রক্তচাপ ১২০/৮০ র নীচে থাকলে আমরা ভাবি নিম্ন রক্তচাপ হয়েছে। টেনশন করি। চেষ্টা করি ভালো খাওয়া-দাওয়া করতে। ভালো খাওয়া-দাওয়া নিয়ে কোনও আপত্তি অবশ্যই নেই। আপত্তি টেনশনকে নিয়ে। কারণ সংজ্ঞা অনুযায়ী একে রক্তচাপ বলেই না। রক্তচাপ ৯০/৬০ এর কম হলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বলে। কিন্তু এই রক্তচাপ নিয়েও কেউ যদি দৈনন্দিন কাজ কর্ম চালিয়ে যেতে পারেন, অসুবিধে নেই। ডায়েরিয়া, বমি, রক্তপাত বা অতিরিক্ত ঘাম না হলেই হল। এর নীচে নেমে গেলে চিন্তা। হঠাৎ কমে গেলে চিন্তা। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার মূলে থাকে বড় কোনও অসুখ। রক্ত চাপ কেন কমে কিছু মানুষের রক্তচাপ এমনিই কম থাকে। এটা জন্মগত ব্যপার। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। অ্যাডিসনস ডিজিজ নামে অ্যাড্রেনাল গ্ল্যান্ডের অসুখে। ডায়েরিয়া, বমি বা প্রচন্ড ঘেমে নেয়ে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল বেরিয়ে গেলে। প্রচুর রক্তপাত হলে। হার্ট অ্যাটাকের আগে বা হার্ট অ্যাটাক হলে কমে যেতে পারে। বড় ধরনের রোগ সংক্রমণে, সেপটিসিমিয়া হলে। রক্ত চাপ কমানোর ওষুধ বিশেষ করে ডাইইউরেটিক খেলে। কী করে বুঝবেন শোওয়া থেকে উঠে বসলে বা দাঁড়ালে মাথা ঝিমঝিম করে চোখ অন্ধকার হয়ে আসে। মাথা ঘোরা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, ঘাম, দুর্বলতা থাকতে পারে সঙ্গে। কী করবেন ডায়েরিয়া, অতিরিক্ত ঘাম বা বমি চলতে থাকলে নুন চিনির সরবত খান। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। যে রোগের জন্য এ রকম হচ্ছে তার চিকিত্সা দরকার। রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খেলে সাময়িক ভাবে ওষুধ বন্ধ করে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। ওষুধের ডোজ বদলে দিতে হতে পারেন। প্রয়োজন বুঝলে তিনি ওষুধও বদলে দিতে পারেন। অ্যাডিসনস ডিজিজ থাকলে সল্ট রিটেনিং হরমোন দিয়ে চিকিত্সা হয়। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। হঠাৎ কমে গেলে মাথায় বালিশ না দিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। ঘাম হতে থাকলে পাখা চালিয়ে দিন। জামাকাপড় আলগা করে দিন। নুন এবং জল খেতে হবে। বেশি করে নুন দিয়ে একগ্লাস সরবত বানিয়ে খান। চিনি বা লেবু মেশালে কোনও অসুবিধে নেই। রক্তচাপ মাপুন। রক্তচাপ কমছে, নাড়ির গতি বাড়ছে এ রকম হলে স্যালাইন চালাতে হবে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই ভালো। তথ্য : ডাঃ সুকুমার মুখোপাধ্যায়