মুরগি পালন করলে কী লাভ হবে ? আমরা সবাই জানি ঘরে কয়েকটা মুরগি থাকলে খাবারের পাতে ডিমের অভাব হয় না। আগেই আলোচনা করা হয়েছে বাড়িতে কয়েকটা বাড়তি ডিম থাকলে তা বাজারে বিক্রি করে কিছু পয়সা ঘরে আনা যায়। অর্থাৎ বাড়িতে মুরগি পুষলে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটবে, শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী মা ও বোনেদের অপুষ্টি দূর হবে, তার সঙ্গে আয়ও বাড়বে। এছাড়া খাদ্য বস্তু হিসাবে ডিম ও মাংসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই হাঁস-মুরগি পালনের ব্যবসা করলে, এই দিয়ে কিছু বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানও হতে আয় করার এটি একটি ভালো উপায়। আমাদের রাজ্যে কেমন ভাবে মুরগি পালন করা দরকার ? পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত সহনশীল জাতের দেশি মুরগি পালন করা হয়ে থাকে। দেশি মুরগি নিজে চরে খেতে পারে।রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট, কাকর ইত্যাদি খেয়ে থাকে। আবার এরা পোকা-মাকড়, সাদা পিপড়ে, উদ্ধৃত্ত ভাঙা শস্য, ইত্যাদিও খায়। মুরগির বর্জ্য পদার্থ ভাল সার হিসাবে কাজ করে মাটিকে উর্বর করে। তবে দেশি মুরগি পালন করলে কম ডিম পাওয়া যায়। ডিমের পরিমাণ বাড়াতে হলে উন্নত জাতের মুরগি পালন করলে লাভজনক হবে। মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা তৈরি করার নিয়ম কী ? অর্ধ-বদ্ধ পদ্ধতিতে চাষ করতে হবে। তাতে মাংস ও ডিমের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। 3W র সাহায্যে বেছে নিতে হবে। ডিম পাড়ার ৭ থেকে ৯ দিনের মধ্যে একটি মোমবাতি বা বৈদ্যুতিক তির সামনে ডিমটি ধরলে যদি কুসুমটিকে স্বচ্ছ দেখায়, তাহলে ঐ ডিম থেকে বাচ্চা হবে না। আর যদি কুসুমটির মাঝে জিজ্ঞাসা চিহ্নের মত কালো দাগ দেখা যায় তাহলে ঐ ডিম থেকে বাচ্চা হতে পারে। গ্রীষ্মকাল হলে ৩ দিনের ও শীতকাল হলে ৭ দিনের বয়সের ডিমকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য ব্যবহার করা যাবে। ডিমে তা দেওয়ার লক্ষণ যে যে মুরগিতে দেখা যাবে, তাদের জন্য মুরগি প্রতি ১০টি করে ডিম বসাতে হবে।মুরগি ডিম পাড়ার ২১ দিনের পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবে। মুগির বাচ্চা ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত আঁতুড় ঘরে রাখতে হয়। আঁতুড় ঘরে বাচ্চাদের ছাড়ার আগে সরবত খাওয়াতে হয়। সরবত বানাতে হবে প্রতি ১০০ টির জন্য ২ লিটার জলে ১০০ গ্রাম চিনি ও ১০ মিলি লিটার তরল ভিটামিন মিশিয়ে।বাচ্চাগুলিকে অন্য ঘরে তোলার এক সপ্তাহ আগে সেই ঘরটিকে পরিষ্কার করে বন্ধ অবস্থায় রাখতে হবে। ঘরে সমান ভাবে ২ ইঞ্চি পুরু করে পরিষ্কার ও জীবানু মুক্ত ধানের তুষ বা কাঠের গুড়ো ছড়িয়ে দিতে হবে। ধানের তুষের উপর খবরের কাগজ বিছিয়ে দিতে হবে, যাতে মুরগির বাচ্চা এগুলি না খেয়ে ফেলে।