অসমীয়া   বাংলা   बोड़ो   डोगरी   ગુજરાતી   ಕನ್ನಡ   كأشُر   कोंकणी   संथाली   মনিপুরি   नेपाली   ଓରିୟା   ਪੰਜਾਬੀ   संस्कृत   தமிழ்  తెలుగు   ردو

বিক্রি হল না শিশু, সন্তানদের নিয়ে দুর্গাপুর হাসপাতালে মা

বিক্রি হল না শিশু, সন্তানদের নিয়ে দুর্গাপুর হাসপাতালে মা

একে নয়, ওকে চাই৷ টাকা যখন দিতে হবে, তখন একটু সুস্থ যে, তাকেই নেওয়া ভাল৷ এতটুকু পড়লে মনে হতে পারে কোনও হাটে গবাদি পশু কেনার আগে বিক্রেতার সঙ্গে দরদামে ব্যস্ত খরিদ্দার৷ আসলে তা নয়৷ শিশু বিক্রির আগে  দুই মহিলার মধ্যে সোমবার এভাবেই দর কষাকষি হল দুর্গাপুরে৷ যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের তত্পরতায় ‘ক্রেতা'র আর মা ডাক শোনার সাধ পূরণ হল না৷ অন্য দিকে অভাবের তাড়নায় সন্তানকে ‘বিক্রি'ও করতে পারলেন মা৷ পুলিশি উদ্যোগে আপাতত ‘অপুষ্ট' সন্তানদের নিয়ে দুর্গাপুর মহিলা হাসপাতালে ভর্তি৷ তবে এই ঘটনায় কোনওপক্ষই থানায় অভিযোগ জানাননি৷

পুলিশ ও স্হানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের নিউটাউনশিপ থানার ডিভিসি মোড়ের মহুয়া কলোনির বাসিন্দা কানাই গোস্বামী৷ স্ত্রী লক্ষ্মী গোস্বামী এবং দুই পুত্র ও দুই কন্যাকে নিয়ে জীবনযাপন করেন পেশায় ফেরিওয়ালা কানাই৷ অভাবের সংসারে দু-মুঠো খাওয়ার জোগানোই দায়৷ তার উপর শিশুদের শরীরে বাসা বেঁধেছে রোগ৷ এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই বচসা লাগত৷ স্হানীয় সূত্রে খবর, সোমবার লক্ষ্মী তিন সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান৷ বড় ছেলে তখন বাড়িতেই ছিল৷ দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের এবিএল মোড়ে গণতন্ত্র পল্লি ও সুভাষ পল্লির মাঝে জঙ্গলে দেড় বছরের পুত্রসন্তানকে ফেলে দেন তিনি৷ জঙ্গলের দূরত্ব তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় এক-দেড় কিলোমিটার দূরে৷ এই ঘটনা নজরে পড়ে গণতন্ত্র কলোনির সুভাষপল্লির বাসিন্দা মুনমুন বাউরির৷ মা হওয়ার ইচছায় নিঃসন্তান মুনমুন লক্ষ্মী ও তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে আসেন৷

মুনমুন লক্ষ্মীকে বলেন, "জঙ্গলে সন্তান ফেলে গেলে কুকুর শিয়ালে খাবে৷ আমার সন্তান নেই৷ আমাকে দিয়ে দাও৷" মুনমুনের দাবি, তখন পাল্টা লক্ষ্মী তাঁর কাছে পাঁচশো টাকা চান৷ তাই মুনমুন মত বদল করেন৷ রোগগ্রস্ত পুত্রসন্তানকে ছেড়ে তুলনায় ‘সুস্হ' কন্যাসন্তানকে নেওয়ার দাবি জানান৷ আর এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে দর কষাকষি শুরু হয়৷ এনিয়ে কথা চলতে চলতেই স্হানীয় বাসিন্দারা সেখানে হাজির হন ঘটনাস্হলে৷ শুরু হয় হইচই৷ তাঁরাই খবর দেন পুলিশে৷ লক্ষ্মী গোস্বামী ও তাঁর তিন সন্তানকে পুলিশ নিয়ে যায় দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে৷ বিক্রি করতে ইচছুক রোগগ্রস্ত তৃতীয় সন্তান পুত্র অজয় গোস্বামীকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে৷ বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পরে হাসপাতালে আসেন লক্ষ্মীর স্বামী কানাই গোস্বামী৷ যদিও লক্ষ্মীদেবীর দাবি, "আমি সন্তান বিক্রি করতে চাইনি৷ এক ভদ্রমহিলা টাকা দিতে চেয়েছিল৷" মুনমুন দেবীও সন্তানকে ফেলে দেওয়ার বদলে উপযুক্ত মানুষ গড়ার আশা করেছিলেন বলে জানান৷ যদিও বিনিময়ে অর্থের কথা অস্বীকার করেছেন মুনমুনদেবী৷ তবে স্থানীয় বাসিন্দারা পাঁচশো টাকার বিনিময়ে সন্তান কেনাবেচার চেষ্টা হচিছল বলে জানান৷ অর্থের অভাবে সন্তান বিক্রির চেষ্টা করা মা ও তার সন্তানদের দেখতে এদিন বহু উত্সাহী মানুষ জড়ো হন হাসপাতালে৷ সেখান থেকেই সাহায্যের আশ্বাস পেয়েছেন লক্ষ্মী৷ আসানসোল-দুর্গাপুরের এডিসিপি (পূর্ব) অমিতাভ মাইতি বলেন, "কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি৷ তবে ওই মহিলা ও তাঁর তিন সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সার ব্যবস্হা করা হয়েছে৷

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন, ৩ মার্চ ২০১৫



© 2006–2019 C–DAC.All content appearing on the vikaspedia portal is through collaborative effort of vikaspedia and its partners.We encourage you to use and share the content in a respectful and fair manner. Please leave all source links intact and adhere to applicable copyright and intellectual property guidelines and laws.
English to Hindi Transliterate