মাথায় চোট লাগার পর বমি হলে ভয় হয়। শুরু হয় ডাক্তার বদ্যির কাছে ছুটোছুটি, সিটি স্ক্যান এবং টেনশন। বিশেষজ্ঞের মতে চোটের জায়গায় অল্প ব্যথা এবং বমি ছাড়া আর কোনও উপসর্গ না থাকলে তেমন ভয়ের কিছু নেই। ডাক্তার মনে করলে সিটি স্ক্যান অবশ্যই করাবেন। তবে তা নিয়ে টেনশন করার দরকার নেই। কী করবেন রোগী অজ্ঞান হয়ে গেছেন মাথায় আঘাত লেগে অজ্ঞান হয়ে গেলে এক মুহূর্তে দেরি না করে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট এবং নিউরো সার্জারির সুবিধে আছে এমন হাসপাতালে নিয়ে যান। যতক্ষণ না সে ব্যবস্থা হচ্ছে রোগীকে পাশ ফিরিয়ে উপুড় করে শুইয়ে দিন, বমি করলে যাতে তা ফুসফুসে চলে না যায়। রোগীকে নাড়াচাড়া করুন সাবধানে। কারণ ঘাড়ে চোট লাগলে বেকায়দায় তা বেড়ে গিয়ে অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তড়কা বা নাক-কান দিয়ে রক্ত পড়া শুরু। তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পৌঁছে যান। রক্ত পড়তে থাকলে পরিষ্কার কাপড় চাপা দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিন। মারাত্মক রক্তপাত হলে জায়গাটা সেলাই করিয়ে নিতে পারলে ভালো। তবে তার জন্য বেশি সময় লাগলে কাপড় বা ব্যান্ডেজ চাপা দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়াই বেশি নিরাপদ। হাসপাতালে পৌঁছনোর পর স্যালাইন চালানো, প্রয়োজনে শ্বাসনালিতে নল ঢুকিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক করা, মাথায় ব্যান্ডেজ করা, সেলাই করা, রক্ত দেওয়া ইত্যাদি যা যা দরকার করা হবে। রোগী মোটামুটি সামলে ওঠার পর করা হবে সিটি স্ক্যান। স্ক্যান রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে চিকিত্সা। ওষুধপত্র এবং বিশ্রাম, না অপারেশন। জ্ঞান আছে রোগীর মাথায় অল্পস্বল্প ব্যথা হলে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রফেন খান। ব্যথা বাড়লে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। ফুলে উঠলে বরফ অথবা জলপটি লাগান। কেটে গেলে জীবাণুমুক্ত গজ, না হলে পরিষ্কার কাপড় চাপা দিয়ে দেখুন রক্ত বন্ধ হয় কি না। না হলে সেলাই করতে হবে। চুপ চাপ শুয়ে থাকুন। বমি ছাড়া অন্য কষ্ট না থাকলে দু-এক ঘণ্টা পরে হালকা কিছু খেতে পারেন। ঘুমের ওষুধ খাবেন না। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। দরকার হলে সিটি স্ক্যান করিয়ে নিন। কয়েকটি ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। যেমন — মাথাব্যথা বাড়তে শুরু করলে বা শুরু থেকেই যদি প্রচণ্ড মাথাব্যথা থাকে মাথা ঘুরলে সব জিনিসকে যদি দু’টো করে দেখতে থাকেন দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে হঠাৎ ঘুম পেয়ে যায় নেতিয়ে পড়েন। এ রকম হলে দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তথ্য : ডাঃ অমিতাভ চন্দ