পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির বর্তমান গ্রাহক দেড় কোটি। এত সংখ্যক মানুষকে পরিষেবা দিতে গেলে অভিযোগ আসতেই পারে। ভারতে উপভোক্তা সুরক্ষা আইন তৈরি হয়েছে ১৯৮৬ সালে। নিরাপত্তার অধিকার, তথ্য লাভের অধিকার, পছন্দের অধিকার, শুনানির অধিকার, উপভোক্তা শিক্ষার অধিকারের পাশাপাশি এক জন ক্রেতার প্রতিকার চাওয়ারও অধিকার আছে। একশো শতাংশ গ্রাহক পরিষেবা প্রদান পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ জন্য উপভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি। যার ফলে অভিযোগের সংখ্যা এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। প্রতিবিধান পদ্ধতির খুঁটিনাটি নীচে বিস্তারিত দেওয়া হল। প্রথমে আপনার অভিযোগ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের অফিসে লিখিতভাবে জানান অথবা আপনার বিলে উল্লিখিত টোল ফ্রি টেলিফোন নম্বরে ফোন করে অভিযোগ নথিভুক্ত করুন এবং অভিযোগ নম্বর সংগ্রহ করুন। উক্ত অফিসে সমস্যার সমাধান না হলে কিংবা আপনি যদি সেখানকার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হন তাহলে সংশ্লিষ্ট রিজিওনাল অফিসে রিজিওনাল গ্রিভান্স রিড্রেসাল অফিসারের (জিআরও) কাছে অথবা সেন্ট্রাল গ্রিভান্স রিড্রেসাল অফিসারের (সিজিআরও) কাছে লিখিতভাবে জানাবেন। এটি আপনি এডি সহ রেজিস্টার্ড পোস্টের মাধ্যমেও পাঠাতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার কাজের সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জিআরও/সিজিআরও প্রাপ্তি স্বীকার করবেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অনুসন্ধান করবেন। প্রয়োজনবোধে তিনি একি শুনানির ব্যবস্থাও করবেন এবং অভিযোগকারীকে সিদ্ধান্ত লিখিত আকারে কাজের ৬০ দিনের জানাবেন। অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট জিআরও-র আদেশে সন্তুষ্ট না হলে সিজিআরও-র নিকট আবেদন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁকে সংশ্লিষ্ট জিআরও-র কাছে আবেদনের ৬০টি কাজের দিনের মধ্যে সিজিআরও-র কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। ওমব্যাডসম্যান (মহামান্য লোকপাল)-এ আবেদন করতে হলে অভিযোগকারীকে প্রস্তাবিত ফর্ম ভর্তি করে এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের নকল (কপি) সহ নিম্নলিখিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। ক) সংশ্লিষ্ট জিআরও-র আদেশনামা পাওয়ার ২০টি কাজের দিনের মধ্যে যদি আপনি ওই আদেশে সন্তুষ্ট না হন অথবা খ) সংশ্লিষ্ট জিআরও-র আদেশনামা না পাওয়া গেলে শুনানির ৬০টি কাজের দিনের পরে অথবা গ) অভিযোগ জানানোর একশোটি কাজের দিনের পরে যখন সংশ্লিষ্ট জিআরও-র আদেশনামা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অফিস কাজ না করে। উপরি উক্ত রেগুলেশন অনুযায়ী অভিযোগ উৎপত্তির ৯০ দিনের মধ্যে বিষয়টি লিখিত আকারে সংশ্লিষ্ট জিআরও/সিজিআরও-র অফিসে জমা দিতে হবে। অন্যথায় বিষয়টি বিবেচিত হবে না। জেলাভিত্তিক জিআরও-র নাম, ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর, ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে (www.wbsedcl.in) সূত্র : পঞ্চায়েতী রাজ, জানুয়ারি ২০১৫