ঘরের ভিতরের বায়ু দূষণ নিয়ে কিছু দিন আগে পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা খুব একটা চিন্তাভাবনা করতেন না। অতি সাম্প্রতিক কালেই বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে। ভারতের মতো উন্নতিশীল দেশগুলো আরও বেশি অভ্যন্তরীণ দূষণের শিকার। এ দেশে ৩০ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ রান্না করা ও ঘর গরম রাখার জন্য এখনও জ্বালানি কাঠ, কাঠকয়লা এবং ঘুঁটের মতো চিরাচরিত জ্বালানির উপর নির্ভর করে। উন্নতিশীল দেশে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ধরনের পশ্চাৎপদতা দূষণ নিয়ন্ত্রণের অন্তরায়। এ ধরনের জ্বালানি পোড়ালে ঘরের বদ্ধ জায়গায় প্রচুর ধোঁয়া এবং বায়ুকে দূষিত করার মতো প্রচুর পদার্থ নির্গত হয়। আর নারী ও শিশুরা যে হেতু বেশির ভাগ সময় ঘরের মধ্যে কাটায়, তাই এই দূষণের বেশি শিকার হয় তারাই। এখানে কিছু তথ্য দেওয়া হল --- ফসফরাস বা ফসফরাস সেসকুইসালফাইড দিয়ে তৈরি দেশলাই কাঠি এবং এর রাসায়নিক ধর্ম স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে। আমরা যখন কাঠি জ্বালাই তখন এক রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়, যার ফলে ধোঁয়া বেরোয় যে ধোঁয়া রান্নাঘরের ভিতরের পরিবেশ দূষিত করে। স্বাস্থ্যের পক্ষে যে সব মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তার মধ্যে রয়েছে হজম ও পাকস্থালির সমস্যা, তলপেটে খিঁচুনি, শ্বাসনালির অস্বস্তি ইত্যাদি। অভ্যন্তরীণ দূষণ এড়াতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ শক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি সহায়ক ধোঁয়াবিহীন চুলা ব্যবহার করুন। বায়ু ঢোকা ও বেরোনোর জন্য রান্নাঘরে বায়ু চলাচলের উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখুন। সম্ভব হলে দেশলাইয়ের বদলে ইলেকট্রনিক লাইটার ব্যবহার করুন। কাঠ/কয়লার পরিবর্তে যথাসম্ভব এলপিজি/সৌর কুকার ব্যবহার করুন।