এটি সোলার হিটিং পদ্ধতির একেবারে মর্মবস্তু বলা যেতে পারে। এটি একটি সৌরশক্তি গ্রহণযোগ্য প্লেট যার উপর সৌররশ্মিকে শোষণ করতে পারে এমন কোটিং দেওয়া থাকে। প্লেটটি সব সময় সূর্যের দিকে মুখ করে বসানো থাকে। শোষকের মধ্যে ধাতব টিউব ও পাতের গ্রিড থাকে। জল ওই টিউবের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়। উপরের পাত সৌরশক্তি গ্রহণ করে তা টিউবের মধ্যের জলে চালান করে। আবহাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে প্লেটটি একটি খোলা বাক্সের মধ্যে রাখা হয়। বাক্স এবং শোষকের মধ্যে যে ফাঁকটুকু থাকে সেখানে নানা ধরনের তাপনিরোধক বস্তু ঢোকানো হয়, যাতে তাপ নষ্ট না হয়। বাক্সের সামনে অতিপরিবাহী কাচের প্লেটে ঢাকা থাকে। কতটা জায়গা নিয়ে এটি বসানো হচ্ছে তার উপর ফ্ল্যাট প্লেটের আয়তন নির্ভর করে। সচরাচর তা ১ X ২ মিটার হয়। সৌরশক্তির সাহায্যে জল গরম করার ক্ষেত্রে কী ধরনের শোষক ব্যবহার করা হয়? ভারতে সচরাচর চ্যাপ্টা ধরনের শোষক প্লেট ব্যবহার করে সৌররশ্মি শোষণের ব্যবস্থা করা হয়। এটি অন্য ধরনের শোষকের তুলনায় খুবই সস্তা। গার্হস্থ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে জল গরম করার পদ্ধতিতে অনেক সময় ‘ইভাকুয়েটেড টিউব’ ব্যবহার করা হয়, তবে তা সচরাচর পাওয়া যায় না। উচ্চ তাপমাত্রার ব্যবহার যেখানে হয়, যেমন শিল্পে বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ‘কনসেনট্রেটিং কালেক্টর’ ব্যবহার করা হয়। চ্যাপ্টা সমতল প্লেট শোষক কেনার ক্ষেত্রে কী দেখে নিতে হবে? সোলার ওয়াটার হিটিং সিস্টেমে ব্যবহারের জন্য ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড ফ্ল্যাট প্লেট কালেক্টরের গুণমান বেঁধে দিয়েছে। সুতরাং এ ধরনের শোষক বা প্লেট কেনার আগে আইএসআই মার্কা রয়েছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। যে সব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে সেগুলি হল, কী জিনিস দিয়ে শোষক প্লেটটি তৈরি করা হয়েছে, শোষণকারী প্রলেপের ধরন, ব্যবহৃত কাচের প্লেটের উৎকর্ষ, বাক্স কী দিয়ে তৈরি, অপরিবাহী বস্তুর ঘনত্ব ইত্যাদি।