ঘরের ভিতর বিদ্যুতের আলো বা কোরোসিন বাতি জ্বালিয়ে ঘর গরম করার পর বাচ্চাগুলিকে ঘরের ভিতর রাখতে হবে। জন্মের প্রথম ৬-৭ সপ্তাহের বাচ্চা মুরগির পরিচর্যা কেমনভাবে করা দরকার ? আঁতুড় ঘর থেকে বাচ্চাগুলিকে অন্য ঘরে তোলার এক সপ্তাহ আগে সেটিকে পরিষ্কার করে বন্ধ অবস্থায় রাখতে হবে। ঐ ঘরে সমান ভাবে ২ ইঞ্চি পুরু করে পরিষ্কার ও জীবানু-মুক্ত ধানের তুষ বা কাঠের গুড়ো ছড়িয়ে দিতে হবে। ধানের তুষ এর উপর খবরের কাগজ বিছিয়ে দিতে হবে, যাতে মুরগির বাচ্চা এগুলি না খেয়ে ফেলে। ঘরের ভিতর বিদ্যুতের আলো বা কেরোসিন বাতি জ্বালিয়ে ঘর গরম করার পর বাচ্চাগুলিকে ঘরের ভিতর রাখতে হবে। প্রথম ৮-১০ দিন পর্যন্ত ঘরে খুব কম হাওয়া চলাচল প্রয়োজন। এর পর ঘরটিতে স্বাভাবিক বাতাস চলাচল করা দরকার। ঠান্ডা হাওয়া দিলে মাদুর বা চট দিয়ে ঘরটিকে ঘিরে দিতে হবে। ঘরে পাত্রের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে পরিষ্কার খাবার জলের ব্যবস্থা করতে হবে। জল পরিষ্কার হতে হবে — যাতে তা থেকে কোনো রকম সংক্রামক রোগ ছড়ায় না। এমনভাবে জলের পাত্র রাখতে হবে যেন বাচ্চাগুলিকে বেশি দৌড়াদৌড়ি না করতে হয়। বাচ্চার জন্মের ১ম সপ্তাহে জলের সাথে কিছু ঔষধ, লবণ ও ভিটামিন যোগ করতে হবে। কতদিন পর খোলা জায়গায় মুরগির বাচ্চা আনা উচিত ? সে সময়ে তাদের কেমন দেখাশোনা প্রয়োজন ? ৬-৭ সপ্তাহের পর মুরগির বাচ্চাদের খোলা জায়গায় যেতে দিতে হবে। সেই সময় বাচ্চাদের ওজন হবে ২৫০-৩০০ গ্রাম। বাড়ির উঠানে সাধারণত ১০-২০ টি পর্যন্ত মুরগি পালন ভালো হয়। এরা সারাদিন পোকা-মাকড়, ঘাসপাতা ও আবর্জনা থেকে খাবার সংগ্রহ করে। তবে রাতে তাদের কাঠের বা বাঁশের ঘরে রাখতে হবে। সকালে ঘর থেকে মুরগি ছাড়ার আগে প্রত্যেক দিন তাদের পরিষ্কার পানীয় জল দিতে হবে। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরলে খুদ-ভাঙা, গম-ভাঙা জাতীয় খাবার দিতে হবে। ৪-৬ মাস বয়সে মুরগির ১ কেজি মতো ওজন দাঁড়ালে সেগুলিকে মাংস হিসাবে বিক্রি করা যেতে পারে। কিছু মুরগিকে ডিম পাড়ার জন্যও পালন করতে হবে। মুরগির রোগ হয়েছে কিনা তা কী কী লক্ষণ দেখে বোঝা যায় ? রোগের লক্ষণ দেখা গেলে কী করতে হবে ? রোগ হলে মুরগির আচরণেই তা বোঝা যায়। যেমন, খাবার খেতে চাইবে না, মাথা পালকের মধ্যে গুজে দাড়িয়ে থাকবে আর ঝিমুবে। মুরগির রোগের লক্ষণ দেখা গেলেই কাছাকাছি প্রাণী-চিকিৎসক বা প্রাণীবন্ধুর পরামর্শ নিতে হবে। মুরগির সাধারণত কী কী রোগ দেখা যায় ? মুরগির সাধারণত নীচের রোগগুলি দেখা যায় ম্যারেক্স রাণীক্ষেত গামবোরো বার্ড ফ্লু