ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণ আইনের মাধ্যমে ভূগর্ভের জলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্য বেশ কয়েকটি রাজ্যে এ ধরনের আইন রয়েছে। এই আইনের মূল কথা হল ভূগর্ভের জল যত্রতত্র তোলা যাবে না। এর ফলে মাটির নীচে জলশূন্যতা তৈরি হতে পারে যা থেকে মাটিতে বালির পরিমাণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এ সব ক্ষেত্রে শহরাঞ্চলে বাড়িতে ফাটল ধরা বা বাড়ি ধসে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। গ্রামাঞ্চলে সেচের প্রয়োজনে অনেকেই শালো টিউবওয়েল ব্যবহার করেন। অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের জন্য সেচের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কিন্তু তার জন্য ভূগর্ভস্থ জলের ভরাসাম্য নষ্ট হয়ে গেলে বিপদ বাড়তে পারে। ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণ আইনে মূলত শ্যালো টিউবওয়েল ব্যবহারের উপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয় কৃষকদের প্রয়োজনে অনেক সময় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকার অনেক নমনীয় ভূমিকা পালন করে। শহরাঞ্চলে বিভিন্ন করপোরেশনের এ ব্যাপারে আলাদা আইন বা বিধি রয়েছে। কিন্তু ভারতের অধিকাংশ মেট্রোপলিটন শহরে এই বিধি মানার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা নেই। যে কারণে বড় বড় শহরগুলিতে বহুতলে আলাদা করে ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকে। কুয়ো কখনও জল সংরক্ষণের জন্য নির্মিত হয় না। কুয়ো ভূগর্ভস্থ জলের উৎসের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে দেয়। বর্ষার সময় ভূগর্ভস্থ জলের স্তরের ওঠানামার উপর কুয়োর জলের ওঠানামা নির্ভর করে। বৃষ্টি ধরে যাওয়ার বহু দিন পরেও ভূগর্ভের জলের উৎস থেকে চুঁইয়ে জল কুয়োয় এসে জড়ো হয়। এ ভাবেই কুয়ো থেকে জল পাওয়া যায়। যেখানে আপনি বোর ওয়েল থেকে জল সংগ্রহ করেন সেখানে মাটি যে রকমই হোকনা কেন, পাথুরে, ল্যাটেরাইট বা রুক্ষ, বৃষ্টির জল ঠিকই চুঁইয়ে ভূগর্ভে চলে যায়। সব বোর ওয়েলেই এক সময় না এক সময় শুকনো হয়ে যায়। কোনওটি আগে। কোনওটি বা পরে। বোর ওয়েলকে অন্য ভাবে ব্যবহার করুন। অর্থাৎ শুকিয়ে যাওয়া বোর ওয়েলের সাহায্যে মাটির তলায় জল পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। এর জন্য তার উপরে একটি পারকোলেশন পিট নির্মাণ করা দরকার। সুত্রঃ PIB,GoI