অসমীয়া   বাংলা   बोड़ो   डोगरी   ગુજરાતી   ಕನ್ನಡ   كأشُر   कोंकणी   संथाली   মনিপুরি   नेपाली   ଓରିୟା   ਪੰਜਾਬੀ   संस्कृत   தமிழ்  తెలుగు   ردو

খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান ও উপকারিতা

খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান ও উপকারিতা

আমাদের দৈনিক কাজকর্ম, চিন্তাভাবনা ও শারীরিক পরিশ্রমের জন্য দেহের ক্ষয় হয়। খাদ্য সেই ক্ষয় পূরণ করে। তাই দেহের পুষ্টির জন্য খাদ্য একান্ত প্রয়োজন।

খাদ্যদ্রব্য মানুষের জীবনের ভিত্তি ও প্রধান অবলম্বন। ভালো খাওয়া দাওয়া ভালো স্বাস্থ্য, কর্মসামর্থ্য ও দীর্ঘ পরমায়ু লাভের উপায়। কিন্তু ভালো ভালো খাদ্য খেলেও দেখা যায় শরীরে অনেক ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। খাদ্য সুষম (ওয়েল ব্যালেন্সড) হওয়া প্রয়োজন। কোন কোন খাদ্য কী কী উপাদান বর্তমান তা জানা প্রয়োজন। খাদ্যের মান নির্ণয় করে খাদ্যকে ছ’টি উপাদানে ভাগ করা হয়েছে। নীচে খাদ্যের উপাদান ও তাদের উপকারিতা সম্বন্ধে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল —

  • ১) প্রোটিন (আমিষজাতীয় খাদ্য)
  • ডিম, মাছ, মাংস, মেটে (লিভার), গুর্দা (কিডনি), চিজ, সোয়াবিন, চিনাবাদাম, ডাল, দুধজাতীয় খাদ্য ছানা প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়।

    উপকারিতা : শরীরের তাপ উত্পাদন, দেহের হজমক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, দেহতন্তুর ক্ষতিপূরণ ও শরীরস্থ উপাদানসমূহ নির্মাণ প্রোটিন খাদ্যের কাজ। শরীর গঠনের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। আমাশয় রোগে প্রোটিন বিশেষ প্রয়োজন।

    তা ছাড়া শরীরের বৃদ্ধি (গ্রোথ), দেহের পুষ্টি এবং মেধা বাড়ানোর জন্য সহায়ক।

  • ২) কার্বোহাইড্রেট (শর্করাজাতীয় খাদ্য) : চাল, চিনি, আটা, ময়দা, মিষ্টি, মধু, আম, আলু, মিছরি, গুড়, চিড়া, মুড়কি, সাগু, বার্লি ইত্যাদিতে কার্বোহাইড্রেট বর্তমান।
  • উপকারিতা : দৈনিক শক্তি, কর্মে উদ্যম, তাপ উত্পাদন ও চর্বি গঠন কার্বোহাইড্রেটের প্রধান কাজ। এই জাতীয় খাদ্যই আমাদের দেহ গঠন ও সংরক্ষণের প্রধান উপাদান। যাদের রোগা শরীর তাদের মেদ বৃদ্ধির জন্য এটি বিশেষ প্রয়োজনীয়।

  • ৩) ফ্যাট বা চর্বি (স্নেহজাতীয় খাদ্য) : মাংসের চর্বি, মাখন, হোল মিল্ক, আইসক্রিম, বাদাম, তেল, ঘি, বনস্পতি, নারকেল তেল প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে চর্বি রয়েছে।
  • উপকারিতা : কাজে উত্সাহ ও তত্পরতার জন্য ফ্যাট অপরিহার্য। শরীরের উত্তাপ উত্পাদন এবং চর্বি প্রস্তুতকরণ এই জাতীয় খাদ্যের প্রধান কাজ। দেহের কমনীয়তা রক্ষা ও দেহলাবণ্যের জন্য চর্বির প্রয়োজন খুব বেশি।

  • ৪) মিনারেলস (লবণজাতীয় খাদ্য) : মাছ, শুকনো খাবার, মোওয়া, শুকনো ফল, সরষে, সবজি, সবুজ শাক, মোচা, কাঁচকলা, ডুমুর, খাদ্যলবণ প্রভৃতিতে মিনারেলস জাতীয় খাদ্য বর্তমান। এ ছাড়াও ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও লোহাজাতীয় খাদ্য এতে বর্তমান।
  • উপকারিতা : লবণঘটিত উপাদান খাদ্যমাধ্যমে আমাদের রক্তে সঞ্চিত হয়। এটি রক্তবর্ধক। ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্থিরোগ, রিকেটস ইত্যাদি হয়। ক্যালসিয়াম রক্ত জমাট বাঁধতে, দাঁত গঠনে ও রক্ষণে সহায়ক।

  • ৫) ভিটামিন (খাদ্যপ্রাণ)
  • আমাদের শরীরের এর প্রয়োজন খুব বেশি। প্রয়োজন হিসেবে ভিটামিনকে কয়েক শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। নিম্নে আলোচনা করা হল —

