মাছের খাবার কী? উ : মাছ সাধারণত জলে জন্মায় এমন প্রাকৃতিক প্রাণীকণা ও কিছু তৈরি করা পরিপূরক খাবার খায়। আবার গ্রাসকার্প নামক পোনা মাছ পুকুরে জন্মায় এমন জলজ আগাছাও খায়। এই সব খাবার পুকুরের জলে কোথা থেকে আসে? উ : প্রাকৃতিক প্রাণীকণা প্রাকৃতিক ভাবে জলে তৈরি হয়। জলে যথেষ্ট পরিমাণে উদ্ভিদ কণা থাকলেই প্রাণীকণা উত্পন্ন হয়। আর জলে উদ্ভিদের খাবার নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশ থাকলে উদ্ভিদ কণা তৈরি হয়। উদ্ভিদের খাবার নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশ জলে নিয়মিত প্রয়োগ করতে হয়। তা ছাড়া তৈরি করা পরিপূরক খাবারও জলে নিয়মিত প্রয়োগ করতে হয়। পুকুরের জলে যথেষ্ট পরিমাণে প্রাণীকণা আছে কি না বোঝা যাবে কী ভাবে? উ : এটি বোঝার জন্য কিছু অভিজ্ঞতা দরকার। ছাঁকনি দিয়ে পুকুরের জল মাঝে মাঝে ছেঁকে আতস কাচ দিয়ে দেখে বোঝা যাবে। মাছের পরিপূরক খাবার কাকে বলে? উ : চাল বা গমের কুঁড়ো, সঙ্গে সরষের বা বাদামের বা তিসির বা নারকেলের খইল সমান ভাবে মিশিয়ে মাছের যে খাবার তৈরি করা হয় তাকেই মাছের পরিপূরক খাবার বলা হয়। এই পরিপূরক খাবারের সঙ্গে কিছুটা পরিমাণে ফিশমিল বা মাছের গুঁড়ো দেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ৫০ ভাগ খইল, ৪০ ভাগ কুঁড়ো এবং ১০ ভাগ গুঁড়ো মাছ মিশিয়ে পরিপূরক খাবার তৈরি করা যেতে পারে। পুকুরে চারাপোনা ছাড়ার পর মাছের পরিপূরক খাবার কী পরিমাণে ও কখন দিতে হবে? উ : পুকুরে চারাপোনা ছাড়ার পর প্রতি দিন বিঘা প্রতি প্রথম ৩ মাস ৮০০ গ্রাম করে, তার পরের ৩ মাস প্রতি দিন ১০০০ গ্রাম বা ১ কিলোগ্রাম করে, তার পরের ৩ মাস প্রতি দিন ২৫০০ গ্রাম বা আড়াই কিলোগ্রাম করে এবং তার পরের ৩ মাস প্রতি দিন ৩ কিলো ২০০ গ্রাম করে পরিপূরক খাবার দেওয়া দরকার।