শিশু (বাঁধা শ্রমিক) আইন, ১৯৩৩ মোতাবেক বাবা মা বা অভিভাবক যদি ১৫ বছরের শিশুকে টাকা বা বেতনের বিকল্প হিসাবে অন্য কোনও সুবিধা পেতে শ্রমের জন্য বন্ধক রাখে তবে তা বেআইনি এবং তা খারিজ হবে। এই আইনে যে সব বাবা মা ও অভিভাবক শিশুকে বন্ধক রাখে এবং যারা শিশুকে কাজে নিয়োগ করে, তাদের সকলের জন্যই শাস্তির বিধান রয়েছে। বেগার শ্রম ব্যবস্থা (বিলোপ) আইন, ১৯৭৬ অনুসারে শুধুমাত্র ঋণশোধ করতে না পারার জন্য কোনও ব্যক্তিকে বাঁধা শ্রমিকে পরিণত হতে বাধ্য করা বেআইনি। ঋণ সংক্রান্ত সমস্ত চুক্তি ও বাধ্যবাধকতা এই আইনে খারিজ করে দেয়। এই আইনে কোনও ব্যক্তিকে নতুন করে বন্ধক রাখার যে কোনও চুক্তিকে বাতিল করে এবং বেগার শ্রমিকদের সমস্ত রকম ঋণ থেকে মুক্ত করে। বেগার শ্রমে বন্ধক রাখা আইনত দণ্ডনীয়। এর মধ্যে সেই সব শিশুর বাবা-মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাও রয়েছেন যারা তাঁদের শিশুকে বেগার শ্রমে নিযুক্ত করেন। শিশু শ্রম (নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন ১৯৮৬ অনুসারে ১৪ বছরের নীচের শিশুদের কোনও বিপজ্জনক কাজে নিয়োগ নিষিদ্ধ এবং বিপজ্জনক কাজে নয় এমন কোনও কাজে নিয়োগ নিয়ন্ত্রিত। ২০০০ সালের কিশোর ন্যায়বিচার ( শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা ) আইনের ২৪ ধারা বলে সেই সব ব্যক্তির শাস্তির ব্যবস্থা করেছে যারা শিশুকে বিপজ্জনক কোনও কাজে যুক্ত রেখেছে, তাকে বন্ধক রেখেছে এবং তাদের উপার্জিত অর্থ তাদের না দিয়ে নিজের কাজে লাগাচ্ছে। শ্রম সংক্রান্ত আরও কিছু আইনে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করা এবং/অথবা শিশুশ্রমিকদের কাজের শর্ত নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা রয়েছে এবং ওই আইনগুলি নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে কাজে লাগানো যায়। সেই সব আইনের একটি তালিকা দেওয়া হল --- • কারখানা আইন, ১৯৪৮ • বাগান শ্রমিক আইন, ১৯৫১ • খনি আইন, ১৯৫২ • পণ্য জাহাজ আইন, ১৯৫৮ • শিক্ষানবিশ আইন ১৯৬১ • মোটর পরিবহণকর্মী আইন, ১৯৬১ • বিড়ি ও সিগারেট কর্মী (নিয়োগের শর্ত) আইন, ১৯৬৬ • পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৬৩ ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু মেয়েটির বয়স ১২ বছরের নীচে হলে অথবা ধর্ষণকারী যদি কোনও ভারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হন (হাসপাতাল, শিশু নিকেতন, থানা ) সে ক্ষেত্রে শাস্তি বেশি হবে। যদিও নাবালকের সঙ্গে জোর করে যৌনসংগম করা ধর্ষণেরই সামিল, তবুও তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনের আওতায় পড়ে না। আইন ব্যবস্থায় তেমন করে কোন আইন নেই যাতে করে নাবালকদের ওপর এ রকম অত্যাচারের প্রতিকার করা যায়। তবে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা একে ‘অস্বাভাবিক অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে।