ার সময় তিনি সংসদ বা রাজ্যবিধান সভার সদস্য অথবা কোনও সরকারি বা বেসরকারি পদে অথবা অর্থ প্রাপ্তি হয় এমন কোনোও পদে নিযুক্ত থাকতে পারবেন না।

(ঘ) তাঁকে লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলী

রাষ্ট্রপতি ভারতের সাংবিধানিক প্রধান এবং সেই সূত্রে তিনি সর্বময় প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী। ইংল্যান্ডের রাজা বা রানীর মত তিনি নিয়মতান্ত্রিক প্রধান। আসল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের হাতে ন্যস্ত। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীমন্ডলী এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে সকল নির্দেশিকা জারি হয় রাষ্ট্রপতির নামে। ভারতের সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে ছয় ধরনের ক্ষমতার অধিকার প্রদান করেছে। এগুলি হল—

শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপালদের, ভারতের একাউন্ট জেনারেল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন ও তাঁদের পদচ্যুত করার অধিকার রাষ্ট্রপতির রয়েছে। এছাড়া তিনি সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতি, অডিটর জেনারেল, নির্বাচন কমিশনার, সশস্ত্র তিন বাহিনীর প্রধান এবং ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর পদাধিকার বলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীত্রয়ের সর্বাধিনায়ক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপরিষদ রাষ্ট্রশাসন ও পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতিকে জানাতে বাধ্য থাকেন।

আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতি লোকসভা গঠন, লোকসভার অধিবেশন আহ্বান প্রয়োজনে মুলতুবি ইত্যাদি করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি দুজন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সদস্যকে লোকসভায় মনোনীত করেন। এ ছাড়া রাজ্যসভার ১২ জন সদস্যও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হন। তাঁর সম্মতি ছাড়া কোনো বিল আইনে পরিণত হতে পারে না। অর্থবিল (money bill) ছাড়া অন্য যে-কোনো বিলকে পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদের উভয় পরিষদে ফেরত পাঠাতে পারেন।

অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা

ভারতীয় অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির হয়ে সংসদে বাজেট পেশ করেন। বাজেট অধিবেশনের আগে রাষ্ট্রপতি সংসদের উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। রাষ্ট্রপতির হাতে রাষ্ট্রের আকস্মিক ব্যয় সংকুলানের জন্য একটি বিশেষ তহবিল থাকে।

বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ করেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্টের বিচারপতিরাও রাষ্ট্রপতির দ্বারা নিযুক্ত হন। সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির প্রাণরক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি মকুব করতে পারেন বা নাও পারেন।

জরুরি ক্ষমতা

ভারতের সংবিধান অনুসারে তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন, একে রাষ্ট্রপতির জরুরি ক্ষমতা বলে, যেমন—

(ক) জাতীয় জরুরি অবস্থা— যুদ্ধ, বৈদেশিক আক্রমণ ও নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ,

(খ) রাজ্যগুলিতে শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা বা দেশে অরাজক অবস্থা উপস্থিত হলে রাষ্ট্রপতি দেশে জরুরি অবস্থা (রাষ্ট্রপতি শাসন) ঘোষণা করতে পারেন।

(গ) সমগ্র দেশ বা দেশের কোনো অংশের আর্থিক স্থায়িত্ব ও সুনাম এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে রাষ্ট্রপতি অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।

রাজ্য সংক্রান্ত ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপালদের নিয়োগ করে থাকেন। এছাড়া রাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় বিধানসভায় পেশ করার আগে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হয়।

ভারতের উপরাষ্ট্রপতি

ভারতীয় সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পরই উপরাষ্ট্রপতির স্থান । তিনি পদাধিকার বলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানরূপে রাজ্যসভার অধিবেশন পরিচালনা করেন । রাষ্ট্রপতির অবর্তমানে উপরাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির সব কাজ করে থাকেন । উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা রাষ্ট্রপতির মতোই ।

উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর যোগ্যতাবলী

(ক) উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে ।

(খ) তাঁর বয়স অন্তত ৩৫ বছর বা তার বেশি হতে হবে ।

(গ) উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হওয়ার সময় তিনি সংসদ বা রাজ্যবিধান সভার সদস্য অথবা কোনও সরকারি বা বেসরকারি পদে অথবা অর্থ প্রাপ্তি হয় এমনকোনোও পদে নিযুক্ত থাকতে পারবেন না ।

(ঘ) তাঁকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে ।

উপরাষ্ট্রপতি ভারতীয় লোকসভা ও রাজ্যসভার নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা পাঁচ বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন । মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তিনি পুনরায় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন । রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা পদচ্যুতি ঘটলে তাঁর সমস্ত কাজই উপরাষ্ট্রপতি করে থাকেন ।

সুত্রঃ বেঙ্গলস্টুডেন্ট.কম



© 2006–2019 C–DAC.All content appearing on the vikaspedia portal is through collaborative effort of vikaspedia and its partners.We encourage you to use and share the content in a respectful and fair manner. Please leave all source links intact and adhere to applicable copyright and intellectual property guidelines and laws.
English to Hindi Transliterate