অসমীয়া   বাংলা   बोड़ो   डोगरी   ગુજરાતી   ಕನ್ನಡ   كأشُر   कोंकणी   संथाली   মনিপুরি   नेपाली   ଓରିୟା   ਪੰਜਾਬੀ   संस्कृत   தமிழ்  తెలుగు   ردو

জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি বিত্ত ও উন্নয়ন নিগম (এনবিসিএফডিসি)

জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি বিত্ত ও উন্নয়ন নিগম (এনবিসিএফডিসি)

এনবিসিএফডিসি কী

জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি বিত্ত ও উন্নয়ন নিগম (এনবিসিএফডিসি) ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের অধীনে ভারত সরকারের একটি উদ্যোগ। কোম্পানি আইন ১৯৫৬-র ২৫ ধারা অনুযায়ী ১৯৯২ সালের ১৩ জানুয়ারি এনবিসিএফডিসি বিধিবদ্ধ। এর লক্ষ্য‌ হল মুনাফা না করে অনগ্রসর শ্রেণির স্বার্থে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কাজকর্ম চালানো এবং দক্ষতা তৈরিতে ও স্বনিযুক্তি কাজকর্মে লিপ্ত হতে এই শ্রেণি গরিব মানুষদের সাহায্য করা।

রাজ্য‌ সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের মনোনীত স্টেট চ্য‌ানেলাইজিং এজেন্সিগুলির (এসসিএ) মাধ্য‌মে এনবিসিএফডিসি আর্থিক সাহায্য‌ করে থাকে। এ ছাড়াও এসসিএ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে এনবিসিএফডিসি ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে থাকে। আয়ের উৎস হতে পারে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলির এমন কাজকর্মে নিগম সহায়তা করে যাতে স্বনিযুক্তি উদ্যোগ ও দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগে অনগ্রসর শ্রেণির দরিদ্র অংশকে সাহায্য করা যায়।

  • ১. কৃষি ও সংশ্লিষ্ট কাজকর্ম
  • ২. ক্ষুদ্র ব্য‌বসা
  • ৩. হস্তশিল্প এবং প্রচলিত জীবিকা
  • ৪. কারিগরি ও পেশাদার ব্য‌বসা/পাঠক্রম
  • ৫. পরিবহণ ও পরিষেবা ক্ষেত্র

উদ্দেশ্য‌

  • অনগ্রসর শ্রেণির স্বার্থে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে তুলে ধরা।
  • অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তিবিশেষ বা গোষ্ঠী যদি এমন কোনও প্রকল্পের কাজ হাতে নেয় যা আর্থিক দিক থেকে ফলপ্রসূ, তা হলে সেই প্রকল্পে এনবিসিএফডিসি ঋণ বা আগাম অর্থ দেওয়া। সরকার সময়ে সময়ে আয় এবং/বা অর্থনৈতিক মানদণ্ড সংক্রান্ত যে বিধান দেয়, তা সাপেক্ষে এই সহায়তা।
  • অনগ্রসর শ্রেণির স্বার্থে স্বনিযুক্তি প্রকল্প ও অন্য‌ান্য‌ প্রকল্পগুলিকে তুলে ধরা।
  • দারিদ্র্যসীমার দ্বিগুণ নীচে থাকা অনগ্রসর শ্রেণিভুক্তদের বিশেষ ক্ষেত্রে অনুদান ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া।
  • স্নাতক বা তার চেয়ে উঁচু স্তরে সাধারণ, পেশাদার ও কারিগরি শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ চালাতে অনগ্রসর শ্রেণিভুক্তদের জন্য‌ ঋণের ব্য‌বস্থা করা।
  • উৎপাদনমূলক শিল্প ইউনিটের যথাযথ ও যোগ্য পরিচালনার জন্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্তদের কারিগরি ও সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করা।

প্রকল্পসমূহ

শিক্ষা ঋণ প্রকল্প

উদ্দেশ্য‌

দারিদ্র্যসীমার দ্বিগুণ নীচে থাকা অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত ছাত্ররা যাতে স্নাতক ও তৎপরবর্তী স্তরে সাধারণ/পেশাদার/কারিগরি পাঠক্রম বা প্রশিক্ষণ চালাতে পারে তার জন্য এনবিসিএফডিসি ‘নতুন আকাঙ্ক্ষা’ নামে একটি শিক্ষা ঋণ প্রকল্প চালু করেছে।

