জলবায়ু পরিবর্তনের নানা প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হল ‘কন্টিনেন্টাল ড্রিফট’ বা মহাদেশীয় সরণ, আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণ, সমুদ্রের স্রোতপ্রবাহ এবং ‘আরথস টিল্ট’ বা পৃথিবীর হেলে থাকা। ভূমিকা বিজ্ঞানীরা বলেন, এই পৃথিবী মোট ১৩ বার ধ্বংসের সম্মুখীন হয়েছে,ফের জীববৈচিত্রে ভরে গিয়েছে। এতবার পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার মূল কারণ হল জলবায়ু পরিবর্তন। এর পিছনে রয়েছে প্রকৃতির অবদান। আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাদন থেকে শুরু করে ভূগর্ভের প্লেটের সঙ্ঘাত— অনেক কারণেই পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। কন্টিনেন্টাল ড্রিফট’ বা মহাদেশীয় সরণ পৃথিবীর স্থলভাগ যখন একটু একটু করে ছেড়ে যেতে শুরু করল তখনই ধীরে ধীরে সৃষ্টি হল মহাদেশের। লক্ষ লক্ষ বছর আগে এই প্রক্রিয়ায় মহাদেশের জন্ম হয়েছে। মাটির এই সরে যাওয়া বা ছেড়ে যাওয়ার ফলে পৃথিবীর স্থলভাগের জলাশয়গুলির অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে এবং পরিবর্তন হয়েছে সমুদ্রের জলস্রোত ও বায়ুপ্রবাহের। এই পরিবর্তনগুলি জলবায়ুর উপর প্রভাব ফেলে। আজও এই মহাদেশীয় সরণ অব্যাহত রয়েছে। আগ্নেয়গিরি যখন কোনও আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্গিরণ হয় তখন প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস, জলীয় বাষ্প, ধুলো, ছাই বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়। যদিও আগ্নেয়গিরির উদগিরণ মাত্র কয়েক দিন স্থায়ী হয়, তা হলেও প্রচুর পরিমাণে গ্যাস ও ছাই বের হওয়ায় তা দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটায়। গ্যাস এবং ধুলো ভূপৃষ্ঠে আসা স্বাভাবিক সূর্যরশ্মির পথে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে জলবায়ু অনেকটা ঠান্ডা হয়ে যায়। ‘আরথস টিল্ট’ বা পৃথিবীর হেলে থাকা পৃথিবী তার কক্ষপথের উলম্ব তলের সঙ্গে ২৩.৫০ কোণে হেলে রয়েছে। পৃথিবী হেলে থাকার পরিবর্তন হলে তা জলবায়ুর উপর বড় প্রভাব ফেলে। জলবায়ু চরম আকার ধারণ করে। বেশি হেলে যাওয়া মানে গ্রীষ্ম ঋতু আরও বেশি গরম হওয়া ও শীত ঋতু আরও ঠান্ডা হওয়া। কম হেলে থাকা মানে গ্রীষ্মে গরম কম এবং শীতে ঠান্ডা কম। সমুদ্রের স্রোতপ্রবাহ জলবায়ু ব্যবস্থায় সমুদ্রের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। সমুদ্র পৃথিবীর ৭১ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। সমুদ্র বায়ুমণ্ডলের চেয়ে দ্বিগুণ সূর্যের বিকিরণ শোষণ করে। সুত্রঃ পোর্টাল কনটেন্ট টিম