সম্পত্তির নিবন্ধীকরণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি রুখতে ২০১৪ অগস্ট মাসে মহারাষ্ট্র সরকার চালু করেছে ই-রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি। প্রাথমিক ভাবে এই সুবিধা পাওয়া যাবে ২০০ বাড়ি সম্বলিত হাউজিং সোসাইটিগুলোর ক্ষেত্রে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য রেজিস্ট্রি অফিসে যেতে হবে না। ঘরে বসে বা আবাসন নির্মাতার অফিস থেকেই সদস্যরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রশনের ক্ষেত্রে আধার নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়েরই আধার কার্ড থাকতে হবে। মহারাষ্ট্রের সব শহরেই এই সুবিধা মিলবে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এই অনলাইন পদ্ধতিতে ফ্ল্যাট কেনার দিনই তা রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এর আগে রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে দালাল রাজ সরকারের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছিল। জমি, বাড়ি রেজিস্ট্রেশনের জন্য সাধারণ মানুষ দালালের খপ্পরে পড়ে নাজেহাল হতেন। নয়া এই ব্যবস্থায় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার জন্য কোনও দালালের সহায়তার প্রয়োজন পড়ছে না। এই প্রক্রিয়া এক দিকে যেমন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনবে, তেমনি সরকারের আয় বাড়বে। ডিপার্টমেন্ট অফ রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড স্ট্যাম্প এবং ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার যৌথ ভাবে এই ই-রেজিস্ট্রশন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে। নতুন এই পদ্ধতিতে জমি-ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে যাওয়ার ঝক্কি এড়ানো যাবে। তবে এই নয়া পদ্ধতি চালু করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। যেমন, অনেকই অনলাইন ব্যবস্থায় তেমন সড়গড় নন। ফলে তাদের কাছে এই পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন বেশ ঝামেলারই। তবে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করার ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র সরকার এই বিষয়টি মাথায় রেখেছে। এই অ্যাপ্লিকেশনটি গ্রাহক যাতে রেজিস্ট্রেশনের সময় সফল ভাবে ব্যবহার করতে পারে তার জন্য ‘হেল্প ডেস্ক’ তৈরি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে এ ব্যাপারে পরার্মশ নেওয়া যেতে পারে। ‘হেল্প ডেস্ক’ থেকেই বলে দেওয়া হবে কীভাবে অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে। তবে সব ডেভলপাররা অনলাইনে রেজিস্ট্রশন করতে পারবেন না। যে সমস্ত ডেভেলপার আবাসন নির্মাণের সংশ্লিষ্ট সমস্ত সরকারি দফতর থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে তারাই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবে। সূত্র : ফার্স্ট পোস্ট