    ভিটামিন ‘এ’ —গাজর, টমেটো, পেঁপে, পাকা আম, মাখন, তোল, পালংশাক, ইলিশ মাছ ও কড লিভার প্রভৃতিতে ‘এ’ ভিটামিন বর্তমান।

    উপকারিতা : রাতকানা, মুখের ব্রণ, শরীরের বাড়বৃদ্ধি, পেটের অসুখ প্রভৃতিতে বিশেষ উপকারী।

    ভিটামিন ‘বি’ — মুগডাল, ভেজানো ও অঙ্কুরিত ছোলা, ভুট্টা, কড়াইশুঁটি, সিম, ডিমের কুসুম, পালংশাক প্রভৃতিতে প্রচুর ‘বি’ ভিটামিন বর্তমান।

    উপকারিতা : নার্ভ ও মস্তিষ্কের দুর্বলতা, নার্ভের ব্যথা, একটুতে রেগে যাওয়া, অলসতা, দৈহিক ও মানসিক পরিশ্রম, অজীর্ণ ও কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদিতে ‘বি’ ভিটামিন জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজন খুব বেশি।

    ভিটামিন ‘সি’ ­ টকজাতীয় ফল, কমলালেবু, মুসাম্বিলেবু, বাতাবি লেবু, তেঁতুল, পেয়ারা, আমলকি, আনারস, আখের রস প্রভৃতিতে ভিটামিন ‘সি’ বর্তমান।

    উপকারিতা : সর্দিকাশি, দাঁতের রক্তপড়া, রক্ত চলাচলের পথকে সুগম করা, শরীরের ব্যথা ও ব্লাডপ্রেসারে খুব উপকারী।

    ভিটামিন ‘ডি’ —ঘি, মাখন, দুধ, ডিমের কুসুম, সূর্যের আলো, কড লিভার অয়েল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায়।

    উপকারিতা : হাড় বৃদ্ধিতে ভিটামিন ‘ডি’-এর প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। যাদের দাঁতে পোকা হয়, রিকেট রোগ, মাংসপেশির খিঁচ ধরে তাদের এই ভিটামিন ‘ডি’ উপকারী। ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের জন্য ভিটামিন ‘ডি’ এর প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।

    ভিটামিন ‘ই’ ­ অঙ্কুরিত ছোলা, বিন, বুটজাতীয় (মটরশুঁটি), কড়াইশুঁটি, সিমের বিচ প্রভৃতি খাদ্য ও সোয়াবিন প্রভৃতিতে ভিটামিন ‘ই’ বর্তমান।

    উপকারিতা : প্রজনন গ্রন্থির বৃদ্ধি ও রক্তসঞ্চারের সহায়ক, মেয়েদের গর্ভস্থ সন্তানের পুষ্টির জন্য ‘ই’ ভিটামিনের বিশেষ প্রয়োজন।

    ভিটামিন ‘কে’ ­ — নানা জাতীয় শাকে ‘কে’ ভিটামিন বর্তমান।

    উপকারিতা : এই ভিটামিন রক্ত জমাতে সহায়তা করে। অধিক রক্তপাত বন্ধ করাতে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য রোগেও উপকারী।

  • ৬) জল
  • শোথ, উদরী প্রভৃতি ব্যতীত অধিকাংশ রোগেই জল উত্তম পথ্য। শরীরের অপরাপর ক্রিয়ায় সহায়ক হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাব পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।

    দ্র : এক গ্লাস জল (সম্ভব হলে ঈষৎ উষ্ণ) খেয়ে পবনমুক্তাসন করলে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভালো ফল পাওয়া যায়।

    একটা কথা সর্বদা মনে রাখা প্রয়োজন যে, শুধু খাদ্য খেলেই হয় না। খাদ্যকে শরীরে গ্রহণ করারও ক্ষমতা থাকা চাই। শরীর যদি খাদ্যকে গ্রহণ না করে তবে প্রচুর খেলেও শরীরের পুষ্টিসাধন হয় না। অথবা অতিরিক্ত খাদ্য মেদ বা চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। শরীরকে খাদ্য গ্রহণ করার উপযুক্ত করে তুলতে হলে আসন ও পরিমিত ব্যায়ামের প্রয়োজন। আসন ও ব্যায়াম করলে ভালো হজম হওয়া এবং শরীরে খাদ্য গ্রহণ করার ক্ষমতা জন্মায়। এ জন্য নিত্য কিছু না কিছু আসন ও ব্যায়াম করা অপরিহার্য।

সূত্র : যোগসন্দর্শন, ডা. দিব্যসুন্দর দাস



© 2006–2019 C–DAC.All content appearing on the vikaspedia portal is through collaborative effort of vikaspedia and its partners.We encourage you to use and share the content in a respectful and fair manner. Please leave all source links intact and adhere to applicable copyright and intellectual property guidelines and laws.
English to Hindi Transliterate