অসমীয়া   বাংলা   बोड़ो   डोगरी   ગુજરાતી   ಕನ್ನಡ   كأشُر   कोंकणी   संथाली   মনিপুরি   नेपाली   ଓରିୟା   ਪੰਜਾਬੀ   संस्कृत   தமிழ்  తెలుగు   ردو

চরিত্রে বদলে প্রকোপ বাড়াবে সোয়াইন ফ্লু

চরিত্রে বদলে প্রকোপ বাড়াবে সোয়াইন ফ্লু

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক কিংবা রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর যতই অভয়বাণী দিক, চলতি বছর সোয়াইন ফ্লুর প্রকোপ ভয়াবহ হতে চলেছে। আরও ভয়ঙ্কর আকার নিতে চলেছে! শহরেরই একদল বিজ্ঞানী এই সাবধানবাণী শুনিয়েছেন। কলকাতার এক গবেষণাগারে হওয়া এই গবেষণাপত্রটি মঙ্গলবার ডাচ প্রকাশনা সংস্থা ইলসেভিয়র-এর এক আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রিকা ‘ইনফেকশন, জেনেটিক্স অ্যান্ড ইভোলিউশন ’-এ প্রকাশিত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত রোগ চিহ্নিতকরণ এবং নির্ণয়ের পরিকাঠামো তৈরির বিষয়ে সতর্ক করেছে ওই বিজ্ঞানীর দল। এমনকী স্বাস্থ্য দফতরকেও বিষয়টা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কী বলা হয়েছে গবেষণাপত্রে? তাঁদের দাবি, চলতি বছরে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের জিনগত চরিত্র পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের শরীরের এইচ১এন১ ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য দায়ী একটি বিশেষ প্রোটিনের আকার পাল্টে গিয়েছে। কার্যক্ষেত্রে ওই প্রোটিনের আকারই রোগের সংক্রমণের গতি এবং ভয়াবহতা নির্ধারণ করে। পরিবর্তিত সেই প্রোটিনই মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। এমনকী কেউ আক্রান্ত হলে সে আরও দ্রুত অসুস্থ হবে। এক জন আক্রান্ত থেকে তা দ্রুত ছড়াবে অন্যদের মধ্যেও। বিজ্ঞানীদের আরও দাবি, চলতি বছরের সোয়াইন-ফ্লু ভাইরাসে ২০০৯-এর মতোই ভয়াবহ সংক্রমণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট দেখা গিয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হল, ইতিমধ্যে সেই পরিবর্তিত ভাইরাসের সংস্করণ ছড়াতে শুরু করেছে। দ্রুত সতর্ক না হলে চলতি বছরের সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণ অল্প সময়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বের বহু দেশে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ২০০৯ সাল থেকে এই ভাইরাসের চরিত্র নিয়ে গবেষণা চলছে বেলেঘাটার ন্যশনাল ইনস্টিটিউট অফ কলেরা অ্যান্ড এন্টেরিক ডিজিজেস (নাইসেড)-এর বায়োমেডিক্যাল ইনফর্মেটিক্স সেন্টারে। যৌথ ভাবে কাজ করছেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরজিৎ বসাক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকিউলার অ্যান্ড বায়োইনফরমেটিক্সের রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অয়ন রায়।

গবেষণাপত্রে এই বিজ্ঞানীদের দল দাবি করেছে, যে বর্তমানে সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণের পরিস্থিতি ঠেকাতে প্রয়োজন ব্যাপক প্রচার এবং সচেতনতা। সাবধান না হলে চলতি বছর সারা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা এবং ভয়াবহতায় নিরিখে তা ছাপিয়ে যাবে ২০০৯ -এর ভয়বহতাকেও। সে বার বিশ্বে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন আনুমানিক ৩০ হাজার মানুষ। চলতি বছরে এই ভাইরাস ভারত ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তানে থাবা বসিয়েছে বলে গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকদের অন্যতম নাইসেডের বিজ্ঞানী শান্তসবুজ দাস বলেন, ‘চলতি বছরে সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণের গতি ঠেকাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। অল্প দিনে থামবে না চলতি বছরে সোয়াইন ফ্লু-র বাড়বাড়ন্ত। আমাদের অনুমান সংক্রমণ আরও ছড়াবে।’ তিনি আরও জানান যে চলতি বছরে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের জিনগত পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ২০১৪ সালে শুরু হওয়া সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণের ভাইরাসে প্রোটিনের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য আছে যা কি না ছিল ২০০৯ সালের এবং ১৯১৮ সালের এইচ১এন১ ভাইরাসের প্রোটিনে। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করা প্রয়োজন। দ্রুত রোগের উপস্থিতি চিহ্নিত করাও জরুরি। তা না হলে রোগীর দ্রুত অসুস্থ হয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হতে পারে। ভাইরাস আরও মারণ চেহারা নিয়েছে চলতি বছরে। চলতি বছরের শেষ অবধি চলবে এই পরিস্থিতি। ফলে ব্যাপক সচেতনতা এবং রোগ নির্ণয়ের পরিকাঠামোতে জোর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শান্তসবুজ দাসের ব্যাখ্যা, ‘ওই দু’ বছর সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস প্রবল ভাবে ছড়িয়েছিল সারা বিশ্বে। কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। বিগত কয়েক মাসে যে প্রজাতির এইচ১এন১ ভাইরাস সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, সেখানেও রোগীদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য নজরে এসেছে।’ প্রত্যেক দিনই সারা দেশে সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ব্যাতিক্রম নয় এ রাজ্যও।

সূত্র :এই সময়, ৭ মার্চ ২০১৫



© 2006–2019 C–DAC.All content appearing on the vikaspedia portal is through collaborative effort of vikaspedia and its partners.We encourage you to use and share the content in a respectful and fair manner. Please leave all source links intact and adhere to applicable copyright and intellectual property guidelines and laws.
English to Hindi Transliterate