এফআইআর দায়ের করে অপরাধীদের চিহ্নিতকরণ পদ্ধতিকে আরও সহজ করতে ওড়িশা সরকার থানাগুলিতে চালু করেছে ই-এফআইআর পদ্ধতি। অপরাধ এবং অপরাধী চিহ্নিতকরণ নেটওয়ার্ক এবং পদ্ধতির (সিসিটিএনএস) মাধ্যমে দেশ জুড়ে পুলিশ স্টেশনগুলির যাবতীয় তথ্য সহজে আদান-প্রদান করা যাবে। রাজ্যে বর্তমানে ৭৮৪ পুলিশ স্টেশন রয়েছে। প্রথম দফায় ওড়িশার ৫৫০ পুলিশ স্টেশনে এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বাকি স্টেশনগুলি এই ব্যবস্থা খুব শীঘ্রই চালু করা হবে। সিসিটিএনএস-এর মাধ্যমে ডিএসপি/এসডিপিও, এসপি, ডিআইজি এবং ডিজি-র অফিসের সঙ্গে সংযোগ সাধন করা যাবে। কোনও অপরাধের তদন্তকে সুষ্ঠভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে এই সংযোগসাধন গুরুত্বপূর্ণ। পাইলট প্রকল্প হিসাবে দু’টি পুলিশ জেলা — আঙ্গুল এবং ভুবনেশ্বরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই দু’টি জেলায় ৪৬ পুলিশ স্টেশন রয়েছে। অপরাধের তদন্ত অনুসন্ধান, অপরাধীর খোঁজ করা ছাড়াও অন্যান্য সুবিধা হিসাবে অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য, অপরাধীর আঙুলের ছাপ, পাসপোর্ট সংক্রান্ত যাচাই ইত্যাদি করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্পে অভিযোগ দায়ের করার জন্য থানা যেতে হবে না অনলাইনে ঘরে বসেই অভিযোগ জানাতে পারবেন। এ ছাড়া কম্পিউটারের মাধ্যমে তদন্তের অগ্রগতিও তাঁরা দেখে নিতে পারবেন। যাঁদের কমপিউটার নেই তাঁরা থানায় এসে এফআইআরর দায়ের করলে কম্পিউটারে তৈরি এফআইআর কপি পাবেন। তদন্তের সুবিধার জন্য অন্যান্য রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি পুলিশ স্টেশনের সঙ্গেও সংযোগ সাধন করা হবে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যেম তাঁরা তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন। সারা দেশে ১৪,০০০ পুলিশ স্টেশন এবং ৬,০০০ উচ্চ স্তরের পুলিশ অফিসের সঙ্গে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সংযোগ সাধন করা সম্ভব হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল যে সব এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের সুবিধা নেই সেখানে কীভাবে এই ব্যবস্থা চালু করা যাবে? এজন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে সমস্ত জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগের সুবিধা নেই সেখানে এই সুবিধার জন্য ভি-স্ট্যাট ব্যবহার করা হবে। সিসিটিএনএস ব্যবহারের জন্য পুলিশ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সূত্র : ফার্স্ট পোস্ট