পঞ্চগব্যের মতোই দশগব্যও একটি জৈব উপাদান। আকারেই দশগব্য তৈরি হয় পঞ্চগব্য সহ ১০টি উপাদান ও কিছু গাছের নির্যাস দিয়ে। গোজাত দ্রব্য যেমন গোবর, গোমূত্র, গরুর দুধ, গব্য ঘি ও দই-কে ‘গব্য’ বলে। ঠিকমতো মেশালে গাছের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এগুলি দারুণ কাজ দেয়। উটির হর্টিকালচার গবেষণা কেন্দ্র নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের কয়েকটি গাছকে চিহ্নিত করেছে । এগুলি হল, আর্টেমিসিয়া নাইলাজিরিকা, লিউকাস অ্যাসপেরা, ল্যান্টেনা ক্যামেরা, ডাটুরা মেটাল এবং ফাইটোলাকা ডুলক্যামেরা। এগুলি পথের ধারে এবং অব্যবহৃত জমিতে আগাছা হয়ে জন্মায়। এ ছাড়া ক্রান্তীয় অঞ্চলের কয়েকটি উদ্ভিদ, যেমন, আজাডিরেক্টা ইন্ডিকা, ক্যালোট্রফিস, টেফ্রোসিয়া পার্ফোরিয়া, ভিটেক্স নেগুন্ডো, ডাটুরা মেটাল, জ্যাট্রোফা কুর্কাস, আদাথোরা ভ্যাসিকা এবং পঙ্গামিয়া পিন্নাতা। এগুলি ঠিকমত কাজে লাগালে চাষে ব্যাপক সুবিধা হতে পারে কারণ, এগুলি নির্দিষ্ট পোকামাকড় এবং রোগের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। প্রস্তুত প্রণালী গাছের পাতা এবং গোমূত্র ১:১ অনুপাতে (১ কিলো ছাঁটা পাতার সঙ্গে ১ লিটার গোমূত্র) ১০ দিন ধরে মেশাতে হবে। সব গাছের ছাঁকা নির্যাস ১ লিটার করে ৫ লিটার পঞ্চগাব্যের সঙ্গে মেশাতে হবে। মিশ্রণটি ২৫ দিন আলাদা করে রেখে ভাল করে নাড়তে হবে। লক্ষ্ রাখতে হবে, যাতে পঞ্চগব্য এবং গাছের নির্যাস ভাল করে মেশে। ব্যবহারবিধি ও সুবিধা কী ভাবে ব্যবহার করবেন ? স্প্রেয়ারের নজল যাতে আটকে না যায়, সে জন্য দশগব্য দ্রবণকে ছাঁকতে হবে। ফোলিয়ার স্প্রে দিয়ে ৩ শতাংশ ঘনত্বে ছড়াতে হবে। দশগব্য দিয়ে বীজ ভেজালে বা রোপণ করার আগে শিকড়ে ৩ শতাংশ ঘনত্বের দ্রবণ ২০ মিনিট দিয়ে রাখলে শিকড় ভাল থাকে এবং অঙ্কুরোদ্গম ভাল হয়। কত সময় অন্তর ব্যবহার করবেন ? সকল সবজি এবং শস্যের ক্ষেত্রে চারার বৃদ্ধির সময় সপ্তাহে এক বার স্প্রে করতে হবে। সুবিধা শস্যের বৃদ্ধি, ফলন, গুণাগুণ বাড়ায়। পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচায়। পাতার ধসা রোগ, পাতায় ছোপ ইত্যাদি রোগ থেকে বাঁচায়। সরকারি সহায়তা জৈব সারের ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সরকার নিম্নলিখিত প্রকল্পগুলির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ‘জৈব চাষ বিষয়ক জাতীয় প্রকল্পের’ (এনপিওএফ) অধীনে, ফল/সবজি বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির ক্ষেত্রে ৪০ লক্ষ টাকার প্রকল্পে সরকার ২৫ শতাংশ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। কেঁচো-কৃমি থেকে জৈব সার তৈরির ক্ষেত্রে ভারমিকালচার হ্যাচারি প্রকল্পে ভর্তুকি হিসেবে দেড় লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে নাবার্ড। ‘জাতীয় হর্টিকালচার মিশনের’ (এনএইচএম) অধীনে কেঁচো-কৃমি থেকে জৈব সার তৈরির ক্ষেত্রে প্রকল্প পিছু ৫০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে (সর্বাধিক ৩০০০০ টাকা)। ‘মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা বিষয়ক জাতীয় প্রকল্পের’ (এনপিএমএসএইচএফ) অধীনে জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হেক্টর পিছু ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ‘রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার’ (আরকেভিওয়াই) অধীনেও জৈব সার ব্যবহারে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সূত্র : Tamil Nadu Agricultural University