(১) জার্মানির আইলহফট গ্রামে ২০০০ সালে ৫০ জন ব্যক্তি ৬টি বায়ু টার্বাইন, প্রতিটি ১.৩ মেগাওয়াটের, তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। অধিবাসীরা প্রদান করল মোট মুলধনজনিত খরচার (৯০ লক্ষ মার্ক) ২০ শতাংশ, বাকিটা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ। বার্ষিক শক্তি উত্পাদন ১৬০-২০০ লক্ষ কিলোওয়াট-আওয়ার এবং ফিট ৯.১ সেন্ট কিলোওয়াট-আওয়ার প্রতি যা ২০ বছরের জন্য আশ্বস্ত, লগ্নিতে লাভ থাকছে বছরে ১৫-২০ শতাংশ। ২০১২ সালের মধ্যে ঋণ প্রত্যর্পণ করা সম্ভব হয়েছে এবং এখন লাভের পুরোটাই গ্রামবাসীদের । (২) একই গ্রামের ২০ জন ২০১০ সালে লগ্ন করলেন ২ মেগাওয়াট সৌর পিভি বিদ্যুত্কেন্দ্র স্থাপনে যার মূল্য ৫০ লক্ষ মার্ক। কেন্দ্রটি বছরে ২০ লক্ষ কিলোওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ উত্পাদন করবে। আশ্বস্ত ফিট ২৪ শতাংশ কিলোওয়াট-আওয়ার প্রতি, ওই গ্রামবাসীরা লগ্নির ১২ শতাংশ পাবে আগাম হিসাবে যা ব্যাঙ্কের আগাম থেকে বেশি, যদিও বায়ু-শক্তিতে লগ্নির থেকে কম । (৩)আইলহফট-এর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে জার্মানির সীমানার ওপারে ডেনমার্কে স্থানীয় অধিবাসীরা ২৭ মেগাওয়াটের বায়ু-ফার্ম স্থাপনায় ব্রতী হয়েছে। এই প্রোজেক্টে তিনটি ৬.১২৫ মেগাওয়াট বায়ু টার্বাইন বসানো হচ্ছে । (৪) বার্লিন থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে ব্রান্ডেনবুর্গ-এ ফেল্ডহাইম গ্রাম, যেখানে ৩৫টি বাড়িতে ১২৫ জন মানুষ বসবাস করেন। এই গ্রামে আছে বায়ু-ফার্ম, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এবং কাঠের-কুচির আগুনে তাপিত প্ল্যান্ট। গ্রামের সব শক্তির কাজ হয় অচিরাচরিত শক্তিতে। ফলে গ্রামটি বিশ্বে অনন্য। বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বসানো হয়েছিল ২০০৮ সালে। এক বছরের মধ্যে প্ল্যান্টটি উত্পন্ন করে ৪২ লক্ষ ইউনিট বিদ্যুৎ এবং ৪৩ লক্ষ ইউনিট তুল্যমূল্য তাপ। বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ও বায়ু-ফার্মে উত্পাদিত শক্তি যুক্ত হয়েছে গ্রিডে, ফেল্ডহাইম পায় ইউনিটে ১৯ সেন্ট, ফিট বাবদ বায়োগ্যাসের জন্য এবং ৯ সেন্ট বায়ু বিদ্যুতের জন্য । এই উদাহরণগুলি থেকে বোঝা যায় এফআইটি থেকে গোষ্ঠীভিত্তিক উৎপাদন কতটা উপকৃত হতে পারে। আগামী দিনে গোষ্ঠীভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচেষ্টা শক্তি সমস্যার অনেকটাই সমাধান করতে পারবে। সে দিকে লক্ষ রেখেই আমাদের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ইতিমধ্যেই দেশের গ্রামাঞ্চলে এই নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কার্যকর ভিত্তিতে এখনও সার্বিক কোনও পরিকল্পনা রচনা করা সম্ভব হয়নি। সূত্র : শঙ্কর সেন, প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, অবসর ওয়েবসাইট