শক্তির দক্ষ ব্যবহারের ব্যাপারটি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে মান নির্ধারণ ও চিহ্নিতকরণ কর্মসূচি (এস অ্যন্ড এল) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০০৬ সালের ১৮ মে থেকে এই প্রকল্পটি কার্যকর হয়। প্রকল্পের মুখ্য উদ্দেশ্য শক্তি সংরক্ষণের ব্যাপারে বিকল্পগুলির সন্ধান দেওয়া এবং প্রাসঙ্গিক বাজারি পণ্যের শক্তি ও খরচ বাঁচানোর ক্ষমতা সম্পর্কে গ্রাহককে অবহিত করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য। যে সব সরঞ্জাম এই প্রকল্পের আওতায় -- প্রকল্পটির আওতায় এখনও পর্যন্ত রয়েছে ১২টি পণ্য/সরঞ্জাম ---এসি, টিউব লাইট, ফ্রস্ট ফ্রি রেফ্রিজারেটর, ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার, ইনডাকশন মোটর, ডিরেক্ট কুল রেফ্রিজারেটর, সিলিং ফ্যান, গিজার, কালার টিভি, কৃষিতে ব্যবহৃত পাম্প সেট, এলপিজি স্টোভ ও ওয়াশিং মেশিন। ৭ জানুয়ারি ২০১০ থেকে চারটি সরঞ্জামকে লেবেল প্রদান বা চিহ্নিতকরণ করার ক্ষেত্রে আবশ্যিক করা হয়েছে। এগুলি হল-এসি, টিউব লাইট, ফ্রস্ট ফ্রি রেফ্রিজারেটর এবং ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার। বাকি পণ্যগুলি আপাতত স্বেচ্ছা লেবেলিং-এর পর্যায়ে রয়েছে। ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি তথা বিইই-র অধীনে শক্তির দক্ষ প্রয়োগের চিহ্নিতকরণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হল ব্যবহৃত পণ্যগুলির বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ কমানো। এর জন্য অবশ্য দেখতে হবে পণ্যগুলির গুণগত মান বা পরিষেবার কোনও ক্ষতি না হয়। শক্তির দক্ষতার মান অনুযায়ী পণ্যগুলিকে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত ‘তারকা’ রেটিং দেওয়া হয়। মানোন্নয়ন ও চিহ্নিতকরণের প্রথা ভারতে নতুন কিছু নয়। ব্যুউরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড প্রদত্ত আইএসআই সার্টিফিকেট এ ব্যাপারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। মানোন্নয়ন ও গুণমান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আন্তজার্তিক মান্যতা প্রাপ্ত মাপকাঠির প্রয়োগও আমাদের দেশে প্রচলিত। যেমন, যানবহানের ইঞ্জিনের ইউরো মাত্রা প্রয়োগ। সোনার গুণমান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে হলমার্ক গ্যারান্টি প্রদান ইত্যাদি। এগুলি সবই আন্তজার্তিক স্তরের স্বীকৃত মাত্রা। কিন্ত দূষণের মাপকাঠি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আরও কিছু মাত্রা রয়েছে। কিন্তু বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে স্টার মাত্রা প্রয়োগ বাধ্যতামূলক করার পর তা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। স্টার চিহ্নিতকরণ ছাড়া বৈদ্যুতিন যন্ত্রের বিক্রয় প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলা যায়। সংশ্লিষ্ট সংযোগ BEE-INDIA MNRE