অসমীয়া   বাংলা   बोड़ो   डोगरी   ગુજરાતી   ಕನ್ನಡ   كأشُر   कोंकणी   संथाली   মনিপুরি   नेपाली   ଓରିୟା   ਪੰਜਾਬੀ   संस्कृत   தமிழ்  తెలుగు   ردو

শক্তির প্রকারভেদ

শক্তির প্রকারভেদ

শক্তি নানা প্রকারের - আলোক শক্তি, তাপ শক্তি, যান্ত্রিক শক্তি, মহাকর্ষীয় শক্তি, বিদ্যুৎ শক্তি, শব্দ শক্তি, রাসায়নিক শক্তি, পরমাণু শক্তি এবং আরও কত কী। প্রতিটি শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায় বা পরিবর্তিত করা যায়।

  • যদিও শক্তির সুনির্দিষ্ট কিছু ভাগ আছে, তবুও মূল দু’টি ভাগ হল, গতি শক্তি ও স্থিতি শক্তি।
  • গতি শক্তি হল চলমান বস্তু বা ভরের শক্তি। উদাহরণ, যান্ত্রিক শক্তি, বিদ্যুৎ শক্তি ইত্যাদি।
  • স্থিতি শক্তি হল সেই শক্তি যা ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হিসাবে সঞ্চিত আছে। যেমন, পরমাণু শক্তি, রাসায়নিক শক্তি ইত্যাদি।

রাসায়নিক শক্তি

রাসায়নিক যৌগের বন্ড বা বন্ধনে (অণু ও পরমাণু) যে শক্তি সঞ্চিত আছে তা-ই রাসায়নিক শক্তি। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সাধারণত তাপ হিসাবে রাসায়নিক শক্তি নির্গত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কাঠ, কয়লার মতো জ্বালানি পুড়িয়ে আমরা সেগুলির রাসায়নিক শক্তি ব্যবহার করি।

বিদ্যুৎ শক্তি

তড়িৎ পরিবাহী পদার্থে ছুটন্ত ইলেকট্রনরা যে শক্তি বহন করে তা-ই বিদ্যুৎ শক্তি। সবচেয়ে পরিচিত ও কার্যকর শক্তি হল বিদ্যুৎ শক্তি। উদাহরণ, বজ্রবিদ্যুৎ। অন্য ধরনের শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়। যেমন, কয়লার মতো জ্বালানিতে যে রাসায়নিক শক্তি সঞ্চিত আছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সেই শক্তিকে নানা পদ্ধতিতে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

যান্ত্রিক শক্তি

একটি বস্তু বা ব্যবস্থার গতিজনিত যে শক্তি তা-ই যান্ত্রিক শক্তি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মেশিন তার যান্ত্রিক শক্তিকে ব্যবহার করেই কাজ করে।

যান্ত্রিক শক্তি প্রধানত দুইভাগে বিভক্ত করতে পারি, যথা- বিভব শক্তি ও গতি শক্তি।

বিভব শক্তি

স্বভাবিক অবস্থান বা অবস্থা থেকে পরিবর্তন করে কোন বস্তুকে অন্য কোন অবস্থান বা অবস্থায় আনলে বস্তু কাজ করার যে সামর্থ্য অর্জন করে, তাকে বিভব শক্তি বলে।

গতি শক্তি

কোন গতিশীল বস্তু তার গতির জন্য কাজ করার যে সামর্থ্য লাভ করে, তাকে গতি শক্তি বলে।

তাপ শক্তি

একটি বস্তু বা ব্যবস্থার তাপমাত্রাজনিত যে শক্তি তা-ই তাপ শক্তি। যেমন, ভ্রাম্যমাণ বা কম্পমান অণুর শক্তি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমরা রান্না করতে সূর্যের বিকিরণকে কাজে লাগাই।

