২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী ভারত পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ব্যবহারকারী দেশ। দেশে প্রায় বিরানব্বই কোটিরও বেশি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করেন। তাই মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি পরিষেবা পৌঁছে কেন্দ্রীয় সরকারে নেওয়া ‘ডিজিটাল ভারত’ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যেগুলিও আর্থিক পরিষেবা সহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে মোবাইলকে ব্যবহার করার রাস্তা হাঁটছে। এ ব্যাপারে অগ্রণী ভুমিকা নিয়ে কর্ণাটক চালু করেছে ‘মোবাইল ওয়ান’ পরিষেবা। ভারতে প্রথম। উদ্দেশ্য মোবাইলের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পরিষেবাকে এক মঞ্চে এনে বাঁধাহীন ভাবে আমজনতার কাছে পৌঁছে দেওয়া। মোবাইল ওয়ানের মাধ্যমে তারা সরকারি-বেসরকারি ডোমেনের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৪,৫০০ পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এই পরিষেবার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড সহ মোবাইলের প্রায় সব প্লাটফর্মে পরিষেবাগুলি পাওয়া যাবে। যে সমস্ত পরিষেবা পাওয়া যায় তার মধ্যে থাকছে বিল প্রদানের সুবিধা, সম্পত্তি কর জমা, রেলওয়ে টিকিট বুকিং এবং আয়কর জমা। মোবাইল ওয়ানে বিভিন্ন পরিষেবা পেতে প্রমাণীকরণের জন্য আধার কার্ড নম্বরকেই উপযুক্ত মনে করছে কর্ণাটক সরকার। কারণ শুরুতে যে পদ্ধতিতে প্রমাণীকরণ করা হত, তা বেশ সময় সাপেক্ষ। অনেক সময় সেই পদ্ধতিতে গ্রাহক একাধিক বার চেষ্টা করেও ঢুকতে পারতেন না। তা ছাড়া প্রমাণীকরণের পদ্ধতি হিসাবে আধার কার্ড অনেক বেশি নিরাপদ। এই প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের উৎসাহও যথেষ্ঠ। পরিষেবা চালু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি মানুষ মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করছে। শুরুর পর থেকে সাধারণ মানুষ ই-মেল, এসএমএস এবং টুইট করে এই পরিষেবা নিয়ে তাদের মত দিচ্ছে। মোবাইল ওয়ানে বিভিন্ন পরিষেবার জন্য টাকা দিতে ডেবিট/ ক্রেডিট কার্ড-এর ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া পেমেন্ট ওয়ালেট যেমন রুপে বা কর্ণাটক ওয়ালেটের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া যাবে। এর জন্য বিশেষ অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে।