কলকাতার ইনিস্টিটিউট অফ ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ ও প্রতীচী ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এ দিনের আলোচনাসভায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছে,- ২৭-২৮ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে মালঞ্চ প্রথমিক শিক্ষক শিক্ষণ সংস্থানে শিশুস্বাস্থ্য ও বিদ্যালয় শিক্ষা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হল। প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা সংস্থানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্বাস্থ্যকর্মী, অঙ্গনওয়ারি কর্মী এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের দুই শতাধিক প্রতিনিধির আলোচনার মাধ্যমে নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলি উঠে এসেছে। ১) শিশুস্বাস্থ্য ও বিদ্যালয় শিক্ষার সম্পর্কটি অঙ্গাঙ্গী ভাবে যুক্ত। স্বাস্থ্য যেমন শিক্ষার জন্য জরুরি, তেমনই স্বাস্থ্য অর্জনে শিক্ষার ভূমিকা অপরিহার্য। এবং, আলোচনার একটি প্রধান বিন্দু এই যে, শিশু স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে বিদ্যালয় পরিচালনার অংশ করে তুলতে হবে -- বিদ্যালয় স্বাস্থ্য বিষয়ক কার্যক্রমগুলিকে শিশুশিক্ষা প্রক্রিয়ার অঙ্গীভূত করে তুলতে হবে। পুষ্টি, স্বাস্থ্যবিধান, প্রতিষেধক কার্যক্রমের বাস্তব রূপায়ণ এবং এই সংক্রান্ত শিক্ষার কাজটিকে এক সঙ্গে এগোতে হবে। ২) শিশুস্বাস্থ্য ও বিদ্যালয় শিক্ষার প্রকৃত বাস্তবায়ন ঘটাতে সরকারের দায়বদ্ধতা বাড়ানো দরকার। অর্থবরাদ্দ, পরিদর্শন, তদারকি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে নানা ঘাটতির কথা উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে নিয়মের জটাজালে কার্যক্রম রূপায়ণের কাজটি হয়ে উঠেছে একটা গতানুগতিক শূন্যস্থান পূরণ। প্রকৃত কাজগুলি বহু ক্ষেত্রেই সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়ে উঠছে না। এইগুলিকে ব্যাপক আলোচনার বিষয় করে তোলা দরকার। ৩) রাজ্যের বিভিন্ন ভাগে বিদ্যালয় শিক্ষায় শিশুস্বাস্থ্য সহ অন্যান্য অনেক উদ্ভাবনী নমুনা উঠে এসেছে। এই উদ্যমগুলির প্রাণশক্তি হচ্ছে সামাজিক ঐক্য --শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী, অঙ্গনওয়ারি কর্মী, গবেষক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যে দিয়ে গড়ে ওঠা এই ঐক্য অনেক অসাধা সাধন করতে পারে। এই গঠনমূলক কাজগুলির সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও বঞ্চনাগুলির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ গড়ে তোলা দরকার। সংগঠন ও দাবি উত্থাপন, এই দু’টি কঠিন কাজের ভিতর দিয়েই শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাগত অর্জনটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্ব স্ব ক্ষেত্রে ব্যাপকতর কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সুত্রঃ পোর্টাল কন্টেন্ট টিম