পরমাণু শক্তি

প্রতিটি পরমাণুর মধ্যে যে শক্তি মজুত আছে তা-ই পরমাণু শক্তি। ফিউশন (পরমাণু জুড়ে) বা ফিশন (পরমাণু ভেঙে) প্রক্রিয়ায় পরমাণু শক্তি উৎপাদন করা যায়। তবে ফিশন প্রক্রিয়ার চলই বেশি।

ইউরেনিয়াম হল প্রধান কাঁচামাল। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ইউরেনিয়াম খনি থেকে উত্তোলন করা হয়। প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এই ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি করা হয় ছোট ছোট গুলি। যার ফলে আমরা পাই উন্নত মানের ইউরেনিয়াম বা রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ। এর পর ওই গুলিগুলোকে লম্বা রডে চাপিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাকটরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাকটরের ভিতর ইউরেনিয়াম পরমাণুগুলো নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়ায় ভেঙে যায়। আরও যে সব বিভাজনপ্রবণ পদার্থ আছে তা হল, প্লুটোনিয়াম আর থোরিয়াম।

শৃঙ্খল বিক্রিয়ায় পরমাণু ভেঙে যে সব কণা নির্গত হয়, সেগুলো আবার ইউরেনিয়ামের অন্য পরমাণুগুলোকে আঘাত করে ভেঙে দেয়। এর ফলে যে সব কণা বেরোয়, সেগুলো আবার আরও পরমাণুকে ভেঙে ফেলে। এই ভাবে শৃঙ্খল বিক্রিয়া চলতে থাকে। এই ভাঙার বিক্রিয়া যাতে অতি দ্রুত না হয় তার জন্য পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে কন্ট্রোল রড ব্যবহার করা হয়। এগুলোকে বলা হয় মডারেটর।

শৃঙ্খল বিক্রিয়ায় তাপ শক্তি নির্গত হয়। এই তাপ দিয়ে রিঅ্যাকটরের একেবারে কেন্দ্রে ভারী জল (হেভি ওয়াটার) ফোটানো হয়। সুতরাং, জ্বালানি না পুড়িয়ে, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র পরমাণুর শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত করতে শৃঙ্খল বিক্রিয়ায় নির্গত শক্তিকে কাজে লাগায়। ভারী জল বিদ্যুৎকেন্দ্রের আর একটি জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এই ভারী জল এখানে জলভর্তি একগুচ্ছ পাইপকে গরম করে বাষ্প তৈরি করে। এই বাষ্পই টার্বাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

পরমাণু শক্তির ভালো-মন্দ

সুবিধা

১। পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক ভাবে কম কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়। তাই বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়নের জন্য পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র কম দায়ী।

২। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রেই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

অসুবিধা

১। তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিরাপদে নষ্ট করা নিয়ে সমস্যা থাকছেই।

২। ঝুঁকি থাকে সব সময়েই। দুর্ঘটনার সময় ক্ষতির পরিণাম ভয়ংকর হতে পারে।

৩। কাঁচামাল ইউরেনিয়াম বিরল সম্পদ। ভবিষ্যতে চাহিদা যতই বাড়ুক, এই মজুত ভাণ্ডারে ৩০ থেকে ৬০ বছরের বেশি চলবে না।

মহাকর্ষীয় শক্তি

মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রে একটা বস্তু যে শক্তি ধরে রাখে তা-ই মহাকর্ষীয় শক্তি। উদাহরণ, জলপ্রপাত থেকে দুর্দান্ত বেগে পড়া জল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র

  1. www.edugreen.teri.res.in
  2. www.indiaenergyportal.org

তথ্য সংকলন ঃ বাংলা বিকাশপিডিয়া



© 2006–2019 C–DAC.All content appearing on the vikaspedia portal is through collaborative effort of vikaspedia and its partners.We encourage you to use and share the content in a respectful and fair manner. Please leave all source links intact and adhere to applicable copyright and intellectual property guidelines and laws.
English to Hindi Transliterate