যোগ্য‌তা
  • ১) কেন্দ্রীয় ও রাজ্য‌ সরকার যে সব সম্প্রদায়কে সময়ে সময়ে ওবিসির তালিকাভুক্ত করে সেই সব সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য‌।
  • ২) আবেদনকারীর পাবিবারিক আয় দারিদ্র্যসীমার দ্বিগুণ নীচে থাকতে হবে, যা গ্রামীণ এলাকায় বছরে ৪০ হাজার টাকা ও শহরাঞ্চলে ৫৫ হাজার টাকা ধার্য।
  • ৩) আবেদনকারীকে পেশাদার পাঠক্রমে ভর্তি হতে হবে।
  • ৪) নারী, দৈহিক প্রতিবন্ধী এবং যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্ত্রীরা ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
পাঠক্রম
  • ১) এমবিএ বা সমতুল পাঠক্রম (এআইসিটিই অনুমোদিত)
  • ২) এমসিএ (মাস্টার অফ কম্পিউটার অ্য‌াপ্লিকেশন) বা সমমানের পাঠক্রম (এআইসিটিই অনুমোদিত)
  • ৩) আইআইটির স্নাতক স্তরের পাঠক্রম বা অন্য‌ান্য‌ সমমানের পাঠক্রম (এআইসিটিই অনুমোদিত)
  • ৪) মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া বা অন্য কোনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত কলেজ পরিচালিত চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমবিবিএস/স্নাতক/স্নাতকোত্তর (আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্য‌াথি ও ইউনানি সহ) পাঠক্রম
  • ৫) হোটেল ম্য‌ানেজমেন্টে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরের পাঠক্রম।

ঋণ কেবলমাত্র রাজ্য‌স্তরের চ্য‌ানেলাইজিং এজেন্সি মারফৎ কলেজ বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্য‌মে দেওয়া হবে।

সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ
  • ১) ভারতবর্ষে পড়ার জন্য‌ ১০ লক্ষ টাকা।
  • ২) বিদেশে পড়ার জন্য‌ ২০ লক্ষ টাকা।

পাঠক্রমের মোট খরচের ৯০ শতাংশ সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা বা বছরে আড়াই লক্ষ টাকা (দেশে পড়ার জন্য) ও ২০ লক্ষ টাকা (বিদেশে পড়ার জন্য‌) হাতে পাওয়া যাবে। বাকি ১০ শতাংশ টাকা ছাত্র/এসসিএকে নিজেদের দিতে হবে।

সুদের হার

৪ শতাংশ প্রতি বছর (মেয়েদের ক্ষেত্রে সাড়ে তিন শতাংশ)।

টাকা ফেরতের পদ্ধতি

পাঠক্রম শেষ হওয়ার ছ’ মাস পর থেকে বা চাকরি/স্বনির্ভর কর্মোদ্য‌োগ শুরু করার পর থেকে (যেটি আগে হবে) ঋণ ফেরত দেওয়া শুরু করতে হবে।

ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প

উদ্দেশ্য‌

তৃণমূল স্তরে এনবিসিএফডিসির প্রকল্পগুলির রূপায়ণের জন্য‌ এবং গরিবদের সহায়তা করার লক্ষ্য‌ে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পগুলিকে সাহায্য‌ করার জন্য‌ নিগম এসসিএগুলির মাধ্য‌মে ক্ষুদ্র ঋণের ব্য‌বস্থা করেছে। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য‌ এই ব্য‌বস্থা নেওয়া হয়েছে।এসসিএগুলি নথিভুক্ত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান বা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্য‌মে ঋণ দিতে পারে। এই প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য হল ---

রূপায়ণ

এই প্রকল্পে যারা উপকৃত হবেন তাঁদের সরাসরি ঋণ দিয়ে এসসিএ-র মাধ্যমে এই প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে। যে সব অঞ্চল এই প্রকল্পের আওতায় এখনও আসেনি সেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্য‌মেও (এসএইচজি) ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

উপকৃতের যোগ্য‌তা

কেন্দ্র বা রাজ্য‌ সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে অনগ্রসর শ্রেণির তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং দারিদ্র্যসীমার দ্বিগুণ নীচে থাকতে হবে, যা গ্রামীণ এলাকায় বছরে ৪০ হাজার টাকা ও শহরাঞ্চলে ৫৫ হাজার টাকা ধার্য। এসএইচজির ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ সদস্য‌ অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত হতে হবে। বাকি ২৫ শতাংশ সদস্য‌ অন্য‌ দুর্বল শ্রেণি যেমন তফশিলি জাতি বা তফশিলি উপজাতি, প্রতিবন্ধী বা সংখ্য‌ালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত হলেও চলবে।

