বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করার যে কোনও ব্যবস্থার তিনটি দিক রয়েছে। জল ধরা, জল বহন করা ও জল সঞ্চয় করা। বৃষ্টির জল সংরক্ষণের দু’ধরনের ব্যবস্থা আছে। বাড়ির কাজের প্রয়োজনে ছাদ থেকে বৃষ্টির জল সংগ্রহ করার ব্যবস্থা কৃষিতে বাড়তি সেচের জন্য মাঠে বা কাছাকাছি জায়গায় জল ধরে রাখার ব্যবস্থা। বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থার ছ’টি মৌলিক উপাদান : ক্যাচমেন্ট : ছাদ বা যেখানে জল ধরার ব্যবস্থা। পরিবহন : ছাদ বা জল ধরা হয় সেখান থেকে মজুত করার জায়গায় জল নিয়ে যাওয়ার জন্য চ্যানেল বা পাইপ। ছাদ বা জল ধরার জায়গা পরিষ্কার করা : যাতে বৃষ্টির জলের সঙ্গে নোংরা না থাকে তার জন্য জল ফিল্টার করতে ‘ফার্স্ট ফ্লাশ ডাইভার্টার’ ব্যবস্থা জল সঞ্চয় : কীটমুক্ত ট্যাঙ্ক বা সিস্টার্ন যেখানে জল সংরক্ষণ করে রাখা যাবে। পরিশ্রুত করা : ফিল্টার করা, ওজোন ও ইউভি আলোর ব্যবহার যাতে সংগৃহীত বৃষ্টির জল পানীয় হিসাবে ব্যবহার করা যায়। বণ্টন : যে ব্যবস্থার মাধ্যমে বৃষ্টির জল বণ্টন করা করা হয়। সচরাচর এর জন্য ছোট পাম্প ও প্রেশার ট্যাঙ্ক ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করার জন্য পুকুর কাটার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ জলমাতৃক রাজ্য। এখানে খাল বিল ও পুকুর যথেষ্ট রয়েছে। কিন্তু পুকুর বা খাল বিলগুলি সংরক্ষণের অভাবে মজে যেতে বসেছে। সেগুলিকে সংরক্ষণ করতে হলে অবিলম্বে পুকুরগুলির সংস্কার করা প্রয়োজন। আশার কথা হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার অত্যন্ত পূর্বেই এই বিষয়টি বুঝেছিল এবং এ সম্পর্কিত ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে‘ জল ধরো জল ভরো’ নামক একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেন। যার মূল কথা হল যে কোনও উপায়ে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা এবং তা ব্যবহারের ব্যবস্থা করা। এ জন্য প্রতিটি ব্লকে টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এটিকে মডেল প্রজেক্ট হিসবে তুলে ধরতে চায়। সুত্রঃ PIB,GoI