অক্টোবর ১৯৯৭-এর আগে গ্রামের রাজস্বসীমার মধ্যে কোনও কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলে ওই গ্রাম বিদ্যুদয়িত হয়েছে বলা হত। অক্টোবর ১৯৯৭-এর পর কোনও গ্রাম বিদ্যুদয়িত হয়েছে বলা যাবে যদি গ্রামের রাজস্বসীমার অন্তর্গত বসতি এলাকায় কোনও কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। ২০০৪-০৫ ২০০৪-০৫ থেকে গ্রামীণ বিদ্যুদয়নের নতুন সংজ্ঞা চালু হয় {এর জন্য২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ মন্ত্রকের পত্র (সংখ্যা ৪২/১/২০০১-D (RE)) দেখুন এবং এর সংশোধনীর জন্য২০০৪-এর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখের পত্র (সংখ্যা ৪২/১/২০০১-D (RE))} দেখুন। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী একটি গ্রামকে বিদ্যুদয়িত বলা হবে যদি বিদ্যুৎ বন্টনের ট্রান্সফরমার ও বিদ্যুৎ বন্টনের লাইনের মতো প্রাথমিক পরিকাঠামো কোনও গ্রামের বসতি এলাকায় থাকে, বিশেষ করে দলিত বস্তি এলাকায়। স্কুল, পঞ্চায়েত দফতর, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডাক্তারখানা, কমিউনিটি সেন্টার প্রভৃতির মতো জায়গায় যেখানে জনসাধারণরা যান সে সব জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ থাকে। গ্রামের মোট বাড়ির অন্তত ১০ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকতে হবে। রাজীব গান্ধী বিদ্যুদায়ন যোজনায় একটি গ্রামেক বিদ্যুদায়িত করার সংঞ্জা সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হয়েছে। এখন আর একটি খুঁটি পুঁতে দিলে গোটা গ্রামকে বিদ্যুদায়িত হয়েছে বলা যাবে না। গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িতেই বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা হয়েছে তা দেখাতে হবে। আগে বিদ্যুদায়িত গ্রাম বলতে গ্রামটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেই চলত। এ অর্থে দেশের এমন কিছু গ্রামকে বিদ্যুদায়িত বলে দেখানো হত,যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি বা দু’টি বাড়িতে বিদ্যুৎ এসেছিল। গ্রামের ধনী কৃষক বা অন্যত্র বসবাস করে অর্থ উপার্জন করে এমন লোক ছাড়া কেউই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করার মতো অবস্থায় ছিল না। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করাটা ছিল সবচেয়ে বড় ব্যাপার। একটি গরিব মানুষের পক্ষে দশ-বিশ হাজার টাকা জোগাড় করে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য টাকা জোগান দেওয়াটা প্রায় অসম্ভব ছিল। ফলে গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও বাড়িগুলিতে সংযোগ নেওয়া সম্ভব হত না। রাজীব গান্ধী গ্রামীণ বিদ্যুৎ যোজনায় কিন্তু বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হল। এর জন্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলিকে রাজ্য সরকারগুলি ভরতুকি সাহায্য দেওয়ার ব্যবস্থা করল। সূত্র : বিদ্যুৎ মন্ত্রক