এক সমীক্ষায় হিসাবনিকেশ করে দেখা গিয়েছে ২০১৬-১৭ সালে কয়লা, অশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানির অনুপাত বেড়ে দাঁড়াবে যথাক্রমে ২২.৬, ৭৮.১ ও ২৪.৬ শতাংশ। অন্য দিকে ২০২১-২২ সাল নাগাদ আমদানির অনুপাত বৃদ্ধি পাবে যথাক্রমে ২৭.৩, ৮১.৯ ও ২৩.১ শতাংশে। আমদানির উপর ক্রমবর্ধমান এই নির্ভরতার ফলে দেশে বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে যেমন ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, অন্য দিকে তেমনই আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি শক্তির সহজলভ্যতা ছাড়াও আরও যে দিকগুলি নীতিনির্বাচকদের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হল দ্রুত নিরন্তর ও সম্পৃক্ত বিকাশ সুনিশ্চিত করা। মোটের উপর জ্বালানি শক্তির নিরাপত্তা বিষয়ে একটা পর একটা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে যেমন— ১) আধুনিক জ্বালানি শক্তির ব্যবহার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। কাঠকয়লা, ঘুঁটে, জ্বালানি কাঠ, খড়কুটো, পাটকাঠি ইত্যাদির মতো মান্ধাতা আমল থেকে চলে আসা পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে এনে বিদ্যুৎ এবং রান্নার গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে হবে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দরিদ্রদের মধ্যে। ২) পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থের সব থেকে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহণের ক্ষেত্রে। রেল ছাড়া অন্যান্য যানবাহন কার্যত পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি ছাড়া অচল। কাজেই অশোধিত তেল আমদানির চাহিদা বেড়েই চলেছে। আবার ভারতীয় রেলে কয়লার বদলে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। কয়লার উপর প্রত্যক্ষ নির্ভরতা কমলেও পরোক্ষ ভাবে কয়লার প্রয়োজন থেকে রেল মুক্ত হতে পারেনি কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সেই কয়লার প্রয়োজন হয়। তাই কয়লার উপর চাপ বাড়ছেই। ৩) কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য এবং জনপরিষেবা ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি। এ দিকে আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতে ৫৮.৩ শতাংশই আসে কয়লা থেকে। এই হিসাব অবশ্য ২০১৩ সালের। এর ফলে আমাদের আর্থিক বৃদ্ধির সঙ্গে উচ্চহারে কার্বন নির্গমণ তথা দূষণের বিষয়টি প্রত্যক্ষ ভাবে সমানুপাতিক। সূত্র : যোজনা, মে ২০১৫