আধুনিক সভ্যতার বিকাশে বিদ্যুতের অবদান অপরিসীম। বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রা অচল। সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের ব্যবহআর ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তবে এই ব্যাপারে প্রতি পদে মনে রাখতে হবে, সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন না করলে বিপদ ঘটার আশঙ্কা থাকে। অসতর্কতার ফলে বহু মানুষ এবং প্রাণী বিদ্যুৎজনিত দুর্ঘটনায় আহত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানিও হয়। সেই কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কী ভাবে সতর্কতা নেওয়া যায় তা বিস্তারিত নীচে দেওয়া হল। নিরাপত্তার কারণে বাড়ির মেইন সুইচ এবং ওয়্যারিং ভালো ভাবে আর্থ করাতে হবে। নির্দিষ্ট তড়িৎ ক্ষমতাসম্পন্ন ফিউজ তার ব্যবহার করতে হবে যাতে বৈদ্যুতিক লাইনে কোনও ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে ফিউজ তার কেটে গিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয় এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলি পুড়ে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়। প্রয়োজনে এমসিসি ব্যবহারে অনেক সুরক্ষা পাওয়া যায়। বিপদ এড়াতে নির্দিষ্ট গুণমানের (আইএসআই চিহ্ন যুক্ত) বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে। বৈদ্যুতিক তার থেকে যদি পোড়া গন্ধ পাওয়া যায় অথবা আগুন জ্বলতে দেখা যায় তা হলে তৎক্ষণাৎ মেইন সুইচ অফ করতে হবে। ভেজা হাতে ইলেকট্রিক সুইচ বোর্ডে হাত দেওয়া যাবে না। কারণ এতে শক লাগার সম্ভাবনা থাকে। ইলেকট্রিক ইস্ত্রি ব্যবহারের সময় পায়ে রবারের চটি পরতে হবে এবং হাত শুকনো রাখতে হবে। টিভির প্লাগ খোলার আগে টিভির সুইচ অবশ্যই অফ করতে হবে। ইলেকট্রিক সুইচ বোর্ডে প্লাগ লাগানোর সময় ও খোলার সময় কানেকশন অফ করে লাগাতে ও খুলতে হবে। চালু বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে বাচ্চাদের/ছোটদের দূরে রাখতে হবে। বৈদ্যুতিক খুঁটিতে জামাকাপড় শুকানোর তার লাগানো যাবে না। ভেজা জামাকাপড় বিদ্যুতের তারে মেলা যাবে না। বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন থেকে নিউট্রাল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। পাশাপাশি সরবরাহ লাইনে কাজ হলে ইনভারটার ও জেনারেটরের সংযোগ ছিন্ন করতে হবে। বিদ্যুৎ লাইনে মেরামতির কাজ করতে আসা কর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতা করা জরুরি। সূত্র : পঞ্চায়েতী রাজ, জানুয়ারি ২০১৫