ঠিকই বলেছেন দাম অনেক বেশি পড়ায় ভর্তুকি ছাড়া সাধারণ মানুষ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারত না। এখন কিন্তু সৌরবিদ্যুৎ তৈরির খরচ অনেকটাই কমেছে। তখন খরচ হত ওয়াট পিছু ২০০ টাকা। এখন তা ৪০ টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে। সাধারণ বিদ্যুতের দাম এখন ইউনিট পিছু আট টাকার কাছাকাছি, সৌরবিদ্যুৎ কিনতে গেলে খরচ পড়ে ইউনিট পিছু ন’টাকা। আমার বিশ্বাস যত দিন যাবে সৌরবিদ্যুৎ তৈরির খরচ তত কমবে। উন্নত দেশে,যেমন জার্মানি বা ব্রিটেনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম। তবুও ওরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আসলে ওখানে কবে রোদ উঠবে সেটাই একটা চিন্তার বিষয়। সাত মাস শীত থাকে। আমাদের দেশের মধ্যে এই রাজ্যে সোলার রিসোর্স অপেক্ষাকৃত কম। আমাদের বর্ষার বিস্তৃতি অনেকটা বেশি। কিন্তু ব্যবহারে অভস্ত্য মানুষজন বুঝে গিয়েছেন কী ভাবে বিদ্যুৎ রিজার্ভ রেখে তা কাজে লাগাতে হয়। সুন্দরবন এলাকার মানুষ ঠিক বুঝে নেন, আকাশে মেঘ থাকলে কী ভাবে পরের দিনের জন্য বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে। তবে আমাদের রাজ্যে একটা সুবিধা হল তাপমাত্রা বিশেষ বাড়ে না। তাপমাত্রা বেশি হলে সৌরকোষের আউটপুট কমে যায়। ফলে গুজরাত বা রাজস্থানে অপেক্ষাকৃত বেশি সূর্যালোক পাওয়া গেলেও তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে ওরা মাত্রা দশ শতাংশ কাজে লাগাতে পারে। আমরা এই রাজ্যে অনেক বেশি পরিমাণ সৌরশক্তি কাজে লাগাতে পারি। এ রাজ্যে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গত ১৫ বছর ধরে মানুষজন ৬ ঘণ্টা করে সৌরবিদ্যুৎ পাচ্ছেন। ভারতে কোথাও এত বেশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নজির নেই। সবচেয়ে বড় কথা হল আমরা পাথরপ্রতিমা ব্লকের দুর্গম জি-প্লট, কে-প্লটে সৌরবিদ্যুৎ দিচ্ছি। কলকাতা থেকে রামগঙ্গা পৌঁছতে চার ঘণ্টা সময় লাগে। আবার রামগঙ্গা থেকে ওই সব জায়গায় নৌকা করে পৌঁছতে আরও চার ঘণ্টা লাগে। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনও উপায়ও নেই। দার্জিলিঙ পাহাড়ের কয়েকটি দুর্গম এলাকাতেও সৌরবিদ্যুৎ ভালমতো কাজে লাগানো গিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলের শবরপল্লীতেও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।