ই-গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল ই-ক্যাবিনেট। মন্ত্রিসভার বৈঠকে চলেছে অথচ একটা কাগজেরও ব্যবহার হচ্ছে না। মিনিটসও লেখা হচ্ছে কম্পিউটারে। ই-গভর্ন্যান্সের এই প্রথম পদক্ষেপটি করে ফেলেছে অন্ধ্রপ্রদেশ। ২০১৪-র সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম কাগজহীন মন্ত্রিসভার বৈঠক বসে। ই-ক্যাবিনেট অ্যাপ সমগ্র প্রক্রিয়াটি সফলভাবে পরিচালনা করতে রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রত্যেক মন্ত্রীর ল্যাপটপ বা আইপ্যাডে ভরে দেওয়া হয়েছিল ই-ক্যাবিনেট অ্যাপ।এই ই-ক্যাবিনেট অ্যাপ ব্যবহার করে রাজ্যের মন্ত্রীরা সমস্ত ডাটা এবং বৈঠকের আলোচ্যসূচি ডিজিটাল মাধ্যমে পেয়ে যান। ল্যাপটপ বা আইপ্যাডে ডাউনলোড করা এই অ্যাপে লগ ইন করে মন্ত্রীরা সমস্ত তথ্য ব্যবহার করতে পেরেছেন। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার আলোচ্যসূচি বা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যাতে বাইরে প্রকাশ হয়ে না যায়, তার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেদিক থেকে দেখলে এই অ্যাপ যথেষ্ট নিরাপদ। এটি ব্যবহার করে কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেই ডেটা ভাগ করে নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যকেউ ডেটা নিতে পারবে না। ডিজিট্যাল মাধ্যমে মিনিটস লেখা মন্ত্রিসভার বৈঠকের আলোচ্যসূচি ছাড়াও মিনিটস লেখা হয়েছে ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে। বৈঠক চলাকালীন নানা সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার প্রয়োজন হয়েছে। সেই আলোচনা চালাতে কাগজ ব্যবহার না করে পাওয়ার-পয়েন্ট-এর মাধ্যমে উপস্থাপনা করা হয়েছে। ফাইল আদান-প্রদান আলোচনা চলাকালীন বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ফাইল আদান-প্রদানেরও প্রয়োজন পড়েছে। ই-ক্যাবিনেটে মন্ত্রী এবং আমলাদের মধ্যে ফাইল আদান-প্রদানের জন্য নতুন ফাইল-শেয়ারিং পদ্ধতি ‘ফাইল-ক্লাউড’ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে হঠাৎ করে ই-ক্যাবিনেট মন্ত্রিসভার বৈঠকে চালু করা হয় নি। তারর আগে একধিকবার গোটা বিষয়টি পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। তারপরই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ই-ক্যাবিনেট অ্যাপটি কাউকে শেয়ার করা যাবে না। এটি পাসওয়ার্ডের দ্বারা সুরক্ষিত। প্রচলিত পদ্ধতিতে যে কেউ মন্ত্রিসভার সদস্যের টেবিল থেকে সহজে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ-পত্র সরিয়ে নিতে পারতেন। এই পদ্ধতিতে তা করা সম্ভব হবে না। সূত্র : ফার্স্ট পোস্ট