<p style="text-align: justify; ">মুলো একটি পুষ্টিকর সবজি হলেও অনেকেই মুলো খতে পছন্দ করেন না। মুলোতে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন তথা ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম ও লৌহ রয়েছে। এ দেশে মুলোর আবাদ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে অমৌসুমে মুলো আবাদের দিকে চাষিরা ঝুঁকে পড়েছেন।</p> <h3 style="text-align: justify; ">জমি ও মাটি</h3> <p style="text-align: justify; ">উঁচু, মাঝারি উঁচু ও মাঝারি নিচু জমিতে মুলো চাষ করা যায়। সুনিষ্কাশিত বেলে দোয়াশ মাটি মুলো চাষের জন্য ভাল। এটেল মাটিতে মুলোর বাড় বাড়তি কম হয়। মুলো চাষের জন্য জমি গভীরভাবে ধুলো ধুলো করে চাষ করতে হয়। ছাই ও জৈব সার বেশী ব্যবহারে মুলোর বাড় বাড়তি ভাল হয়।</p> <h3 style="text-align: justify; ">বীজ হার ও বপন</h3> <p style="text-align: justify; ">আশ্বিন থেকে কার্তিক মাসের মধ্যেই অধিকাংশ মুলোর বীজ বপন করা হয়। প্রতি হেক্টরে বপনের জন্য ২.৫-৩.০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। সাধারণতঃ ছিটিয়ে বীজ বপন করা হয়। তবে সারিতে বপন করলে পরিচর্যার সুবিধে হয়। সারিতে বুনতে হলে এক সারি থেকে আর এক সারির দূরত্ব দিতে হবে ২৫-৩০ সেমি.।</p> <h3 style="text-align: justify; ">সারের মাত্রা</h3> <table class="grid listing"> <tbody> <tr> <th>সারের নাম </th><th colspan="2">সারের পরিমাণ</th> </tr> <tr> <td></td> <td>প্রতি শতকে</td> <td>প্রতি হেক্টরে</td> </tr> <tr> <td>ইউরিয়া</td> <td>১.২-১.৪ কেজি</td> <td>৩০০-৩৫০ কেজি</td> </tr> <tr> <td>টি এস পি</td> <td>১.০- ১.২ কেজি</td> <td>২৫০-৩০০ কেজি</td> </tr> <tr> <td>এমওপি</td> <td>০.৮৫-১.৪ কেজি</td> <td>২১৫-৩০০ কেজি</td> </tr> <tr> <td>গোবর</td> <td>৩২-৪০ কেজি</td> <td>৮-১০ টন</td> </tr> </tbody> </table> <h3 style="text-align: justify; ">সার প্রয়োগ পদ্ধতি</h3> <p style="text-align: justify; ">জমি তৈরির সময় সবটুকু জৈব সার, টিএসপি ও অর্ধেক এমওপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া ও বাকি অর্ধেক এমওপি সার সমান ২ কিস্তিতে ভাগে ভাগ করে বীজ বপনের পর তৃতীয় ও পঞ্চম সপ্তাহে ছিটিয়ে সেচ দিতে হবে। মুলোর বীজ উৎপাদন করতে হলে জমিতে অবশ্যই বোরন সার হিসেবে বোরিক পাউডার/বোরক্স ব্যবহার করতে হবে। প্রতি হেক্টরে ১০-১৫ কেজি বোরিক এসিড/বোরাক্স দিলেই চলে।</p> <h3 style="text-align: justify; ">পরিচর্যা</h3> <p style="text-align: justify; ">বীজ বপনের ৭-১০ দিন পর অতিরিক্ত চারা তুলে পাতলা করে দিতে হবে। ৩০ সেমি. দূরত্বে একটি করে চারা রাখা ভাল। মাটিতে রস কম থাকলে সেচ দিতে হবে। প্রতি কিসি-র সার উপরি প্রয়োগের পর পরই সেচ দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে। মাটি শক্ত হয়ে গেলে নিড়ানী দিয়ে মাটির উপরের চটা ভেঙ্গে দিতে হবে।</p> <h3 style="text-align: justify; ">পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা</h3> <p style="text-align: justify; ">অনেক সময় মুলো পাতার বিট্ল বা ফ্লি বিট্ল পাতা ছোট ছোট ছিদ্র করে খেয়ে ক্ষতি করে। এ ছাড়া করাত মাছি বা মাস্টার্ড স’ফ্লাই, বিছা পোকা ও ঘোড়া পোকা পাতা খায়। বীজ উৎপাদনের সময় ক্ষতি করে জাব পোকা।</p> <h3 style="text-align: justify; ">রোগ ব্যবস্থাপনা</h3> <p style="text-align: justify; ">মুলো পাতায় অল্টারনারিয়া পাতায় দাগ একটি সাধারণ সমস্যা। এছাড়া হোয়াইট স্পট বা সাদা দাগ রোগও দেখা যায়।</p> <h3 style="text-align: justify; ">ফসল সংগ্রহ ও ফলন</h3> <p style="text-align: justify; ">মুলো শক্ত হয়ে আঁশ হওয়ার আগেই তুলতে হবে। অবশ্য এখন হাইব্রিড জাতসমূহ আসাতে এ সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে। তবুও কচি থাকতেই মুলো তুলে ফেলতে হবে। এতে বাজার দাম ভাল পাওয়া যায় এবং স্বাদও ভাল থাকে। জাতভেদে হেক্টও প্রতি ফলন হয় ৪০-৬০ টন।</p> <p style="text-align: justify; "><b>সুত্রঃ</b> বিকাশপিডিয়া টিম</p>