ঋণের পরিমাণ
  • উপকৃতরা মাথাপিছু সর্বোচ্চ ৫০হাজার টাকা ঋণ পাবেন।
ঋণের ধরন

এনবিসিএফডিসি ঋণ - ৯০ শতাংশ

এসসিএ ঋণ - ৫ শতাংশ

উপকৃতদের প্রদেয় অর্থ - ৫ শতাংশ

ঋণ দেওয়ার তিন মাসের মধ্য‌ে তা খরচ করতে হবে।

ফেরতের সময়কাল

৩৬ মাস

সুদের হার

এনবিসিএফডিসি থেকে এসসিএ - ২ শতাংশ বছরে

এসসিএ থেকে এনজিও/এসএইচজি - ৫ শতাংশ বছরে

মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা

উদ্দেশ্য‌

উদ্দিষ্ট গোষ্ঠীর মহিলা উদ্য‌োগীদের ক্ষুদ্র ঋণের জন্য ব্য‌বস্থা করে দেওয়া

প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য

প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা।

কার্যকারিতা

শহর বা গ্রামাঞ্চলে এসসিএ-র মাধ্য‌মে এই ঋণ দেওয়া হয়। তারা মহিলা সুবিধাভোগীদের সরাসরি বা স্বনির্ভর গোষ্ঠী মারফৎ ঋণ পৌঁছে দেয়।

যোগ্য‌তা

কেন্দ্র বা রাজ্য‌ তালিকাভুক্ত অনগ্রসর শ্রেণির মহিলারা যারা দারিদ্র্যসীমার দ্বিগুণ নীচে বসবাস করে (অর্থাৎ শহরাঞ্চলে পারিবারিক রোজগার বছরে ৫৫ হাজার টাকা ও গ্রামাঞ্চলে ৪০ হাজার টাকা) এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য‌ বলে বিবেচিত হবে।

ঋণের ধরন

এনবিসিএফডিসি ঋণ - ৯৫ শতাংশ

এসসিএ/সুবিধাভোগীদের প্রদেয় - ৫ শতাংশ

ঋণের সময়কাল

ঋণ পাওয়ার তিন মাসের মধ্য‌ে তা কাজে লাগাতে হবে।

সুদের হার

এনবিসিএফডিসি থেকে এসসিএ - ১ শতাংশ প্রতি বছর

এসসিএ থেকে সুবিধাভোগী - ৪ সতাংশ প্রতি বছর

কী ভাবে শোধ করতে হবে

  • তিন বছরের মধ্য‌ে তিন মাসের কিস্তিতে ঋণ ফেরৎ দিতে হবে (তহবিল কাজে লাগানোর জন্য‌ তিন মাসের নির্দেশ সমেত)
  • ঋণ ফেরত দেওয়ার পর সুবিধাভোগীরা এনবিসিএফডিসির যে কোনও ঋণ নিতে পারে।

কী ভাবে আবেদন করতে হবে

  • এসসিএর কাছে প্রাপ্য‌ নির্দিষ্ট ফর্মে সম্ভাব্য‌ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। জেলা এসসিএ অফিসে (যেখানে সে থাকে) এই দরখাস্ত করতে হবে।
  • আবেদনকারীকে ফর্মে তার পছন্দের কথা লিখতে হবে এবং সে কোনও বিভাগে প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে।
  • আবেদনকারীকে যোগ্য‌তামানের উপযুক্ত হতে হবে। (অবশ্য‌ই অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত ও দারিদ্র্যসীমার দ্বিগুণ নীচে বসবাসকারী হতে হবে)
  • তহশিলদার, মহকুমা ম্য‌াজিস্ট্রেট, জেলা শাসক, জেলা কালেক্টরের মতো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া জাতি শংসাপত্র, আয়ের শংসাপত্র আবেদনের সঙ্গে পেশ করতে হবে।
  • সুবিধাভোগীদের যোগ্য‌তামান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তহবিলের লভ্য‌তা অনুসারে এসসিএগুলি ঋণ মঞ্জুর করবে।

সূত্র : জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি বিত্ত ও কল্য‌াণ নিগম

উৎস : পোর্টাল কন্টেন্ট দল



© 2006–2019 C–DAC.All content appearing on the vikaspedia portal is through collaborative effort of vikaspedia and its partners.We encourage you to use and share the content in a respectful and fair manner. Please leave all source links intact and adhere to applicable copyright and intellectual property guidelines and laws.
English to Hindi Transliterate