অ্যাকোয়ারিয়াম পরিচর্যা অ্যাকোয়ারিয়ামের পরিচর্যা মানে এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মেরামতি, জল পাল্টানো ও তার সংশোধন এবং মাছেদের খাবার, স্বাস্থ্য, চিকিত্সা রোগ প্রতিরোধ ইত্যাদি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা যে হেতু এটা উপভোগ্য ও দর্শনীয়, তাই অ্যাকোয়ারিয়ামের পরিচ্ছন্নতা মানে এর বাইরে, ভিতরে ও চার পাশের পরিচ্ছন্নতা বোঝায়। নিয়ম করে অ্যাকোয়ারিয়ামের পারিপার্শ্বিক জায়গা সুন্দর সুসজ্জিত আলোকিত ও পরিষ্কার করা দরকার। ভিতর পরিষ্কার রাখা আরও প্রয়োজনীয়। অ্যাকোয়ারিয়ামের জলে মাছের অতিরিক্ত খাবার, মাছের মল-মূত্র নানা রকম পরিবর্তিত রাসায়নিক দ্রব্য গুলে থাকে, যেগুলো মাছেদের স্বাস্থ্যের পরিপন্থী। জল অস্বচ্ছ হওয়ার জন্য অ্যাকোয়ারিয়ামের মূল উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হয়। তাই মাঝেমধ্যে জল পরিবর্তন অবশ্য করণীয়। সাধারণত ১২ – ১৪ দিন অন্তর জল পাল্টানো প্রয়োজন। জলের নোংরা সাধারণত নীচের দিকে বেশি থাকে। তাই ২০% জল নীচের দিক থেকে সাইফন করে বা অন্য উপায়ে বের করে নেওয়া হয়। এবং পরিষ্কার জল উপর দিয়ে পূরণ করা হয়। মাছ রোগাক্রান্ত না হলে অ্যাকোয়ারিয়ামের সম্পূর্ণ জল এক সঙ্গে পাল্টানোর দরকার হয় না। অ্যাকোয়ারিয়ামের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও মাছের বসবাস আরও সুন্দর করার জন্য আরও যে সব দ্রব্য রাখা হয় সেগুলো হল --- বালি : অ্যাকোয়ারিয়ামের নীচে সুন্দর পরিষ্কার মোটা বালি দেওয়া হয়। মাছের বসবাসকে একটু প্রাকৃতিক করার জন্য। এ ছাড়া জলের তাপ নিয়ন্ত্রণেও বালির ভূমিকা আছে। জলজ ক্ষুদ্র ও সুন্দর উদ্ভিদ : এগুলো সৌন্দর্য্য বাড়ানোর পাশাপাশি জলে কিছুটা অক্সিজেনও যোগ করে, যা মাছের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়। ছোট ছোট মাছ বা মাছের বাচ্চাদের লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে। ডিম পাড়ার সময় মাছের আশ্রয় হিসাবেও মাছ এগুলো কাজে লাগে। পরিচিত জলজ উদ্ভিদ যেমন, ভ্যালিসনেরিয়া, লুডিজিয়া, ওয়াটার ফার্ণ, হাইড্রোফিলা উল্লেখযোগ্য। বড় অ্যাকোয়ারিয়ামে পদ্ম, শাপলা ইত্যাদি রাখা হয়। মাছেরা অনেক সময় প্রয়োজনে এগুলোতে গা ঘসে তৃপ্তি লাভ করে। গেড়ি, গুগলি, ঝিনুক : এরা জলে থাকলে জল পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। দেখতেও অনেক সময় ভালো হয়। তবে জীবন্ত গেড়ি গুগলি বেশি না রাখাই ভালো। নুড়ি : বালির উপরেই সাধারণত অপেক্ষাকৃত বেশ বড় বড় কিছু নুড়ি রাখা হয়। এই নুড়ি অ্যাকোয়ারিয়ামের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং মাছেরা নানা কারণে এর নীচের দিকে আশ্রয় নিয়ে থাকে।